সাম্রাজ্যবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সেসিল রোডেস এবং কেপ-কায়রো রেলপথ প্রকল্প। রোডেস গঠন করেছিলেন দ্য বিয়ারস খনি কোম্পানী, মালিক হয়েছিলেন ব্রিটিশ দক্ষিণ আফ্রিকা কোম্পানী এবং তার নামানুসারেই রোডেশিয়া রাষ্ট্রের নাম দেয়া হয়। তিনি পছন্দ করতেন "ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মানচিত্রকে লাল রঙে আঁকতে" এবং তিনি ঘোষণা করেছিলেন: "all of these stars ... these vast worlds that remain out of reach. If I could, I would annex other planets."[১]

সাম্রাজ্যবাদ হলো পররাজ্যের উপর অধিকার বিস্তারের নীতি।[২] এটিকে প্রায় নঞর্থকভাবে বিবেচনা করা হয়, যেহেতু এতে স্থানীয় জনগণকে শোষণের মাধ্যমে অল্প আয়াসে ধনী হবার উদ্দেশ্য থাকে।

আধুনিককালে এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হয় যে উপনিবেশবাদ হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদের বহিঃপ্রকাশ এবং পরেরটি ছাড়া তার অস্তিত্ব থাকতে পারে না। বিদ্যমান বৈধ উপনিবেশ ছাড়া "অনানুষ্ঠানিক" সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে ঐতিহাসিকদের মধ্যে একটি বিতর্কিত বিষয়।[৩]

শিল্প পুঁজিবাদ থেকে সাম্রাজ্যবাদ[সম্পাদনা]

বিগত উনিশ শতকে পুঁজিবাদ বিকাশলাভ করে এবং দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে;_ অবশেষে সারা দুনিয়া দখল করে ফেলে। পুঁজিবাদের বিকাশের সংগে সংগেই তার যন্ত্রণাকর দ্বন্দ্বগুলো ক্রমশ বেশি করে প্রকট ও তীব্র হয়ে ওঠে। ঐ সময়ে পুঁজিবাদী বিকাশের অগ্রভাগে ছিলো শিল্পপুঁজি। এই জন্য ঐ যুগটাকে বলা হয় শিল্পপুঁজির বা শিল্পপুঁজিবাদের যুগ। শিল্প পুঁজিবাদের মৌলিক দ্বন্দ্বগুলির বৃদ্ধি ও বিকাশের ফলে পুঁজিবাদের বিকাশে এক নতুন পর্যায় দেখা দিলো যার নাম সাম্রাজ্যবাদ। পুঁজিবাদের বিকাশে এক নতুন ও উচ্চতর পর্যায়রূপে বিংশ শতাব্দীর গোড়াতেই সাম্রাজ্যবাদ দেখা দেয়। পুঁজিবাদের সমস্ত মৌলিক দ্বন্দ্বগুলো সাম্রাজ্যবাদে তীব্র হয়ে ওঠে। সাম্রাজ্যবাদ হলও মরণোন্মুখ পুঁজিবাদ। সাম্রাজ্যবাদে পুঁজিবাদী ব্যবস্থাটা সমাজের আরো বিকাশের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।[৪]

লেনিনের অবদান[সম্পাদনা]

ভ্লাদিমির লেনিন তাঁর সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায় গ্রন্থে সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক মর্মার্থ, তার বিরোধসমূহ এবং ধ্বংসের অনিবার্যতা উদ্ঘাটিত করেন এবং এই সিদ্ধান্তে আসেন যে সাম্রাজ্যবাদ হলও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রাককাল। এ রচনাটি মার্কসের পুঁজি গ্রন্থের মূল বক্তব্যগুলোর প্রত্যক্ষ অনুবর্তন ও সৃজনশীল বিকাশ। সাম্রাজ্যবাদের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ তিনি চালিয়ে যান আরো অনেক রচনায়। বিপুল বাস্তব তথ্য আর তাত্ত্বিক মালমসলার সার্বিকীকরণ করে তিনি অতি গুরুত্বপূর্ণ এই বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে আসেন যে সাম্রাজ্যবাদের যুগে পুঁজিবাদের বিকাশ অসমান এবং উল্লম্ফনধর্মী, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বিজয় লাভ করতে পারে প্রথমে অল্প কয়েকটি, এমনকি পৃথক একটি পুঁজিবাদী দেশেও। বিশ্ব বৈপ্লবিক আন্দোলনের কাছে এ সিদ্ধান্তের গুরুত্ব অসাধারণ বিপুল।[৫]

সাম্রাজ্যবাদের যুগ[সম্পাদনা]

সাম্রাজ্যবাদ প্রতিদ্বন্দ্বী একচেটিয়া পুঁজিপতিদের এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্বের তীব্রতা ভয়ংকরভাবে বৃদ্ধি করে এবং এর পরিণতিতেই দেখা দেয় যুদ্ধ। বিংশ শতাব্দীর গোড়াতেই সাম্রাজ্যবাদীরা পৃথিবীকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়ার কাজ সমাপ্ত করেছিল। পৃথিবী অশেষ নয়, আর মানুষ তখনো মহাকাশে পাড়ি জমায়নি। তাই প্রসারের নতুন ক্ষেত্র আর দেখা গেলো না, কাজেই পৃথিবী পুনঃবণ্টনের সংগ্রামের প্রশ্নটিই সামনে এসে দাঁড়াল। নিজেদের মধ্যে দেশ ও বাজার নিয়ে কাড়াকাড়ি ছাড়া বৃহৎ শক্তিগুলোর আর কোনো উপায় থাকল না। তাই দেখা দিলো প্রথমদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সাম্রাজ্যবাদের যুগে বরাবরই কোনো কোনো সাম্রাজ্য চেষ্টা করতে থাকবে অপরকে জব্দ করে নিজেদের সুবিধামতো পৃথিবী নতুনভাবে ভাগ করে নিতে বিশ্বযুদ্ধ বা মহাযুদ্ধ তাই অনিবার্য এবং এ যুদ্ধ হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ। প্রথম মহাযদ্ধে এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে যুদ্ধের এইরূপই দেখা যায়।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. S. Gertrude Millin, Rhodes, London: 1933, p.138.
  2. শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক অভিধান; ঢাকা; ডিসেম্বর, ২০০০; ৩য় সংস্করণ পৃষ্ঠা-১১৪৬
  3. Barbara Bush (2006)। Imperialism And Postcolonialism। Pearson Longman। পৃ: 46। আইএসবিএন 978-0-582-50583-4। সংগৃহীত 28 September 2012 
  4. এ. লিয়েনতিয়েভ, মার্কসীয় অর্থনীতি, ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড, সেপ্টেম্বর, ২০১৪, পৃষ্ঠা-১৬৮।
  5. ভ. বুজুয়েভ ও ভ. গরোদনভ, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, ১৯৮৮, পৃষ্ঠা-৪৮-৪৯।
  6. পার্থ ঘোষ, মার্কসবাদের কথা প্রসঙ্গে, বোধি, ঢাকা, ২০০৮, পৃষ্ঠা-৭৪-৭৫।

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

প্রাথমিক উৎসসমূহ[সম্পাদনা]

বহিসংযোগ[সম্পাদনা]