টাইগার স্মিথ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
টাইগার স্মিথ
Tiger Smith 1905.jpg
আনুমানিক ১৯০৫ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে টাইগার স্মিথ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামআর্নেস্ট জেমস টাইগার স্মিথ
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরন
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৭৬)
৩০ ডিসেম্বর ১৯১১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট৩০ ডিসেম্বর ১৯১৩ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১১ ৪৯৬
রানের সংখ্যা ১১৩ ১৬৯৯৭
ব্যাটিং গড় ৮.৬৯ ২২.৩৯
১০০/৫০ -/- ২০/৬৩
সর্বোচ্চ রান ২২ ১৭৭
বল করেছে ১৬৭
উইকেট
বোলিং গড় ৫১.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৭/৩ ৭২২/১৫৬
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৪ মার্চ ২০১৮

আর্নেস্ট জেমস টাইগার স্মিথ (ইংরেজি: Tiger Smith; জন্ম: ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৬ - মৃত্যু: ৩১ আগস্ট, ১৯৭৯) ওয়ারউইকশায়ারের বার্মিংহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯১১ থেকে ১৯১৪ সময়কালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও ডানহাতে ব্যাটিং করতেন টাইগার স্মিথ

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

শুরুতে বার্মিংহামের ক্যাডবারি কনফেকশনারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন টাইগার স্মিথ। ১৯০৪ সালে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম চুক্তিবদ্ধ হন। তবে পরবর্তী অর্ধ-দশককাল দলে অনিয়মিতভাবে খেলতেন তিনি। এ সময়ে লিলি স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করতেন। কিন্তু, টেস্ট দল থেকে বিতাড়িত হলে লিলি ব্যাটিংয়ের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। ফলে, স্মিথ এ সুযোগ গ্রহণ করে বেশ ভালভাবে উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসেন।

১৯১০ সালে ফ্রাঙ্ক ফস্টারের সাথে বেশ বোঝাপড়ায় এগিয়ে আসেন। ১৯১১ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে ওয়ারউইকশায়ারের অবিস্মরণীয় সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন পিচে ফস্টার ও ফ্রাঙ্ক ফিল্ডকে চমৎকারভাবে সামলিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও বিপ্লব ঘটাতে থাকেন। ১৯১১ সালের পূর্ব-পর্যন্ত কোন অর্ধ-শতকের সন্ধান পাননি। কিন্তু পরবর্তীতে এজবাস্টনে সারের বিপক্ষে সেঞ্চুরিসহ আট শতাধিক রান তুলেন।

তাঁর উত্তরসূরী ডিক লিলি’র তুলনায় অধিক সময় অতিবাহিত করেছেন। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন টাইগার স্মিথ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১১ টেস্ট খেলার সুযোগ হয় তাঁর। ৩০ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে টেস্ট অভিষেক ঘটে টাইগার স্মিথের। ১৯১১-১২ মৌসুমের অ্যাশেজ সফরের জন্য আশ্চর্যজনকভাবে মনোনীত হন। তবে, ফ্রাঙ্ক ফস্টারের সাথে স্মিথের সংযোগের দক্ষতার কারণে হার্বার্ট স্ট্রাডউইককে টেস্টের বাইরে অবস্থান করতে হয়েছিল। তিনি আট ক্যাচ নেন। এছাড়াও, ফস্টারের বলে একটি স্মরণীয় স্ট্যাম্পিং উপহার দেন। সিডনি বার্নসের স্পিন বোলিং মোকাবেলায় তাঁর পূর্বে কিংবা পরবর্তী সময়ে আর কোন ক্রিকেটারকে দেখা যায়নি।

১৯১২ সালে দূর্বলমানের ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনিও অংশগ্রহণ করেন।[১] তবে, ১৯১১ ও ১৯১২ সালের ইংরেজ ক্রিকেটে আবহাওয়া বেশ ভেজা ছিল। কিন্তু, দুই ধরনের বলের গতিধারা লক্ষ্য করা যায়। এ সময়ে ওয়ারউইকশায়ার পয়েন্ট তালিকায় মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে। তবে, স্মিথ ঠিকই তাঁর ক্রীড়াশৈলীকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। ১৯১৩ সালে ব্যক্তিগত সেরা ৬৮ ক্যাচ গ্লাভস বন্দী করেন। ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য দলের সদস্য হন। তবে, এক টেস্ট পরই হার্বার্ট স্ট্রাডউইকের কাছে স্থান বদল হয় তাঁর। এরপর স্ট্রাডউইক ও আর্থার ডলফিনের কাছে তাঁকে হার মানতে হয় ও আর ইংল্যান্ড দলে খেলার সুযোগ হয়নি টাইগার স্মিথের।

বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়কালে ওয়ারউইকশায়ারের প্রধান মেরুদণ্ড ছিলেন টাইগার স্মিথ। এ ধারা ১৯৩০ সাল পর্যন্ত বহমান ছিল। এ সময়ে তিনি যে শুধুমাত্র উইকেট-রক্ষণে ধারাবাহিকভাবে সফলতা পাচ্ছিলেন না তাই নয়, ব্যাটসম্যান হিসেবেও প্রভূতঃ ভূমিকা রাখতে থাকেন। ১৯২২ সালে ১,৩০৩ রান করেন এবং ১৯২৫ সালে ইনিংস প্রতি ৩১-এর অধিক গড়ে ১,৪৭৭ রান তুলেন। ঐ মৌসুমে সাসেক্সের বিপক্ষে ৩৯২ রানের মধ্যে অপরাজিত ১৩৯* রান তুলেছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ পরের বছর তাঁর পরিবর্তে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়েছিলেন জ্যাক হবস

আম্পায়ারিত্ব[সম্পাদনা]

১৯১২ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে টাইগার স্মিথ

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর আম্পায়ারিত্বের দিকে ঝুঁকে পড়েন টাইগার স্মিথ। ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮ সময়কালে বেশ কয়েকটি টেস্ট খেলা পরিচালনায় অগ্রসর হন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পূর্ব-পর্যন্ত মে, ১৯৩১ থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আম্পায়ার হিসেবে খেলা পরিচালনা করতে থাকেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে আট টেস্টে আম্পায়ারিত্ব করেন। জুলাই, ১৯৩৩ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলা পরিচালনা করেন তিনি। এরপর জুন, ১৯৩৫ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলা পরিচালনা করেন। ১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে এবং ১৯৩৮ সালে হেডিংলিতে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় ও চতুর্থ টেস্ট খেলা পরিচালনা করেন টাইগার স্মিথ। এরপর ১৯৩৯ সালে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার সিরিজের প্রথম ও দ্বিতীয় টেস্ট খেলা পরিচালনার মাধ্যমে তাঁর টেস্ট আম্পায়ারিত্বের সমাপণ ঘটে।

কোচিং[সম্পাদনা]

যুদ্ধের পর ওয়ারউইকশায়ারের কোচের দায়িত্বে ছিলেন টাইগার স্মিথ। এ দায়িত্ব ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন। ১৯৫১ সাথে তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা পায় ওয়ারউইকশায়ার দল। একই সাথে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত আরও কয়েকটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছেন তিনি। অধিকাংশই কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কম্বাইন্ড সার্ভিসেসের ন্যায় কাউন্টিবিহীন দলগুলোর বিপক্ষে ওয়ারউইকশায়ারের অংশগ্রহণ ছিল। এছাড়াও, ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত তরুণদেরকে শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে স্থানীয় ইনডোর ক্রিকেট স্কুল পরিচালনা করতেন।

দেহাবসান[সম্পাদনা]

৩০ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে প্রথিতযশা দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার প্লাম লুইসের দেহাবসানের পর তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করতে থাকেন ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর জীবিত খেলোয়াড় ছিলেন।

৩১ আগস্ট, ১৯৭৯ তারিখে ৯৩ বছর বয়সে পশ্চিম মিডল্যান্ডসে নর্থফিল্ড এলাকায় টাইগার স্মিথের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


পূর্বসূরী
প্লাম লুইস
জীবিত বয়োঃজ্যেষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার
৩০ জানুয়ারি, ১৯৭৬ - ৩১ আগস্ট, ১৯৭৯
উত্তরসূরী
অ্যান্ড্রু স্যান্ডহাম