তপন বাগচী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

তপন বাগচী বাংলাদেশের নব্বই দশকের কবি, ছড়াকার ও প্রাবন্ধিক। তিনি জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার কদমবাড়ী গ্রামে, মাতুলালয়ে। পিতা তুষ্টচরণ বাগচী এবং মাতা জ্যোতির্ময়ী বাগচী। পৈতৃক বাস বাহাদুরপুর, দত্তকেন্দুয়া, মাদারীপুর। ঢাকা কলেজের সহকারী অধ্যাপক কেয়া বালা তাঁর স্ত্রী এবং তূণীর ও ছুটি তাঁদের সন্তান। শিক্ষালাভ করেন কদমবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় এম.এ. এবং পি.এইচ.ডি. লাভ। সাংবাদিকতা এবং প্রকাশনা সংক্রান্ত পেশায় যুক্ত। দেশের প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন ‘একুশে টেলিভিশন’-এর যুগ্ম বার্তা সম্পাদক এবং দেশের সর্বাধিক বিক্রীত দৈনিক পত্রিকা ‘প্রথম আলো’য় সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেছেন। বর্তমানে জাতির মননের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘বাংলা একাডেমী’র গবেষণা-সংকলন-ফোকলোর বিভাগের উপপরিচালক।

প্রকাশিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ৩৮। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কেতকীর প্রতি পক্ষপাত (১৯৯৬), শ্মশানেই শুনি শঙ্খধ্বনি (১৯৯৬), অন্তহীন ক্ষতের গভীরে (২০০৫), সকল নদীর নাম গঙ্গা ছিল (২০০৮), নির্বাচিত ১০০ কবিতা (২০১০), প্রেমের কবিতা (২০১১)।[১]

ছড়ার গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে রুখে দাঁড়াই বর্গী তাড়াই (১৯৯৪), চরকাবুড়ি ওড়ায় ঘুড়ি (১৯৯৫), স্বপ্নেবোনা তূণীর সোনা (২০০৭), ঢাকা-লন্ডন ইমেইল ছড়া (২০০৭), রাতের বেলা ভূতের খেলা’ (২০০৮), মঙ্গা আসে ঘরের পাশে (২০০৮), খাচ্ছে ছুটি লুটোপুটি (২০০৯), সমকালে তমকালে (২০১০), সকালবেলা স্মৃতির ভেলা (২০১১)।

তাঁর গবেষণা ও প্রবন্ধের গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে তৃণমূল সাংবাদিকতার উন্মেষ ও বিকাশ (১৯৯৯), নজরুলের কবিতায় শব্দালঙ্কার (২০০০), সাহিত্যে সাম্প্রতিক পাঠ (২০০১), রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ : জীবন ও কবিতা (২০০৬), মুক্তিযুদ্ধে গোপালগঞ্জ (২০০৭), বাংলাদেশের যাত্রাগান : জনমাধ্যম ও সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত (২০০৭), চলচ্চিত্রের গানে ডক্টর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (২০১০), লোকসংস্কৃতির কতিপয় পাঠ (২০১১), কিছু স্মৃতি কিছু ধৃতি (২০১১), সাহিত্যের সঙ্গ অনুষঙ্গ (২০১১), লালন মতুয়া ও লোকসংগীত অন্বেষা (২০১২), রবীন্দ্রসাহিত্যে নতুন প্রেক্ষণ (২০১২), সাহিত্যের মধ্যমাঠ থেকে (২০১২), রবীন্দ্রনাথ ও বৌদ্ধ আখ্যান (২০১২)।[২][৩]

পুরস্কার ও সংবর্ধনা[সম্পাদনা]

তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কার ও সংবর্ধনার মধ্যে রয়েছে মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার (সংস্কৃতি সংসদ, ঢাকা, ১৯৯১), জসীমউদ্দীন গবেষণা পুরস্কার (ফরিদপুর, ১৯৯৬), মহাদিগন্ত সাহিত্য পুরস্কার (কলকাতা, ২০০৮), অমলেন্দু বিশ্বাস স্মৃতি পুরস্কার (২০০৮), জেমকন কথাসাহিত্য পুরস্কার (২০০৮), এম নূরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০০৯), সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য পুরস্কার (মাদারীপুর, ২০০৯), কবি বাবু ফরিদী সাহিত্য পুরস্কার (ফরিদপুর, ২০০৯), বগুলা ছোট কাগজের মঞ্চ সংবর্ধনা (নদীয়া, ২০১০), বাংলাদেশ কারু ও লোকশিল্প ফাউন্ডেশন সংবর্ধনা (নারায়ণগঞ্জ, ২০১১), নতুন গতি সাহিত্য পুরস্কার (কলকাতা, ২০১১), অনুভব বহুমুখী সমবায় সমিতি সাহিত্য পদক (২০১৩), সাংস্কৃতিক খবর পদক (২০১৩), স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ডেইলি স্টার সেলিব্রেটি লাইফ লিরিক অ্যাওয়ার্ড (২০১৩) |[৪]

তিনি যুক্ত আছেন বাংলা একাডেমী, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ ফোকলোর ফোরাম, চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন স্মৃতি সংসদ, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল, রুদ্র সংসদ, বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমি, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পরিষদ, বাংলাদেশ ভাষা সমিতি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলা একাডেমী লেখক অভিধান, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ১৯৯৭
  2. http://www.dailymatebd.com/library/writer/1143
  3. লালন মতুয়া ও লোকসংগীত অন্বেষা, কথামেলা প্রকাশনী, ঢাকা, ২০১২
  4. http://www.thedailystar.net/beta2/news/of-grace-grandeur-and-melody/
  5. http://diyala.kochiknacha.com/2009/01/tapan-bagchi-ii.html