জটিল সংখ্যা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নিবন্ধ সহায়িকা: পরিভাষা তালিকাবিদেশী নামের তালিকা
একটি জটিল সংখ্যাকে দুইটি বাস্তব সংখ্যার একটা ক্রমজোড় হিসেবে দেখা যেতে পারে যেটা আসলে আরগ্যান্ড সমতলে একটা ভেক্টর নির্দেশ করে। এখানে (a,b) ভেক্টরটি জটিল সংখ্যা a+ib কে নির্দেশ করছে

গণিতে জটিল সংখ্যা (ইংরেজি: Complex number)-কে বাস্তব সংখ্যার একটি গাণিতিক সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। কাল্পনিক একক i\, কে বাস্তব সংখ্যাসমূহের সাথে যুক্ত করে জটিল সংখ্যা পাওয়া যায়। i\,-কে নিচের সমীকরণের সাহায্যে সংজ্ঞায়িত করা হয়[১]:

i^2 = -1\,

প্রতিটা জটিল সংখ্যাকেই a+ib \, আকারে লেখা যায়, যেখানে a এবং b বাস্তব সংখ্যা। a ও b-কে যথাক্রমে জটিল সংখ্যার বাস্তব অংশ এবং কাল্পনিক অংশ বলা হয়।

জটিল সংখ্যাগুলি একটি ফিল্ড তৈরি করে। এই কারণে এদের উপর যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ---এই চারটি দ্বিমিক অপারেশন প্রয়োগ করা সম্ভব। এই জটিল সংখ্যার অপারেশনগুলি বাস্তব সংখ্যার অপারেশনগুলিরই সম্প্রসারিত রূপ। তবে জটিল সংখ্যার উপর প্রয়োগ করার সময় এসব অপারেশনের আরো কিছু সুন্দর এবং কার্যকর বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন, কিছু জটিল (কাল্পনিক) সংখ্যাকে বর্গ করে ঋণাত্বক বাস্তব সংখ্যা পাওয়া সম্ভব।

ইতালীয় গণিতিবিদ জিরোলামো কার্দানো ত্রিঘাত সমীকরণ সমাধান করতে গিয়ে প্রথম জটিল সংখ্যা আবিষ্কার করেন[২]। তিনি এগুলিকে "কাল্পনিক" অভিধা দিয়েছিলেন। সাধারণ ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান প্রক্রিয়ায় অনেক মধ্যবর্তী হিসেবের সময় এমন কিছু পদ চলে আসে যেগুলোতে ঋণাত্মক সংখ্যার বর্গমূল থাকে, এমনকি যখন মূল সমাধানে শুধু বাস্তব সংখ্যা থাকে তখনও। এই পর্যবেক্ষণ থেকেই বীজগণিতের মৌলিক উপপাদ্যের সৃষ্টি। এই উপপাদ্য অনুসারে জটিল সংখ্যার সাহায্যে এক বা একের বেশী মাত্রার যে কোন বহুপদী সমীকরণের সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।

জটিল সংখ্যার যোগ, বিয়োগ, গুণ এবং ভাগের নিয়ম প্রথমে তৈরি করেন ইতালীয় গণিতবিদ রাফায়েল বোমবেল্লি। আইরিশ গণিতবিদ উইলিয়াম রোয়ান হ্যামিলটন জটিল সংখ্যার আরো বিমূর্ত একটি বিধিবদ্ধ রূপ দেন। তিনি জটিল সংখ্যার তত্ত্বকে চতুষ্টির তত্ত্বে উন্নীত করেন।

তড়িৎচৌম্বকত্ব, কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান, ফলিত গণিত, বিশৃঙ্খলা তত্ত্ব ছাড়াও প্রকৌশলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিল সংখ্যার প্রচুর ব্যবহার রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নাম থেকেও বোঝা যায় যে সেখানে এগুলিতে অন্তর্নিহিত গাণিতিক সংগঠন হিসেবে জটিল সংখ্যার ব্যবহার রয়েছে। যেমন, জটিল বিশ্লেষণ, জটিল মেট্রিক্স, জটিল বহুপদী এবং জটিল লি বীজগণিত

পরিচ্ছেদসমূহ

সংজ্ঞা[সম্পাদনা]

প্রতীক পদ্ধতি[সম্পাদনা]

একটি জটিল সংখ্যাকে সাধারণত a+ib\, আকারে প্রকাশ করা হয়, যেখানে a এবং b হচ্ছে বাস্তব সংখ্যা এবং i\, হচ্ছে কাল্পনিক একক, যেটি i^2 = -1 সূত্রটি মেনে চলে। বাস্তব সংখ্যা a কে বলা হয় জটিল সংখ্যাটির বাস্তব অংশ এবং বাস্তব সংখ্যা b কে বলা হয় জটিল সংখ্যাটির কাল্পনিক অংশ।

যেমন, 3+2i একটা জটিল সংখ্যা, যার বাস্তব অংশ 3 এবং কাল্পনিক অংশ 2। যদি z = a + ib হয় তখন বাস্তব অংশ a কে প্রকাশ করা হয় Re(z) বা ℜ(z) এবং কাল্পনিক অংশ b কে প্রকাশ করা হয় Im(z) or ℑ(z) দ্বারা।

