পশ্চিম গোদাবরী জেলা
| পশ্চিম গোদাবরী জেলা పశ్చిమ గోదావరి జిల్లా | |
|---|---|
| অন্ধ্রপ্রদেশের জেলা | |
অন্ধ্রপ্রদেশে পশ্চিম গোদাবরীর অবস্থান | |
| দেশ | ভারত |
| রাজ্য | অন্ধ্রপ্রদেশ |
| প্রশাসনিক বিভাগ | পশ্চিম গোদাবরী জেলা |
| সদরদপ্তর | এলুরু |
| সরকার | |
| • লোকসভা কেন্দ্র | নরসাপুরম, এলুরু |
| • বিধানসভা আসন | ১৫ |
| আয়তন | |
| • মোট | ৭,৭৪২ বর্গকিমি (২,৯৮৯ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০১১) | |
| • মোট | ৩৯,৩৪,৭৮২[১] |
| • পৌর এলাকা | ২০.৫৫% |
| জনতাত্ত্বিক | |
| • সাক্ষরতা | ৭৪.৩২% |
| • লিঙ্গানুপাত | ১০০৪ |
| প্রধান মহাসড়ক | ১৬ নং জাতীয় সড়ক ২১৪ নং জাতীয় সড়ক, ২১৪ক নং জাতীয় সড়ক |
| স্থানাঙ্ক | ১৬°৫৫′ উত্তর ৮১°২০′ পূর্ব / ১৬.৯১৭° উত্তর ৮১.৩৩৩° পূর্ব |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
পশ্চিম গোদাবরী জেলা; (তেলুগু: పశ్చిమ గోదావరి జిల్లా, প্রতিবর্ণী. পশ্চিম গোদাভ়রি জিল্লা) হল ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের উপকূলীয় অন্ধ্র অঞ্চলের একটি জেলা। এই জেলার সদর শহর হল এলুরু। ২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে, এই জেলার জনসংখ্যা ৩,৯৩৪,৭৮২। এর মধ্যে ১৯.৭৪% শহরাঞ্চলের বাসিন্দা।[১]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]এলুরু ছিল বৌদ্ধ রাজ্য বেঙ্গির অংশ। ৭০০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বেঙ্গি সহ উপকূলীয় অন্ধ্র শাসন করেছিল পূর্ব চালুক্যরা। সেই সময় পেদাবেগি গ্রামের কাছে তাদের রাজধানী অবস্থিত ছিল। পেদাবেগি ও গুন্টুপল্লি (জিলকাররাগুদেম) গ্রামে ঐতিহাসিক নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। ১৪৭১ সাল পর্যন্ত এলুরু কলিঙ্গ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর গজপতি শাসকরা এই অঞ্চল অধিকার করেন। ১৫১৫ সালে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কৃষ্ণ দেব রায় এলুরু অধিকার করেন। এই সাম্রাজ্যের পতনের পর গোলকোন্ডার সুলতান কুতুব শাহ এই অঞ্চল দখল করেন। ব্রিটিশ যুগে এই অঞ্চল প্রথমে গোদাবরী জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯২৫ সালে গোদাবরী জেলার নামকরণ হয় পূর্ব গোদাবরী জেলা এবং এই জেলার কিয়দংশ নিয়ে পশ্চিম গোদাবরী জেলা গঠিত হয়। নবগঠিত পশ্চিম গোদাবরী জেলার রাজধানী হয় এলুরু।[২]
ভূগোল
[সম্পাদনা]পশ্চিম গোদাবরী জেলার আয়তন ৭,৭৪২ কিমি২ (২,৯৮৯ মা২)। এই জেলার উত্তর দিকে রয়েছে তেলেঙ্গানা রাজ্যের খাম্মাম জেলা এবং দক্ষিণ দিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। গোদাবরী নদী পূর্ব দিকে এই জেলাকে পূর্ব গোদাবরী জেলা এবং কৃষ্ণা নদী পশ্চিম দিকে কৃষ্ণা জেলা থেকে পৃথক করেছে।[৩]
জলবায়ু
[সম্পাদনা]উপকূলীয় অন্ধ্রের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পশ্চিম গোদাবরী জেলার জলবায়ুও ক্রান্তীয় প্রকৃতির। এখানে গ্রীষ্মকালে (মার্চ-জুন) খুব গরম ও শুষ্ক প্রকৃতির হয়। কিন্তু শীতকাল অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক। গ্রীষ্মকালে দিনের তাপমাত্রা প্রায়শই ৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের উপরে থাকে। বর্ষাকাল (জুলাই-ডিসেম্বর) পর্যটনের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময় জেলার ধানক্ষেতগুলি উজ্জ্বল সবুজ রং ধারণ করে, নদীগুলি জলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং আবহাওয়াও অপেক্ষাকৃত শীতল থাকে। এই অঞ্চলের জলবায়ু ও উর্বর জমির কারণে ভারতের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এখানে বাস করেন। একাধিক জমিদার এখানে বৃহদাকার প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন।
