কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কুরানকুলাম পরমানু বিদ্যুৎ কেন্দ্র
Kudankulam Nuclear Power Plant Unit 1 and 2.jpg
দেশ ভারত
অবস্থানকুরানকুলাম, তামিলনাড়ু, ভারত
স্থানাঙ্ক৮°১০′০৮″ উত্তর ৭৭°৪২′৪৫″ পূর্ব / ৮.১৬৮৮৯° উত্তর ৭৭.৭১২৫০° পূর্ব / 8.16889; 77.71250স্থানাঙ্ক: ৮°১০′০৮″ উত্তর ৭৭°৪২′৪৫″ পূর্ব / ৮.১৬৮৮৯° উত্তর ৭৭.৭১২৫০° পূর্ব / 8.16889; 77.71250
অবস্থাসক্রিয়
নির্মাণ শুরু৩১ মার্চ ২০০২ (2002-03-31)
কমিশনের তারিখ২২ অক্টোবর ২০১৩ (2013-10-22)
নির্মাণ ব্যয়১৭,২৭০ কোটি (US$২.৪ বিলিয়ন), ১ম ও ২য় ইউনিট
৩৯,৭৪৭ কোটি (US$৫.৫৩ বিলিয়ন), ৩য় ও ৪র্থ ইউনিট
মালিকভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন
পরিচালকভারতীয় পারমাণবিক শক্তি নিগম উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
চুল্লির ধরনভিভিইআর
Cooling sourceলক্ষদ্বীপ সাগর
বিদ্যুৎ উত্পাদন
কর্মক্ষম একক২ × ৯১৭ MW
Units under const.২ × ৯১৭ MW
Units planned২ × ৯১৭ MW[১][২]
নামফলক ধারণক্ষমতা২০০০ MW
Annual net output৭৫০০ জিডব্লিউ.এইচ (পরিকল্পিত)
ওয়েবসাইট
ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন

কুদানকুলাম পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের দক্ষিণে সমুদ্রতীরে গড়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ভারত সরকার রাশিয়ার সহযোগিতায় গড়ে তুলেছে। ২০০২ এর ৩১শে মার্চ পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।[৩] কিন্তু স্থানীয় জেলেদের বিরোধের কারণে নির্মাণ কাজ বিলম্বের সম্মুখীন হয়েছিল।[৪][৫] কেকেএনপিপি-এর ৬,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সহ, রাশিয়ান স্টেট কোম্পানী এবং ভারতীয় পারমাণবিক শক্তি নিগম (এনপিসিআইএল)-এর সহযোগিতায় ৬ টি ভিভিইআর-১০০০ চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। [৬]

২০১৩ সালে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ১০০০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট চালু হয়। ২২শে অক্টোবর ২০১৩ সালে প্রথম ইউনিট কে দক্ষিণ পাওয়ার গ্রিডের সাথে সংযুক্ত (সিঙ্ক্রোনাইজ) করা হয়েছিল এবং তখন থেকে ১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে ইউনিটটি থেকে। [৭] প্রথম ইউনিটের নির্মাণের মূল খরচ ছিল ₹১৩,১৭১ কোটি টাকা, কিন্তু পরে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ খরচ ₹১৭,২৭০ কোটি (২.৬ বিলিয়ন ডলার)তে সংশোধিত হয়েছিল। রাশিয়া উভয় ইউনিট নির্মানের জন্য ₹৬,৪১৬ কোটি ($ ০.৯৭ বিলিয়ন) টাকা প্রদান করে। [৮] দ্বিতীয় ইউনিট টি ১০ই জুলাই ২০১৬ চালু করা হয় এবং ২৯শে আগস্ট বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত (সিঙ্ক্রোনাইজড) করা হয়।

২০১৫ সালে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্পোরেশন লিমিটেড (এনপিসিআইএল) ঘোষণা করে কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ₹৪.২৯/কিলোওয়াট.ঘন্টা (৬.৪ ¢/কিলোওয়াট.ঘন্টা) দরে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।[৯]

তৃতীয় ইউনিট এবং চতুর্থ ইউনিট নির্মাণের জন্য ভূমি-খনন অনুষ্ঠান ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়। অপারেটর এবং সরবরাহকারীর জন্য পরবর্তী দুটি ইউনিট নির্মাণে খরচ হবে ৩৯ হাজার ৭৪ কোটি টাকা (5.78 বিলিয়ন মার্কিন ডলার) যা প্রথম ইউনিট ও দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ খরচের দ্বিগুণ। [১০][১১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

