চীনের কমিউনিস্ট পার্টি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি
中国共产党
中國共產黨
সংস্থাপিত ১ জুলাই, ১৯২১ (প্রথম পার্টি কংগ্রেস)
অগস্ট, ১৯২০ (de facto)
সদর দপ্তর Zhongnanhai, বেজিং
মতাদর্শ কমিউনিজম,
মাওবাদ,
দেং জিয়াওপিং তত্ত্বের সঙ্গে চীনা সমাজতন্ত্র,
মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ,
বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন ধারণা
ওয়েবসাইট
News on CPC

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সরলীকৃত চীনা ভাষা : 中国共产党) হল গণপ্রজাতান্ত্রিক চীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং শাসক রাজনৈতিক দল। এটি বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। গণপ্রজাতান্ত্রিক চীনের সংবিধান অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রশাসনের কোন স্বীকৃত অঙ্গ না হয়েও চীনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব এবং ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টির অস্তিত্ব সরকার এবং আইনসভায় অনুষ্ঠেয় প্রতিটি প্রক্রিয়ায় অনুভূত হয়।[১] ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং চীনের গৃহযুদ্ধে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কুওমিনতাঙকে পরাভূত করে চীনের মূল ভূখণ্ডে ক্ষমতাসীন হয়। এই দলের ৭ কোটি[২] সদস্যসংখ্যা চীনের মূল ভূখণ্ডের জনসংখ্যার ৫.৫% নিয়ে গঠিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯১৯ সালের ৪ মে-র আন্দোলনের পর থেকেই চীনে মার্ক্সবাদী চিন্তাধারা ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করতে শুরু করে। ১৯২০ সালের জুন মাসে কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে গ্রিগোরি ভইতিন্‌স্কি চীনে আগমন করেন এবং লি দাজাও সহ অন্যান্য সংস্কারপন্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনিই চীনে "সমাজতান্ত্রিক যুব বাহিনী" প্রতিষ্ঠা করতে অর্থসাহায্য করেন।[৩] এরপর ১৯২১ সালে শাংহাইয়ের ফরাসি উপনিবেশে একটি অনানুষ্ঠানিক সংগঠন হিসেবে চেন দুজিউ এবং লি দাজাও কর্তৃক প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয় চীনের কমিউনিস্ট পার্টি১৯২০ সালে চীনে এবং চীনের বাইরে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠীর অস্তিত্ব ছিলই, কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ১৯২১ সালের জুলাই মাসে শাংহাইতে আয়োজিত দলের প্রথম পার্টি কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে, যাতে সভ্য ছিলেন মোট ৫৩ জন। এইসময়ই সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে দলের নামকরণ করা হয় "চীনের কমিউনিস্ট পার্টি" (中国共产党) এবং বিভিন্ন কমিউনিস্ট গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন নাম পরিহার করা হয়। পার্টির প্রতিষ্ঠায় যে সকল নেতৃবৃন্দ মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তাঁরা হলেন লি দাজাও, চেন দুজিউ, চেন গংবো, তাং পিংশান, জাং গুওতাও, হে মেংজিয়ং, লউ জাংলং এবং দেং জংজিয়া। প্রথম পার্টি কংগ্রেসে দলের পরবর্তীকালের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা মাও সে তুংও উপস্থিত ছিলেন হুনান কমিউনিস্ট গোষ্ঠী থেকে আগত দু'জন সভ্যের একজন হিসেবে। উক্ত পার্টি কংগ্রেসে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন দং বিউ, লি হানজুন, লি দা, চেন তানকিউ, লিউ রেনজিং, জউ ফোহাই, হে শুহেং, দেং এনমিং এবং কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল থেকে আগত দু'জন প্রতিনিধি, যাদের মধ্যে একজন হলেন হেঙ্ক স্নিভলিয়েত (যিনি "মারিং" নামেই অধিক জনপ্রিয় ছিলেন[৪])। লক্ষণীয়ভাবে কমিউনিস্ট পার্টির এই সূচনালগ্নে অনুপস্থিত ছিলেন দলের পরবর্তীকালের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা লি লিসান, চৌ এন-লাই এবং ক্যু কিউবাই।