জটিল সংখ্যার সার্বিক সেটকে C বা \mathbb{C} প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। বাস্তব সংখ্যার সেট R কে বলা যেতে পারে জটিল সংখ্যার সেট C এর একটা উপসেট যেখানে বাস্তব সংখ্যাগুলি হল সেইসব জটিল সংখ্যা যাদের কাল্পনিক অংশ শূন্য। অর্থাৎ, বাস্তব সংখ্যা a কে a+0i হিসেবে ভাবা যেতে পারে। যেসব জটিল সংখ্যার বাস্তব অংশ শূন্য তাদেরকে বলা হয় কাল্পনিক সংখ্যা, এবং 0+bi এর বদলে তাদেরকে শুধুমাত্র bi দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এখন যদিa=0 এবং b = 1 হয় তখন 0+1i বা 1i লেখার বদলে সংখ্যাটিকে শুধু i\, লেখা হয়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে (বিশেষ করে, তড়িৎ প্রকৌশলের বিভিন্ন অনুষদে যেখানে i\, দ্বারা বর্তনীর বিদ্যুৎ প্রবাহ নির্দেশ করা হয়), কাল্পনিক একককে i\, এর বদলে j\, দ্বারা প্রকাশ করা হয়। তাই জটিল সংখ্যাকে কখনো কখনো a+bj\, আকারে লিখতে দেখা যায়।

ডোমেইন কালারিং পদ্ধতিতে
ƒ(x) =(x2 − 1)(x − 2 − i)2/(x2 + 2 + 2i) ফাংশনটির প্লট। যেখানে রঙ দ্বারা ফাংশনের আর্গুমেন্ট এবং ছায়ার ঘনত্ব দ্বারা ফাংশনের মান বোঝানো হয়েছে

সমতা[সম্পাদনা]

দুইটি জটিল সংখ্যাকে পরস্পরের সমান বলা হয় যদি এবং কেবল যদি তাদের বাস্তব অংশ এবং কাল্পনিক অংশ পরস্পর সমান হয়। অন্যভাবে বললে, দুইটি জটিল সংখ্যা a+ib এবং c+id পরস্পরের সমান হবে যদি এবং কেবল যদি a = c এবং b = d হয়।

অপারেশন[সম্পাদনা]

বাস্তব সংখ্যার ক্রোমজোড় হিসাবে[সম্পাদনা]

জটিল সংখ্যাকে বাস্তব সংখ্যার একটি ক্রোমজোড় (x,y) হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে, যেখানে সংখ্যাটি হচ্ছে জটিল সমতলে একটি বিন্দু, যেখানে x এবং y হচ্ছে স্থানাংকের অক্ষ। ঠিক যেমন বাস্তব সংখ্যাগুলিকে সংখ্যা রেখার উপর একটি বিন্দু হিসেবে প্রকাশ করা হয়। জটিল সংখ্যার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় জটিল সমতল বা জেড প্লেন। এক্ষেত্রে x-অক্ষ বরাবর বাস্তব অংশ এবং y-অক্ষ বরাবর সংখ্যাটির অবাস্তব বা কাল্পনিক অংশ ধরা হয়। এখান থেকে সহজেই দেখা যায় (x,0) আকারের প্রতিটি জটিল সংখ্যাই আসলে জটিল সমতলে x-অক্ষ বরাবর একেকটা বিন্দু, যারা কিনা নিজেরা একই সাথে একেকটা বাস্তব সংখ্যা। এভাবে জটিল সমতলের x-অক্ষ বরাবর ধনাত্বক এবং ঋণাত্বক দিকে যেতে থাকলে আমরা R এর প্রতিটি সংখ্যা অর্থাৎ প্রত্যেকটা বাস্তব সংখ্যাকেই খুজে পাব। তার মানে আমরা এই x-অক্ষ কে আমাদের পরিচিত সংখ্যা রেখা হিসেবে ভাবতে পারি।

অতএব, দেখা যাচ্ছে সংখ্যা রেখার প্রতিটি বিন্দুই আসলে জটিল সমতলের অন্তর্ভুক্ত। এখান থেকে সহজেই দেখা যায় যে \mathbb{R}\sub \mathbb{C}

যদি (x,y) ক্রোমজোড় টিকে আমরা z নাম দেই তাহলে লেখা হয়।

z = (x,y)\,

যেখানে

\Re(z) = x এবং \Im(z) = y

দুইটি জটিল সংখ্যা z_1= (x_1,y_1) এবং z_2= (x_2,y_2) সমান হবে যদি তারা জটিল সমতলে একই বিন্দু নির্দেশ করে। অর্থাৎ (x_1,y_1) = (x_2,y_2) হয়।

তাদের যোগ ফল z_1 + z_2 এবং গুন ফল z_1z_2 কে সংজ্ঞায়িত করা হয় যথাক্রমে:

(x_1 , y_1) + (x_2 , y_2) = (x_1 + x_2 ,  y_1+y_2)\,
(x_1 , y_1)(x_2 , y_2) = (x_1x_2 - y_1y_2 ,  y_1x_2 + x_1y_2)\,

দ্বারা। লক্ষনীয় যে এখানে বর্ণিত এই দুইটি অপারেশন হচ্ছে জটিল সংখ্যার সেটের উপর ক্রিয়াশীল দুইটি মৌলিক অপারেশন যারা বাস্তব সংখ্যার আনুসাঙ্গিক অপারেশন থেকে উৎসরিত। অর্থাৎ অপারেশনগুলো কে কোন ভাবে প্রতিপাদন করা হয়নি। শুধু মাত্র স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।

যদি আমাদের আলচ্য জটিল সংখ্যা দুইটির কাল্পনিক অংশ শুন্য হয় তাহলে এই অপারেশন দুইটি বাস্তব সংখ্যার অপারেশনে পরিণত হয়। অর্থাৎ  (x_1,0) এবং  (x_2,0) এর জন্য।

(x_1 , 0) + (x_2 ,0) = (x_1 + x_2 , 0)\,
(x_1 , 0)(x_2 ,0) = (x_1x_2 , 0)\,

অর্থাৎ, জটিল সংখ্যা পদ্ধতি আসলে আসলে বাস্তব সংখ্যা পদ্ধতির একটা ‘নেচারাল এক্সটেনশন’ বা ‘প্রাকৃতিক প্রবৃদ্ধি’

