দুমকা জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দুমকা জেলা
ঝাড়খণ্ডের জেলা
ঝাড়খণ্ডে দুমকার অবস্থান
ঝাড়খণ্ডে দুমকার অবস্থান
দেশভারত
রাজ্যঝাড়খণ্ড
প্রশাসনিক বিভাগসাঁওতাল পরগনা বিভাগ
সদরদপ্তরদুমকা
তহশিল১০
সরকার
 • বিধানসভা আসন
আয়তন
 • মোট৩৭৬১ কিমি (১৪৫২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১৩,২১,৪৪২
 • জনঘনত্ব৩৫০/কিমি (৯১০/বর্গমাইল)
জনতাত্ত্বিক
 • সাক্ষরতা৬১.০২ শতাংশ
 • লিঙ্গানুপাত৯৭৭
ওয়েবসাইটদাপ্তরিক ওয়েবসাইট

দুমকা জেলা পূর্ব ভারতে অবস্থিত ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ২৪ টি জেলার একটি৷ ১৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৩৯০ বঙ্গাব্দে(১লা জুন ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে) পুর্বতন সাঁওতাল পরগনা জেলা থেকে দুমকা জেলা গঠন করা হয়৷ ১২ই বৈশাখ ১৪০৮ বঙ্গাব্দে(২৬ এপ্রিল ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ) আবার দুমকা জেলা থেকে দক্ষিণাংশ বিচ্ছিন্ন করে নতুন দুমকা জেলাটি গঠিত হয়৷ জেলাটি ঝাড়খণ্ডের উত্তর-পূর্ব অবস্থিত সাঁওতাল পরগনা বিভাগের অন্তর্গত৷ জেলাটির জেলাসদর দুমকা শহরে অবস্থিত এবং একটি মাত্র দুমকা মহকুমা নিয়ে গঠিত৷

নামকরণ[সম্পাদনা]

সাঁওতাল পরগনা জেলার প্রথম শহর দুমকা৷ কিন্তু এর আয়তন অন্যান্য শহরগুলির থেকে ছোটো হওয়ার জন্য স্থানীয় সাঁওতালি ভাষাতে সুম্ক বা ছোটো জনপদ বলা হতো৷ এই সুম্ক থেকেই দুমকা নামটি এসেছে৷

অবস্থান[সম্পাদনা]

জেলাটির উত্তরে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডা জেলা৷ জেলাটির উত্তর পূর্বে(ঈশান) ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পাকুড় জেলা৷ জেলাটির পূর্বে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পাকুড় জেলা৷ জেলাটির দক্ষিণ পূর্বে(অগ্নি) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলা৷ জেলাটির দক্ষিণে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের জামতাড়া জেলা৷ জেলাটির দক্ষিণ পশ্চিমে(নৈঋত) ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দেওঘর জেলা৷ জেলাটির পশ্চিমে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দেওঘর জেলা৷ জেলাটির উত্তর পশ্চিমে(বায়ু) বিহার রাজ্যের বাঁকা জেলা৷[১]

জেলাটির আয়তন ৩৭৬১ বর্গ কিমি৷ রাজ্যের জেলায়তনভিত্তিক ক্রমাঙ্ক ২৪ টি জেলার মধ্যে তম৷ জেলার আয়তনের অনুপাত ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ৪.৭২%৷

ভাষা[সম্পাদনা]

দুমকা জেলায় প্রচলিত ভাষাসমূহের পাইচিত্র তালিকা নিম্নরূপ -

২০১১ অনুযায়ী দুমকা জেলার ভাষাসমূহ[২]

  সাঁওতালি (৩৯.৭১%)
  খোরঠা (৩৪.৪৪%)
  হিন্দী (১১.০৭%)
  বাংলা (৯.৫৯%)
  মালতো (২.৪০%)
  উর্দু (১.৮৬%)
  অন্যান্য (০.৯৩%)

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

মোট জনসংখ্যা ১১০৬৫২১(২০০১ জনগণনা) ও ১৩২১৪৪২(২০১১ জনগণনা)৷ রাজ্যে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্রমাঙ্ক ২৪ টি জেলার মধ্যে ১১তম৷ ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ৪.০১% লোক দুমকা জেলাতে বাস করেন৷ জেলার জনঘনত্ব ২০০১ সালে ২৯৪ ছিলো এবং ২০১১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫১ হয়েছে।

জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২০০১-২০১১ সালের মধ্যে জনসংখ্যা বৃৃদ্ধির হার ১৯.৪২% , যা ১৯৯১-২০১১ সালের ১৬.৩৭% বৃদ্ধির হারের থেকে বেশী৷ জেলাটিতে লিঙ্গানুপাত ২০১১ অনুযায়ী ৯৭৭(সমগ্র) এবং শিশু(০-৬ বৎ) লিঙ্গানুপাত ৯৬৬৷[৩]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

জেলাটির স্বাক্ষরতা হার ৪৭.৯৪%(২০০১) তথা ৬১.০২%(২০১১)৷ পুরুষ স্বাক্ষরতার হার ৬২.৮৬%(২০০১) তথা ৭২.৯৬%(২০১১)৷ নারী স্বাক্ষরতার হার ৩২.৩৫%(২০০১) তথা ৪৮.৮২% (২০১১)৷ জেলাটিতে শিশুর অনুপাত সমগ্র জনসংখ্যার ১৬.৬১%৷[৩] জেলা তে সিধু কানহু মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় আছে । যেখানে মোটামুটি সব বিষয়ের উচ্চশিক্ষা আর ব্যাবস্থা আছে ।

নদনদী[সম্পাদনা]

ময়ূরাক্ষী এই জেলার প্রধান নদী । জেলার সদর শহর দুমকা এই নদীর তীরে অবস্থিত । দুমকা শহরের অদূরেই মাসেনজরে গড়ে উঠেছে মাসেনজর ড্যাম । দ্বারকা , বক্রেশ্বর , কুষকরানি , ব্রাম্ভোনি নদী উল্লেখযোগ্য ।

পর্যটন ও দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

মাসেঞ্জোর ড্যাম । এখানে প্রতিবছর শীতকালে ঝাড়খণ্ড সহ পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য থেকে বহু পর্যটকদের আগমন ঘটে । এছাড়া আছে তাটলই উষ্ণ প্রস্রবণ , মন্দার পাহাড় উল্লেখযোগ্য ।

পরিবহন ও যোগাযোগ[সম্পাদনা]

সরকপথ[সম্পাদনা]

দুমকা ঝাড়খণ্ডের উপরাজধানী হওয়ায় এর যোগাযোগ প্রায় সব শহরের সাথে ভালো আছে । দুমকা শহর রাজধানী রাঁচি থেকে ২৭৮ কিমি দূরে অবস্থিত । এছাড়াও বিহারের ভাগলপুরের সঙ্গে এবং পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাট , সিউড়ি ও বহরমপুর শহরের সঙ্গে সরাসরি বাস যোগাযোগ আছে।

রেলপথ[সম্পাদনা]

দুমকা রেল স্টেশন ২০১১ সালে চালু হয়। ১২ জুলাই ২০১১ সালে জাসিডিহ-দুমকা রেল পথ চালু হয়। এই লাইনে দিনে ৩ টে প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলাচল করে । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে দুমকা ও রাঁচির মধ্যে প্রথম আন্তঃনগর এক্সপ্রেস চালু হয়। এটা বৃহস্পতিবার এবং রবিবার ছাড়া সপ্তাহে পাঁচ দিন চালানো হয় এই এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে। ৪ জুন ২০১৫ তে যাত্রা শুরু করে দুমকা থেকে রামপুরহাট লাইনে । এই লাইনে একটি প্যাসেঞ্জার ও একটি এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে । দুমকা থেকে ভাগলপুরের লাইন ও চালু হয়েছে নিউ মদনপুর থেকে মন্দার হিল হয়ে । এর ফলে কলকাতা থেকে ভাগলপুরের দূরত্ব কমে হয়েচে ৩৯৮ কিমি। হাওড়া থেকে ভাগলপুর গামী কবিগুরু এক্সপ্রেস এই পথেই ভাগলপুর যায় ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]