দলীয় কাঠামো[সম্পাদনা]

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাংগঠনিক কাঠামো সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় ভেঙে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীকালে তা দেং জিয়াওপিং কর্তৃক পুনর্গঠিত হয়। দেং জিয়াওপিংই এরপর "চৈনিক বৈশিষ্ট্যসহ সমাজতন্ত্রের" প্রবর্তন করেন এবং সমগ্র রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহকে কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণাধীন করেন।

তাত্ত্বিকভাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ সংস্থা হল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় কংগ্রেস (সরলীকৃত চীনা ভাষা : 中国共产党全国代表大会), যেটি প্রতি পাঁচ বছর অন্তর একবার আনুষ্ঠানিকভাবে মিলিত হয়। দলীয় সংবিধান অনুসারে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রাথমিকভাবে ক্ষমতার বিন্যাস নিম্নে প্রদত্ত হল:

  • কেন্দ্রীয় কমিটি (中国共产党中央委员会), যার মধ্যে আছে:
    • পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি (中国共产党中央政治局常务委员会), যেটি বর্তমানে নয়জন সদস্য নিয়ে গঠিত।
    • পলিটব্যুরো (中国共产党中央政治局), যার সদস্যসংখ্যা ২৪ (পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যবৃন্দকে গণ্য করে।
    • সেক্রেটারিয়ট (中国共产党中央委员会书记处), যেটি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখ্য প্রশাসনিক সংস্থা এবং এর প্রধান হলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সচিব
    • কেন্দ্রীয় সামরিক আয়োগ (中央军事委员会), যেটি একই নামের সরকারি প্রতিষ্ঠানটির সমান্তরাল একটি প্রতিষ্ঠান।
  • কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা পরিদর্শন আয়োগ (中国共产党中央纪律检查委员会), যেটি সরাসরি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় কংগ্রেসের অধীন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সমপর্যায়ভুক্ত। এই সংস্থাটির কাজ হল দলীয় ক্যাডারদের মধ্যে দুর্নীতি রোধ করা।

অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাসমূহের মধ্য রয়েছে:

  • সাধারণ কার্যালয়[৫]
  • কেন্দ্রীয় সংগঠন বিভাগ (中国共产党中央组织部)।
  • প্রচারণা বিভাগ (中共中央宣传部)।
  • সংযুক্ত ফ্রন্ট বিভাগ (中共中央统战部)।

এতদ্ব্যতীত চীনের কমিউনিস্ট পার্টিতে অসংখ্য আয়োগ এবং নেতৃত্বপ্রদানকারী গোষ্ঠী রয়েছে। এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠীগুলি হল:

  • কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক এবং আইনসভা সংক্রান্ত কমিটি (中国共产党中央政法委员会)।
  • কেন্দ্রীয় কমিটির অধীনস্থ সংস্থাসমূহের কার্যকরী কমিটি
  • কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাসমূহের কার্যকরী কমিটি
  • কেন্দ্রীয় আর্থিক এবং অর্থনৈতিক নেতৃত্বপ্রদানকারী গোষ্ঠী
  • গ্রামীণ কাজের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বপ্রদানকারী গোষ্ঠী
  • দল নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বপ্রদানকারী গোষ্ঠী
  • বিদেশ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বপ্রদানকারী গোষ্ঠী
  • তাইওয়ান সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বপ্রদানকারী গোষ্ঠী
  • দলীয় গোপনীয়তা রক্ষণ আয়োগ
  • রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নেতৃত্বপ্রদানকারী গোষ্ঠী
  • দলীয় ইতিহাস গবেষণা কেন্দ্র
  • দলীয় গবেষণা কেন্দ্র
  • কেন্দ্রীয় দলীয় স্কুল (中共中央党校)।

