জাহাঙ্গীর শাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাহাঙ্গীর শাহ
ক্রিকেট তথ্য
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা -
রানের সংখ্যা - ১৬
ব্যাটিং গড় - ৮.০০
১০০/৫০ - -/-
সর্বোচ্চ রান - ৮*
বল করেছে - ২৩৪
উইকেট -
বোলিং গড় - ৮৬.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং - ২/২৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং -/- ১/-
উৎস: ক্রিকইনফো, ১৩ অক্টোবর ২০০৬

জাহাঙ্গীর শাহ বাদশাহ (জন্ম: ১৯ জুলাই, ১৯৪৯) কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশের সাবেক প্রথিতযশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সময়কালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। তার পৈতৃক বাড়ি দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়ন পরিষদের গছাহার শাহাপাড়া গ্রামে। তিনি অত্র এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানূরাগী আলোকডিহি জে বি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জান বকস্ শাহ্ এর সবচেয়ে বড় ছেলে ডাঃ শাহ্ আব্দুল মজিদ এর সন্তান। এ সময়ের মধ্যে তিনি ৫টি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছেন। ‘বাদশাহ’ ডাকনামে সমধিক পরিচিত জাহাঙ্গীর শাহ মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে অবতীর্ণ হতেন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা। ১৮ বছর বয়সে ইস্ট পাকিস্তান রেলওয়ের হয়ে দুটি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ তিনি খেলেন। এরপর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ঢাকায় আজাদ বয়েজের হয়ে নিয়মিত খেলতেন। আবাহনীর হয়ে লেফট উইঙ্গার হিসেবে ফুটবল খেলা বাদশা ১৯৭৪-৭৫ নাগাদ ঢাকা একাদশ দলের হয়ে একটি রাশিয়ান দলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে চোট পেয়ে ফুটবল ছেড়ে দেন। ১৯৭৯ সালে icc ট্রফিতে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক ঘটে বাদশার। প্রথম ম্যাচে ফিজির বিরুদ্ধে তাঁর বোলিং ফিগার ছিল ১০-৫-৭-১। ওইবার কানাডার বিরুদ্ধে মাত্র ১৭ রানে ৪ উইকেট নেন। ১৯৮৬ সালে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধেও ৩৯ রানের ৪ উইকেট নেন। icc ট্রফির খেলায় ১৭ ম্যাচে ২৫ উইকেট নেন তিনি। ১৯৮৩/৮৪ সালে বাংলাদেশে দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটের আসর বসলে ৭ ম্যাচে ১১ উইকেট তুলে নেন, তারপরেই ১৯৮৪/৮৫সালে শ্রীলঙ্কা একটি তিনদিনের ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে আসে। এটা অবশ্য প্রথম শ্রেণির স্ট্যাটাস পায়নি। এই ম্যাচে বাদশা মাত্র ৮১ রানে ৪ উইকেট পান, যার মধ্যে সিদ্ধার্থ ওয়েত্তিমুনি, রয় ডায়াস ও দলীপ মেন্ডিসের উইকেট ছিল। এরপরেই পাকিস্তান থেকে একটা দল ইমরান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফরে এলে তিনি ইমরান , কাদির ও মাসুদ ইকবালের উইকেট পান , ৪৬ রান করেন (গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৬৩ রান যোগ করেন)। এরপরে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ প্রথম odi খেলে। ওই ম্যাচে বাদশার বোলিং ফিগার ছিল ৯ ওভারে ২/২৩। সেই সময় একটি বিশ্বএকাদশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচ খেলেন , আব্দুল কাদির বেনিফিট ম্যাচ খেলে। গুচ, মেন্ডিস, ক্রো, বোথাম, রণতুঙ্গা, কিরমানিদের সঙ্গে বাদশা সেই দলের হয়ে দুটো ম্যাচেই খেলেন ও দ্বিতীয় ম্যাচে মহসিন খান, মিয়াঁদাদ ও সেলিম মালিক কে আউট করেন। ১৯৮৭/৮৮ সালে দক্ষিণ এশীয় প্রতিযোগিতায় আবার ৪ ম্যাচে ৯ উইকেট নেন। ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া বাদশা বাংলাদেশের হয়ে ৫টি odi খেলেন। এরপরেও তিনি স্থানীয় ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যান ও ১৯৯৩/৯৪ সালে নবান্ন প্রিমিয়ার লীগে ধানমন্ডির হয়ে ৯টি ম্যাচ খেলেন। ওই বছর ও পরের বছর অফিস লীগে এ সি এম ই ল্যাবরেটরির হয়ে ৩ ম্যাচে ৭ উইকেট নেন। দারুন ফাস্ট মিডিয়াম বোলার বাদশা সিমিং কন্ডিশন ও পিচের অভাবে যতটা তাঁর ক্ষমতা তাঁর উপযুক্ত প্রদর্শন না করলেও সীমিত সুযোগে সর্বোচ্চ মানের ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে তাঁর পারফরম্যান্স তাঁর যোগ্যতা প্রমাণ করে। ১৯৭৯ সালে জাতীয় ক্রিকেট দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৯০ সালে অবসরগ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত দলের বিশ্বস্ত অল-রাউন্ডারের ভূমিকা পালন করতেন তিনি। নতুন বলেই কার্যকারিতা দেখিয়েছেন তিনি। এছাড়াও ব্যাট হাতে বিভিন্ন অবস্থানে ব্যাটিং করেছেন। বিশ্বের দ্রুততম বোলার না হয়েও ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে নতুন বলে সুইং করাতে পারতেন। অনেকের মতে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা সুইং বোলার ছিলেন।

১৯৮৬ সালে শ্রীলঙ্কার মোরাতুয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের দ্বিতীয় আসরে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম একদিনের আন্তর্জাতিকে অন্যতম সদস্য ছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐ খেলায় তিনি শূন্য রানে আউট হলেও বল হাতে সফলতা পেয়েছিলেন। ৯ ওভার বোলিং করে ২৩ রানে ২ উইকেট দখল করেন তিনি।[১] ঐ খেলায় তার দল ৭ উইকেটে পরাজিত হয়েছিল।

আইসিসি ট্রফি[সম্পাদনা]

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৭৯ সালের আইসিসি ট্রফিতে কানাডার বিপক্ষে ৪/১৭ ও ১৯৮৬ সালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪/৩৯ পেয়েছিলেন। এছাড়াও ১৯৭৯ সালে ফিজি’র বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম খেলায় ১০ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ১ উইকেট পান। তবে সর্বাপেক্ষা সফলতা পান নিজ দেশে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। খেলায় তিনি ৪/৮৯ পেয়েছিলেন যাতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান অমল সিলভাসিদাথ ওয়েতিমুনি’র উইকেট ছিল।[২]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আজিম শাহ্, মুন্না শাহ্ ও নাদির শাহ সহ তারা মোট সাত ভাই। আজিম শাহ্, মুন্না শাহ্ ও নাদির শাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নাদির শাহ আইসিসি প্যানেল আম্পায়ার হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলেও তাদের পদচারণ ছিল।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Cricinfo Scorecard: Bangladesh vs. Pakistan (1986-03-31). Retrieved on 2007-08-23.
  2. Hasan Babli. "Antorjartik Crickete Bangladesh". Khelar Bhuban Prakashani, November 1994.
  3. GROUND REALITIES | Our darkness at noon: Rafiqul Ameer."Looking Back: Bangladesh Cricket in the 80's". Retrieved on 2007-12-18. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৬-০২-২৭ তারিখে

আরও দেখুন[সম্পাদনা]