তিল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তিল
Sesamum indicum - Köhler–s Medizinal-Pflanzen-129.jpg
Sesamum indicum 2.jpg
Sesame plants
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Plantae
(শ্রেণীবিহীন): Angiosperms
(শ্রেণীবিহীন): Eudicots
(শ্রেণীবিহীন): Asterids
বর্গ: Lamiales
পরিবার: Pedaliaceae
গণ: Sesamum
প্রজাতি: S. indicum
দ্বিপদী নাম
Sesamum indicum
L.
প্রতিশব্দ[১]
  • Dysosmon amoenum Raf.
  • Sesamum africanum Tod.
  • Sesamum occidentalis Heer & Regel
  • Sesamum oleiferum Sm.
  • Sesamum orientale L.
  • Volkameria orientalis (L.) Kuntze

তিল (/ˈsɛsəm/; Sesamum indicum) সেসিমাম গণ অর্ন্তভূক্ত একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। এর অনেকগুলো স্বজাতি আফ্রিকায় এবং কয়েকটি ভারতের বিভন্ন স্থানে পাওয়া যায়। এটি ব্যাপকভাবে বিশ্বের ক্রান্তীয় অঞ্চলে দেশীভূত এবং ভোজ্য বীজের জন্য চাষ করা হয়ে থাকে।

বর্ননা[সম্পাদনা]

তিল বীজাংকুর
তিল ফুল
তিল, পঞ্চখাল উপত্যকা, নেপাল
অপূর্ণাঙ্গ ক্যাপসুল

তিল একবর্ষজীবি উদ্ভিদ যা প্রায় ৫০ থেকে ১০০ সেমি (১.৬ থেকে ৩.৩ ফু) লম্বা, এবং এর উল্টো পাতা সাধারনত ৪ থেকে ১৪ সেমি (১.৬ থেকে ৫.৫ ইঞ্চি) পর্যন্ত লম্বা এবং মাঝথানে ব্যবধানসহ বিস্তৃতভাবে ভল্লাকার হয়ে থাকে ৫ সেমি (২ ইঞ্চি) পর্যন্ত। গাছ নলাকার। ফুল সাধারণ নীল রঙের হয় এবং প্রতিফুলে একটি করে ফল অর্থাৎ বীজ থাকে। প্রতিটি ফলে খাঁজকাটা বিভাগে অনেক বীজ থাকে। বীজ সাধারনত ৩ মি.মি. - ৪ মি.মি. লম্বা এবং প্রস্থ ২ মি.মি.। বীজের পুরুত্ব ১ মি.মি. এর মত হয়ে থাকে। প্রতিটি বীজের ওজন ২০ মি.গ্রা - ৪০ মি.গ্রা।

এর ফুল হলুদ, নলাকার, একটি চার খাঁজকাটা মুখের সাথে ৩ থেকে ৫ সেমি (১.২ থেকে ২.০ ইঞ্চি) লম্বা হয়ে থাকে। তিলের ফুল এছাড়াও সাদা, নীল বা বেগুনি রঙের হতে পারে।

চাষ[সম্পাদনা]

তিলের বীজ বর্ষার শেষে জমিতে ছিটানো হয়।

২০০৫ সালে তিল উৎপাদন

উৎপাদন এবং বাণিজ্য[সম্পাদনা]

২০১০ সালে শীর্ষ দশ তিল উৎপাদনকারী[২]
দেশ উৎপাদন
(মিলিয়ন টন)
ফলন
(টন/হেক্টর)
 মায়ানমার ০.৭২ ০.৪৬
 ভারত ০.৬২ ০.৩৪
 গণচীন ০.৫৯ ১.২২
 ইথিওপিয়া ০.৩১ ০.৯৯
 সুদান ০.২৫ ০.১৯
 উগান্ডা ০.১৭ ০.৬১
 নাইজেরিয়া ০.১২ ০.৩৮
 বুর্কিনা ফাসো ০.০৯ ০.৭২
 নাইজার ০.০৯ ০.৫০
 সোমালিয়া ০.০৭ ০.৯৬
সারা বিশ্বে ৩.৮৪ ০.৪৯

২০১০ সালে বিশ্বব্যাপী তিল বীজের মোট ফসল হয় ৩.৮৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন। ২০১০ সালে সর্বাধিক উৎপাদক ছিল বার্মা (মায়ানমার), এবং শীর্ষ তিন উৎপাদকের মধ্যে ছিল, বার্মা, ভারত এবং চীন, যা বিশ্বব্যাপী মোট উত্পাদনের ৫০ শতাংশ।[৩]