যে কোন জটিল সংখ্যা z = (x , y)কে একটু আগে বর্ণিত যোগের নিয়ম অনুসারে লেখা যেতে পারে z = (x,0) + (0,y)\, এবং পূর্বেবর্ণিত গুনন এর নিয়ম অনুযায়ী একটু হিসাব করলেই আমরা পেতে পারি (0 , 1)( y , 0) = (0 , y)\,। অর্থাৎ,

z = (x,0)+(0,1)(y,0)\,

এখন আমরা যদি বাস্তব সংখ্যা x কে জটিল সমতলে ( x , 0 ) আকারে কল্পনা করি তাহলে দেখি যে এই সমীকরণে (y,0) আসলে একটা বাস্তব সংখ্যা যেটি (0,1) এর সাথে গুন হয়ে z এর অবাস্তব অংশ (0,y) তৈরি করছে। অর্থাৎ এই (0,1) ই হল সেই কাল্পনিক একক যাকে আমরা এখন থেকে i\, দ্বারা প্রকাশ করব। এখন (x,0) আকারের রাশি সমুহ কে শুধু x আকারে লিখলে আমরা পাই:

z = x+iy\,

যা আমাদের পরিচিত জটিল সংখ্যার আকার!

এখন আমরা লক্ষ্য করি যে,

i^2 = (0,1)(0,1) = ( 0*0-1*1,1*0+0*1 ) = (-1,0) = -1   \,

অর্থাৎ i^2 = -1\, যেখান থেকে আমাদের পরিচিত i = \sqrt{-1}\, এই ফর্মুলাটার সৃষ্টি। যদিও বর্গমূল অপারেশন টি ঋণাত্বক সংখ্যার উপর ধনাত্বক সংখ্যার মত করে সংজ্ঞায়িত নয়। এই নোটেশনাল অ্যাবিউজ এর জন্য আমাদের প্রায়ই কিছু ভুল উপসংহারে পৌছাতে হয়। [৩]

বীজগাণিতিক ভিত্তিতে[সম্পাদনা]

জটিল সংখ্যার যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ---এই সব অপারেশনই বীজগণিতের সহযোগী বিধি, বিনিময় বিধি, এবং বন্টন বিধি মেনে চলে এবং সেই সাথে i^2 = -1\, এই সমীকরণটি মেনে চলে।

  • যোগ: \,(a + bi) + (c + di) = (a + c) + (b + d)i
  • বিয়োগ: \,(a + bi) - (c + di) = (a - c) + (b - d)i
  • গুণ: \,(a + bi) (c + di) = ac + bci + adi + bd i^2 = (ac - bd) + (bc + ad)i
  • ভাগ: \,\frac{(a + bi)}{(c + di)} = \left({ac + bd \over c^2 + d^2}\right) + \left( {bc - ad \over c^2 + d^2} \right)i\,,

যেখানে c এবং d এর অন্তত একটি শূন্য নয়।

জটিল সংখ্যার ফিল্ড[সম্পাদনা]

একটি ফিল্ড হচ্ছে একটি বীজগাণিতিক সংগঠন যার যোগ, বিয়োগ, গুণ, এবং ভাগের অপারেশনগুলি কিছু নির্দিষ্ট বীজগাণিতিক নিয়ম মেনে চলে। জটিল সংখ্যাগুলি একটা ফিল্ড গঠন করে যাকে C দ্বারা প্রকাশ করা হয়। নির্দিষ্ট করে বললে, জটিল সংখ্যাগুলির জন্য:

  • যোগাত্মক অভেদ ("শূন্য"), 0 + 0i;
  • গুণাত্মক অভেদ ("এক"), 1 + 0i;
  • যোগাত্মক বিপরীত, যেমন- a + bi এর যোগাত্মক বিপরীত −a − bi;
  • প্রতিটি অশূন্য জটিল সংখ্যার ক্ষেত্রে একটি গুণাত্মক বিপরীত যেমন- a + bi-এর গুণাত্মক বিপরীত {a\over a^2+b^2}+ \left( {-b\over a^2+b^2}\right)i. রয়েছে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় সংখ্যাটি অনোন্যক এর সমতুল্য।

অন্যান্য ফিল্ডের মধ্যে আছে বাস্তব সংখ্যা এবং মূলদ সংখ্যাগুলি। যখন প্রতিটি বাস্তব সংখ্যা a কে জটিল সংখ্যা a + 0i আকারে প্রকাশ করা হয় তখন বাস্তব সংখ্যার ফিল্ড R জটিল সংখ্যার ফিল্ড  C -এর একটি উপফিল্ড গঠন করে।

জটিল সংখ্যার সার্বিক সেট C-কে বীজগাণিতিক সংখ্যাসমূহের টপোগাণিতিক আবদ্ধতা হিসেবে অথবা R এর বীজগাণিতিক আবদ্ধতা হিসেবে দেখানো যেতে পারে। নিচে উভয়েরই বর্ণনা দেওয়া হল।

জটিল সমতল[সম্পাদনা]

জটিল সমতলেz এবং এর কনজুগেট \bar{z} এর জ্যামিতিক প্রকাশ।

জটিল সংখ্যা z কে দেখা যেতে পারে একটি দ্বিমাত্রিক কার্টেসিয়ান কো-অর্ডিনেট সিস্টেমের উপর একটি অবস্থান ভেক্টর হিসেবে। এই দ্বিমাত্রিক কার্টেসিয়ান কো-অর্ডিনেট সিস্টেম কে বলা হয় জটিল সমতল বা কম্পলেক্স প্লেন অথবা জেন-রবার্ট আরগ্যান্ড এর নামানুসারে আরগ্যান্ড সমতল (see Pedoe 1988 and Solomentsev 2001) ।একটা জটিল সংখ্যা z কে তাই কার্টেসিয়ান কো-অর্ডিনেটে একটা বিন্দু হিসেবে ভাবা যায়. কার্টেসিয়ান কো-অর্ডিনেটে জটিল সংখ্যাটির x = Re(z) হচ্ছে x অক্ষ এবং একই ভাবে y = Im(z) হচ্ছে y অক্ষ। একটি জটিল সংখ্যাকে এভাবে কার্টেসিয়ান আকারে প্রকাশ করা কে বলা হয় সংখ্যাটির কার্টেসিয়ান ফর্ম বা রেক্টাঙ্গুলার ফর্ম বা অ্যালজেব্রিক ফর্ম

