ভূটানের ভিসা নীতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
২০০২ সালে ভুটানের প্রদত্ত ভিসা

দেশের অনন্য সমাজ ও পরিবেশের উপর প্রভাব কমানোর জন্য ভূটান রাজ্যের পর্যটন নীতি "উচ্চ মূল্য, নিম্ন প্রভাব পর্যটন" এর অধীনে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত। ভুটানের নীতিটি নিশ্চিত করে যে, সীমিত সংখ্যক পর্যটক যে কোন এক সময়ে দেশে ঢুকতে পারে, এবং এভাবে তার চরিত্র পরিবর্তন করে এটি ব্যাপক পর্যটনে আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখে, এবং যেসব পর্যটক আসে তারা তাদের পরিদর্শন কালে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায়।

ভিসা নীতি মানচিত্র[সম্পাদনা]

ভুটানের ভিসা নীতি

ভিসা ছাড়[সম্পাদনা]

চলাফেরার স্বাধীনতা[সম্পাদনা]

ভুটানে প্রবেশের জন্য ভারতের নাগরিকদের ভিসা প্রয়োজন হয় না, কারণ ১৯৪৯ সালে ভুটান এবং ভারতের মধ্যকার একটি পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে দুই রাষ্ট্রের মধ্যে জনগণের বিনামূল্যে ভ্রমণের অনুমতি দেয়।

ভারতীয় নাগরিকরা ভুটানে স্থল এবং আকাশ পথে প্রবেশ করতে পারে, এবং ভুটানে প্রবেশ করার জন্য নিচের যেকোনও একটি গ্রহণযোগ্য নথিপত্র ব্যবহার করতে পারে:

বিনামূল্যে ভিসা[সম্পাদনা]

ভুটান ভ্রমণের জন্য নিম্নোক্ত দেশের নাগরিকদের ভিসা এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটরদের কাছ থেকে কোন বুকিংয়ের প্রয়োজন পড়ে না, তবে তাদের প্রবেশের তারিখ থেকে কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য পাসপোর্টটির বৈধতা থাকতে হবে।[৩][৪]

কূটনৈতিক, কর্মজীবী এবং সরকারী পাসপোর্ট[সম্পাদনা]

নিম্নলিখিত দেশগুলির কূটনৈতিক বা সরকারী/কর্মজীবী পাসপোর্টধারীদের ৯০ দিনের মতো ভুটানে অবস্থান করার জন্য ভিসার প্রয়োজন নেই।[৪]

সীমাবদ্ধ এলাকায় অনুমতি[সম্পাদনা]

ভূটানে প্রবেশের পর, সকল বিদেশীদের ৭ বা ১৪ দিনের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে "প্রবেশাধিকার" দেয়া হয়, যা শুধুমাত্র থিম্ফু এবং পারোর জন্য কার্যকর হবে। বাকি সমগ্র ভূটানকে একটি সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং বিদেশীদের প্রবেশের জন্য "সংরক্ষিত-এলাকায় প্রবেশাধিকারের" প্রয়োজন পড়ে। ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্ট সারা দেশ জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগগুলিতে অবস্থিত, যেখানে পুলিশ তাদের সম্মুখে আসা সকল বিদেশীদের প্রবেশাধিকার পরীক্ষা করে দেখে। উপরন্তু, বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন করতে ইচ্ছুক বিদেশীদের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে "মন্দির অনুমতি" প্রাপ্ত হতে হবে।[৫]

এই অনুমতিপত্রটি সাধারণত ট্যুর অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত হয়, ভারতীয়, বাংলাদেশী এবং মালদ্বীপের পর্যটক যারা লাইসেন্সধারী ভ্রমণ অপারেটরের কাছ থেকে বুকিং করেননি, তাদের জন্য থিম্ফু ইমিগ্রেশন অফিসে আবেদন করতে হবে। থিম্ফুতে ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ চার্জ দিয়ে অনুমতিপত্রের সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। বাংলাদেশ, ভারত ও মালদ্বীপের নাগরিকদেরকে অনুমতিপত্র এবং বর্ধিতকরণের জন্য চার্জ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আগাম ভিসা-প্রয়োজন[সম্পাদনা]

