প্যানিক এটাক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

প্যানিক এটাক হলো এমন একটি রোগ যার কারণে একজন মানুষ হঠাত্‌ অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে যায় এবং ভয় অনুভব করে। এসময় একজনের হৃৎপিণ্ড থমকে যায় বলে মনে হয় এবং শ্বাস নিতে পারেনা। এমনটা মনে হয় যেন সে পাগল হয়ে যাচ্ছে অথবা মারা যাচ্ছে। প্যানিক এটাকের যথাযথ চিকিৎসা করা না হলে এটি প্যানিক ডিসর্ডারের দিকে ধাবিত করে এবং অন্যান্য জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে। এর কারণে এমনকি একজনের দেহের সাধারণ কার্যাবলিও থমকে যেতে পারে। কিন্তু যদি দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া হয় তাহলে প্যানিক এটাক সমস্যাটি দূর হয়ে যেতে পারে অথবা এর প্রকোপ কমানো যেতে পারে এবং পরবর্তীতে একজন সাধারণ জীবনযাপনও করতে পারেন।  

প্যানিক এটাক কী[সম্পাদনা]

প্যানিক এটাক হলো ভয়ের তরঙ্গ যা অপ্রত্যাশিত ঘটনা থেকে জন্ম নেয় এবং একজন মানুষকে ভয়ের অতিশায্যে নিয়ে যায়। কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই এটি একজন মানুষকে আক্রমণ করে। এর কোনো পরিষ্কার কারণ পাওয়া যায়নি। এমনকি একজন বিশ্রামায়িত অথবা ঘুমন্ত মানুষকেও এটি আক্রমণ করতে পারে।

প্যানিক এটাক কারো জীবনে কখনো হয়তো এক-দুইবার ঘটে থাকে। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যাদের কিছু দিন পরপরই প্যানিক এটাক হয়। পুনঃপুন প্যানিক এটাক সাধারনত কিছু নির্দিষ্ট কারণে বা পারিপার্শ্বিকতায় হয়ে থাকে। যেমন- কেউ কথা বলছে অথবা হাঁটছে এমন সময় প্যানিক এটাক হয়ে থাকে। বিশেষত পূর্বে প্যানিক এটাক হয়েছে যে পারিপার্শ্বিক অবস্থায় সেই অবস্থায় যদি পড়ে তাহলে আবার প্যানিক এটাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ এমন কোনো ঘটনা যা কাউকে পূর্বে বিপদে ফেলেছিল এবং সে তা থেকে বেরুতে পারেনি এমন অবস্থায় পড়লে প্যানিক এটাক ঘটে।

যে কেউই জীবনে এক দুইবার এই প্যানিক এটাকের শিকার হতে পারে যদিও সে সুস্বাস্থ্যবান এবং সুখী হয়। তাছাড়া কারো আবার অন্যসব ব্যাধি যেমন প্যানিক ব্যাধি, সামাজিক ফোবিয়া, অথবা হতাশা থেকে এই প্যানিক এটাক দেখা দিতে পারে। তবুও একে প্রতিহত করা আছে। প্যানিক এটাক মোকাবিলা করার কিছু কৌশল আছে যা প্যানিক এটাকের লক্ষণ দেখা দেইলে একজন ব্যবহার করতে পারে। আবার অন্যান্য অনেক কার্যকরি চিকিৎসাও আছে এর জন্য।[১]

ইতিহাস এবং রোগবিস্তার বিদ্যা[সম্পাদনা]

পূর্বে মনে করা হতোনা যে প্যানিক এটাক একটি চরম মানসিক অবস্থা। ১৯৮০ সালে "ডায়াগনস্টিক এন্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ম্যানুয়াল (ডিএসএম)-৩" প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে পর্যন্ত পৃথক পৃথক মেডিক্যাল কলেজে পৃথকভাবে এই নিয়ে গবেষণা চলে। ছয়টি গবেষণা থেকে ডিএসএম-৩ প্যানিক এটাক ও পুনঃপুন প্যানিক এটাক এর প্রাদুর্ভাব সময়কাল এভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে- সাধারণ জনগণের মধ্যে পুরুষ ও নারীর যথাক্রমে ২.৭% এবং ৭.১%। পুরুষদের থেকে মহিলারা দ্বিগুণ প্যানিক এটাকের শিকার হয় এবং মহিলাদের পুরুষদের সাতগুণ পুনরায় প্যানিক এটাক হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতি দশ জন এ একজন এই প্যানিক এটাকের শিকার হন।

প্যানিক ব্যাধি'র প্রাদুর্ভাব নিয়ে সুইজারল্যান্ড এর জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় একটি গবেষণা করে যেখানে ৫৯১ জন মানুষকে ১৫ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। যাদের পরিবারের পূর্বের প্যানিক ব্যাধি এবং প্যানিক এটাকের ইতিহাস ছিল তারাই এই প্যানিক এটাকের শিকার হয়। প্যানিক এটাকের সাথে অন্যান্য মানসিক ব্যধিরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে যেমন- হতাশা ( ম্যাজর ডিপ্রেশন, বাইপোলার ডিসর্ডার ইত্যাদী), আগোরাফোবিয়া, সামাজিক ফোবিয়া, নির্দিষ্ট ফোবিয়া, অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসর্ডার। এছাড়াও এলকোহল এবং তামাকের সাথেও এর কিছুটা সম্পর্ক আছে। প্যানিক এটাক এবং প্যানিক ব্যাধি একই রোগ।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]