২০১৪ সালে কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

পটভূমি[সম্পাদনা]

২০ শে নভেম্বর ১৯৮৮ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাজীব গান্ধী এবং সোভিয়েত রাষ্ট্র প্রধান মিখাইল গর্বাচেভ এর মধ্যে দুটি চুল্লি নির্মাণের জন্য একটি আন্তঃ-সরকারি চুক্তি (আইজিএ) স্বাক্ষরিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির কারণে এই প্রকল্পটি এক দশক ধরে বিলম্বিত হচ্ছিল। [৬] চুক্তিটিতে ১৯৯২ সালের পরমাণু সরবরাহকারী দল (এনএসজি) -এর শর্ত পূরণ করেনি এই যুক্তির ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি করেছিল। [১২] ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পারমাণবিক শক্তি কমিশন (এসি) -এর চেয়ারম্যান এম. আর. শ্রীনিবাসন, প্রকল্পটি "একটি অ-স্টার্টার" নামে অভিহিত করেন। তবে, ২১ শে জুন, ১৯৯৮ সালে প্রকল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। [৬]

নির্মাণ[সম্পাদনা]

৩১ মার্চ ২০০২ সালে, নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (এনপিসিআইএল) শুরু হয় ২০০৭ সালের মার্চ মাসে প্রথম ইউনিট চালু করার লক্ষ্যে, তবে মূল লক্ষ্য ছিল ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম ইউনিটটি চালু করা। [৬]

১৪ই জানুয়ারী ২০০৪ সালে কুদানকুলামে একটি ছোট বন্দর চালু হয়। এটি ১.৫ কিলোমিটার (০.৯০ মাইল) দূরে অবস্থিত জাহাজগুলি থেকে বহির্ভূত আকারের হালকা-জল চুল্লীর সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজগুলি গ্রহণের জন্য স্থাপিত হয়। ২০০৪ সাল পর্যন্ত, পরিবহনের সময় ক্ষতির ঝুঁকি থাকা সত্তেও তুতিকোরিন বন্দর থেকে সড়কপথ দিয়ে পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় বস্তু আনা হয়। [১৩] ২০০৮ সালে, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চারটি অতিরিক্ত চুল্লি নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। যদিও এই রিঅ্যাক্টরগুলির ক্ষমতা ঘোষিত হয়নি তবে, প্রত্যাশিত ছিল যে প্রতিটি চুল্লীর ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট (১.২ গিগাওয়াট) হবে। [১৪][১৫] নতুন চুল্লীর দ্বারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৬,৮০০ মেগাওয়াট (৬.৮ গিগাওয়াট) হবে।

ইউনিট ১ কমিশনিং[সম্পাদনা]

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম চুল্লী ১৩ই জুলাই ২০১৩ সালে রাত ১১:০৫ ঘটিকায় চালু করা হয়।[১৬]

কেকেএনএপিপি ২২শে অক্টোবর ২০১৩ সালে রাত ২:৪৫ ঘটিকায় বিদ্যুৎ গ্রিডে প্রথম সংযুক্ত বা সিঙ্ক্রোনাইজ করা হয়েছিল। [১৭] প্রথম পারমাণবিক চুল্লির বিদ্যুৎ উৎপাদন ওই একই দিনে শুরু হয়েছিল। প্রথম ইউনিট এপ্রিল ২০১৪ সালে ৭৩% ক্ষমতার (৬৮০ মেগাওয়াট) সঙ্গে সক্রিয় ছিল। [১৮] প্রথম ইউনিট ৭ই জুন ২০১৪ সালে ১:২০ ঘটিকায় ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের উৎপাদনের সঙ্গে চুল্লীটি সর্বোচ্চ ক্ষমতা অর্জন করে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ সাল থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। [১৯] এপ্রিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত, কেকেএনপিপি - ইউনিট ১এ উৎপাদিত হয়েছে ২,৭৮৩ জিডব্লিউ.এইচ বিদ্যুৎ ৯৭% ক্ষমতার সঙ্গে।