২০১০ সালে ৭.৮ মিলিয়নের অধিক হেক্টর জমিতে তিল ফলানো হয়।[২]

২০১০ সালে বিশ্বব্যাপী তিল বীজের গড় ফলন ছিল প্রতি হেক্টরে ০.৪৯ মেট্রিক টন। এই ছকে ২০১০ সালের শীর্ষ দশ উৎপাদনকারী দেশের উৎপাদন (মিলিয়ন মেট্রিক টন) এবং ফলন (হেক্টর প্রতি মেট্রিক টন) উপস্থাপিত হয়েছে।

২০১০ সালে বিশ্বে তিল বীজ খামারের সবচেয়ে উৎপাদনশীল দেশ হেক্টর প্রতি ৫.৫ টন ফলন গড়ে ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন; ইতালি সর্বাধিক হেক্টর প্রতি ৭.২ টন জাতীয় গড় ফলন উৎপাদন করে।[২]

গুনাগুণ[সম্পাদনা]

  • রক্ত আমশয় ও সাধারন আমাশয় ভাল করতে এটি উপকারী।
  • ফোড়ার দূর করতে
  • পচা ক্ষত দূর করতে[৪]
  • তিল দাঁত ও মাড়ির রোগ দূর করে।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য চিকিৎসা[সম্পাদনা]

পুষ্টি তথ্য - টোস্ট বনাম কাঁচা তিল
তিল বীজ কার্নেল, টোস্ট
প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) পুষ্টিগত মান
শক্তি ২,৩৭২ কিজু (৫৬৭ kcal)
২৬.০৪ g
চিনি ০.৪৮ g
খাদ্যে ফাইবার ১৬.৯ g
48.00 g
16.96 g
ট্রিপ্টোফ্যান ০.৩৭১ g
থ্রিয়েনিন ০.৭০৪ g
আইসুলেসিন ০.৭৩০ g
লুসিন ১.২৯৯ g
লাইসিন ০.৫৪৪ g
মেথাইনিন ০.৫৬০ g
সিস্টাই ০.৩৪২ g
ফিনাইনলালনিন ০.৮৯৯ g
টাইরোসিন ০.৭১০ g
ভ্যালিন ০.৯৪৭ g
আরজানাইন ২.৫১৫ g
হিস্টিডিন ০.৪৯৯ g
অ্যালানিন ০.৮৮৬ g
অ্যাস্পার্টিক অ্যাসিড ১.৫৭৪ g
গ্লুটামিক অ্যাসিড ৩.৭৮২ g
গ্লাইসিন ১.১৬২ g
প্রোলিন ০.৭৭৪ g
সেরিন ০.৯২৫ g
ভিটামিনসমূহ
ভিটামিন সি
(0%)
0.0 mg
চিহ্ন ধাতুসমুহ
ক্যালসিয়াম
(13%)
131 mg
লোহা
(60%)
7.78 mg
ম্যাগনেসিয়াম
(97%)
346 mg
ফসফরাস
(111%)
774 mg
পটাশিয়াম
(9%)
406 mg
সোডিয়াম
(3%)
39 mg
দস্তা
(75%)
7.16 mg
অন্যান্য উপাদানসমূহ
পানি 5.00 g
Percentages are roughly approximated using US recommendations for adults.
Source: USDA Nutrient Database
তিল বীজ কার্নেল, শুকনো
প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) পুষ্টিগত মান
শক্তি ২,৬৪০ কিজু (৬৩০ kcal)
১১.৭৩ g
চিনি ০.৪৮ g
খাদ্যে ফাইবার ১১.৬ g
61.21 g
20.45 g
ট্রিপ্টোফ্যান ০.৩৩০ g
থ্রিয়েনিন ০.৭৩০ g
আইসুলেসিন ০.৭৫০ g
লুসিন ১.৫০০ g
লাইসিন ০.৬৫০ g
মেথাইনিন ০.৮৮০ g
সিস্টাই ০.৪৪০ g
ফিনাইনলালনিন ০.৯৪০ g
টাইরোসিন ০.৭৯০ g
ভ্যালিন ০.৯৮০ g
আরজানাইন ৩.২৫০ g
হিস্টিডিন ০.৫৫০ g
অ্যালানিন ০.৯৯০ g
অ্যাস্পার্টিক অ্যাসিড ২.০৭০ g
গ্লুটামিক অ্যাসিড ৪.৬০০ g
গ্লাইসিন ১.০৯০ g
প্রোলিন ১.০৪০ g
সেরিন ১.২০০ g
হাইড্রক্সিফোলাইন ০.০০০ g
ভিটামিনসমূহ
ভিটামিন সি
(0%)
0.0 mg
চিহ্ন ধাতুসমুহ
ক্যালসিয়াম
(6%)
60 mg
লোহা
(49%)
6.4 mg
ম্যাগনেসিয়াম
(97%)
345 mg
ফসফরাস
(95%)
667 mg
পটাশিয়াম
(8%)
370 mg
সোডিয়াম
(3%)
47 mg
দস্তা
(117%)
11.16 mg
অন্যান্য উপাদানসমূহ
পানি 3.75 g
Percentages are roughly approximated using US recommendations for adults.
Source: USDA Nutrient Database
পুষ্টিগত বিষয়বস্তু
তিল বীজ তেলের সমৃদ্ধ উৎস।
তিল মানুষের পুষ্টির একটি সাধারণ উৎস।

