বিষয়বস্তুতে চলুন

ইগনাৎস জেমেলভাইস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইগনাৎস জেমেলভাইস
An engraved portrait of Semmelweis: a mustachioed, balding man in formal attire, pictured from the chest up.
ড. ইগনাৎস জেমেলভাইস; ১৮৬০ সালে ৪২ বছর বয়সে
জন্ম
Semmelweis Ignác Fülöp

(১৮১৮-০৭-০১)১ জুলাই ১৮১৮
মৃত্যু১৩ আগস্ট ১৮৬৫(1865-08-13) (বয়স ৪৭)
নাগরিকত্বহাঙ্গেরি রাজ্য
মাতৃশিক্ষায়তনভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়
বুদাপেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়
পরিচিতির কারণপ্রসূতিকার্যে হাত জীবাণুমুক্তকরণের পথিকৃৎ (১৮৪৭ সাল হতে)
বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন
কর্মক্ষেত্রধাত্রীবিদ্যা, শল্যচিকিৎসা
দাম্পত্য সঙ্গীমারিয়া ভাইডেনহফার (১৮৩৭–১৯১০)
(১৮৫৭ সাল)[]
সন্তানআন্টোনিয়া
মারিয়া
ইগনাক
মার্গিট
বেলা
পিতা-মাতাইয়োযেফ জেমেলভাইস
টেরেজে মুলার

ইগনাৎস ফিলিপ জেমেলভাইস বা ইগনাজ সেমেলভাইস(১লা জুলাই ১৮১৮ - ১৩ই আগস্ট ১৮৬৫) একজন হাঙ্গেরীয় চিকিৎসক ও হাত ধোয়া ব্যবস্থার প্রবর্তক। শল্যচিকিৎসায় জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতি অনুসরণের পথিকৃৎ হিসেবে তাঁকে ধরা হয়।[]

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

[সম্পাদনা]

ইগনাৎসের জন্ম ১৮১৮ সালের ১ জুলাই তারিখ। জন্মসূত্রে তিনি হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূত।[]

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

১৮৪৬ সালে ভিয়েনা হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগের প্রধান হিসাবে তিনি কর্মরত ছিলেন। ১৮৫০ সাল নাগাদ ইউরোপে সন্তান জন্মদানের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। সেখানকার শিশু পরিচর্যার ক্লিনিকগুলোতে মাঝে মধ্যেই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মা ও শিশুর মৃত্যু ঘটত। এই মৃত্যু যখন কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছিল না। সে সময় ফিলিপ গবেষণা করে দেখলেন যে, ডাক্তারদের হাতে থেকে যাওয়া জীবাণু থেকেই শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। অর্থাৎ ডাক্তারদের হাতেই জীবাণু অন্যত্র সংক্রমিত হচ্ছে। তিনি ১৮৪৭ সালে নির্দেশ দিলেন, ডাক্তারেরা যাতে ক্লোরিন-চুন বা ক্লোরিনেটেড লাইমের দ্রবণে ভালোমতো হাত এবং সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ধুয়ে তারপর সন্তান প্রসব করান। [] এতে নাটকীয়ভাবে রোগীদের মৃত্যুহার কমে গেলো।

কিন্তু অন্যান্য ডাক্তারটা ইগনাৎসের বিরোধিতা শুরু করলেন। তাদের মনে হলো, যে ডাক্তারেরা জীবন বাঁচান, তারাই রোগ ছড়িয়ে রোগীদের মারছেন, এমনটা কিছুতেই হতে পারে না। ইগনাৎসের ধারণার বিপরীতে তীব্র প্রতিরোধ আসা শুরু করলো। ডাক্তার বলেই বসলেন,কোনো ডাক্তার হাত ধুবে না। তাঁর হাত ধোয়ার পরামর্শে কান না দিয়ে তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করা শুরু করল সবাই। তাঁর চাকরি চলে যায়।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

এই বৈপ্লবিক আবিষ্কারের মাত্র এক যুগের মাথায় ইগনাৎস পুরো হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। প্রায়ই মাতাল হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডাক্তারদের “কসাই, জানোয়ার, অশিক্ষিত গণ্ডমূর্খের দল” বলে গালাগালি শুরু করলেন। শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এক মানসিক হাসপাতালে। আর সেই হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি, তাঁর অসুস্থতা এবং মৃত্যু তার ডান হাতের একটি ক্ষত সংক্রমণের ফলে হয়েছিল, সম্ভবত অসুস্থ হওয়ার আগে তার করা অপারেশনের ফলস্বরূপ। তিনি সেই কারণেই মারা যান যার বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন। []

স্বীকৃতি

[সম্পাদনা]

কয়েক দশক পরে, তাঁর ধারণাগুলি "জীবাণু তত্ত্ব" অবদানের জন্য কৃতিত্ব পেয়েছিল।[] আধুনিক এন্টিসেপ্টিকের জনক জোসেফ লিস্টার বলেন "আমি তাঁর কৃতিত্বের প্রশংসা করি এবং এটি আমাকে আনন্দে ভরিয়ে দেয় যে, শেষ পর্যন্ত তাকে সম্মান জানানো হয়েছে।" []

পাদটীকা

[সম্পাদনা]

    তথ্যসূত্র

    [সম্পাদনা]
    1. Ataman, Vatanoğlu-Lutz এবং Yıldırım 2013, পৃ. 35–39।
    2. 1 2 3 "আবিষ্কারের গল্প"বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২০{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
    3. 1 2 "Ignaz Semmelweis"britannica.com। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২০{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
    4. "Know this name: Ignaz Semmelweis, the doctor credited with championing handwashing"cnn.com। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২০{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)

    গ্রন্থ ও রচনাপঞ্জি

    [সম্পাদনা]

    আরও দেখুন

    [সম্পাদনা]

    বহিঃসংযোগ

    [সম্পাদনা]