ডেভিড ব্রাউন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডেভিড ব্রাউন
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম (১৯৪২-০১-৩০) ৩০ জানুয়ারি ১৯৪২ (বয়স ৭৬)
ওয়ালসল, স্টাফোর্ডশায়ার
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২৬ ৩৯০
রানের সংখ্যা ৩৪২ ৪১১০
ব্যাটিং গড় ১১.৭৯ ১২.২৬
১০০/৫০ -/- -/৬
সর্বোচ্চ রান ৪৪* ৭৯
বল করেছে ৫০৯৮ ৬৩৩৩৯
উইকেট ৭৯ ১১৬৫
বোলিং গড় ২৮.৩১ ২৪.৮৫
ইনিংসে ৫ উইকেট ৪৬
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/৪২ ৮/৬০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭/- ১৫৭/-
উৎস: ক্রিকইনফো, ২৬ মার্চ ২০১৮

ডেভিড জন ব্রাউন (ইংরেজি: David Brown; জন্ম: ৩০ জানুয়ারি, ১৯৪২) স্টাফোর্ডশায়ারের ওয়ালসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।[১] ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন ডেভিড ব্রাউন

ক্রিকেট লেখক কলিন বেটম্যান তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, ব্রাউন লম্বুটে গড়নের ও জনপ্রিয় পেসার ছিলেন। সাহসী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও অভিযোগবিহীন প্রচেষ্টায় অংশ নিতেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

কুইন্স মেরি’জ গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেন তিনি। ১৯৬১ সালে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে অভিষেক ঘটে ডেভিড ব্রাউনের। ইংরেজ প্রচলিতধারার নির্ভরযোগ্য সিম বোলার ছিলেন তিনি। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির দীর্ঘ উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে যে-কোন ধরনের উইকেটে বলকে বাউন্স করাতে পারদর্শী ছিলেন তিনি। ফলে ব্যাটিং উপযোগী উইকেটেও তাঁর বোলিংয়ের কার্যকারিতা প্রকাশ পেতো যা তিনি স্বদেশের সবুজ পিচে পেয়েছিলেন। আঘাতপ্রাপ্তিকে উপেক্ষা করে ১,১৬৫টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে নিয়মিতভাবে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। সর্বমোট ৭৯টি টেস্ট উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখান। ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন ৫/৪২। ২২ জুলাই, ১৯৬৫ তারিখে টেস্ট অভিষেক ঘটে ডেভিড ব্রাউনের। ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। এ সময়ে তিনি ছাব্বিশটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে ইংরেজ দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করে। ঐ সফরে জন প্রাইস, ডেভিড ব্রাউন ও টম কার্টরাইটের ন্যায় বোলারেরা আঘাতের কবলে পড়লে কেন পালমারকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এ সময়ে তিনি জোহেন্সবার্গে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তিনি তাঁর সেরা বোলিং করেছিলেন। ৫/৬৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে ফলো-অনে পাঠাতে সক্ষমতা দেখান। এরফলে পঞ্চাশ বছর পর ইংল্যান্ড তাদের সর্ববৃহৎ জয়ের সন্ধান পায়। এ বিজয়টি অনেকাংশে পরিচারিকার হাঁটুতে কনুই বাঁকিয়ে বসে থাকার ন্যায় ছিল।[২] ড্র হওয়া ঐ সিরিজটিতে ৩৭.১৮ গড়ে মাত্র ১১ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৬৯ সালের প্রথমার্ধ্বে ডেভিড ব্রাউন উইকেট প্রতি ২০ রান দিয়ে চৌদ্দ উইকেট দখল করেন। এরফলে, ইংল্যান্ড দল খুব সহজেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়। জন স্নো’র সাথে বোলিং উদ্বোধনে নামতেন। কিন্তু স্নো’র আঘাতপ্রাপ্তির ফলে অ্যালান ওয়ার্ড তাঁর সাথে জুটি গড়েন। ইংল্যান্ডের পরবর্তী প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁরা বোলিং উদ্বোধনে নামেন। স্নো’র সুস্থতার পর দ্বিতীয় টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করা হলে দেখা যায় যে, ওয়ার্ডের সাথে ব্রাউনকে খেলানো হবে না। এর প্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে আর ব্রাউনকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে খেলতে দেখা যায়নি।

অধিনায়কত্ব লাভ[সম্পাদনা]

তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলীর কারণে ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে পাকিস্তান সফরে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের অনূর্ধ্ব-২৫ দলে সহঃ অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ওয়ারউইকশায়ার দলের অধিনায়কত্ব প্রদান করা হয়।

১৯৮২ সালে দলের আঘাতগ্রস্ততার কারণে পুণরায় কোলাহলপূর্ণ মাঠে ৪০ বছর বয়সে মাঠে নামতে বাধ্য হন। দীর্ঘকালের বিরতিতে খামার ও ঘোড়ার উৎপাদন কার্যের সাথে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। এভাবেই তিনি ৩৯০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিতে সক্ষমতা দেখান। কাউন্টি ক্রিকেটে প্রভাববিস্তার করে বল হাতে প্রথম অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে উইকেট লাভে কৃতকার্য হন। তাঁর দলীয় সঙ্গী গ্ল্যাডস্টোন স্মল দ্বিতীয় দিন সকালে টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের ফলে ওয়ারউইকশায়ার তাদের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে সাউথপোর্টে খেলেন। খেলার শর্তাবলীর ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ডেভিড ব্রাউন পূর্ণাঙ্গ অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 34। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. p137, E.W. Swanton, Swanton in Australia, with MCC 1946–75, Fontana, 1977
  3. Frindall, Bill (২০০৯)। Ask BeardersBBC Books। পৃষ্ঠা 196। আইএসবিএন 978-1-84607-880-4 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]