অন্ধত্ব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
অন্ধত্ব
Long cane.jpg
সাদা ছড়ি অন্ধত্বের প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিঃস্থ সম্পদ
বিশিষ্টতা স্নায়ুবিদ্যা, চক্ষুচিকিৎসাবিজ্ঞান
আইসিডি-১০ H৫৪.০, H৫৪.১, H৫৪.৪
আইসিডি-৯-সিএম ৩৬৯
ডিজিসেসডিবি ২৮২৫৬

অন্ধ বা অন্ধত্ব কোন কিছুকে দেখার সক্ষমতাহীনতা বা অক্ষমতাকে বুঝায়। যিনি অন্ধত্ব বরণ করেছেনে, সমাজে তিনি অন্ধ নামে পরিচিত। এছাড়া কিঞ্চিৎ দেখার অধিকারী ব্যক্তিও অন্ধ হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকেন। কারণ তিনি অস্পষ্ট আকার অথবা রঙ ভিন্ন অন্য কোন কিছুই স্পষ্ট ও সঠিকভাবে দেখতে পান না। ট্রাকোমা রোগে আক্রান্ত হয়ে যাবার ফলে পলকগুলো অন্তর্মুখী হয়ে যায় ও কর্নিয়ার ক্ষতি বা অন্ধত্ব ঘটতে পারে।

বিখ্যাত অন্ধ ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন - গ্রিক মহাকাব্য রচয়িতা হোমার, লুই ব্রেল, স্টিভ ওন্ডার, রে চার্লস, হেলেন কিলার প্রমূখ।

আক্রান্ত জনগোষ্ঠী[সম্পাদনা]

আধুনিক তথা উন্নত দেশসমূহে স্বল্প সংখ্যায় তরুণ জনগোষ্ঠীকে অন্ধত্ব বরণ করতে দেখা যায়। সমগ্র বিশ্বে পুষ্টিহীনতা এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বয়স্ক ব্যক্তিরা ট্রাকোমা এবং চোখের ছানিজনিত সমস্যায় ভোগেন। বিভিন্ন ধরনের রোগ কিংবা দূর্ঘটনাজনিত কারণে বিভিন্ন বয়সের মানুষও অন্ধত্বে আক্রান্ত হন। কখনও কখনও নবজাতক শিশু অন্ধ হয়েই পৃথিবীর রূপ দর্শন থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে।

বর্ণান্ধতা[সম্পাদনা]

কিছু লোক পদার্থের রংজনিত সমস্যায় ভোগেন যা বর্ণান্ধতা নামে পরিচিত।[১] অর্থাৎ, ব্যক্তি জিনিসকে দেখেন ঠিকই কিন্তু সঠিকভাবে রঙের নাম বলতে পারেন না বা রঙের পার্থক্য বুঝতে অক্ষম বা তারা কোন রঙই দেখতে পান না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে বর্ণান্ধতা একটি পারিভাষিক শব্দ এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ বর্ণান্ধতাকে রঙ দর্শনজনিত পার্থক্য নামে অভিহিত করে থাকেন।

সহায়ক সামগ্রী[সম্পাদনা]

অন্ধ ব্যক্তির পথ প্রদর্শনে নিয়োজিত প্রশিক্ষিত কুকুর

যখন কোন ব্যক্তি অন্ধ হয়ে পড়েন, তখন তিনি ব্রেইল পদ্ধতির ন্যায় পুস্তিকাদি পড়া ও লেখার কাজে ব্যবহার করে থাকেন। ফরাসী ব্যক্তিত্ব লুইস ব্রেইল কর্তৃক ব্রেইল পদ্ধতি আবিস্কারের ফলে এ নামকরণ হয়েছে। এতে অক্ষর, বর্ণের সংমিশ্রণ ঘটেছে। প্রত্যেকটি বর্ণ একগুচ্ছ বিন্দু দিয়ে তৈরী যা কাগজে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। অন্ধজন তাদের আঙ্গুল দিয়ে অক্ষরের ফোঁটাগুলোকে অনুভবপূর্বক মর্ম উপলদ্ধি করে এর ভাবার্থ বুঝে নেন বা দেন।

গুরুতরভাবে দৃষ্টিশক্তিহীন অনেক অন্ধ ব্যক্তি স্বাধীনভাবে চলাফেরার জন্যে সহায়ক সামগ্রী হিসেবে সাদা ছড়ি ব্যবহার করেন। সাদা ছড়ি অন্ধদের জন্যে আন্তর্জাতিক প্রতীকরূপে বিবেচ্য। লম্বা এ ছড়ি দিয়ে ব্যবহারকারী দূরের বস্তু স্পর্শের মাধ্যমে অবগত হন। লম্বাজাতিয় সাদা ছড়ি হুভার ছড়ি নামে পরিচিত যা ড. রিচার্ড হুভার কর্তৃক আবিস্কৃত। এর দৈর্ঘ্য ব্যবহারকারীর উচ্চতার উপর নির্ভর করে। কিছু কিছু সংগঠক এর চেয়েও লম্বা মাপের ছড়ি ব্যবহারের পক্ষপাতি।[২]

পথ নির্দেশকের ভূমিকায় প্রশিক্ষিত কুকুরও তাকে দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করে থাকে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. U.S. spelling - color blindness; British spelling is colour blindness.
  2. Nichols, Allan (১৯৯৫), Why Use the Long White Cane?, ২০১০-০৩-৩০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • উইকিঅভিধানে অন্ধ-এর আভিধানিক সংজ্ঞা পড়ুন
  • Blindness Resource Center from The New York Institute for Special Education