পিটার স্মিথ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
পিটার স্মিথ
পিটার স্মিথ.jpg
১৯৫০ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে পিটার স্মিথ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামটমাস পিটার ব্রোমলি স্মিথ
জন্ম(১৯০৮-১০-৩০)৩০ অক্টোবর ১৯০৮
ইপ্সউইচ, সাফোক, ইংল্যান্ড
মৃত্যু৪ আগস্ট ১৯৬৭(1967-08-04) (বয়স ৫৮)
হাইরেস, ভার, ফ্রান্স
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক গুগলি
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩১৬)
১৭ আগস্ট ১৯৪৬ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট২১ মার্চ ১৯৪৭ বনাম নিউজিল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৬৫
রানের সংখ্যা ৩৩ ১০,১৪২
ব্যাটিং গড় ৬.৫৯ ১৭.৯৫
১০০/৫০ ০/০ ৮/৩২
সর্বোচ্চ রান ২৪ ১৬৩
বল করেছে ৫৩৮ ৯৫,০০৭
উইকেট ১,৬৯৭
বোলিং গড় ১০৬.৩৩ ২৬.৫৫
ইনিংসে ৫ উইকেট ১২২
ম্যাচে ১০ উইকেট ২৮
সেরা বোলিং ২/১৭২ ৯/৭৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ৩৪৫/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৬ জানুয়ারি ২০১৯

টমাস পিটার ব্রোমলি স্মিথ (ইংরেজি: Peter Smith; জন্ম: ৩০ অক্টোবর, ১৯০৮ - মৃত্যু: ৪ আগস্ট, ১৯৬৭) সাফোকের ইপ্সউইচ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। লেগ ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংয়ে স্বীয় দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন পিটার স্মিথ

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯২৯ থেকে ১৯৫১ সময়কালে এসেক্স দলের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

লেগ ব্রেক ও গুগলি বোলিংয়ে পিটার স্মিথ দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে মারমুখী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। সাসেক্সের পক্ষে এক মৌসুমে সর্বাধিকসংখ্যক উইকেট ও সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে প্রাপ্ত উইকেটের রেকর্ড তাঁর দখলে রয়েছে। ১৯৪৭ সালে এক মৌসুমে ১৭২ উইকেট[২] এবং ১৯২৯ থেকে ১৯৫১ সময়কাল পর্যন্ত ১,৬১০টি উইকেট পান। নিখুঁত নিশানা বরাবর বোলিংয়ের জন্যে সুখ্যাতি পান। তাসত্ত্বেও, লর্ডসে ১৯৩৮ সালে অনুষ্ঠিত জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ার্সের মধ্যকার খেলায় ছয় বলে এইচ. টি. বার্টলেটের ব্যাট থেকে ২৮ রান আসে।[২]

ঘরোয়া ক্রিকেটে অসামান্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৪৭ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন তিনি।[২]

১৯৪৭ সালে চেস্টারফিল্ডের কুইন্স পার্কে এসেক্সের সদস্যরূপে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন তিনি। দলীয় সংগ্রহ ১৯৯/৯ থাকা অবস্থায় এগারো নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন পিটার স্মিথ। তারপর আড়াই ঘন্টা ক্রিজে অবস্থান করে ফ্রাঙ্ক ভিগারের সাথে শেষ উইকেট জুটিতে ২১৮ রান তুলেন ও ১৬৩ রান করে আউট হন। অন্যদিকে, ফ্রাঙ্ক ভিগার ১১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।[৩] তাঁর সংগৃহীত ১৬৩ রান এগারো নম্বর ব্যাটসম্যানের বিশ্বরেকর্ডরূপে চিহ্নিত হয়ে আছে।[২] প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শেষ উইকেট জুটিতে দুইশতাধিক রানের এগারোটি ঘটনার অন্যতম এটি। ১৯৪৭ সালের ঐ মৌসুমে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট লাভের ন্যায় ডাবল লাভ করেন তিনি।[২] এছাড়াও, বল হাতে সর্বাধিকসংখ্যক ৪৬৬৭ রান দিয়ে নতুন রেকর্ডও দাঁড় করান তিনি।[৪]

বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন পিটার স্মিথ। ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ তারিখে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। এরপর জুন, ১৯৪০ সালে সেকেন্ড লেফটেনেন্ট হিসেবে কমিশন্ডপ্রাপ্ত হন ও এসেক্স রেজিম্যান্টে অন্তর্ভূক্ত হন।[৫] ২/৪র্থ ব্যাটলিয়নে স্থানান্তরিত হন। সেখানে তিনি প্রায় তিন বছর কাজ করেন। এরপর মে, ১৯৪৩ সালে আলেকজান্দ্রিয়ায় কম্বাইন্ড অপারেশন্স হেডকোয়ার্টারে স্টাফ অফিসার পদবী ধারন করেন।[৫]

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩৩ সালে ওভালে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টের মাধ্যমে পিটার স্মিথের খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা পর্ব সম্পন্ন হবার কথা থাকলেও টেলিগ্রামে প্রাপ্ত সংবাদটি ধোঁকাবাজি ছিল। অবশেষে তেরো বছর পর নিজ দেশের পক্ষে খেলার সুযোগ পান তিনি।

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন পিটার স্মিথ। ১৭ আগস্ট, ১৯৪৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুইটি এবং নিউজিল্যান্ড সফরে একটি টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল তাঁর।

টেস্ট খেলোয়াড় হিসেবে মাঝারিমানের সফলতা পান। তবে, ১৯৪৬-৪৭ মৌসুমের অস্ট্রেলিয়া সফরে এমসিসি দলের সদস্যরূপে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ৯/১২১ পান। এরফলে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যে-কোন ইংরেজ বোলারের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান পিটার স্মিথ।[২]

৪ আগস্ট, ১৯৬৭ তারিখে ৫৯ বছর বয়সে ফ্রান্সের হাইরেস এলাকায় পিটার স্মিথের দেহাবসান ঘটে। এরপূর্বে তিনি ভূপাতিত হন ও মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের শিকার হন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 154। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. "Peter Smith"। Espncricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১১ 
  3. Derbyshire v Essex 1947
  4. Cricketer, November 1975, p. 65.
  5. http://www.espncricinfo.com/ci/content/story/154639.html

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]