পরম মান, অনুবন্ধী এবং দূরত্ব[সম্পাদনা]

একটি জটিল সংখ্যা z=x+yi এর পরম মান (বা মডুলাস বা মান) হিসাব করা হয় |z|=\sqrt{x^2+y^2} দ্বারা।

পরম মানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল:

 | z | \geq 0, \, যেখানে  | z | = 0 \, হবে যদি এবং কেবল যদি  z = 0 \, হয়।
 | z + w | \leq | z | + | w | \, (ট্রায়াঙ্গুলার ইনইকুয়ালিটি)
 | z \cdot w | = | z | \cdot | w | \,

এখানে z এবং w যেকোন জটিল সংখ্যা। এখান থেকে আমরা পাই |1|=1 এবং |z/w|=|z|/|w|. আমরা যদি জটিল সমতলে দূরত্ব কে এভাবে সংজ্ঞায়িত করি যে d(z,w)=|z-w|, তাহলে জটিল সংখ্যার সেটটা একটা মেট্রিক স্পেস এ পরিণত হয় এবং তখন আমরা লিমিট বা সীমা এবং কন্টিনিউয়িসিটি কে সংজ্ঞায়িত করতে পারি।

একটি জটিল সংখ্যা z=x+yi এর অনুবন্ধী জটিল হচ্ছে x-yi\,, যেটাকে \bar{z} বা z^*\, দ্বারা প্রকাশ করা হয়। চিত্র হতে আমরা দেখি \bar{z} হচ্ছে x অক্ষের সাপেক্ষে z রিফ্লেকশন বা প্রতিবিম্ব তাইz+\bar{z} এবং z\cdot\bar{z} উভয়ই বাস্তব সংখ্যা। জটিল সংখ্যা এবং তাদের অনুবন্ধী নিয়ে বেশ কিছু মজার অভেদ বা সূত্র আছে।

\overline{z+w} = \bar{z} + \bar{w}
\overline{z\cdot w} = \bar{z}\cdot\bar{w}
\overline{(z/w)} = \bar{z}/\bar{w}
\bar{\bar{z}}=z
\bar{z}=z   যদি এবং কেবল যদি z বাস্তব হয়
\bar{z}=-z   যদি এবং কেবল যদি z শুধু মাত্র কাল্পনিক হয় অর্থাৎ z এর বাস্তব অংশ শুন্য হয়।
\operatorname{Re}\,z = \tfrac{1}{2}(z+\bar{z})
\operatorname{Im}\,z = \tfrac{1}{2i}(z-\bar{z})
|z|=|\bar{z}|
|z|^2 = z\cdot\bar{z}
z^{-1} = \frac{\bar{z}}{|z|^{2}}   যদি z অশুন্য হয়.

শেষের সূত্রটি বিশেষ ভাবে ব্যবহৃত হয় যখন z কে কার্টেসিয়ান কো-অর্ডিনেটে দেওয়া থাকে।

জটিল সংখ্যার অপারেশন সমুহের জ্যামিতিক ব্যাখ্যা[সম্পাদনা]

X = A + B
X = AB
X = A*

জটিল সংখ্যার যোগ, গুণ এবং অনুবন্ধীকরণ অপারেশন গুলো সাধারণ জ্যামিতিক ব্যাখ্যা মেনে চলে।

  • জটিল সমতলে দুইটি বিন্দু A এবং B এর যোগফল X = A + B এমন যেন ত্রিভুজ 0, A, B, এবং ত্রিভুজ X, B, A, সর্বসম
  • দুইটি বিন্দু A এবং B এর গুনফল X = AB হচ্ছে এমন একটা বিন্দু যেন ত্রিভুজ 0, 1, A, এবং ত্রিভুজ 0, B, X,পরস্পর সদৃশ
  • একটি বিন্দু A এর অনুবন্ধী জটিল X = A* হচ্ছে এমন একটা বিন্দু যেন ত্রিভুজ 0, 1, A, এবং ত্রিভুজ 0, 1, X, x- অক্ষের সাপেক্ষে পরস্পরের প্রতিবিম্ব

এই জ্যামিতিক ইন্টারপ্রিটেশন এর সাহায্যে জ্যামিতিক সমস্যা কে অ্যালজেব্রিক(এখানে অ্যালজেব্রা শব্দটি প্রচলিত বীজগণিত থেকে একটু আলাদা) সমস্যায় পরিবর্তন করা যায় এবং একই ভাবে অ্যালজেব্রিক সমস্যাকে জ্যামিতিক সমস্যায় হিসেবে দেখা এবং সমাধান করা যায়। যেমন, একটা একটা সম ১৭-ভুজ তৈরির জ্যামিতিক সমস্যা কে অ্যালজেব্রিক্যালি x17 = 1 এই সমীকরণের সাহায্যে বিশ্লেষণ করা সম্ভব। যেখানে সমীকরণের সমাধান গুলো সেই ১৭-ভুজের শীর্ষ বিন্দুগুলো কে প্রতিনিধিত্ব করে।

