আর্নি সাইডবটম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আর্নি সাইডবটম
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামআর্নল্ড সাইডবটম
জন্ম (1954-04-01) ১ এপ্রিল ১৯৫৪ (বয়স ৬৬)
শল্যান্ডস, বার্নসলে, ইংল্যান্ড
ডাকনামউল্ফার, থানল্ড
উচ্চতা৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
সম্পর্কআরজে সাইডবটম (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৫১২)
১১ জুলাই ১৯৮৫ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৭৩ - ১৯৯১ইয়র্কশায়ার
১৯৮১ - ১৯৮৪অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২২৮ ২৪০
রানের সংখ্যা ৪৫০৮ ১৩০৪
ব্যাটিং গড় ২.০০ ২২.৪২ ১৪.৯৮
১০০/৫০ –/– ১/১৩ –/১
সর্বোচ্চ রান ১২৪ ৫২*
বল করেছে ১১২ ৩০৬৪৫ ১১৩৯৯
উইকেট ৫৯৬ ২৬৪
বোলিং গড় ৬৫.০০ ২৪.৪২ ২৬.৬৫
ইনিংসে ৫ উইকেট ২৩
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৬৫ ৮/৭২ ৫/২৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং –/– ৬৩/– ৫১/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২১ জানুয়ারি ২০২০
ফুটবল খেলোয়াড়ী জীবন
মাঠে অবস্থান ডিফেন্ডার
জ্যেষ্ঠ পর্যায়*
সাল দল ম্যাচ (গোল)
১৯৭২ - ১৯৭৫ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১৬ (০)
১৯৭৫ - ১৯৭৮ হাডার্সফিল্ড টাউন ৬১ (৫)
১৯৭৮ - ১৯৭৯ হলিফ্যাক্স টাউন ২১ (২)
মোট ৯৮ (৭)
* শুধুমাত্র ঘরোয়া লীগে ক্লাবের হয়ে ম্যাচ ও গোলসংখ্যা গণনা করা হয়েছে

আর্নল্ড আর্নি সাইডবটম (ইংরেজি: Arnie Sidebottom; জন্ম: ১ এপ্রিল, ১৯৫৪) বার্নসলের শল্যান্ডস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও ফুটবলার।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৮৫ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন ‘উল্ফার’ কিংবা ‘থানল্ড’ ডাকনামে পরিচিত আর্নি সাইডবটম

ফুটবলে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

বার্নসলের শল্যান্ডস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী আর্নি সাইডবটম পেশাদারী ফুটবলে মধ্য রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিতেন। জানুয়ারি, ১৯৭১ সালে সৌখিন খেলোয়াড় হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলে যোগ দেন। ১৯৭২ সালে পেশাদারী পর্যায়ের দিকে ধাবিত হন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগের খেলায় জিম হল্টনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।[২] ঐ মৌসুমে ইউনাইটেডকে দ্বিতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে সহায়তা করেন। ইউনাইটেডের পক্ষে বিশ খেলায় অংশগ্রহণের পর জানুয়ারি, ১৯৭৬ সালে স্থানান্তরিত হয়ে হাডার্সফিল্ড টাউনের পক্ষে খেলেন।[৩] পরবর্তীতে হ্যালিফ্যাক্স টাউনের পক্ষে খেলেছিলেন তিনি।

২০০৭ সালে দ্য টাইমসের ভোটে শীর্ষ বিভাগের অংশগ্রহণকারী ৫০ জন বাজে ফুটবলারের তালিকায় ৫ম স্থানে অবস্থান করেন।[৪]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট খেলায়ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন আর্নি সাইডবটম। ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত আর্নি সাইডবটমের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ব্রডওয়ে গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ঝরঝরে চুলের অধিকারী আর্নি সাইডবটম অধিক পেস সহযোগে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এছাড়াও নিচেরসারিতে কার্যকরী ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম ছিল তার। একটি প্রথম-শ্রেণীর সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।

১৯৭৩ সালে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে প্রথম খেলেন। তবে, ১৯৮০ সালের পূর্ব-পর্যন্ত কাউন্টি ক্যাপ লাভের অধিকারী হননি। ১৯৮২ সালে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্রোহী দলের সদস্যরূপে গমন করলে কার্যতঃ টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা স্তিমিত হয়ে পড়ে। এরফলে, তিন বছরের জন্যে টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের উপর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন তিনি।[১] এছাড়াও তিনি অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের পক্ষে খেলেছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের অনেক এক টেস্টের বিস্ময়কারীদের অন্যতম ছিলেন। ৩১ বছর বয়সে খেলতে নামেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি তার স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করে এসেছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে বেশকিছু ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ছিল। তবে, ফুটবলার হিসেবে তুলনামূলকভাবে অধিক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন আর্নি সাইডবটম।[৫] ১১ জুলাই, ১৯৮৫ তারিখে নটিংহামে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হবার পর বিস্ময়করভাবে ১৯৮৫ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। খেলায় পায়ে আঘাত পাবার হবার পূর্বে ১/৬৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। বব হল্যান্ডকে আউট করেছিলেন তিনি। নিজের স্বর্ণালী সময়ে অতিবাহিত হবার পরই কেবল তিনি টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।[৬]

অবসর[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ইয়র্কশায়ারের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। এরপর তিনি কোচের ভূমিকায় আসীন হন। অবশেষে, ২০০৩ সালে ইয়র্কশায়ার দল ত্যাগ করেন। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিষদের রোষানলে নিক্ষিপ্ত হন ও ৩০ বছরের সম্পর্কচ্ছেদ ঘটান। পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের উডহাউজ গ্রোভ স্কুলের শিক্ষার্থীদেরকে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলায় প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও, থংসব্রিজ ক্রিকেট ক্লাব ও রায়ান সাইডবটম ক্রিকেট একাডেমির কিশোর ক্রিকেটারদেরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।[৭]

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। তার সন্তান রায়ান সাইডবটম নটিংহ্যামশায়ার ও ইংল্যান্ড দলে খেলেছেন এবং সেপ্টেম্বর, ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ২০১৭ সালে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 146। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. Ponting, Ivan (১৯৯৯)। The Red Army: Four Decades of Player ProfilesLondon: Hamlyn। পৃষ্ঠা 97। আইএসবিএন 0-600-59681-8 
  3. "Player roll call"। stretfordend.co.uk। ২৭ মে ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৬-০৩ 
  4. Murphy, Alex (৪ জুলাই ২০০৭)। "50 worst footballers"। London: The Times। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০১-০৬ 
  5. "Off-side – a cricketing XI that made strides in football"International Cricket Council। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৮ 
  6. Cricinfo - Gene genie
  7. "Ryan Sidebottom Cricket Academy"। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ১৯, ২০১৫ 
  8. "Ryan Sidebottom retires from England international duty"। BBC Sport। ২০ সেপ্টেম্বর ২০১০। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৯-২০ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]