ইউনিট ২ কমিশনিং[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় ইউনিট ২০১৬ সালের ১০ই জুলাই প্রথম চালু করা হয়। এটি ছিল ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট। আগস্ট মাসে বিদ্যুৎ গ্রিড-সংযুক্ত হয়। [২০] বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে ১৫ অক্টোবর ২০১৬ সালে। [২১][২২]

ইউনিট ৩ এবং ৪-এর নির্মাণ[সম্পাদনা]

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে ইউনিট ৩ ও ৪-এর নির্মাণের জন্য ভূমি-পূজার অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। [২৩] ২০১৭ সালের শুরুতে নির্মাণের আশা করা হয়েছিল। [২৪] তবে ইউনিট ৩-এর নির্মাণ ২৭ শে জুন, ২০১৭ সালে শুরু হয়েছিল। [২৫]

নকশা এবং সবিস্তার বিবরণী[সম্পাদনা]

রাশিয়ান নকশা চুল্লীগুলি (রিএ্যাক্টরগুলি), ভিভিইআর-১০০০/ভি-৪১২ মডেলের চাপযুক্ত জল চুল্লি, যেগুলিকে এইএস-৯২ হিসাবেও উল্লেখ করা হয়। প্রতিটি চুল্লীর তাপ শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ৩,০০০ মেগাওয়াট, মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১,০০০ মেগাওয়াট এবং নিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ৯১৭ মেগাওয়াট। [২৬] নির্মাণে এনপিসিআইএল এবং অটোমোটোয়েন্ট এক্সপোর্ট। যখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্মাণ সম্পন্ন হবে তখন এটি হবে ভারতের বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থা। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। [২৭] উভয় ইউনিট হল জল-শীতল, জল-পরিচালিত শক্তি চুল্লী। [২৮][২৯][৩০][৩১]

২০০৮ সালে এই কেন্দ্র আরও চারটি চুল্লী যোগ করার জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। [৩২] আরো দুটি চুল্লি স্থাপনের ব্যাপারে একটি দৃঢ় চুক্তি স্থগিত করা হয়। [৩৩]

পরিচালনা[সম্পাদনা]

প্রথম চুল্লী আগস্ট ২০১৩ সলের শেষ নাগাদ কেন্দ্রীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। [৩৪]

কুদানকুলাম বিদ্যুৎ প্রকল্প (কেকেএনপিপি) থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কেরালা রাজ্য বিদ্যুৎ বোর্ড (কেএসইবি) সদস্যরা ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্পোরেশন (এনপিসিআইএল) -এর সাথে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) স্বাক্ষর করেন।

জুন ২০১৫ সালে প্রথম ইউনিট বন্ধ করা হয় পুনর্বিবেচনা এবং বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। ২১শে জানুয়ারী ২০১৬ সালে রিএ্যাক্টরটি পুনরায় চালু করা হয় এবং ৩০শে জানুয়ারি ২০১৬ এটি গ্রিডের সাথে সংযুক্ত করা হয়। [৩৫]

কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কেন্দ্রের পরিচালক ডি.এস. চৌধুরী ২৬ শে জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে বলেন যে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম এবং দ্বিতীয় ইউনিট মোট ২২,৮০০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যেহেতু তারা কার্যকরী হতে শুরু করেছে। [৩৬]

বিরোধিতা[সম্পাদনা]

২০১১ সালে, ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিপর্যয়ের পরে [৩৭] উদ্বেগের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে, [37] বিক্ষোভকারীদের মতে, পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঘটনায় জনগণের স্থানান্তর বা নির্বাসন সম্ভব হবে না। [৩৮] পারমাণবিক শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী পিপলস মুভমেন্ট এগেইন্সট নিউক্লিয়ার এনার্জি -সংগঠনের সদস্য এস পি উদয়কুমারের মতে "পারমাণবিক কেন্দ্র অনিরাপদ"। তবে, ২০১২ সালে, ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির প্রধান ড. শ্রীকুমার ব্যানার্জি বলেন এই পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ কেন্দ্র[৩৯] ডিসেম্বর ২০১২ সালে, দ্য হিন্দু রিপোর্ট' করেছে যে এই অঞ্চলের শত শত গ্রামবাসীরা মূলতঃ পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঝুঁকি ও উপকারিতা সম্পর্কে অজ্ঞ। [৪০]

২০১১ সালে একটি পাবলিক অবজেক্ট লিগমেন্ট (পিআইএল) দায়ের করা হয়, যেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উন্নয়ন স্থগিত করার জন্য সুপ্রীম কোর্টের কাছে আবেদন জানানো হয়। [৪১][৪২] মে ২০১৩ সালে, সুপ্রীম কোর্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে রায় দেয়, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বৃহত্তর জনস্বার্থে ছিল বলে। [৪৩]

২০১২ সালের মার্চ মাসে পুলিশ কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রায় ২০০ জন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধী বিক্ষোভকারীদের আটক করে। বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলো, চুল্লীর কাজ পুনরায় শুরু করার বিরুদ্ধে, যেখানে এক দিন পরেই স্থানীয় সরকার পুনরায় প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করে। [৪৪]

এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার পক্ষেও সমাবেশ ও প্রতিবাদ হয়েছিল। [৪৫][৪৬]

২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতিবাদে বিদেশি সংগঠনদের দায়ী করেন। সংবাদ সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে যে তিনটি এনজিও ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে প্রতিবাদে বিদেশী বিনিময় বিধি লঙ্ঘন করে রেখেছে।[৪৭][৪৮]

ইদিনথাকারাই গ্রামের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমর্থকেরা প্রতিবাদকারীদের আক্রমনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল উদ্বেগজনক বিস্ফোরক ডিভাইস দ্বারা। [৪৯]

খ্রিস্টান ষড়যন্ত্র[সম্পাদনা]

ভারত জুড়ে বিভিন্ন সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে বেশ কিছু খ্রিস্টান সংগঠন এবং খ্রিস্টান এনজিও কুডানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পিছনে আছে। [৫০][৫১] দ্য চার্চ অফ সাউথ ইন্ডিয়ার, ক্যাথলিক বিশপ কনফারেন্স অফ ইন্ডিয়া[৫২] এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ চার্চস খোলাখুলিভাবে কুডানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতা করে। [৫৩] এটাও প্রতীয়মান হয় যে এই অঞ্চলের ক্যাথলিক চার্চের কর্মকর্তারা চার্চের আধিকারিকদের মাধ্যমে এবং মিশনারি স্কুলে পারমাণবিক শক্তি বিরোধী ভিডিওর মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। [৫৪] নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের বিরোধিতা করার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বহুমুখী। এক অভিযোগ ছিল যে প্রতিবাদটি ছিল রাশিয়ান বেসামরিক পরমাণু বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং রাশিয়াকে কেন্দ্রের নির্মাণ খরচ কমাতে ব্যর্থ করে তুলতে এবং এইভাবে ভারতে ভবিষ্যতে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অনিশ্চয়তার একটি রাষ্ট্র তৈরি করা। [৫৫] পারমাণবিক শক্তি বিরোধী বিক্ষোভকারী উদয়কুমার একটি স্টিং ভিডিওতে ধরা পড়েছিল, যেখানে সে গির্জার মাধ্যমে জনগনকে পথচ্যুতি ঘটানোর এবং আন্দোলনে সামিল করার জন্য অনুরোধ করেছিল। [৫৬]

কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

ভারতের আণবিক শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন বলেন, "ফুকুশিমা কেন্দ্রটি একটি সমুদ্র সৈকতের সামনে নির্মিত হয়েছিল, কিন্তু কুদানকুলাম কেন্দ্রটি একটি কঠিন ভূখণ্ডের উপর নির্মাণ করা হয়েছে এবং সব নিরাপত্তা রাখা হয়েছে। এছাড়াও, নির্মাণ এলাকাটি সুনামি প্রবণ এলাকা নয়। কুদানকুলামের কেন্দ্রে দ্বিগুণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে যা উচ্চ চাপ সহ্য করতে পারে। অন্ততঃ ১৪,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মানে। যদি আমরা অবিলম্বে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনা না করি তবে এটি আমাদের দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলবে। [৫৭]

ভারত সরকার দ্বারা গঠিত একটি কেন্দ্রীয় দল, যারা কুদানকুলাম কেন্দ্রের চুল্লীর (রিএ্যাক্টর) নিরাপত্তার জন্য প্রদত্ত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলির একটি জরিপ পরিচালনা করে। দলের নেতৃত্বে থাকা ড. মুথুনিয়াগাম বলেন, বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি দস্তাবেজের জন্য জিজ্ঞাসা করেছে যা কোনও পরমাণু চুল্লীর নিরাপত্তা সম্পর্কিত নয়।[৫৮] পরমাণু বিজ্ঞানী ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের উপদেষ্টা রাজাগোপাল চিদাম্বরম বলেছেন, "আমরা ফুকুশিমার পারমাণবিক দুর্ঘটনার বিষয়ে শিখেছি, বিশেষত পোস্ট শাট ডাউন কুলিং সিস্টেমের উপর", এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার জন্য ভারতের নিরাপদ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি দমন বা প্রতিরোধ করা উচিৎ না। [৫৯]

