ইঙ্গ-ভারতীয় সম্প্রদায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান থেকে পুনর্নির্দেশিত)
ইঙ্গ-ভারতীয়
যুক্তরাজ্য ভারত
Mother and daughter in India 1920.jpg
ইঙ্গ-ভারতীয় মাতা ও কন্যা, আনু. ১৯২০
মোট জনসংখ্যা
আনু. ১০ - ২০ লক্ষ
উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চলসমূহ
 বাংলাদেশ২,০০,০০০[১]
 ভারত১,২৫,০০০ - ১,৫০,০০০[২]
 যুক্তরাজ্য৮৬,০০০[৩]
 অস্ট্রেলিয়া২২,০০০
 কানাডা২২,০০০
 যুক্তরাষ্ট্র২০,০০০
 মিয়ানমার১৯,২০০
 নিউজিল্যান্ড১৫,৮৬১
 মালয়েশিয়া১০,৩১০
 সিঙ্গাপুর৪,৮০০
 পাকিস্তান১,৫০০ এর কম[৪]
ভাষা
ইংরেজি, কন্নড়, মালায়ালাম, তামিল, বাংলা, তেলুগু, ওড়িয়া, হিন্দি এবং অন্যান্য ভারতীয় ভাষা
ধর্ম
খ্রিস্টধর্ম (প্রোটেস্ট্যান্টবাদ বা ক্যাথলিকবাদ), হিন্দুধর্ম, ধর্মহীনতা, নাস্তিক্যবাদ
সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী
Anglo-Burmese, Scottish-Indians, Irish Indians, Burghers, Kristang people, Indo people, Singaporean Eurasians, Macanese people, Indo-Aryan people, Dravidian people, British people, Indian diaspora

ইঙ্গ-ভারতীয় সম্প্রদায় হলো ঔপনিবেশিক শাসনামলে ভারতীয় সমাজে একটি সম্পূর্ণ পৃথক বৈশিষ্টের বর্গ বা জনগোষ্ঠী। সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে যেসব ইংরেজ বণিক ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ভারতে আসে [৫], ব্রিটেনে ফিরে যাবার পর তাদের অ্যাংলো-ভারতীয় নামে অভিহিত করা হত[৬][৭]। এদেরকে ‘পূর্ব ভারতীয়’ও বলা হতো এবং খুব ধনীদের বলা হতো ‘নবাব’। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘ভারতীয়’ বা পূর্ব ভারতীয়দের গড়ে তোলা শক্তিশালী লবি এবং ব্রিটিশ সমাজে ‘নবাব’দের প্রাধান্যের উল্লেখ দেখা যায় অষ্টাদশ শতকের ইংরেজি সাহিত্যে। কিন্তু ভারতের ইঙ্গ-ভারতীয়রা ছিল সম্পূর্ণ পৃথক বৈশিষ্টের নব্য সামাজিক শ্রেণী। এরা ছিল ব্রিটিশ পিতা ও ভারতীয় মাতার সন্তান। স্থানীয় ভারতীয় এবং ইংরেজরা সংকরজাত এই ইঙ্গ-ভারতীয়দের ‘বর্ণসংকর’ রূপে অবজ্ঞা করত এবং এদের সঙ্গে সকল প্রকার সামাজিক সম্পর্ক পরিহার করত।

