ব্ল্যাক ডেথ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
Spread-Of-The-Black-Death.gif

ব্ল্যাক ডেথ মানবসভ্যতার ইতিহাসে একটি বীভৎস, অমানবিক ও কালো ইতিহাস বহন করছে। পৃথিবীব্যাপি ছড়িয়ে পড়া এই মহামারির কবলে পড়ে ১৩৪৬-১৩৫৩ সালের মধ্যে ইউরোপ এবং এশিয়া মহাদেশের (ইউরেশিয়া) ৭৫ থেকে ২০০ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করে।[১][২][৩] ব্ল্যাক ডেথ এর কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন তত্ত্ব রয়েছে। ২০১০ এবং ২০১১ সালে বিশেষজ্ঞরা এই মহামারি’র শিকার হওয়া উত্তর ও দক্ষিণ ইউরোপের অধিবাসীদের ডিএনএন বিশ্লেষণ প্রকাশ করেন। এতে ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়া’র (প্লেগ রোগ বিশেষ) জন্য রোগ সংক্রামক জীবাণু প্যাথোজেন’কে দায়ী করা হয়।[৪][৫]

French Black death.jpg

মধ্য এশিয়ার সমভূমিতে এই রোগের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। এরপর এটি সিল্ক রোড হয়ে ১৩৪৩ সালের দিকে এটি ক্রিমিয়া পর্যন্ত পৌছায়।[৬] বণিকদের জাহাজে বসবাস করা ‘কালো ইঁদুর’ ও ‘ইঁদুর মাছি’ নামক দুইটি প্রজাতির মাধ্যমে এটি ভূমধ্যসাগর এবং ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।

ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ৩০-৬০ ভাগ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।[৭] এই মহামারির কবলে পড়ে ১৪’শ শতাব্দীতে বিশ্বের জনসংখ্যা ৪৫০ মিলিয়ন থেকে ৩৫০-৩৭৫ মিলিয়নে নেমে আসে।[৮] ১৭’শ শতক পর্যন্ত প্লেগ পরবর্তী সময়েও এই সংখ্যা আর পুনরুদ্ধার হয়নি।[৯] এমনকি ১৯’ শতকেও এটি ইউরোপের কিছু কিছু জায়গায় দেখা গিয়েছিল।

এই মহামারী ইউরোপের ইতিহাসে ব্যাপক ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।

ব্ল্যাক ডেথের লক্ষণ[সম্পাদনা]

ব্ল্যাক ডেথে আক্রান্ত ব্যক্তির হাত

প্রথমে এই রোগে আক্রান্ত নারী ও পুরুষ কবজি বা বগলের কোন স্থানে টিউমারের মত কোন কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে। ধীরে ধীরে সেটি বড় হতে থাকে। এক পর্যায়ে এটি আপেল বা ডিমের আকৃতির মত ধারণ করে ও ছড়িয়ে পড়তে থাকে। কালো রঙ্গের এই ফোঁড়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়। রোগাক্রান্ত ব্যক্তি তার সারা শরীরে এটি দেখতে পায়। এক পর্যায়ে এগুলো পচে যায় ও পুঁজ বের হতে থাকে। 

ব্ল্যাক ডেথের কারণ[সম্পাদনা]

কালো ইঁদুর বা ইঁদুর মাছি
প্রেগ রোগ বহনকারী ব্যাকটেরিয়া

Oriental rat flea কালো ইঁদুর বা ইদুর মাছি তার রক্তে এই রোগ বহন করেছিল। তাদের রক্তে বাহিত হওয়া Yersinia pestis ইয়েরসেনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়া (প্লেগ রোগ বহনকারী জীবাণু) ব্ল্যাক ডেথ বা বুবোনিক প্লেগ এর উত্তরসূরি। বেশিরভাগ নারী ও পুরুষ এই পতঙ্গের কামড়ে বুবোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়েছিল।  

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ABC/Reuters (২৯ জানুয়ারি ২০০৮)। "Black death 'discriminated' between victims (ABC News in Science)"। Australian Broadcasting Corporation। সংগৃহীত ৩ নভেম্বর ২০০৮ 
  2. "Health. De-coding the Black Death"। BBC। ৩ অক্টোবর ২০০১। সংগৃহীত ৩ নভেম্বর ২০০৮ 
  3. "Black Death's Gene Code Cracked"Wired। ৩ অক্টোবর ২০০১। সংগৃহীত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  4. Haensch S, Bianucci R, Signoli M, Rajerison M, Schultz M, Kacki S, Vermunt M, Weston DA, Hurst D, Achtman M, Carniel E, Bramanti B (২০১০)। "Distinct clones of Yersinia pestis caused the black death"। in Besansky, Nora J। PLoS Pathog. 6 (10): e1001134। ডিওআই:10.1371/journal.ppat.1001134পিএমআইডি 20949072পিএমসি 2951374 
  5. "A draft genome of Yersinia pestis from victims of the Black Death"Nature 478 (7370): 506–10। ১২ অক্টোবর ২০১১। ডিওআই:10.1038/nature10549পিএমআইডি 21993626পিএমসি 3690193 
  6. "BBC – History – Black Death"। BBC। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১। 
  7. Austin Alchon, Suzanne (২০০৩)। A pest in the land: new world epidemics in a global perspective। University of New Mexico Press। পৃ: ২১। আইএসবিএন 0-8263-2871-7 
  8. "Historical Estimates of World Population"। Census.gov। সংগৃহীত নভেম্বর ১২, ২০১৬ 
  9. Wheeler, Dr. L. Kip। "The Black Plague: The Least You Need to Know"Dr. Wheeler's website। Dr. L. Kip Wheeler। সংগৃহীত ৯ আগস্ট ২০১৫