ফিফা বালোঁ দ’অর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এই নিবন্ধটি পুরুষদের পুরস্কার সম্পর্কিত। মহিলাদের পুরস্কারের জন্য, দেখুন ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়। সাবেক ইউরোপীয় ফুটবলারের জন্য, দেখুন বালোঁ দ’অর (১৯৫৬–২০০৯)
জোহানেসবার্গে ফিফা বালোঁ দ’অর পদক প্রবর্তন উপলক্ষ্যে ফিফা প্রধান সেপ ব্ল্যাটার চুক্তিপত্র তুলে ধরছেন

ফিফা বালোঁ দ’অর (ইংরেজি: FIFA Ballon d'Or, ফরাসি উচ্চরণ: ​[balɔ̃ dɔʁ], "Golden Ball") এক ধরণের ফুটবল পদক যা বিশ্ব ফুটবলের প্রধান সংগঠন ফিফা কর্তৃক পরিচালিত হয়। এটি সাংবার্ষিকভাবে পূর্বের বছরের অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনকারী বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ফুটবল খেলোয়াড়কে পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়ে থাকে। পুরুষ বিভাগে বালোঁ দ’অর পদক প্রদান করা হয়ে থাকে। ভোটাভুটির মাধ্যমে বিশ্বের সেরা ফুটবল খেলোয়াড়কে নির্বাচন করা হয়। আন্তর্জাতিক ফুটবল দলগুলোর কোচঅধিনায়ক-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রীড়া সাংবাদিকগণ তাদের স্ব-স্ব ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্যতম খেলোয়াড়কে খুঁজে বের করে পুরস্কৃত করেন।

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

ফিফা বালোঁ দ’অর পুরস্কারটি ২০১০ সাল থেকে প্রবর্তিত হয়েছে। ফ্রান্সের দ্বি-সাপ্তাহিক পত্রিকা ফ্রান্স ফুটবল কর্তৃক প্রদেয় বালোঁ দ’অর এবং ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার পদক একীভূত হয়ে ফিফা বালোঁ দ’অর পদক হিসেবে বর্তমানে পরিচিতি লাভ করেছে। তন্মধ্যে বর্তমানে ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার পদকটি মহিলাদের মাঝে প্রদান করা হয়। অভিষেক বর্ষেই পুরস্কার পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনা তথা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসি। স্মর্তব্য যে, তিনি এর পূর্বের বছরও বালোঁ দ’অর পুরস্কারটি পেয়েছিলেন। ২০১১ সালে মেসি পুণরায় এ পদক পেয়ে ধারাবাহিকভাবে ৪র্থবারের মতো বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা লাভ করেছেন।[১][২]

পদক বিজয়ীদের তালিকা[সম্পাদনা]

বিজয়ীদের তালিকা[সম্পাদনা]

ফিফা বালোঁ দ’অরের প্রথম তিনবার পুরস্কার লাভ করেন লিওনেল মেসি
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ২০১৩ ও ২০১৪ সালের ফিফা বালোঁ দ’অর পুরস্কার পান
২০১০ সাল পর্যন্ত ফিফা বালোঁ দ’অর কিংবা ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
বছর ১ম ২য় ৩য়
২০১০ আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা) স্পেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (বার্সেলোনা) স্পেন জাভি (বার্সেলোনা)
২০১১ আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা) পর্তুগাল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ) স্পেন জাভি (বার্সেলোনা)
২০১২ আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা) পর্তুগাল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ) স্পেন ইনিয়েস্তা (বার্সেলোনা)
২০১৩ পর্তুগাল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ) আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা) ফ্রান্স রিবেরি (বায়ার্ন মিউনিখ)
২০১৪ পর্তুগাল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ) আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা) জার্মানি ম্যানুয়েল নয়্যার (বায়ার্ন মিউনিখ)
২০১৫ আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা) পর্তুগাল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ) ব্রাজিল নেইমার (বার্সেলোনা)

ক্লাব পর্যায়ে[সম্পাদনা]

ক্লাবের নাম ১ম স্থান ২য় স্থান ৩য় স্থান
স্পেন এফসি বার্সেলোনা ৪ (২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫) ৩ (২০১০, ২০১৩, ২০১৪) ৪ (২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫)
স্পেন রিয়াল মাদ্রিদ ২ (২০১৩, ২০১৪) ৩ (২০১১, ২০১২, ২০১৫)
জার্মানি বায়ার্ন মিউনিখ ২ (২০১৩, ২০১৪)

দেশ অনুযায়ী[সম্পাদনা]

দেশ ১ম স্থান ২য় স্থান ৩য় স্থান
 আর্জেন্টিনা ৪ (২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫) ২ (২০১৩, ২০১৪)
 পর্তুগাল ২ (২০১৩, ২০১৪) ৩ (২০১১, ২০১২, ২০১৫)
 স্পেন ১ (২০১০) ৩ (২০১০, ২০১১, ২০১২)
 ফ্রান্স ১ (২০১৩)
 জার্মানি ১ (২০১৪)
 ব্রাজিল ১ (২০১৫)

ব্যক্তিগত পর্যায়ে[সম্পাদনা]

খেলোয়াড়ের নাম ১ম স্থান ২য় স্থান ৩য় স্থান
আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসি
পর্তুগাল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো
স্পেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা
স্পেন জাভি হার্নান্দেজ
ফ্রান্স ফ্রাংক রিবেরি
জার্মানি ম্যানুয়েল নয়্যার
ব্রাজিল নেইমার

বালোঁ দ’অর প্রি দ’অনিয়ুর[সম্পাদনা]

২০১৪ সালে পেলেকে সম্মানসূচক বালোঁ দ’অর পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তিনি তিনবার ব্রাজিলকে ফিফা বিশ্বকাপ জয়ে সহায়তা করেন। কিন্তু তিনি ফিফা কর্তৃক ব্যক্তিগতভাবে কোন পুরস্কারে ভূষিত হননি। ঐসময় কেবলমাত্র ইউরোপভিত্তিক দলগুলোর ফুটবলাররা প্রকৃত বালো দ’অর পুরস্কার জয়লাভের জন্য বিবেচিত হতেন।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Messi crowned world's best"ESPN। ৯ জানুয়ারি ২০১২। সংগৃহীত ৯ জানুয়ারি ২০১২ 
  2. "Messi, Sawa, Guardiola and Sasaki triumph at FIFA Ballon d’Or 2011"FIFA.com। ৯ জানুয়ারি ২০১২। সংগৃহীত ৯ জানুয়ারি ২০১২ 
  3. "Pele receives FIFA Ballon d’Or Prix d’Honneur"FIFA.com (Fédération Internationale de Football Association)। ১৩ জানুয়ারি ২০১৪। সংগৃহীত ১৩ জানুয়ারি ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]