অ্যালার্জি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
অ্যালার্জি
Hives2010.JPG
অ্যালার্জির খুব সাধারণ লক্ষণ হলো হাইভস বা আর্টিকেরিয়া।
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিঃস্থ সম্পদ
বিশিষ্টতা অ্যালার্জি ও ইমিউনোলজি
আইসিডি-১০ T৭৮.৪
আইসিডি-৯-সিএম ৯৯৫.৩
ডিজিসেসডিবি ৩৩৪৮১
মেডলাইনপ্লাস ০০০৮১২
ইমেডিসিন med/1101
মেএসএইচ D০০৬৯৬৭ (ইংরেজি)

অ্যালার্জি (ইংরেজি: Allergy) বলতে পরিবেশে অবস্থিত কতকগুলো বস্তুর প্রতি শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগপ্রতিরোধ তন্ত্রের অতিসংবেদনশীলতার ফলে সৃষ্ট কতকগুলো অবস্থাকে বুঝায় যা অধিকাংশ ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো সমস্যা তৈরি করে না। এই অবস্থাগুলোকে একত্রে অ্যালার্জিক ডিজিজ বা অ্যালার্জি জনিত রোগ বলে।[১] এগুলোর মধ্যে হেই ফিভার, খাদ্য অ্যালার্জি, অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস, অ্যালার্জিক হাঁপানি ও অ্যানাফাইল্যাক্সিস উল্লেখযোগ্য। [২] লক্ষণগুলো হলো চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি, রাইনোরিয়া বা নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া, শ্বাসকষ্ট অথবা ফুলে যাওয়া।[৩] খাবার সহ্য না হওয়া ও খাদ্য বিষক্রিয়া দুটি আলাদা বিষয়।[৪][৫]

খুব সাধারণ অ্যালার্জিকারক বস্তু হলো পরাগ বা পুষ্পরেণু ও কিছু খাবার। ধাতবসহ অন্যান্য বস্তুও সমস্যা তৈরি করতে পারে।[১] খাবার, কীটপতঙ্গের হুল ও ঔষধ তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির জন্য দায়ী। জেনেটিক ও পরিবেশগত কারণে এসকল বিক্রিয়া হয়ে থাকে।[৬] শরীরের ইমিউন তন্ত্রের একটি উপাদান ইমিউনোগ্লোবিউলিন-ই (IgE) এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। এর এক অংশ অ্যালার্জিকারক বস্তুর সাথে এবং অপর অংশ মাস্ট কোষ বা বেসোফিলের রিসেপ্টরের সাথে বন্ধন তৈরি করে, যার ফলে উক্ত কোষসমূহ থেকে প্রদাহ সৃষ্টিকারী কতকগুলো রাসায়নিক পদার্থ বের হয় যেমন হিস্টামিন[৭] রোগনির্ণয় মূলত রোগের ইতিহাসের উপর নির্ভরশীল। মাঝে মাঝে চর্ম ও রক্তের কিছু পরীক্ষাও করা হয়।[৫] কোনো ব্যক্তির কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর প্রতি সংবেদনশীলতা টেস্টের ফলাফল পজিটিভ হলেও ঐ ব্যক্তির যে উক্ত বস্তুর প্রতি তাৎপর্যপূর্ণ অ্যালার্জি রয়েছে তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না।[৮]


অল্পবয়স থেকেই সম্ভাব্য অ্যালার্জিকারক বস্তুর সংস্পর্শে থাকাকে উপকারী মনে করা হয়।[৯] অ্যালার্জির চিকিৎসার মূল দিক হলো যে বস্তুটি অ্যালার্জির জন্য দায়ী তা থেকে দূরে থাকা। কর্টিকোস্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধসমূহ অ্যালার্জি থেকে আরোগ্য লাভের জন্য ব্যবহার করা হয়।[১০] খুব তীব্র প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে অ্যাড্রেনালিন ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়।[১১] এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে অ্যালার্জির চিকিৎসায় অ্যালার্জেন ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার করা হয়।খাদ্য অ্যালার্জির ক্ষেত্রে ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।[১০]