পোলার ফর্ম[সম্পাদনা]

z = x+iy, এর কার্টেসিয়ান রিপ্রেজেন্টেশন কে পোলার ফর্মেও প্রকাশ করা হয়।. z এর আনুসাঙ্গীক পোলার কো-অর্ডিনেট দুটি হচ্ছে r =  |z| ≥ 0, যেটাকে বলা হয় পরম মান বা মডুলাস এবং φ = arg(z), যেটাকে বলা হয় z এর আর্গুমেন্ট অথবা অ্যাঙ্গেল. যদি r = 0 হয় তখন φ এর যেকোন মানের জন্যই z একই বিন্দু নির্দেশ করে। এক্ষেত্রে একটা অনন্য প্রকাশ (ইউনিক রিপ্রেজেন্টেশন) পাওয়ার জন্য arg(0) = 0। ধরা হয়। যদি r > 0 হয় তখন আর্গুমেন্ট φ মডুলো 2π; ইউনিক হয়। অর্থাৎ, যদি যে কোন দুইটি কম্পলেক্স নাম্বারের আর্গুমেন্ট এর পার্থক্য 2π এর গুনিতক হয় তখন তাদেরকে ইকুইভ্যালেন্ট বা সমতুল ধরা হয়। ইউনিক রিপ্রেজেন্টেশন পাওয়ার জন্য φ এর ভ্যালুকে অনেক সময় (-π,π], অর্থাৎ,. −π < φ ≤ π. ইন্টারভেলে আবদ্ধ করা হয়। তখন এই আর্গুমেন্ট কে প্রিন্সিপাল আর্গুমেন্ট বলে। এভাবে কোন জটিল সংখ্যাকে তার পোলার কো-অর্ডিনেটে প্রকাশ করলে তাকে বলা হয় পোলার ফর্ম

পোলার ফর্ম থেকে কার্টেসিয়ান ফর্মে রূপান্তর[সম্পাদনা]

x = r \cos \varphi
y = r \sin \varphi

কার্টেসিয়ান ফর্ম থেকে পোলার ফর্মে রূপান্তর[সম্পাদনা]

r = \sqrt{x^2+y^2}
\varphi = \arg(z) = \operatorname{atan2}(y,x)

(দেখুন আর্গ ফাংশন এবং atan2.)

এই ফর্মুলা থেকে প্রাপ্ত φ এর মান (−π, +π] রেঞ্জে আবদ্ধ। যেখানে y এর ঋণাত্মক মানের জন্য φ ও ঋণাত্মক। যদি শুধু মাত্র [0, 2π) রেঞ্জের ধনাত্মক সংখ্যা প্রয়োজন হয়। তখন সূত্র থেকে প্রাপ্ত φ এই এর মানের সাথে 2π যোগ করে নিতে হবে।

পোলার ফর্মের নোটেশন[সম্পাদনা]

পোলার ফর্মকে সাধারণত প্রকাশ করা হয়

 z = r\,(\cos \varphi + i\sin \varphi )\,

আকারে। এটাকে বলা হয় ত্রিকোনমিতিক ফর্ম, কখনো কখনোcis φ দ্বারা cos φ + i sin φ. বোঝানো হয় তখন লেখা হয় z = r cis φ অয়লার’স ফর্মুলা বা অয়লারের সূত্র ব্যবহার করে জটিল সংখ্যার আরেকটা সুন্দর রিপ্রেজেন্টেশন হচ্ছে

 z = r\,\mathrm{e}^{i \varphi}\,

যেটাকে বলা হয় এক্সপনেনশিয়াল ফর্ম

পোলার ফর্মে গুন, ভাগ, ঘাত এবং মূল নির্ণয়[সম্পাদনা]

কার্টেসিয়ান ফর্মের চেয়ে পোলার ফর্মে এই অপারেশন সমূহ অনেক বেশী সহজ। ত্রিকোণমিতির সূত্র সমূহ ব্যবহার করে দেখানো যায় যেঃ

r_1\,e^{i\varphi_1} \cdot r_2\,e^{i\varphi_2} 
= r_1\,r_2\,e^{i(\varphi_1 + \varphi_2)} \,

এবং

\frac{r_1\,e^{i\varphi_1}}{r_2\,e^{i\varphi_2}}
 = \frac{r_1}{r_2}\,e^{i (\varphi_1 - \varphi_2)}. \,

পূর্ণ সংখ্যার ঘাতের জন্য দ্য ময়ভারের সূত্র অনুসারে আমরা পাই,

 (\cos\varphi + i\sin\varphi)^n = \cos(n\varphi) + i\sin(n\varphi),\,

যেখান থেকে পাওয়া যায়,

 (r(\cos\varphi + i\sin\varphi))^n = (r\,e^{i\varphi})^n = r^n\,e^{in\varphi} = r^n\,(\cos n\varphi + \mathrm{i} \sin n \varphi).\,

দুইটি জটিল সংখ্যার যোগ কোন ভেক্টর স্পেসে দুইটি ভেক্টরের যোগের মতই। আর দুইটি জটিল সংখ্যার গুন কে দেখা যেতে পারে একই সাথে প্রয়োগ করা একটা রোটেশন বা ঘুর্ণন এবং স্ট্রেচিং বা বিবর্ধনের মত।

i দিয়ে গুন করা কে দেখা যেতে পারে ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে একটা 90 ডিগ্রি (π/2 রেডিয়ান) ঘুর্ণন হিসাবে। তাই জ্যামিতিক ভাবে দেখলে i 2 =  −1 সমীকরণের অর্থ হল দুইটা 90 ডিগ্রি রোটেশন অর্থাৎ একটা 180 ডিগ্রি (π রেডিয়ান) রোটেশন. এমনকি এই হিসাবে (−1) • (−1) = +1 কে জ্যামিতিক ভাবে দেখা যেতে পারে দুইটা 180 ডিগ্রি ঘুর্ণন হিসাবে।

যদি c একটি জটিল সংখ্যা হয় এবং n যদি একটা ধনাত্মক পূর্ণ সংখ্যা হয় তখন কোন জটিল সংখ্যা z যদি zn = c এই সমীকরণ সিদ্ধ করে তাহলে z কে বলা হয় c এর n-তম মূল। যদি c ননজিরো বা অশুন্য হয় তাহলে তার ঠিক n টি ভিন্ন ভিন্ন n-তম মূল থাকবে। এই n-তম মূল গুলো কে পাওয়া যাবে যদি আমরা c কে লিখি c=re^{i\varphi} হিসাবে যেখানে r > 0 and φ, হচ্ছে বাস্তব সংখ্যা তখন c এর n-তম মূলসমুহের সেট হচ্ছে