সকল বিদেশীদের (বাংলাদেশ, ভারতমালদ্বীপের নাগরিকদের ছাড়া) ভূটানে যাওয়ার আগে ভিসা নিতে হবে। অনুমোদিত হলে, তাদের একটি ভিসা ক্লিয়ারেন্স চিঠি দেওয়া হয়, এবং এই অনুমতিপত্র প্রবেশ করা বন্দরে উপস্থাপন করা আবশ্যক। তাদের পাসপোর্টে তখন ভিসাটি স্ট্যাম্প করে দেয়া হয়। বিদেশী পর্যটকদের তাদের ভিসার ব্যবস্থা করতে এবং তাদের ছুটি কাটাতে বুকিং করার জন্য একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভূটানী ট্যুর অপারেটর বা তাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের যেকোন একটি ব্যবহার করতে হবে। প্রতিদিনের থাকার জন্য প্রাত্যহিক একটা ফি চার্জ করা হয়। বেশীরভাগ বিদেশী পর্যটকদের জন্য, এটি পরিব্রাজক-উচ্চ-ঋতুতে (অধিক চাহিদার সময়ে) ২৫০ ডলার এবং পরিব্রাজক-নিম্ন-ঋতুতে (কম চাহিদার সময়ে) ২০০ ডলারের মতো খরচ হয়।[৬][৭]

ক্ষুদ্র এবং বৃহত্তর দলের জন্য যেখানে ছাড় দেয়া হয়, সেখানে ৩ জনের কম দলগুলির জন্য সারচার্জ দিতে হয়। ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম দৈনিক প্যাকেজটিতে বাসস্থান, খাদ্য, গাইড এবং ড্রাইভার সহ গাড়ির খরচ বহন করতে হয়। এটার অংশবিশেষ ভূটানের বিনামূল্যে শিক্ষা, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং দারিদ্র্য বিমোচন খাতে যায়।[১][৬] লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভ্রমণ গাইডরা ভ্রমণের সময় পর্যটকদের সাথে যান এবং আবাসনের ব্যবস্থা করে দেন, বিদেশিদের জন্য স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা (বাংলাদেশ, ভারতমালদ্বীপের নাগরিক ব্যতীত) নিষিদ্ধ।

ভূটানে "কোন স্থায়ী নাগরিকের" অথবা কোন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ পাওয়াদের জন্য ভ্রমণ করতে আসার ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে শুধুমাত্র বুকিং করাটা ব্যতিক্রম,[৮] এবং যারা ভূটান সরকারের অতিথি হিসেবে আসেন।

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

ভুটানে আসা বেশিরভাগ পর্যটক নিম্নবর্ণিত জাতীয়তা থেকে (বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ বাদে) এসেছে:[৯]

ক্রম দেশ বা অঞ্চল ২০১৫ ২০১৪ ২০১৩ ২০১২
 চীন ৯৩৯৯ ৮১১১ ৪৮২৭ ৩৮১৬
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭১৩৭ ৭২৯১ ৬৯৯৬ ৬১০২
 থাইল্যান্ড ৩৭৭৮ ১২১০৫ ৩৫২৭ ৩৬১৭
 যুক্তরাজ্য ২৯৫৮ ২৬৮৯ ২৩০৯ ২৪৯১
 সিঙ্গাপুর ২৫৮৭ ১৭২০ ২০৫১ ১৬১১
 জার্মানি ২৪৯৮ ২৯৭১ ২৭৭০ ২৮৯৫
 জাপান ২৪৩৭ ২৭০৭ ৪০৩৫ ৭০২৯
 অস্ট্রেলিয়া ১৮৩৩ ২০৩৭ ২০৬২ ১৯৫০
 ফ্রান্স ১৫৬৩ ১৬৩৬ ১৫৭২ ১৮৬৩
১০  মালয়েশিয়া ১৫৪৬ ২০৬৭ ২০৫৪ ১৩১২
মোট ১৫৫১২১ ১৩৩৪৮০ ১১৬২০৯ ১০৫৪০৭

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Visa"। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৫ 
  2. "Welcome to Embassy of India Thimphu, Bhutan"। ১৫ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৫ 
  3. "Visa for coming to Bhutan"। ১৬ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৫ 
  4. টেমপ্লেট:Timatic Visa Policy
  5. "bhutan travel information, cultural tours, himalayan adventure."। ২৬ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৫ 
  6. "FAQ"। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৫ 
  7. "Travel Requirements"। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৫ 
  8. Sharell Cook। "How to Travel to Bhutan"About.com Travel। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৫ 
  9. "Bhutan annual reports"। ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০১৭