প্রতি পাঁচ বছর অন্তর চীনের কমিউনিস্ট পার্টি জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত করে। দলের সাম্প্রতিকতম জাতীয় কংগ্রেসটি অনুষ্ঠিত হয় ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ অক্টোবর। আনুষ্ঠানুনিকভাবে জাতীয় কংগ্রেস দু'টি প্রধান কার্য সম্পাদন করে, যথা দলীয় সংবিধানে নীতি সংক্রান্ত সংশোধনীসমূহ অনুমোদন করা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যবৃন্দকে নির্বাচিত করা। কেন্দ্রীয় কমিটির কাজ হল দলের পলিটব্যুরোর সদস্যবৃন্দকে নির্বাচিত করা। কার্যক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোর নির্বাচন প্রক্রিয়া পার্টি কংগ্রেস আযোজিত হওয়ার পূর্বেই অনুষ্ঠিত হয় এবং পার্টি কংগ্রেসের মূল কাজ হল দলীয় নীতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসমূহের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা।

দলে ক্ষমতার মূল কেন্দ্র হল পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি। স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং পলিটব্যুরোর সদস্যবৃন্দের নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্দার অন্তরালে পার্টি কংগ্রেসের সঙ্গে সমান্তরালভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যসংখ্যা প্রত্যেকবারই পরিবর্তিত হয় এবং প্রবণতা অনুসারে সেই সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। ২০০২ খ্রিস্টাব্দে আয়োজিত দলের ষোড়শ পার্টি কংগ্রেসে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যসংখ্যা বর্ধিত করে ৯ করা হয়।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ব্যতীত গণপ্রজাতান্ত্রিক চীনে রাজনৈতিক ক্ষমতার দু'টি অন্যতম প্রধান উৎস হল গণপ্রজাতান্ত্রিক চীন সরকার এবং গণমুক্তি বাহিনী (সরলীকৃত চীনা ভাষা : 中国人民解放军)।

সিদ্ধান্তগ্রহণ সংক্রান্ত ভূমিকা ব্যতীত চীনে রয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ্, যার মধ্যে রয়েছে পিপ্‌লস পলিটিকাল কনসালটেটিভ কন্ফারেন্স (People's Political Consultative Conference) বা 中国人民政治协商会议১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকে দেং জিয়াওপিং কর্তৃক অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত নেতৃবর্গকে নিয়ে গঠিত হয় কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আয়োগ (中央顾问委员会), কিন্তু সেইসমস্ত অবসরপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের প্রয়াণের পর এই সংস্থাটি বিলুপ্ত হয়।

অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক গোষ্ঠীসমূহ[সম্পাদনা]

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দলীয় পতাকা

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরে দু'টি গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করেছেন[৬] যা "এক দল, দুই গোষ্ঠী" নামক এক কাঠামো সৃষ্টি করেছে।[৭] প্রথম গোষ্ঠীটির নাম হল "সম্ভ্রান্ত জোট" যা মূলত সমৃদ্ধ প্রদেশসমূহ থেকে আগত কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত। দ্বিতীয় গোষ্ঠীটি হল "যুব লিগ গোষ্ঠী", যা মূলত "কমিউনিস্ট যুব লিগের" মাধ্যমে গ্রামাঞ্চল থেকে উঠে আসা নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গঠিত। পার্টির অভ্যন্তরে এই উভয় গোষ্ঠীই চীনে একচ্ছত্র কমিউনিস্ট শাসনের প্রতি দায়বদ্ধ এবং অন্তর্দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ব্যাপারে প্রবলভাবে সংযত যাতে কোনভাবেই দলীয় ঐক্য বিনষ্ট না হয়। লক্ষ করা গেছে যে দল এবং সরকারের বিভিন্ন পদ এমনভাবে সংগঠিত করা হয়েছে যাতে এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যেই ভারসাম্য রক্ষিত হয়।

এই "এক দল, দুই গোষ্ঠী" কাঠামোর ভিতরে লি চেন মতপ্রকাশ করেছেন যে মতাদর্শগত ভিত্তিতে এই দুই গোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ করা কখনওই উচিত নয় এবং উভয় গোষ্ঠীর কারওরই একে অপরের প্রতি সম্পূর্ণভাবে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা নেই।[৮]

সদস্যপদ[সম্পাদনা]

আদিতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ছিল অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি রাজনৈতিক দল কিন্তু পরবর্তীকালে ক্রমে ক্রমে এর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে আয়োজিত দলের প্রথম পার্টি কংগ্রেসে মাত্র বারোজন ভোটদাতা উপস্থিত ছিলেন এবং ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে আয়োজিত দ্বিতীয় পার্টি কংগ্রেসে ভোটদাতাগণ ১৯৫ জন সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের তৃতীয় পার্টি কংগ্রেসে ৩০ জন সভ্য ৪২০ জন দলীয় সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ১৯২৫ সালের চতুর্থ পার্টি কংগ্রেসে ২০ জন সভ্য ৯৯৪ জন দলীয় সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং এর পর থেকেই কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যসংখ্যা ব্যাপক হারে বর্ধিত থাকে। পার্টির পঞ্চম কংগ্রেসে (১৯২৭ সালের এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত) ৮০ জন ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সভ্য ৫৭৯৬৮ জন সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

৩ অক্টোবর, ১৯২৮ সালে অনুষ্ঠিত কমিউনিস্ট পার্টির ষষ্ঠ কংগ্রেসে সর্বপ্রথম অধুনা-পরিচিত 'পূর্ণ' এবং 'পর্যায়ক্রমিক' কাঠামো যথাক্রমে ৮৪ এবং ৩৪ জন সভ্য নিয়ে গঠিত হয়। সেইসময় পার্টির সদস্যসংখ্যা ছিল ৪০০০০। ১৯৪৫ সালে সপ্তম পার্টি কংগ্রেসে ৫৪৭ জন 'পূর্ণ' এবং ২০৮ জন 'পর্যায়ক্রমিক' সভ্য ১২১০০০০ জন সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এই প্রতিনিধিত্বের অনুপাত ছিল ১৬০০ সদস্যপ্রতি একজন প্রতিনিধি, যা ১৯২৭ সালে ছিল ১:৭২৫।

কমিউনিস্ট পার্টি জাতীয়তাবাদীদের যুদ্ধে পরাজিত করার পর জাতীয় পার্টি কংগ্রেস অনেক কম প্রতিনিধিত্বমূলক হয়ে পড়ে। ১৯৫৬ সালের অষ্টম পার্টি কংগ্রেসে ১০২৬ জন 'পূর্ণ' এবং ১০৭ জন 'পর্যায়ক্রমিক' সভ্যবৃন্দের উভয়ই পৃথক্‌ভাবে ৯৪৭০ জন সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করেন (মোট ১০৭৩০০০০ জন সদস্য)। পরবর্তী পার্টি কংগ্রেসগুলিতে প্রতিনিধির সংখ্যা ক্রমে হ্রাস করা হয়, যদিও ২০০০ সাল পর্যন্ত পার্টির সদস্যসংখ্যা বর্ধিত হয়ে দাঁড়ায় ৬০০০০০০০।[৯]

মতাদর্শ[সম্পাদনা]

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি হল বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠনগুলির অন্যতম এবং বর্তমানে পার্টির সদস্যসংখ্যা ৬ কোটিরও অধিক। চীনের জনজীবনের সর্বস্তরে কমিউনিস্ট পার্টির উপস্থিতি রয়েছে এবং সরকারের বিভিন্ন শাখা, দফতর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পার্টির নিয়ন্ত্রণাধীন।

সমালোচনা এবং সমর্থন[সম্পাদনা]

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সম্বন্ধে বিবিধ মতামত প্রায়শই বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক জোট এবং বিভেদ সৃষ্টি করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীলদের মধ্যে বিভাজন এক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রসঙ্গে এই ধরণের অনভিপ্রেত মতপার্থ্যক্যের কারণ হল মূলত একই সাথে পার্টির মার্ক্সবাদকে নিজেদের মতাদর্শ হিসেবে তুলে ধরা অপর দিকে উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতির পথে অগ্রসর হওয়া অথচ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রবল ভাবে বজায় রাখা।

সমালোচক[সম্পাদনা]

  • ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন স্কোয়্যারের প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে চীনের অভ্যন্তরেই চীনা ছাত্রদের দ্বারা কীভাবে সমালোচিত হয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি।[১০]
  • আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন রাষ্ট্র, গোষ্ঠী ও বিভিন্ন আন্দোলনের সমর্থকগণ যেমন তিব্বতি স্বাধীনতা আন্দোলন, প্রজাতান্ত্রিক চীন, তাইওয়ান স্বাধীনতা আন্দোলন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসমূহ, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবীতে আন্দোলনকারী সংগঠনসমূহ, গণতন্ত্রপন্থী এবং স্বৈরতন্ত্রবিরোধী সংগঠনসমূহ, ইত্যাদি সংগঠন দ্বারা চীনের কমিউনিস্ট পার্টি একদলীয় শাসনতন্ত্রের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক একাধিপত্য অক্ষুণ্ন রাখার কারণে প্রবলভাবে সমালোচিত হয়েছে।

সমর্থক[সম্পাদনা]

বর্তমান নেতৃত্ব[সম্পাদনা]

হু জিনতাও, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধরণ সচিব

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির "পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি"-র সদস্যবৃন্দ হলেন:

  1. হু জিনতাও: চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সচিব, গণপ্রজাতান্ত্রিক চীনের রাষ্ট্রপতি, কেন্দ্রীয় সামরিক আয়োগের সভাপতি।
  2. উ বাংগুও: জাতীয় গণ-কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি।
  3. ওয়েন জিয়াবাও: গণপ্রজাতান্ত্রিক চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের প্রধান।
  4. জিয়া কিংলিন: পিপ্‌লস পলিটিকাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের সভাপতি।
  5. লি চাংচুন: মুখপাত্র
  6. জি জিনপিং: চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ সচিব, গণপ্রজাতান্ত্রিক চীনের উপরাষ্ট্রপতি।
  7. লি কেকিয়াং: গণপ্রজাতান্ত্রিক চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের কার্যনির্বাহী উপপ্রধান।
  8. হে গুওকিয়াং: শৃঙ্খলা পরিদর্শনকারী কেন্দ্রীয় আয়োগের সচিব।
  9. ঝউ ইয়ংকাং: রাজনৈতিক ও আইনসভা সংক্রান্ত কমিটির সচিব।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্যগণ হলেন:

ওয়াং লেকুয়াং, ওয়াং ঝাউগুও, হুই লিয়াংগিউ, লিউ কি, লিউ ইয়ুনশান, লি চাংচুন, উ য়ি, উ বাংগুও, উ গুয়ানঝেং, ঝাং লিচাং, ঝাং দেজিয়াং, লুও গান, ঝউ ইয়ংকাং, হু জিনতাও, ইয়ু ঝেংশেং, হে গুওকিয়াং, জিয়া কিংলিন, গুও বজিয়ং, কাও গাংচুয়ান, জেং কিংহং, জেং পেইয়ান এবং ওয়েন জিয়াবাও।

কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর পর্যায়ক্রমিক সদস্য হলেন ওয়াং গাং।

কেন্দ্রীয় কমিটির সচিবালয়ের সদস্যবৃন্দ হলেন:

জেং কিংহং, লিউ ইয়ুনশান, ঝউ ইয়ংকাং, হে গুওকিয়াং, ওয়াং গাং, জু কাইহউ এবং হে ইয়ং।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. র‌্যাল্‌ফ এইচ. ফলসম, জন এইচ. মিনান,লি আন ওটো, Law and Politics in the People's Republic of China, ওয়েস্ট পাবলিশিং কোং (সেন্ট পল ১৯৯২), পৃষ্ঠা - ৭৬-৭৭।
  2. CPC holds grand rally to celebrate 85th founding anniversary, জিনহুয়া সংবাদ সংস্থা, ৩০ জুন, ২০০৬
  3. Schwartz, Benjamin, Chinese Communism and the Rise of Mao, Harper & Row (নিউ ইয়র্ক: ১৯৫১), পৃষ্ঠা ৩২-৩৫।
  4. http://ksghome.harvard.edu/~asaich/chinese-communisty-party-during-comintern.pdf
  5. Images of GO CPC in Session
  6. http://chicagosociety.uchicago.edu/china/coverage/PoliticsPanel.pdf
  7. http://chinavitae.com/reference/conferencepapers/Li_Cheng.pdf
  8. The Jamestown Foundation
  9. Press center of the 17th CPC National Congress
  10. Zhang, L., Nathan, A. J., Link, P. & Schell O. The Tiananmen Papers: The Chinese Leadership's Decision to Use Force Against Their Own People – In Their Own Words. PublicAffairs, 2002. ISBN 978-1-58648-122-3.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]