\{ \sqrt[n]r\,e^{i(\frac{\varphi+2k\pi}{n})} \mid k\in\{0,1,\ldots,n-1\} \, \},

যেখানে \sqrt[n]{r} দ্বারা বাস্তব সংখ্যা r এর প্রচলিত n-তম ধনাত্মক মূল কে বোঝানো হয়। যদি c = 0, হয় তখন c এর n-তম মূল হয় শুধু মাত্র 0। যেখানে n-তম মূল হিসাবে এই 0 এর মাল্টিপ্লিসিটি  n ধরা হয়।

জটিল সংখ্যা সংক্রান্ত প্রচলিত ধারণা এবং অসচ্ছতা[সম্পাদনা]

জটিল সংখ্যা কতটা জটিল/বাস্তব/অবাস্তব/কাল্পনিক?[সম্পাদনা]

জটিল সংখ্যার সেট কে সংজ্ঞায়িত করা যায় এভাবে।

\mathbb{C} = \{ a + bi |\; a,\;b,\; \in \mathbb{R} \}

এখান থেকে আমরা সহজেই দেখি যে \mathbb{R}\sub \mathbb{C} যখন b=0. ঐতিহাসিক ভাবে দেখলে জটিল সংখ্যার থিওরী ডেভেলপ করেছে বাস্তব সংখ্যার বেশ পরে। আমরা আগেই দেখেছি x^2=-1 এই ধরণের সমীকরনের সমাধান করতে গিয়ে এই জটিল বা কাল্পনিক সংখ্যার উৎপত্তি। যেখানে একটি সমাধান হিসেবে x=i কে ধরা হয় যেন i^2=-1 হয়। এই i হল আমাদের পরিচিত কাল্পনিক একক যার সাহায্যে গণিতের থিওরী সমুহ বাস্তব সংখ্যার সেট থেকে জটিল সংখ্যার সেটে উন্নীত হয়।

অসচ্ছতার সূচনা[সম্পাদনা]

জটিল সংখ্যা সম্পর্কে প্রথম অসচ্ছতার সূচনা হয় এর নামকরণ থেকে। ইংরেজি বা বাংলা, সব ভাষায় এই সংখ্যার পরিভাষা হচ্ছে ‘কম্পলেক্স’, ‘ইমাজিনারি’, ‘অবাস্তব’, ‘কাল্পনিক’ এবং সর্বোপরি ‘জটিল’ সংখ্যা। নাম শুনেই শিক্ষার্থীদের মনে সন্দেহপ্রবনতার সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।

একজন শিক্ষার্থী যখন প্রথম যোগ বা বিয়োগ শেখে তখন পরিচিত হয় ধনাত্বক পূর্ণ সংখ্যার সাথে। তখনও পর্্যন্ত সে জানে যে ছোট সংখ্যা থেকে বড় সংখ্যা বিয়োগ করা সম্ভব নয়। তার সামনে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয় একটি ব্যাগে বলের সংখ্যার, বা একছড়া কলায় কলার সংখ্যা।

এরপর যখন সে পাটীগণিত শেখে তখন পরিচিত হয় ভগ্নাংশের সাথে। তখন সে এই ভগ্নাংশ বা দশমিক সংখ্যা কে কল্পনা করতে পারে অতিক্রান্ত দূরত্ব বা অন্যান্য উদাহরণ দিয়ে। যেমন, হয়তো একজন লোক ১ ১/২ কিমি. দূরত্ব অতিক্রম করেছে।

এর পর বীজগণিত শেখার সময় যখন তার প্রথম পরিচয় হয় ঋণাত্বক সংখ্যার সাথে। এই সংখ্যাকে সে প্রথমে একটু সন্দেহ প্রবন দৃষ্টিতে দেখে। কারণে এই সংখ্যার বাস্তব উদারণ সৃষ্টি করা সহজ সাধ্য নয়। তার পরে একক সময় সে হয়ত এটা বুঝতে সেখে ঋণ এর ধারণা থেকে। যেমন, আমার কাছে কেউ 5 টাকা পায় সেসময় আমার কাছে আর কোন টাকা না থাকার অর্থ হল ওই মুহুর্তে আমি -5 টাকার মালিক।

কিন্তু এরপর যখন উচ্চতর গণিত শিখতে গিয়ে সে যখন পরিচিত হয় জটিল সংখ্যার সাথে তখন তার পক্ষে এরকম বাস্তব উদাহরন খুজে বের করা মুশকিল হয়ে যায়। কিছু বহুপদীর মূল এর সাহায্যে উদারণ দেওয়া হলেও সেগুলো সন্তোষ জনক মনে হয়না। উপরন্তু সংখ্যাটির নাম ‘জটিল সংখ্যা’ যার আবার একটা ‘কাল্পনিক’ অথবা ‘অবাস্তব’ অংশ আছে। নামকরণ থেকে প্রাপ্ত এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের জন্য তার পক্ষে জটিল সংখ্যাকে একটা সংখ্যা হিসেবে ‘ইমেজ’ বা কল্পনা করা কঠিন (বেশীর ভাগ সময়ই অসম্ভব) হয়ে যায়।

তাহলে জটিল সংখ্যা কি?[সম্পাদনা]

আসলে সকল সংখ্যাই কাল্পনিক!! আমাদের অতিপরিতিত সংখ্যা 1,2,3,... -1 বা \sqrt{3} এরা সবই আমাদের মনের কল্পনা [৪]! এসব সংখ্যাকে আমরা কল্পনা করে নিয়েছি আমাদের বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য। এবং পর্যবেক্ষনের সাহায্যে নিশ্চিত হয়েছি যে আদর্শ অবস্থায় আমাদের গাণিতিক সমাধান গুলো ব্যবহারিক সমস্যার সমাধান হিসেবেও কাজ করে। এবিষয়ে মনে করা যেতে পারে যে, সব ধরণের গণিতের সূচনাই হয় কিছু ‘স্বীকার্যের’ উপর ভিত্তি করে। যে স্বীকার্য গুলো আমরা প্রমান ছাড়াই মেনে নিই(আসলে প্রমান সম্ভব নয়)। শুধু এই ‘পর্যবেক্ষন’ থেকে যে তারা বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকরী এবং স্ববিরধী নয়।

