এলুরু
| এলুরু এল্লোর, হেলাপুরী | |
|---|---|
| শহর | |
ছবিতে দেখা যাচ্ছে - পুলিশ কোয়ার্টার, এলুরু রেলওয়ে স্টেশন খিলান, সি.আর. রেড্ডি কলেজ, বৃন্দাবন গার্ডেন পার্ক, ভেঙ্গি মণ্ডপম, এলুরু নতুন বাস স্টেশন, ইএমসি সাইন বোর্ড, শনিবারাপুপেতা গালিগোপুরম, গৌতম বুদ্ধ উদ্যান | |
| স্থানাঙ্ক: ১৬°৪২′ উত্তর ৮১°০৬′ পূর্ব / ১৬.৭° উত্তর ৮১.১° পূর্ব | |
| দেশ | ভারত |
| রাজ্য | অন্ধ্রপ্রদেশ |
| জেলা | পশ্চিম গোদাবরী |
| স্থাপিত | দ্বিতীয় শতাব্দী |
| অন্তর্ভুক্ত (নগর) | ১৮৬৬ |
| অন্তর্ভুক্ত (শহর) | ৯ই এপ্রিল ২০০৫ |
| সরকার | |
| • ধরন | মেয়র-কাউন্সিল |
| • শাসক | এলুরু পৌরসভা, ইউইডিএ |
| • সংসদ সদস্য | কোটাগিরি শ্রীধর (ওয়াইএসআরসিপি) |
| • বিধায়ক | আল্লা কালী কৃষ্ণ শ্রীনীবাস (ওয়াইএসআরসিপি) |
| আয়তন[১] | |
| • শহর | ১১.৫২ বর্গকিমি (৪.৪৫ বর্গমাইল) |
| • মহানগর[২] | ৩,৩২৮.৯৯ বর্গকিমি (১,২৮৫.৩৩ বর্গমাইল) |
| উচ্চতা | ২২ মিটার (৭২ ফুট) |
| জনসংখ্যা (২০১১) | |
| • শহর | ২,১৪,৪১৪[৩] |
| • ক্রম | দশম (রাজ্যে) |
| • মহানগর | ২,৫০,৬৯৩[৪] |
| বিশেষণ | এলুরিয়ান |
| ভাষাসমূহ | |
| • সরকারি | তেলুগু |
| সময় অঞ্চল | আইএসটি (ইউটিসি+০৫:৩০) |
| পিন | ৫৩৪*** |
| টেলিফোন কোড | + ৯১–৮৮১২ |
| যানবাহন নিবন্ধন | এপি–৩৯ নতুন |
| ওয়েবসাইট | eluru |
এলুরু হল ভারতের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের পশ্চিম গোদাবরী জেলার একটি শহর এবং জেলা সদর।[৫] এটি রাজ্যের ১৪ টি পৌরসভা কর্পোরেশনের অন্যতম এলুরু রাজস্ব বিভাগের এলুরু মণ্ডলের মণ্ডল সদর দপ্তর।[৬][৭] শহরটি তাম্মিলেরু নদীর তীরে অবস্থিত। শহরটি উলের কার্পেট এবং হাতে বোনা উলের পণ্যের জন্য সুপরিচিত।[৮] ভারতের জনপরিসংখ্যান ২০১১-এর হিসাব অনুযায়ী[হালনাগাদ], শহরটির জনসংখ্যা ২,১৭,৮৭৬।[১] এর ইতিহাস খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে পাওয়া গেছে।[৯]
ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]ভেঙ্গির বৌদ্ধ রাজ্যের সময়, শহরটি 'হেলাপুরী' নামে পরিচিত ছিল।[১০] এটি 'এল্লোর' নামেও পরিচিত ছিল।[১১]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]

এলুরুর ইতিহাস খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর এবং অন্ধ্রের ইতিহাসে এর বিশিষ্টতা রয়েছে। এলুরুর কাছে ভেঙ্গি অঞ্চল দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত অন্ধ্রের রাজধানী ছিল এবং সলাংকয়ানস, বিষ্ণুকুদিনাস এবং পূর্ব চালুক্য এখানে শাসন করেছে। ভেঙ্গি অঞ্চল অন্ধ্রপ্রদেশের অন্য যে কোনও শহরের চেয়ে বেশি বছর ধরে অন্ধ্র দেশের রাজধানী ছিল। এলুরু ভেঙ্গির বৌদ্ধ রাজ্যের অংশ ছিল।
আধুনিক ইতিহাস
[সম্পাদনা]চতুর্থ হায়দরাবাদের নিজাম সলাবত জং, ১৭৫৩ সালে এলুরু-সহ এই অঞ্চলটিকে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রদান করেন কিন্তু ফরাসীরা কয়েক বছরের মধ্যে এটি ব্রিটিশদের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়। ব্রিটিশ শাসনের সময়কালে এলুরু একটি সামরিক স্টেশন এবং মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির একটি বিভাগ উত্তর সরকারের রাজধানী ছিল।[১২][১৩] মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে, রাজমুন্দ্রি জেলাটি ১৮২৩ সালে তৈরি হয়েছিল।[১৪] এটি ১৮৫৯ সালে পুনর্গঠিত করে গোদাবরী এবং মসুলিপত্তনম জেলায় বিভক্ত করা হয়েছিল। উত্তর সরকার বিভক্ত হওয়ার পরে এলুরু মসুলিপত্তনম জেলার অন্তর্গত হয়ে ছিল। ১৮৫৯ সালে, এটি গোদাবরী জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল; পরে এটি কৃষ্ণা জেলার একটি অংশ হয়। ব্রিটিশ শাসন কালে, রাজমুন্দ্রি ছিল গোদাবরী জেলার সদর দপ্তর, যা ১৯২৫ সালে আরও দ্বিখণ্ডিত হয়ে পূর্ব গোদাবরী জেলা এবং পশ্চিম গোদাবরী জেলায় পরিণত হয়। যখন গোদাবরী জেলাটি বিভক্ত হয়েছিল, এলুরু পশ্চিম গোদাবরী জেলার সদর দপ্তর হয়।[১৫]
ভূগোল
[সম্পাদনা]
এলুরু ১৬°৪২′ উত্তর ৮১°০৬′ পূর্ব / ১৬.৭° উত্তর ৮১.১° পূর্ব অবস্থিত এবং এর গড় উচ্চতা ২২ মি (৭২ ফু)। এটি পূর্ব উপকূলীয় সমভূমিতে অবস্থিত।[১৬] এটি কৃষ্ণা এবং গোদাবরী নদীর প্রায় মাঝামাঝি অবস্থিত এবং বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভেতরে স্থিত। তাম্মিলেরু নদী এবং কৃষ্ণা ও গোদাবরী খাল শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। কৃষ্ণা থেকে এলুরু খালটি শহরের কোল্লেরু হ্রদে গিয়ে পড়েছে।[১৫]
জনসংখ্যার উপাত্ত
[সম্পাদনা]ভারতের জনপরিসংখ্যান ২০১১-এর হিসাব অনুযায়ী[হালনাগাদ], এলুরু পৌর কর্পোরেশন শহরের জনসংখ্যা হল ২১৪,৪১৪ জন যার মধ্যে ১০৫,৭০৭ জন পুরুষ এবং ১০৮,৭০৭ জন মহিলা,[৩] এবং এলুরু ইউএ-র জনসংখ্যা ২৫০,৬৯৩।[৪] ২০১৫-১৬ সালে এলুরু শহরের জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ৩৫০,০০০।[১৮][১৯]
জলবায়ু
[সম্পাদনা]বঙ্গোপসাগর খুব কাছে হওয়ায় এলুরুর জলবায়ু গরম ও আর্দ্র। এটির গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ২৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৮২.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। মে মাস সবচেয়ে উষ্ণ এবং ডিসেম্বর বছরের শীতলতম মাস। তাপমাত্রা গ্রীষ্মে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) অতিক্রম করে।[৫] জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় এবং শহরে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৯৯২ মিমি (৩৯.১ ইঞ্চি)।[২০]
| এলুরু, অন্ধ্রপ্রদেশ-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য | |||||||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| মাস | জানু | ফেব্রু | মার্চ | এপ্রিল | মে | জুন | জুলাই | আগস্ট | সেপ্টে | অক্টো | নভে | ডিসে | বছর |
| সর্বোচ্চ গড় °সে (°ফা) | ২৯.১ (৮৪.৪) |
৩১.৭ (৮৯.১) |
৩৪.৫ (৯৪.১) |
৩৬.৭ (৯৮.১) |
৩৮.৬ (১০১.৫) |
৩৬.৯ (৯৮.৪) |
৩২.৪ (৯০.৩) |
৩২.০ (৮৯.৬) |
৩২.২ (৯০.০) |
৩১.৪ (৮৮.৫) |
২৯.৮ (৮৫.৬) |
২৮.৮ (৮৩.৮) |
৩২.৮ (৯১.১) |
| সর্বনিম্ন গড় °সে (°ফা) | ১৮.৯ (৬৬.০) |
২০.৩ (৬৮.৫) |
২২.৬ (৭২.৭) |
২৫.৮ (৭৮.৪) |
২৭.৯ (৮২.২) |
২৭.২ (৮১.০) |
২৫.৪ (৭৭.৭) |
২৫.৩ (৭৭.৫) |
২৫.৩ (৭৭.৫) |
২৪.৩ (৭৫.৭) |
২১.৩ (৭০.৩) |
১৮.৮ (৬৫.৮) |
২৩.৬ (৭৪.৪) |
| বৃষ্টিপাতের গড় মিমি (ইঞ্চি) | ৩ (০.১) |
৬ (০.২) |
৬ (০.২) |
১৪ (০.৬) |
৪০ (১.৬) |
১২৩ (৪.৮) |
২২৯ (৯.০) |
১৮৬ (৭.৩) |
১৭০ (৬.৭) |
১৬৬ (৬.৫) |
৪০ (১.৬) |
৯ (০.৪) |
৯৯২ (৩৯) |
| উৎস: en.climate-data.org | |||||||||||||
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "Municipality Profile | Eluru Municipal Corporation"। eluru.cdma.ap.gov.in (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৭।
- ↑ Constitution of Eluru Urban Development Authority (EUDA) with Head Quarters at Eluru (পিডিএফ)। Amaravati: Government of Andhra Pradesh। ২০১৯। পৃ. ৩। ২৬ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৯।
- 1 2 "Cities having population 1 lakh and above" (পিডিএফ)। Census of India 2011। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
- 1 2 "Urban Agglomerations/Cities having population 1 lakh and above" (পিডিএফ)। Census of India 2011। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
- 1 2 "Severe heat continues to sizzle West Godavari"। The Hans India (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ এপ্রিল ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৭।
- ↑ "West Godavari District Mandals" (পিডিএফ)। Census of India। পৃ. ৪৩৯। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০১৫।
- ↑ "District Census Handbook – West Godavari" (পিডিএফ)। Census of India। পৃ. ২২–২৩, ৫৪। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০১৫।
- ↑ Babu, A. Satish (২০০৮)। Tourism development in India : a case study। New Delhi: A.P.H.Pub.Corp.। পৃ. ৮৭। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৩১৩-০৩৪৬-৭। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৫।
- ↑ "Museums, forts to get facelift in state"। The Hans India। ২৮ জুন ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০১৮।
- ↑ Unnisa, edited by Syeda Azeem; Rav, S. Bhupatthi (২০১৩)। Sustainable solid waste management (Online-Ausg. সংস্করণ)। Toronto: Apple Academic Press। পৃ. ৪৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৯২৬৮৯৫-২৪-৬। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ1=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Stone, Peter F. (১৯ নভেম্বর ২০১৩)। Oriental Rugs: An Illustrated Lexicon of Motifs, Materials, and Origins (ইংরেজি ভাষায়)। Tuttle Publishing। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৬২৯-১১৮৪-৪। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০১৭।
- ↑ চিসাম, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। । ব্রিটিশ বিশ্বকোষ। খণ্ড ৯ (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ২৯৪।
- ↑ Hunter, Sir William Wilson (১৮৮৫)। The Imperial Gazetteer of India (ইংরেজি ভাষায়)। Trübner & Company। পৃ. ৩৫১–৩৫২।
- ↑ Bhaskar, B. v s (৮ জুন ২০১৪)। "Nyapathi Subbarao carved an identity for Telugus" – www.thehindu.com এর মাধ্যমে।
- 1 2 ":: Eluru Municipal Corporation"। ১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ Sr.Bimcy; Sr.Sisily; Charlotte। Bibliographic information। Scholar Publishing House। পৃ. ২০–২১। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১৭১৭২৫১৬৮। সংগ্রহের তারিখ ২৮ আগস্ট ২০১৫।
- ↑ "Eluru City Population Census 2011 – Andhra Pradesh"।
- ↑ India (২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬)। "Traffic woes grip Eluru"। The Hans India।
- ↑ "Traffic gridlock hits Eluru hard"। The Hans India। ১১ অক্টোবর ২০১৫।
- ↑ "Climate: Eluru – Climate graph, Temperature graph, Climate table – Climate-Data.org"। en.climate-data.org। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৬।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- Eluru Municipal Corporation website
- । ব্রিটিশ বিশ্বকোষ (১১তম সংস্করণ)। ১৯১১।