বর্ণান্ধতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বর্ণান্ধতা বা বর্ণান্ধত্ব বা বর্ণবৈকল্য[১] (ইংরেজি: Color Blindness) হলো মানুষের, কতিপয় রঙ দেখার, সনাক্ত করার বা তাদের মধ্যে পার্থক্য করার অক্ষমতাজনিত এক প্রকার শারীরিক বৈকল্য।

কারণ ও বিবরণ[সম্পাদনা]

বর্ণান্ধতা জন্মগত কিংবা অর্জিত হতে পারে। জন্মগত বর্ণান্ধতার কারণে লাল ও সবুজ রঙয়েই বেশি সমস্যা হয়, আর অর্জিত বর্ণান্ধতার কারণে নীল ও হলুদ রঙ সনাক্ত করতে সমস্যা হয়।[১] যেসব কারণে মানুষ বর্ণান্ধ হতে পারে সেগুলো হল:-

  • বংশগত / জন্মগত: (জেনেটিক) মা-বাবা বর্ণান্ধ হলে সন্তানেরাও বর্ণান্ধ হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয়গুলো হল:-
  1. নারীর চেয়ে পুরুষে বর্ণান্ধতা বেশি পরিলক্ষিত হয়
  2. বর্ণান্ধ মায়ের ছেলেসন্তান সবসময় বর্ণান্ধ হয়
  3. মা-বাবার উভয়েই বর্ণান্ধ হলে, তাদের মেয়েসন্তান বর্ণান্ধ হয়
  • লব্ধ / অর্জিত:
  1. চোখের বিভিন্ন রোগ
  2. চোখে আঘাত লাগা
  3. ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  4. ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব
  5. বার্ধক্য

বর্ণান্ধতার ব্যাখ্যা[সম্পাদনা]

মানুষের চোখের ভিতরে রেটিনায় দুই ধরনের আলোকসংবেদী কোষ (photoreceptor) আছে। এরা হল – রডকোষ (rod) এবং কোন্‌কোষ (cone)। কোন্‌কোষ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন রং চিনতে পারি এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। অর্থাৎ আমাদের রঙিন বস্তু দর্শনে কোন্‌কোষগুলো দায়ী। রডকোষগুলো শুধু দর্শনের অনুভূতি জাগায়, কিন্তু কোন ধরনের রং দেখতে/চিনতে সাহায্য করে না।

কোন্ তিন ধরণের। আর এই তিন ধরণের কোন্ লাল (R), সবুজ (G) ও নীল (B) -এই তিনটি মৌলিক রং সনাক্ত করতে পারে। চোখের রেটিনায় এই তিন প্রকারের কোন্-এর যেকোন একটি, দুটি বা সবগুলির অনুপস্থিতি অথবা ত্রুটিই হলো বর্ণান্ধতার মূল কারণ। কোনো ব্যক্তির সবগুলো কোন্ই যদি ত্রুটিযুক্ত হয়, তাহলে তিনি সব রংকেই ধুসর দেখবেন। বর্ণান্ধতা এমনই মারাত্মক হয় যে, কোনো ব্যক্তি লাল রঙের রক্ত দেখলেও তা যে রক্ত, তা সনাক্ত করতে পারে না। [২]

বর্ণান্ধতা যদি কৈশরেই নির্ণয় করা যায়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে তা সুস্থ করা সম্ভব হয়। জাপানে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সময় ছাত্রছাত্রীদের বর্ণদৃষ্টি নির্ণয় করা হয়ে থাকে।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ "বর্ণান্ধতা:কৈশরেই নির্ণয় প্রয়োজন", ডা. মো: শফিকুল ইসলাম; দৈনিক প্রথম আলো, স্বাস্থ্য কুশল; ১ মে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ। পরিদর্শনের তারিখ: ১ মে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ।
  2. "চোখ আলো ও রঙ", মুহম্মদ জাফর ইকবাল; একটুখানি বিজ্ঞান, ফেব্রুয়ারি ২০০৭; কাকলী প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৮৩; ISBN 984-437-352-2। পরিদর্শনের তারিখ: ২৬ মার্চ ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।