জনপরিসংখ্যান
[সম্পাদনা]২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে, পশ্চিম গোদাবরী জেলার জনসংখ্যা ৩,৯৩৬,৯৬৬।[১] এই জেলার জনসংখ্যা লাইবেরিয়া রাষ্ট্র[৪] বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় সমান। [৫] জনসংখ্যার হিসেবে ভারতের ৬৪০টি জেলার মধ্যে এই জেলার স্থান ৬১তম।[৬] জেলার জনঘনত্ব ৫০৮ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার (১,৩২০ জন/বর্গমাইল)।[৬] ২০০১-২০১১ দশকে এই জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৩.৪৫%।[৬] পূর্ব গোদাবরী জেলার লিঙ্গানুপাতের হার প্রতি ১০০০ পুরুষে ১০০৪ জন নারী[৬] এবং সাক্ষরতার হার ৭৪.৩২%।[৬]
২০০৭-২০০৮ সালে ইন্টারন্যাশানাল ইনস্টিটিউট ফর পপুলেশন সায়েন্সেস এই জেলার ৪৮টি গ্রামের ৯৯৯টি বাড়িতে একটি সমীক্ষা চালায়।[৭] সমীক্ষা থেকে জানা যায়, ৯৩.২% বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে, ৯৮.১% বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ আছে, ৫৬.৭% বাড়িতে শৌচালয় আছে এবং ৩৩.২% বাড়ি পাকা। ৮৬.৪% ব্যক্তির বিপিএল রেশন কার্ড আছে।[৭]
অর্থনীতি
[সম্পাদনা]পশ্চিম গোদাবরী জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। গোদাবরী নদীর উপর দলেশ্বরম বাঁধ সেচের জলের অন্যতম উৎস। এলুরুতে নির্মিত উলের গালিচা জেলার একটি পরিবেশবান্ধব কুটির শিল্প। এই গালিচা বিদেশেও রফতানি করা হয়।[৮][৯]
প্রশাসনিক বিভাগ
[সম্পাদনা]
পশ্চিম গোদাবরী জেলা চারটি রাজস্ব বিভাগে বিভক্ত। এগুলি হল: এলুরু, জঙ্গরেড্ডিগুদেদম, কোভুর ও নরসপুরম। এই চারটি রাজস্ব বিভাগ মোট ৪৮টি মণ্ডলে বিভক্ত। মণ্ডলগুলি আবার ৮৮১টি গ্রাম, ১টি পৌরসংস্থা, ৭টিপৌরসভা ও ৫টি সেন্সাস টাউন নিয়ে গঠিত। এলুরু এই জেলার একমাত্র পৌরসংস্থা। জেলার সাতটিপৌরসভা হল: কোভুর, নরসপুরম, নিদাদাভোলু, পালাকোল, তাদেপল্লিগুদেম, তানুকু ও ভীমাবরম এবং ৫টি সেন্সাস টাউন হল দ্বারকা তিরুমালা, শনিবারপুপেত, সত্রমপদু, গবরাবরম ও তাঙ্গেল্লামুদি।[৩]

মণ্ডল
[সম্পাদনা]পশ্চিম গোদাবরী জেলার ৪টি রাজস্ব বিভাগের অন্তর্গত মণ্ডলগুলির তালিকা নিচে দেওয়া হল:
নির্বাচনী কেন্দ্র
[সম্পাদনা]আগে পশ্চিম গোদাবরী জেলায় দুটি লোকসভা কেন্দ্র ও ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্র ছিল। সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিটি বর্তমানে একটি বিধানসভা কেন্দ্র কমিয়ে দিয়েছে।
জেলার লোকসভা কেন্দ্রদুটি হল এলুরু ও নরসপুরম।
বিধানসভা কেন্দ্রগুলি হল:[১০]
সংস্কৃতি
[সম্পাদনা]
পশ্চিম গোদাবরী জেলার অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন। তাই এই গ্রামের সংস্কৃতি অনেকটাই রক্ষণশীল প্রকৃতির। এখানে যৌথ পরিবার ও সম্বন্ধ-বিবাহ প্রথাই প্রচলিত। ভীমাবরম, তান্ডেলপল্লিগুদেম ও এলুরু শহর অপেক্ষাকৃত আধুনিক।
শিক্ষাব্যবস্থা
[সম্পাদনা]তান্ডেলপল্লিগুদেম শহরে ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এনআইটি) এবং একই শহরের বেঙ্কটরমন্নগুদেমের ড. ওয়াইএসআর উদ্যানপালন বিশ্ববিদ্যালয় জেলার দুটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া এই শহরে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শিক্ষাপ্রাঙ্গনও রয়েছে।
পর্যটন ও দর্শনীয় স্থান
[সম্পাদনা]
পশ্চিম গোদাবরী জেলার একটি প্রাচীন জনপ্রিয় তীর্থস্থান হল দ্বারকা তিরুমালা। স্থল পুরাণম্ অনুসারে, এই তীর্থস্থানটি দ্বারকা নামে এক সন্তের নামাঙ্কিত। তিনি বল্মীক ঢিপিতে দীর্ঘ তপস্যার পর এখানে বেঙ্কটেশ্বরের মূর্তি স্থাপন করেছিলেন। এই স্থানটি ‘চিন্না তিরুপতি’ (ছোটো তিরুপতি) নামেও পরিচিত।
নরসপুরমের ২০ কিলোমিটার দূরে পেরুপালেম সৈকত অবস্থিত। গোদাবরী নদীর সৌন্দর্য এই জেলায় অনেক পর্যটককে আকর্ষণ করে। পঞ্চরাম ক্ষেত্রের অন্যতম পালাকোল্লু শহরের ক্ষীররাম লিঙ্গেশ্বর স্বামী মন্দির এটির ৩৬.৬ মি (১২০ ফু) উঁচু গোপুরমের জন্য বিখ্যাত। ১৫শ শতাব্দীতে এই অঞ্চলের শাসক রেড্ডি রাজারা এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন।
পেনুগোন্ডার বাসবী কন্যাক পরমেশ্বরী মন্দির আর্য ব্যাস সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান। ভীমাবরম অন্যতম পঞ্চরাম ক্ষেত্র। সোমরাম পঞ্চরাম শিবের মন্দির। এখানে শিব ‘সোমেশ্বরুদু’ নামে পরিচিত। পেদা-আমিরামে আছে জৈনদের আদিনাথ ভগবান মন্দির। পেনুমন্ত্র মণ্ডলের ছোটো গ্রাম জুত্তিগার পাশ দিয়ে গোস্তনদী নামে একটি নদী প্রবাহিত। এই নদীটির কিছু ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। কোভুরু, পাত্তিসাম, পাপিকোন্ডালু, পোলাবরম, কোরুতুরু, কামাবরম, জঙ্গরেড্ডিগুদেম, জীলাকররাগুদেম, এলুরু, পেদাবেগি ও কোল্লেরু হ্রদ অন্যান্য স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্র।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 "West Godavari district profile"। Andhra Pradesh State Portal। ২৯ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ "West Godavari district profile"। The Hindu। ১৫ এপ্রিল ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৫।
- 1 2 "District Census Handbook - West Godavari" (PDF)। Census of India। পৃ. ২২–২৩, ৫৪। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০১৫।
- ↑ US Directorate of Intelligence। "Country Comparison:Population"। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১১।
Liberia 3,786,764July 2011 est.
- ↑ "2010 Resident Population Data"। U. S. Census Bureau। ২৩ আগস্ট ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১।
Oregon 3,831,074
- 1 2 3 4 5 "District Census 2011"। Census2011.co.in। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১।
- 1 2 "District Level Household and Facility Survey (DLHS-3), 2007-08: India. Andhra Pradesh" (পিডিএফ)। International Institute for Population Sciences and Ministry of Health and Family Welfare। ২০১০। ১৭ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে (PDF) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১১।
- ↑ Nagaraja, G (২০ মার্চ ২০১৪)। "Handmade carpet industry in doldrums"। The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০১৫।
- ↑ Sajnani, Manohar (২০০১)। Encyclopaedia of tourism resources in India। New Delhi: Kalpaz Pub.। পৃ. ৬৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৮৩৫-০১৮-৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০১৫।
- ↑ http://ceoandhra.nic.in/Right%20to%20Infn.Act/annex1.htm District-wise Assembly-Constituencies in Andhra Pradesh
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- West Godavari district official website ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১০ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে
- Population Clock of District West Godavari