পুঁজিবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

পুঁজিবাদ বা ধনতন্ত্র (ইংরেজি: Capitalism) বলতে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা বোঝানো হয় যেখানে উৎপাদনের উপকরণসমূহের উপর ব্যাক্তিগত মালিকানা বজায় থাকে এবং মুনাফার ভিত্তিতে উৎপাদক তার উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এই অর্থব্যবস্থায় ক্রেতা বা ভোগকারীর পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে এবং তাদের ইচ্ছা ও রুচি অনুযায়ী উৎপাদন হয়ে থাকে। এটি সমাজতন্ত্রের সম্পূর্ন বিপরীত একটি অর্থব্যাবস্থা।

ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় একটি বিশেষ বৈশিষ্ট হল ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে অবাধ প্রতিযোগীতা। এই অবাধ প্রতিযোগীতার মাধ্যেমে দ্রব্যের দাম নির্ধারন করা হয়। এইধরনের অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন, বন্টন, ভোগ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রনের জন্য আলাদা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কতৃপক্ষ থাকে না। সয়ংক্রিয় একটি মুল্যব্যবস্থার মাধ্যমেই সবকিছু নির্ধারিত হয়।[১]

বৈশিষ্টসমূহ[সম্পাদনা]

  • এই অর্থ ব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে এবং পূঁজি বিনিয়গের মাধ্যমে যে কেউ উদ্দ্যোগতা হতে পারে।
  • এই উৎপাদন ব্যবস্থায় সম্পদের মালিকানার ভিত্তিতে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্মবিত্ত ইত্যাদি শ্রেনীবিভাগ সৃষ্টি হয়।
  • উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইচ্ছাশক্তি দ্বারা নির্ধারিত হয়।
  • উদ্যোক্তার প্রধান লক্ষ্য থাকে সর্বাধিক মুনাফা অর্জন, উৎপাদক বিভিন্ন ভাবে তার পণ্যকে ভোক্তার কাছে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করে।
  • ভোক্তা তার ইচ্ছা, রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী ভোগ করতে পারে, অর্থাৎ ভোক্তার ভোগের ক্ষেত্রে পূর্ন স্বাধীনতা থাকে।
  • উদ্যোক্তা বা উৎপাদকদের মধ্যে নতুন কলাকৌশল, মুনাফা বৃদ্ধি, কম খরচে উৎপাদন ও কম মূল্যে ভোক্তাদের কাছে দ্রব্য সরবরাহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রতিযোগীতা থাকে।
  • এই অর্থব্যবস্থায় দেশের সম্পদের অধিকাংশই সমাজের পুঁজিপতিদের হাতে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। সমাজে আয় ব্যয় বৈষম্য সৃষ্টি হয়। ধনীরা আরও ধনী হতে থাকে এবং দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হতে থাকে।
  • বেশি মুনাফা অর্জনের উদ্দ্যেশ্যে উৎপাদকশ্রেনী শ্রমিকদের শোষন করে, কম মজুরি প্রদান করে, অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে এবং বেশি শ্রম আদায়ের চেষ্টা করে।
  • ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন, বন্টন নিয়ন্ত্রনের কোন কতৃপক্ষ থাকে না।বাজারে কোন দ্রব্যের দাম, চাহিদা ও যোগানের ঘাত-প্রতিঘাত সয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ উচ্চ মাধ্যমিক অর্থনীতি ১ম পত্র, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান