শ্রীলঙ্কার কমিউনিস্ট পার্টি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শ্রীলঙ্কার কমিউনিস্ট পার্টি
ශ්‍රී ලංකාවේ කොමියුනිස්ට් පක්ෂය
இலங்கை கம்யூனிஸ்ட் கட்சி
সাধারণ সম্পাদকগি বীরসিংহে
প্রতিষ্ঠাতাএস এ বিক্রমসিংহে
প্রতিষ্ঠা১৯৪৩
বিভক্তিলঙ্কা সম সমাজ পার্টি
পূর্ববর্তীইউনাইটেড সোশালিস্ট পার্টি (সিলন)
সদর দপ্তর৯১ ডাঃ এন.এম. পেরেরা মাওথা,
কলম্বো ০৮, শ্রীলঙ্কা
সংবাদপত্রঅথ্থ (অর্থাৎ 'সত্য'), ফরোয়ার্ড (শ্রীলঙ্কা), দেশভিমানি (শ্রীলঙ্কা)
যুব শাখাকমিউনিস্ট যুব ফেডারেশন
সদস্যপদ  (১৯৬০)১৯০০[১]
মতাদর্শসাম্যবাদ
মার্কসবাদ-লেনিনবাদ
সাম্রাজ্যবাদবিরোধীতা
জাতীয় অধিভুক্তিশ্রীলঙ্কা পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স পূর্বে:
যুক্তফ্রন্ট (শ্রীলঙ্কা)
যুক্ত বামফ্রন্ট (১৯৬৩)
আন্তর্জাতিক অধিভুক্তিকমিউনিস্ট এবং শ্রমিক দলগুলির আন্তর্জাতিক সভা[২]
শ্রীলঙ্কার সংসদ
১ / ২২৫
নির্বাচনী প্রতীক
তারা
দলীয় পতাকা
South Asian Communist Banner.svg
ওয়েবসাইট
cpsl.lk

শ্রীলঙ্কার কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএসএল) (সিংহলি: ශ්‍රී ලංකාවේ කොමියුනිස්ට් පක්ෂය তামিল: இலங்கை கம்யூனிஸ்ட் கட்சி, প্রতিবর্ণী. Ilankai Komyunist Katche) হল একটি শ্রীলঙ্কার কমিউনিস্ট পার্টি। ২০০৪ সালের আইনসভা নির্বাচনে, দলটি ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্সের অংশ ছিল যেটি জনপ্রিয় ভোটের ৪৫.৬% এবং ২২৫ টির মধ্যে ১০৫ টি আসন পেয়েছিল।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সিপিএসএল ১৯৪৩ সালে সিলনের কমিউনিস্ট পার্টি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি ইউনাইটেড সোশালিস্ট পার্টির উত্তরাধিকারী ছিল। ইউএসপি লঙ্কা সম সমাজ পার্টির (এলএসএসপি) সোভিয়েত ইউনিয়নপন্থী শাখা থেকে গঠিত হয়েছিল। ইউএসপি ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

ইউএসপি এবং তারপরে সিপিসি'র গঠনের শুরুর দিকে নেতৃত্বে দিয়েছিলেন ডা. এস এ বিক্রমসিংহে

১৯৫২ সালে বিক্রমসিংহের স্ত্রী, ইংরেজ বংশোদ্ভূত ডোরিন ইয়াং বিক্রমাসিংহে, সুরিয়া-মাল আন্দোলনের প্রাক্তন নেতা, শ্রীলঙ্কার সংসদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৬৩ সালে কমিউনিস্ট পার্টি, লঙ্কা সম সমাজ পার্টি (এলএসএসপি) এবং মহাজন একসাথ পেরামুনা যুক্ত বামফ্রন্ট (১৯৬৩) গঠন করেছিল। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সিরিমাভো বন্দরনায়েকে এলএসএসপি এবং সিপিএসএল-এর কাছে মন্ত্রীর পদ প্রস্তাব দিলে ইউএলএফ ভেঙে যায়।

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর পার্টির সদস্যপদ মোটামুটি ১৯০০ বলে অনুমান করেছিল।

১৯৬৮ সালে, সিপিএসএল এলএসএসপি এবং শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি (এসএলএফপি)র সাথে যোগদান করে যুক্তফ্রন্ট গড়ে তুলেছিল। ১৯৭০ সরকারে পিটার কেউনম্যান আবাসন ও নির্মাণ মন্ত্রী হন এবং বি আইওয়াই টুডাও, শিক্ষামন্ত্রী হন। তবে এস এ বিক্রমাসিংহে এবং ইন্দিকা গুণাওয়ার্দেনার নেতৃত্বে দলের একটি অংশ সরকারের পক্ষে সমালোচনামূলক সমর্থন অব্যাহত রেখেছিল।