তামিলনাড়ু রাজ্য সরকার চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে, যারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলি পরীক্ষা করার পর সরকারকে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। তামিলনাড়ু সরকার রাজ্যে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পক্ষে আদেশ দিয়েছে। [৬০]

বিদ্যুৎ বন্টন[সম্পাদনা]

২৯শে আগস্ট, ২০১৩ সালে ভারত সরকার চুল্লীর দুটি ইউনিট থেকে কয়েকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত রাজ্যের বিদ্যুৎ বরাদ্দ ঘোষণা করে।[৬১]

সুবিধাভোগী শক্তি (মেগাওয়াট)
তামিলনাড়ু ৯২৫ মেগাওয়াট
কর্নাটক ৪৪২ মেগাওয়াট
অন্ধ্রপ্রদেশ ৩০০ মেগাওয়াট
কেরালা ২৬৬ মেগাওয়াট
পুদুচেরি ৬৭ মেগাওয়াট
মোট ২,০০০ মেগাওয়াট

তামিলনাড়ু তার বরাদ্দকরণে আরও ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চেয়েছে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.atominfo.ru/newsp/w0917.htm
  2. http://www.atominfo.ru/newsp/w0922.htm
  3. "PRIS – KUDANKULAM-1 – Reactor Details"। Iaea.org। ২০০২-০৩-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৭-২৯ 
  4. "Commercial operation of Kudankulam plant delayed further"Business Standard। ২০১৩-০১-১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৭-১৪ 
  5. "The professor and the politics in anti-nuclear crucible" 
  6. "Kudankulam ready for more"Frontline। ১১ নভেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  7. "Wait for Kudankulam power ends; unit 1 linked to grid"Business Line। ২০১৩-১০-২২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-১২-০৬ 
  8. "Ready to run"Frontline। ৯ আগস্ট ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৭-২৯ 
  9. B.Sivakumar (২৫ জানুয়ারি ২০১৫)। "Kudankulam power to cost 4.29/unit"। The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  10. "Kudankulam Nuclear Power Plant: Cost of units 3,4 surpasses Rs 39,000 crore"articles.economictimes.indiatimes.comThe Economic Times। ৩ ডিসেম্বর ২০১৪। ১০ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৬ 
  11. "Kudankulam units 3, 4 cost more than doubles over liability issues"www.thehindu.comThe Hindu। ৩ ডিসেম্বর ২০১৪। ৩ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৬ 
  12. "Nuclear Exports to India from Russia"। ১ এপ্রিল ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০১৮ 
  13. "Kudankulam Port operational"। ২০ জানুয়ারি ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০১৮ 
  14. Dmitry Sergeev (১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮)। "Russia, India edge closer to major nuclear deal"। Reuters। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ 
  15. "India, Russia to sign deal on new nuclear reactors"। ৬ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  16. "Kudankulam nuclear plant goes critical"The Times of India। ২০১৩-০৭-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৭-১৪  "Birds started nesting in area surrounding NPP of Kudankulam"। India Info Online। ২ সেপ্টেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৪ 
  17. Kudankulam nuclear plant begins power generation. Mumbai Mirror (2013-10-22). Retrieved on 2013-12-06.
  18. http://www.business-standard.com/article/current-affairs/unit-i-of-kudankulam-to-go-commercial-from-year-end-114040900318_1.html
  19. http://www.thehindu.com/news/national/tamil-nadu/kudankulam-reactor-attains-full-capacity/article6092518.ece
  20. "Archived copy"। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৯-০৬ 
  21. https://ria.ru/atomtec/20161015/1479295038.html
  22. "Second unit of Kudankulam nuclear plant starts fission"timesofindia.indiatimes.comTimes Internet। ১০ জুলাই ২০১৬। ১০ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৬ 
  23. "Bhoomi pooja performed for Kudankulam 3rd, 4th units"। Zee Media Corporation Ltd.। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  24. "Construction work for Kudankulam Nuclear Power Project 3,4 units to begin soon: Scientist"The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ জানুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  25. http://www.rosatom.ru/en/press-centre/news/construction-of-kudankulam-npp-2nd-stage-has-commenced/
  26. "The VVER today – Evolution – Design – Safety" (PDF)www.rosatom.ru (PDF)। Rosatom। ২০১৪। পৃষ্ঠা 11–12। ২১ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৬ 
  27. "NPCIL to go into details with 4 reactor suppliers"। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১৮ 
  28. "Nuclear Power Plant Type"। ২০ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১৮ 
  29. "Koodankulam to start production in 40 days" 
  30. "Kudankulam Atomic Power Project 1 & 2 and"। ১৫ মে ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০০৮ 
  31. "History of the Kudankulam Project"। ১৪ মে ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১৮ 
  32. Four more reactors
  33. Details on the Next Generation Reactors
  34. Tamil Nadu to get additional 100MW of power from Kudankulam nuclear power plant – Times Of India. Timesofindia.indiatimes.com (2013-08-08). Retrieved on 2013-12-06.
  35. "Kudankulam Nuclear-Plant Restarts Generation"NDTV। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  36. "Kudankulam nuclear reactors generated 22,800 million units"The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ জানুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  37. Rahul Bedi (২৮ অক্টোবর ২০১১)। "Indian activists fear nuclear plant accident"NZ Herald 
  38. Thirteen Reasons Why We Do Not Want the Koodankulam Nuclear Power Project
  39. "Kudankulam one of safest reactors, Lanka's fears unfounded: India's nuclear chief"NDTV। ১২ এপ্রিল ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১৩ 
  40. "At Kudankulam's core is fear, ignorance and anger"। ২ ডিসেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০১৩ 
  41. Siddharth Srivastava (২৭ অক্টোবর ২০১১)। "India's Rising Nuclear Safety Concerns"Asia Sentinel 
  42. Ranjit Devraj (২৫ অক্টোবর ২০১১)। "Prospects Dim for India's Nuclear Power Expansion as Grassroots Uprising Spreads"Inside Climate News 
  43. "Kudankulam verdict: for this village, renewed protests or tacit acceptance"NDTV। ৬ মে ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১৩ 
  44. "Nearly 200 arrested in India nuclear protest"France24। ২০ মার্চ ২০১২। ৩১ মে ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  45. "Rally seeks power generation at Kudankulam plant"The Hindu। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২। 
  46. "Blood donation camp in support of N-plant"The Hindu। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২। 
  47. "5 NGOs diverted foreign funds to fuel Kudankulam stir"hindustantimes। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২। 
  48. http://www.firstpost.com/india/kudankulam-protests-3-ngos-lose-licence-for-diverting-funds-224821.html
  49. Sudipto Mondal। "Explosions at village near Kudankulam plant: Reports"Hindustan Times। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  50. "Kudankulam Protests, Church and Western NGOs, Who is Udayakumar?"। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১৮ 
  51. Kudankulam Protests , Church and Western NGOs, Who is Udayakumar?
  52. Probe and Expose the Ploy - Missionary Hand in the Kudankulam Protest
  53. Churches back Kudankulam stir
  54. http://www.thehindu.com/news/national/at-kudankulams-core-is-fear-ignorance-and-anger/article4154421.ece At Kudankulam’s core is fear, ignorance and anger
  55. Rakesh Krishnan Simha। "The Plot Behind Sabotage Kudankulam, Targeting Russia"। eSamskriti - The Essence of Indian Culture। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০১৫ 
  56. http://www.sify.com/news/activist-s-p-udayakumar-vs-arnab-s-republic-tv-news-columns-rgxk18aeeichc.html
  57. "Kudankulam plant is safe: Srinivasan"The Times of India। ১৪ নভেম্বর ২০১১। 
  58. "Kudankulam reactors safest: Central panel"The Hindu। ১৯ নভেম্বর ২০১১। ২১ নভেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১৮ 
  59. "R. Chidambaram bats for Kudankulam"The Hindu। ১২ মার্চ ২০১২। 
  60. "Kudankulam nuclear power plant issue ends – India – DNA"। Dnaindia.com। ১৯ মার্চ ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১১-১৭ 
  61. Press Information Bureau English Releases. Pib.nic.in. Retrieved on 2013-12-06.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]