ইতিহাসে দেখা যায় যে, স্পেনীয় বা পর্তুগীজ, ব্রিটিশ বা মুঘল সকল বিদেশী শাসনামলে এই বিদেশীরা যে দেশেই বসতি স্থাপন করেছে সেখানে প্রায় অপরিহার্যভাবেই সৃষ্টি করেছে এই মিশ্র ধরনের সম্প্রদায়। বাংলায়ও এর ব্যতিক্রম ঘটে নি। উনিশ শতকের প্রথম দিকের পূর্ব পর্যন্ত ব্রিটিশ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকতা, ব্যবসায়ী ও ভাগ্যাম্বেষী অভিযাত্রিদের খুব কমসংখ্যকই বাংলায় বসবাসের জন্য তাদের পরিবার পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে আসতেন। বাংলায় তাদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার জন্য এদের অনেকের মধ্যেই রক্ষিতা ও দাসী রাখার প্রবণতা দেখা যায়। এদের কিছুসংখ্যক এদেশীয় মহিলাদের বিয়েও করে। উনিশ শতকের শেষের দিকে এদের সন্তান-সন্ততিরা বেশ বড় আকারের একটা সম্প্রদায় গড়ে তোলে। এসব সন্তানদের বিশেষত বৈধ সন্তানদের বড় একটা অংশকে শিক্ষার জন্য ব্রিটেনে পাঠানো হতো। ব্রিটিশ সমাজে তাদের অবনমিত অবস্থার কারণে বাধ্য হয়ে তারা চাকরির সন্ধানে নিজেদের জন্মভূমিতে ফিরে আসে। প্রধানত রেলওয়ে, স্টীমার সার্ভিস, ডাক বিভাগ এবং নিম্নস্তরের সরকারি পদেই এই বর্ণসংকররা বেশিরভাগ চাকরি লাভ করে। পরে তারা পাট ব্যবসাসহ নানা ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক সংস্থায় যোগ দেয়।

বিশ শতকের প্রথম দশকের পূর্বপর্যন্ত এই সংকর সম্প্রদায়ের সামাজিক পরিচয়ের জন্য কোন আইনগত অভিধা ছিল না। তারা বর্ণসংকর, ইঙ্গ-ভারতীয়, ইউরেশীয়, ইন্দো-ব্রিটন, ইত্যাদি নামে পরিচিত হতো। ১৯১১ সালের পূর্বেকার আদমশুমারিতে তাদের ইউরেশীয় হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ইউরেশীয় বলতে কেবল সংকর সম্প্রদায়কেই নয়, ইউরোপীয়, মধ্যএশীয় এবং অন্যান্য এশীয় দেশের নাগরিকদেরও বোঝাত। ১৯১১ সালের আদমশুমারিতে ভারত ও বাংলা সরকার প্রথম সরকারিভাবে ইঙ্গ-ভারতীয় পরিচয়ের উল্লেখ করেন। এই আদমশুমারি অনুসারে ভারতীয় মাতা ও ব্রিটিশ পিতার সন্তান এবং যেকোনো অবস্থায় বাংলায় বসবাসরত সকল ইউরোপীয়কে ইঙ্গ-ভারতীয়রূপে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়।

১৯২১ সালে ইঙ্গ-ভারতীয়রা সংখ্যায় মাত্র ২৫ হাজার হলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই এরা ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী। ২৫০ সদস্যের আইন পরিষদে (১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের আওতায়) ২৫ জন অ্যাংলো-ভারতীয় সদস্যের উপস্থিতি থেকেই এই সম্প্রদায়ের প্রভাব অণুধাবন করা যায়। এমনকি ১৯৩৫ সালের সংবিধানে তাদের জন্য আইনসভার ৪টি আসন সংরক্ষিত ছিল।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Anton Williams, Jake Peterson, Alexsander Stevenova, Jennifer Michealson's New Survey (2016) of Bangladesh Population Research: "There are almost 200,000 Anglo-Indians living in Bangladesh." (The Natives of India) The Comparative Studies about Bangladesh. Retrieved 18 February 2016.
  2. [১]. Early-Nineteenth-Century British-Indian Race Relations in Britain", Comparative Studies of South Asia, Africa and the Middle East 27 (2): 303–314 [305], ডিওআই:10.1215/1089201x-2007-007
  3. Blair Williams, Anglo Indians, CTR Inc. Publishing, 2002, p.189
  4. Fisher, Michael H. (2007), "Excluding and Including "Natives of India": Early-Nineteenth-Century British-Indian Race Relations in Britain", Comparative Studies of South Asia, Africa and the Middle East 27 (2): 303–314 [305], ডিওআই:10.1215/1089201x-2007-007
  5. "Anglo-Indian"Oxford Dictionary Online। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০১-৩০ 
  6. Oxford English Dictionary 2nd Edition (1989)
  7. Anglo-Indian, Dictionary.com.