প্রতিদিন ৮০ গ্রাম তিল বেটে সকালে খেয়ে ৫ মিনিট পরে এক গ্লাস পানি খেলে শরীরে পুষ্ঠির অভাব দূর হয় ও দাঁত শক্ত হয়।

গ্যালারি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Plant List: A Working List of All Plant Species"। সংগৃহীত ১৪ জানুয়ারি ২০১৫ 
  2. Food and Agriculture Organization of the United Nations (২০১২)। "Production Crops: sesame seeds" 
  3. Food and Agriculture Organization of the United Nations (২০১২)। "Food and Agricultural commodities production: Countries by commodity" 
  4. আঃ খালেক মোল্লা সম্পাদিত;লোকমান হেকিমের কবিরাজী চিকিৎসা; আক্টোবর ২০০৯; পৃষ্ঠা- ২২৫-২৬

গ্রন্থতালিকা[সম্পাদনা]

  • Bedigian, D. (১৯৮৪)। Sesamum indicum L. Crop origin, diversity, chemistry and ethnobotany। Urbana-Champaign: University of Illinois 
  • Bedigian, D. (১৯৮৫)। "Is še-giš-i sesame or flax?"। Bulletin on Sumerian Agriculture 2: 159–178। 
  • Bedigian, D. (১৯৮৮)। "Sesamum indicum L. (Pedaliaceae): Ethnobotany in Sudan, crop diversity, lignans, origin, and related taxa"। in Goldblatt P., Lowry P.P.। Modern Systematic Studies in African Botany। AETFAT Monographs in Systematic Botany 25। St. Louis, MO: Missouri Botanical Garden। পৃ: 315–321। 
  • Bedigian, D. (১৯৯৮)। "Early history of sesame cultivation in the Near East and beyond"। in Damania A.B., Valkoun J., Willcox G., Qualset C.O.। The Origins of Agriculture and Crop Domestication। The Harlan Symposium। Aleppo: ICARDA। পৃ: 93–101। 
  • Bedigian, D. (২০০০)। "Sesame"। in Kiple K.F., Ornelas-Kiple C.K.। The Cambridge World History of Food ICambridge University Press। পৃ: 411–421। 
  • Bedigian, D.; Korošec-Koruza, Zora (২০০৩)। "Evolution of sesame revisited: domestication, diversity and prospects"। Genetic Resources and Crop Evolution 50 (7): 779–787। ডিওআই:10.1023/A:1025029903549 
  • Bedigian, D. (২০০৩)। "Sesame in Africa: origin and dispersals"। in Neumann K., Butler A., Kahlheber S.। Food, Fuel and Fields — Progress in African Archaeobotany। Africa Praehistorica। Cologne: Heinrich-Barth-Institute। পৃ: 17–36। 
  • Bedigian, D. (২০০৪)। "Conspectus of Sesamum. Annex III" (PDF)। IPGRI. Descriptors for Sesame (Sesamum spp.)। Rome: International Plant Genetic Resources Institute। পৃ: 61–63। টেমপ্লেট:Retrieved
  • Bedigian, D. (২০০৪)। "History and lore of sesame in Southwest Asia"। Economic Botany 58 (3): 329–353। ডিওআই:10.1663/0013-0001(2004)058[0330:HALOSI]2.0.CO;2 
  • Bedigian, D. (২০০৬)। "Assessment of sesame and its wild relatives in Africa"। in Ghazanfar S.A., Beentje H.J.। Taxonomy and Ecology of African Plants, their Conservation and Sustainable UseKew: Royal Botanic Gardens। পৃ: 481–491। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]