১৯৭৭ সালের সাধারণ নির্বাচনের পরে, অর্ধ শতাব্দীতে প্রথমবারে সিপিএসএল কোনো সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব পায়নি, তবে প্রায় ২% ভোট পেয়েছিল। তবে পরবর্তী নির্বাচনী আবেদনের পরে সরথ মুত্তেতুওগামা একটি উপনির্বাচনে কালাওয়ানা আসনে নির্বাচিত হন।

পরে সিপিএসএল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির নেতৃত্বাধীন ফ্রন্ট, পিপলস অ্যালায়েন্সে (পিএ) যোগ দেয়। ২০০৪ সালের নির্বাচনের আগে যখন এসএলএফপি পিএকে ছেড়ে দিয়েছিল এবং জনতা ভিমুথি পেরামুনার সাথে একত্রে ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স গঠন করেছিল, তখন সিপিএসএল এবং এলএসএসপি প্রাথমিকভাবে বাইরে থেকে যায়। তবে তারা পরবর্তী পর্যায়ে ইউপিএফএর সাথে একটি স্মারকলিপি স্বাক্ষর করে এবং ইউপিএফএর প্ল্যাটফর্মে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সিপিএসএল অবশ্য নিজেকে ইউপিএফএর সদস্য মনে করে না।

২০০৪ সালে সিপিএসএল-এর সংসদ সদস্য ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ড.এ.বি. গুনাসেকার। গুনাসেকার আশা করেছিলেন যে শ্রীলঙ্কা সংসদের স্পিকার হয়ে উঠবেন, তবে তিনি মুষ্টিমেয় ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। গুনাসেকর তখন সাংবিধানিক বিষয় মন্ত্রীর শপথ গ্রহণ করেছিলেন।[৩][৪]

২০২০ সালের সংসদীয় নির্বাচনের সময় সিপিএসএল দুজন প্রার্থী কলম্বোতে মহেশ আলমেদিয়া এবং মাতারাতে বীরসুমানা ওয়েরাসিংহে এসএলপিপির পোহোত্তুয়া প্রতীকে লড়িয়েছিল। ডা. জি ওয়েরাসিংহে দলের জাতীয় তালিকার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। উইরাসুমানই একমাত্র প্রার্থী যিনি সফলভাবে ৭৭,৯৬৮ ভোটে সংসদে প্রবেশ করেছিলেন।

গুণসেকেরা ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট সিপিএসএল-এর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ড. জি. ওয়েরাসিংহে সর্বসম্মতিক্রমে কেন্দ্রীয় কমিটি দ্বারা নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।[৫]

দলীয় সংগঠন[সম্পাদনা]

সিপিএসএলের যুব শাখাটি হল কমিউনিস্ট যুব ফেডারেশন (সিওয়াইএফ)। সিওয়াইএফ বিশ্ব গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের একটি সদস্য সংগঠন।

অভিযোগ[সম্পাদনা]

সিপিএসএল এবং অন্যান্য বামপন্থী দলগুলির বিরুদ্ধে জুনিয়াস রিচার্ড জয়েবর্ধনের সরকার ১৯৮৩ সালের কালো জুলাইয়ে তামিল জনগণের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক হিংস্রতা প্ররোচিত করার মিথ্যা আরোপ লাগিয়েছিল। দলটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং ড.এ.বী. গুনাসেকার সহ নেতারা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবরণ করেছিলেন। অভিযোগের প্রমাণের অভাবে এবং সোভিয়েত দূতাবাসের হস্তক্ষেপের কারণে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। জেভিপি এবং এনএসএসপি নিষেধাজ্ঞা পরিবর্তন হয়নি।

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

অথ্থ (সত্য) হল সিপিএসএল-এর সিংহলি পত্রিকা,[৬] যা তার উচ্চমানের সাংবাদিকতা, প্রগতিশীল সম্পাদকীয় এবং সিংহলি গদ্যের জন্য প্রখ্যাত।

সিপিএসএল-এর ইংরেজি অঙ্গটি ছিল ফরওয়ার্ড সাপ্তাহিক। [৭]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Benjamin, Roger W.; Kautsky, John H.. Communism and Economic Development, in The American Political Science Review, Vol. 62, No. 1. (Mar., 1968), p. 122.
  2. IMCWP। "Participants List"IMCWP (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  3. "Coalitionism in Spain & Sri Lanka"। International Bolshevik Tendency (IBT)। 
  4. "The crisis facing the Sri Lankan government and the rising mood of militancy of the working class"। International Marxist Tendency। ২৮ নভেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  5. http://www.themorning.lk/dew-steps-down/
  6. https://www.aththa.lk/
  7. http://www.noolaham.org/wiki/index.php?search=forward&title=%E0%AE%9A%E0%AE%BF%E0%AE%B1%E0%AE%AA%E0%AF%8D%E0%AE%AA%E0%AF%81%3ASearch&profile=default&fulltext=1

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]