আমাদের পরিচিত বাস্তব সংখ্যা গুলিকে যেমন আমরা ব্যবহার করি বীজগণিত/পাটীগণিত এর সাহায্যে আমাদের বাস্তব জগৎ এর সমস্যা সমাধান এর জন্য। তেমনি আমরা জটিল সংখ্যাকেও ব্যবহার করি কোয়ান্টাম মেকানিক্স, কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান(দুইটি সম্পর্কিত কিন্তু আলাদা বিষয়) ,কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রো ডাইনামিক্স ছাড়াও উচ্চতর গণিত বা বিজ্ঞানের এমন হাজার ফিল্ডে। যেখানে গাণিতিক সমীকরন বা রাশি গুলো আমাদের বাস্তব জগৎ এর বিভিন্য ঘটনা, পরিমাপ, এবং রাশিমালা নির্দেশ করে।

আসলে বীজগণিত শেখার শুরুতে একজন শিক্ষার্থী যেমন প্রশ্ন করে, "(a+b)^2 = a^2+2ab+b^2 \, এই সমীকরণের বাস্তব অর্থ কি? a এর সাথে b কে যোগ করে কি লাভ? a বা b কি কোন সংখ্যা হতে পারে?” তেমনই জটিল সংখ্যা নাম শুনে এবং z=a+ib আর i^2=-1 এধরণের (তখন পর্যন্ত তার গাণিতিক ধারণা অনুযায়ি) প্রথা বিরুদ্ধ সমীকরণ দেখে এবং এদের নাম “জটিল”, “অবাস্তব” এসব দেখে সে নিজেও এটাকে “অবাস্তব” ভাবতে শুরু করে। জটিল সংখ্যা শিক্ষার প্রাথমিক বাধা এটাই[৪]। অতএব, জটিল সংখ্যা ঠিক ততটাই জটিল বা কাল্পনিক বা বাস্তব যতটা জটিল বা কাল্পনিক বা বাস্তব অন্য আর সব সংখ্যা। তাই জটিল সংখ্যা, কাল্পনিক অংশ এসব নাম কে শাব্দিক অর্থে না নিয়ে জটিল সংখ্যা সম্পর্কে যে সঠিক চিত্রটা আমরা পেতে পারি তা হল।

জটিল সংখ্যাও আরেক ধরণের সংখ্যা, যেটা আর সব সংখ্যার মতই, শুধু তাদের হিসাবের নিয়ম একটু আলাদা। অনেক গুরুত্বপূর্ন ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের জন্য জটিল সংখ্যা অপরিহার্য

অর্থাৎ, জটিল সংখ্যা অবাস্তব সংখ্যা নয়(আক্ষরিক অর্থে)

একটি প্রচলিত বিভ্রান্তি[সম্পাদনা]

আমরা যখন জটিল সংখ্যার কাল্পনিক একক i\, কে i=\sqrt{-1}\, হিসাবে দেখি তখন সহজেই একটা সমীকরণে পৌছতে পারি।

-1 = i^2 = i*i=\sqrt{-1}*\sqrt{-1} = \sqrt{(-1)(-1)} = \sqrt{1}=1\,

এই সমীকরণ ও শিক্ষার্থীদের কাছে জটিল সংখ্যাকে জটিল বা অবাস্তব মনে হবার আরেকটা কারণ। কিন্তু এর ব্যাখ্যা হচ্ছে। \sqrt{ab} অপারেশন টি শুধু মাত্র তখনই ডিস্ট্রিবিউটিভ যখন a এবং b ধনাত্বক বাস্তব সংখ্যা। তাই \sqrt{-1}*\sqrt{-1} = \sqrt{(-1)(-1)} সমীকরণটি অশুদ্ধ। এই ভুল থেকে বাঁচার জন্য গাউস কর্তৃক প্রস্তাবিত পন্থা হচ্ছে। বর্গমূল এর মধ্যে ঋনাত্মক সংখ্যা এসে গেলেই প্রথমেই সেটাকে \sqrt{-a}=i\sqrt{a}\, আকারে লিখে নেওয়া যাতে পরবর্তীতে বর্গমূল চিহ্নের মধ্যে ঋনাত্মক চিহ্নের কোন অপারেশন না হয়।

প্রয়োগ[সম্পাদনা]

"বাস্তব" এবং "কাল্পনিক" শব্দ দুটি অর্থবহ ছিল যখন জটিল সংখ্যাকে শুধু বাস্তব সংখ্যা সংক্রান্ত হিসাবে সাহায্যকারী ধারণা হিসাবে ব্যবহার করা হত। যেখানে শুধু "বাস্তব অংশ" আক্ষরিক অর্থে "বাস্তব জগৎ"-এর প্রতিনিধত্ব করত। পরবর্তীকালে, বিশেষ করে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের আবিষ্কারের পরে দেখা যায় যে বাস্তব সংখ্যার প্রতি প্রকৃতির কোন অতিরিক্ত প্রীতি নেই। বরং অনেক "বাস্তব" ঘটনাই গাণিতিকভাবে বর্ণনার সময় জটিল সংখ্যা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে। ফলে জটিল সংখ্যার সেই "কাল্পনিক অংশ" "বাস্তব অংশের" মতই ভৌত বাস্তবতা নিয়ে হাজির হয়।

নিয়ন্ত্রণ তত্ত্ব[সম্পাদনা]

