অ্যালেন ওকম্যান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অ্যালেন ওকম্যান
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামঅ্যালেন স্ট্যানলি মাইলস ওকম্যান
জন্ম(১৯৩০-০৪-২০)২০ এপ্রিল ১৯৩০
হ্যাস্টিংস, ইংল্যান্ড[১]
মৃত্যু৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮(২০১৮-০৯-০৬) (৮৮ বছর)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফব্রেক
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৮৩)
১২ জুলাই ১৯৫৬ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট২৬ জুলাই ১৯৫৬ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৪৭-১৯৬৮সাসেক্স
আম্পায়ারিং তথ্য
ওডিআই আম্পায়ার১ (১৯৭২)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৫৩৮ ১৭
রানের সংখ্যা ১৪ ২১৮০০ ৩২০
ব্যাটিং গড় ৭.০০ ২৬.১৭ ২১.৩৩
১০০/৫০ –/– ২২/১০১ ০/২
সর্বোচ্চ রান ১০ ২২৯* ৫৭
বল করেছে ৪৮ ৪৮৪৮১ ১৩৮
উইকেট ৭৩৬
বোলিং গড় ২৭.৬৩ ২৬.৩৩
ইনিংসে ৫ উইকেট ৩১
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৭/৩৯ ২/২৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭/– ৫৯৪/– ৬/–
উৎস: ক্রিকইনফো, ৮ নভেম্বর ২০১৮

অ্যালেন স্ট্যানলি মাইলস ওকম্যান (ইংরেজি: Alan Oakman; জন্ম: ২০ এপ্রিল, ১৯৩০ - মৃত্যু: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮) ইংল্যান্ডের হ্যাস্টিংস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[২] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৬ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফব্রেক বোলিং করতেন অ্যালেন ওকম্যান

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সাসেক্সের পক্ষে দীর্ঘকাল প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ২১ বছরেরও অধিক সময়ে ৫৩৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছেন তিনি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত দুই দশকেরও অধিক সময় সাসেক্সের পক্ষে সাহসী যোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তুলনামূলকভাবে মাঝারিসারির ব্যাটিং গড়ে অবস্থান করতেন। তাসত্ত্বেও নিজ কাউন্টির সর্বকালের সেরা রান সংগ্রাহকদের কাতারে অদ্যাবধি তিনি একাদশ স্থানে অবস্থান করছেন। ৩১বার ইনিংসে পাঁচ-উইকেট পেয়েছেন। ১৯৫৮ সালে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা ৭/৩৯ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছেন। ঐ খেলায় সর্বসাকুল্যে ১০/৫৮ পেয়েছেন।[৩]

নয় মৌসুমে সহস্রাধিক রান পেয়েছেন। ১৯৫৪ সালে ৯৯ উইকেট দখল করেছেন তিনি। সমগ্র খেলোয়াড়ী -জীবনে ২২টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। ১৯৬১ সালে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ২২৯ রান তুলেন। ঐ মৌসুমেই সর্বাধিক ২৩০৭ রান করেন তিনি।[৪]

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটি টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। দুই টেস্টে অংশগ্রহণ করলেও ১৯৫৬ সালের অ্যাশেজ সিরিজে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দল উভয়টিতে জয়লাভ করেছিল। ওল্ড ট্রাফোর্ডে তিনি মাত্র আট ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। অন্যদিকে টনি লক ও জিম লেকার ১৩০ ওভার নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন।[১] ওল্ড ট্রাফোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার উভয় ইনিংসে সর্বমোট পাঁচটি ক্যাচ তালুবন্দী করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।[৫] ওল্ড ট্রাফোর্ডে জিম লেকারের টেস্টে ১৯ উইকেট লাভের মধ্যে তিনি পাঁচটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।[১][৬] ঐ সময়ে জিম লেকার, রে ইলিংওয়ার্থফ্রেড টিটমাসের ন্যায় সফল অফস্পিনারের দাপটের কারণে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়।[১]

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

সাবেক ওয়েলস গার্ডসম্যান ও কাউন্টির সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য অল-রাউন্ডার অ্যালেন ওকম্যান তাঁর অপ্রত্যাশিত উচ্চতাকে ব্যবহার করে অফস্পিনে বাউন্স ছুড়তেন। ব্যাটিং উপযোগী পিচে সম্মুখের দিকে ড্রাইভ মারতেন। কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডিং করার ক্ষেত্রেও সবিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৫৯৪টি ক্যাচ ঝুলিতে পুড়েছেন।

অবসর[সম্পাদনা]

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসরগ্রহণের পর ১৯৭০ সালে ওয়ারউইকশায়ারের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ওয়ারউইকশায়ারের কোচ ছিলেন।[১] ১৯৭২ সালে দলের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এরপর ক্রিকেট প্রশাসনের দিকে চলে যান ও ক্লাবের সহকারী সচিব মনোনীত হন।[১][৫]

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসরগ্রহণের পর একটি একদিনের আন্তর্জাতিকে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।[৭] ১৯৭৩ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন। এজবাস্টন টেস্টে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের তীব্র আপত্তির মুখে আর্থার ফাগ মাঠ ত্যাগ করলে তিনি এ দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

প্রায় সত্তর ছুঁইছুঁই বয়সেও ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন অ্যালেন ওকম্যান। সাসেক্স ক্রিকেট সোসাইটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ওয়ারউইকশায়ারের ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সী দলে খেলেন তিনি।[৫][৮] ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে ৮৮ বছর বয়সে অ্যালেন ওকম্যানের দেহাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনপূর্বক হোভের কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সাসেক্স বনাম লিচেস্টারশায়ারের মধ্যকার খেলায় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।[৫][৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 128। আইএসবিএন 978-1-869833-21-3 
  2. "Former Sussex and England allrounder Alan Oakman dies aged 88"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  3. "The Home of CricketArchive"Cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
  4. "The Home of CricketArchive"Cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
  5. "Former Sussex and England allrounder Alan Oakman dies aged 88"ESPN.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  6. "The Home of CricketArchive"Cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
  7. "Alan Oakman 1930–2018"Sussex County Cricket Club। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  8. "Sussex Cricket Society"Scs.councilcricketsocieties.com। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  9. "Former Sussex cricket star Alan Oakman dies, 88"The Argus (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]