খান্দু রংনেকর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
খান্দু রংনেকর
খান্দু রংনেকর.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামখন্দেরাও মোরেশ্বর রংনেকর
জন্ম২৭ জুন, ১৯১৭
বোম্বে, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১১ অক্টোবর, ১৯৮৪
থানে, মহারাষ্ট্র, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম পেস
ভূমিকাব্যাটসম্যান, প্রশাসক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৯)
২৮ নভেম্বর ১৯৪৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট২৩ জানুয়ারি ১৯৪৮ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৮৫
রানের সংখ্যা ৩৩ ৪,৬০২
ব্যাটিং গড় ৫.৫০ ৪১.৮৩
১০০/৫০ ০/০ ১৫/১৬
সর্বোচ্চ রান ১৮ ২১৭
বল করেছে ১,৬৮০
উইকেট ২১
বোলিং গড় ৪০.৯৫
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/১১২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪২
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩০ মার্চ ২০২০

খান্দেরাও মোরেশ্বর খান্দু রংনেকর (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; মারাঠি: खंडू रांगणेकर; জন্ম: ২৭ জুন, ১৯১৭ - মৃত্যু: ১১ অক্টোবর, ১৯৮৪) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ও প্রশাসক ছিলেন। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হোলকার, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও মুম্বই দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন খান্দু রংনেকর

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

বৈরমজী জিজিভয় স্কুল ও সেন্ট জ্যাভিয়ার্সে পড়াশুনো সম্পন্ন করেন। এরপর এলফিনস্টোন কলেজ থেকে বি.এ. ডিগ্রী লাভ করেন।

১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত খান্দু রংনেকরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৩৯-৪০ মৌসুমে পুনায় মহারাষ্ট্রের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। খেলায় তিনি ১০২ ও অপরাজিত ১৭ রান তুলেন।

তিনি তার সময়কালে অন্যতম সেরা বামহাতি ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। কভার-পয়েন্ট অঞ্চলে চমৎকার ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন ও উভয় হাতেই সমান দক্ষতা প্রদর্শন করেন। বোম্বে পঞ্চদলীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে খান্দু রংনেকরের খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। রঞ্জী ট্রফিতে প্রথম অংশগ্রহণেই চমৎকার সেঞ্চুরির সন্ধান পান।

আকর্ষণীয় বামহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। মহারাষ্ট্র ও বোম্বের পক্ষে ২,৫৪৮ রান তুলেছেন। রঞ্জী ট্রফিতে হোলকারের সদস্যরূপে ৫০-এর অল্প গড়ে রান তুলেছেন। ১৯৪০ সালে বোম্বের সদস্যরূপে মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ২০২ রানের ইনিংস খেলেন। ১৯৫০ সালে হোলকারের সদস্যরূপে হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১৭ রান তুলেন।

১৯৩৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের খেলাগুলোয় অংশ নিয়ে ৪১.৪৫ গড়ে ৪,৬০২ রান তুলেন। তন্মধ্যে, পনেরোটি শতরানের ইনিংস ছিল। এছাড়াও, মিডিয়াম পেস বোলিং করে ২১ উইকেট দখল করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন খান্দু রংনেকর। ২৮ নভেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে ব্রিসবেনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৩ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে অ্যাডিলেডে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরের উদ্দেশ্যে তাকে ভারতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন টেস্টে অংশগ্রহণ করলেও তেমন সুবিধে করতে পারেননি। এ সফরে তাকে নিরাশ চিত্তে দেশে ফিরে আসতে হতে হয়েছিল।

ব্যাডমিন্টনে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

ক্রিকেটের পাশাপাশি ব্যাডমিন্টন খেলায়ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সময়কালে ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে অন্যতম সেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৪৫ সালে ভারতীয় জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশীপে দ্বৈত শিরোপা লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।[১] ১৯৪০, ১৯৪২ ও ১৯৪৪ সালে পশ্চিম ভারতীয় দ্বৈত ও ১৯৪০ সালে মিশ্র দ্বৈতের শিরোপা পান।

১৯৬০-এর দশকে থানে পৌরসভার সভাপতিত্ব করেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে বিসিসিআইয়ের সহঃসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে বোম্বে ক্রিকেট সংস্থার সভাপতিত্ব করেন এবং ১৯৬২-৬৩ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সহঃসভাপতি ছিলেন।

বোম্বেভিত্তিক ভারতীয় কাস্টমসে কাজ করেন ও টেক্সটাইল ব্যবসা পরিচালনা করতেন। কণ্ঠনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। ১১ অক্টোবর, ১৯৮৪ তারিখে ৬৭ বছর বয়সে মহারাষ্ট্রের থানে এলাকায় খান্দু রংনেকরের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Badminton Association of India। "List of Indian National Championship Winners"। ২৬ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০১৪ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]