অনেক ব্যক্তিই অ্যালার্জির সমস্যায় ভুগে থাকেন।[১২] উন্নত বিশ্বে প্রায় ২০% ব্যক্তি অ্যালার্জিক রাইনাইটিস অ্যালার্জিজনিত সর্দিতে ভুগছেন। [১৩] প্রায় ৬% ব্যক্তির অন্তত একটি খাদ্যে অ্যালার্জি রয়েছে।[৫] ২০% ক্ষেত্রে অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস হয়।[৯][১৪] দেশভেদে প্রায় ১-১৮% ব্যক্তি অ্যাজমা বা হাঁপানিতে আক্রান্ত। [১৫][১৬] ০.০৫-২% ক্ষেত্রে অ্যানাফাইল্যাক্সিস হয়।[১৭] অ্যালার্জি রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে।[১১][১৮] ১৯০৬ সালে "allergy" শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন Clemens von Pirquet। [৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. McConnell, Thomas H. (২০০৭)। The Nature of Disease: Pathology for the Health Professions। Baltimore, Mar.: Lippincott Williams & Wilkins। পৃষ্ঠা 159। আইএসবিএন 978-0-7817-5317-3 
  2. "Types of Allergic Diseases"NIAID। মে ২৯, ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০১৫ 
  3. "Environmental Allergies: Symptoms"NIAID। এপ্রিল ২২, ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১৫ 
  4. Bahna SL (ডিসে ২০০২)। "Cow's milk allergy versus cow milk intolerance"। Annals of Allergy, Asthma & Immunology89 (6 Suppl 1): 56–60। doi:10.1016/S1081-1206(10)62124-2PMID 12487206 
  5. National Institute of Allergy and Infectious Diseases (জুলাই ২০১২)। "Food Allergy An Overview" (pdf) 
  6. Kay AB (২০০০)। "Overview of 'allergy and allergic diseases: with a view to the future'"। Br. Med. Bull.56 (4): 843–64। doi:10.1258/0007142001903481PMID 11359624 
  7. "How Does an Allergic Response Work?"NIAID। এপ্রিল ২১, ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৫ 
  8. Cox L, Williams B, Sicherer S, Oppenheimer J, Sher L, Hamilton R, Golden D (ডিসেম্বর ২০০৮)। "Pearls and pitfalls of allergy diagnostic testing: report from the American College of Allergy, Asthma and Immunology/American Academy of Allergy, Asthma and Immunology Specific IgE Test Task Force"। Annals of Allergy, Asthma & Immunology101 (6): 580–92। doi:10.1016/S1081-1206(10)60220-7PMID 19119701 
  9. Sicherer, SH.; Sampson, HA. (ফেব্রু ২০১৪)। "Food allergy: Epidemiology, pathogenesis, diagnosis, and treatment"। J Allergy Clin Immunol133 (2): 291–307; quiz 308। doi:10.1016/j.jaci.2013.11.020PMID 24388012 
  10. "Allergen Immunotherapy"। এপ্রিল ২২, ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১৫ 
  11. Simons FE (অক্টোবর ২০০৯)। "Anaphylaxis: Recent advances in assessment and treatment" (PDF)The Journal of Allergy and Clinical Immunology124 (4): 625–36; quiz 637–8। doi:10.1016/j.jaci.2009.08.025PMID 19815109 
  12. "Allergic Diseases"NIAID। মে ২১, ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৫ 
  13. Wheatley, LM; Togias, A (২৯ জানুয়ারি ২০১৫)। "Clinical practice. Allergic rhinitis"। The New England Journal of Medicine372 (5): 456–63। doi:10.1056/NEJMcp1412282PMID 25629743 
  14. Thomsen, SF (২০১৪)। "Atopic dermatitis: natural history, diagnosis, and treatment"। ISRN allergy: 354250। doi:10.1155/2014/354250PMID 25006501 
  15. "Global Strategy for Asthma Management and Prevention: Updated 2015" (PDF)। Global Initiative for Asthma। ২০১৫। পৃষ্ঠা 2। Archived from the original on ১৭ অক্টোবর ২০১৫। 
  16. "Global Strategy for Asthma Management and Prevention" (PDF)। Global Initiative for Asthma। ২০১১। পৃষ্ঠা 2–5। জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  17. Leslie C. Grammer (২০১২)। Patterson's Allergic Diseases (7 সংস্করণ)। আইএসবিএন 978-1-4511-4863-3 
  18. Anandan C, Nurmatov U, van Schayck OC, Sheikh A (ফেব্রুয়ারি ২০১০)। "Is the prevalence of asthma declining? Systematic review of epidemiological studies"। Allergy65 (2): 152–67। doi:10.1111/j.1398-9995.2009.02244.xPMID 19912154 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Allergic conditions টেমপ্লেট:Consequences of external causes টেমপ্লেট:Hypersensitivity and autoimmune diseases