নিয়ন্ত্রণ তত্ত্বে প্রায়ই ভৌত ব্যবস্থাকে লাপ্লাস রূপান্তরের মাধ্যমে সময় ডোমেইন থেকে ফ্রিকোএন্সি ডোমেন-এ নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর সেই ব্যবস্থার পোল এবং জিরো কে জটিল সমতলে বিশ্লেষণ করা হয়। রুট লোকাস, নাইকুইস্ট প্লট এবং নিকোল প্লট এইসব বিশ্লেষণী পদ্ধতিতে জটিল সমতলকে ব্যবহার করা হয়।

যেমন, রুট লোকাস পদ্ধতিতে পোল এবং জিরো সমুহ জটিল সমতলের বাম অর্ধতল নাকি ডান অর্ধতলে অবস্থিত তা বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ( অর্থাৎ, রুট এর বাস্তব অংশ শুন্য অপেক্ষা বড় নাকি ছোট)। যদি কোন সিস্টেমের পোল সমুহ,

কোন সিস্টেমের জিরো যদি ডান অর্ধতলে থাকে তাহলে সিস্টেমটি ননমিনিমাম ফেজ সিস্টেম।

সিগন্যাল বিশ্লেষণ[সম্পাদনা]

সিগন্যাল বিশ্লেষণ এবং অন্য আরো কিছু ক্ষেত্রে জটিলসংখ্যাকে পর্যায়বৃত্ত ভাবে পরিবর্তনশীল সিগন্যাল এর গাণিতিক প্রকাশে ব্যবহার করা হয়। সাইন এবং কোসাইন দ্বারা প্রকাশিত কোন বাস্তব ফাংশন যার প্রকাশে জটিল ফাংশন ব্যবহৃত হয় এবং সেখানে জটিল ফাংশনের বাস্তব অংশ সেই সিস্টেমের ভৌত পরিমাপ সমূহ প্রকাশ করে। যেমন নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের একটা সাইন তরঙ্গের জটিল প্রকাশে পরম মান |z| দ্বারা বিস্তার এবং আর্গুমেন্ট arg(z) দ্বারা ফেজ বা দশা নির্দেশিত হয়। যেখানে z হচ্ছে সেই সাইন তরঙ্গের জটিল সংখ্যায় প্রকাশিত রূপ।

ফুরিয়ার বিশ্লেষণে সময় কোন সিগন্যালকে (যেটা বাস্তব সংখ্যার একটি ফাংশন আকারে প্রকাশিত) অনেক গুলো পর্যায়বৃত্ত ফাংশনের সমষ্টি আকারে প্রকাশ করতে জটিল সংখ্যার ফাংশন ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে ব্যবহৃ পর্যায়বৃত্ত ফাংশনগুলি এই,

 f ( t ) = z e^{i\omega t} \,

আকারের। ω দ্বারা কৌনিক গতি বোঝানো হয় এবং জটিল সংখ্যা z, পূর্বে বর্ণিত পদ্ধতিতে একই সাথে বিস্তার এবং দশা উভয়কেই ধারণ করে।

তড়িৎ প্রকৌশলে পরিবর্তনশীল বিভব এবং তড়িৎ প্রবাহের বিশ্লেষণে ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ব্যবহৃত হয়। রোধ, ধারক এবং আবেশক কে জটিল সংখ্যার সাহায্যে কম্পাঙ্কনির্ভর একটা একীভূত রাশিতে প্রকাশ করা হয়। যাকে আমরা বলি ইম্পিডেন্স. (যেহেতু i দ্বারা পরিবর্তি প্রবাহ প্রকাশ করে সেহেতু তড়িৎ প্রকৌশলি এবং পদার্থ বিজ্ঞানীগন অনেক সময় কাল্পনিক একক i কে j লিখে প্রকাশ করে থাকে)। ইম্পিডেন্সের সাহায্যে পরিবর্তী প্রবাহ এবং বিভবের বিশ্লেষণে ব্যবহৃত এই গাণিতিক প্রকৃয়াকে বলা হয় ফেজর ক্যালকুল্যাস। এই পদ্ধতিকে সম্প্রসারিত করে ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং এবং ডিজিটাল ইমেজ প্রসেসিং এ প্রয়োগ করা হয়। যেখানে সিগন্যাল ট্রান্সমিট, কম্প্রেস এবং পুনরুদ্ধারে ফুরিয়ার বিশ্লেষন এবং ওয়েভলেট বিশ্লেষন ব্যবহৃত হয়।

ইমপ্রোপ্রার ইন্টিগ্রাল[সম্পাদনা]

ফলিত গণিতে অনেক বাস্তব সংখ্যার ফাংশনের ইম্প্রোপার ইন্টিগ্রাল বের করার জন্য জটিল সংখ্যার ফাংশন ব্যবহৃত হয়। এধরনে বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। (দেখুন কন্টুর ইন্টিগ্রেশন)

কোয়ান্টাম মেকানিক্স[সম্পাদনা]

জটিল সংখ্যার ফিল্ড কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের গাণিতিক সূত্রায়নের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। যেখানে সাধারণত জটিল সংখ্যা ভিত্তিক হিলবার্ট স্পেস কে অন্তর্নীহিত গাণিতিক সংগঠন হিসাবে ব্যবহার করা হয়। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মূল ভিত্তি- তথা শ্রডিনজার সমীকরণ এবং হাইজেনবার্গের মেট্রিক্স মেকানিক্স- জটিল সংখ্যার সাহায্যে গঠিত।

আপেক্ষিকতা[সম্পাদনা]

বিশেষ আপেক্ষিকতা এবং সাধারণ আপেক্ষিকতাতে স্পেসটাইম বা স্থান-কালএর মেট্রিক সংক্রান্ত কিছু সমীকরণ অনেক সরল হয়ে যায় যদি সময় কে কাল্পনিক সংখ্যার চলক হিসাবে প্রকাশ করা হয় (ক্লাসিক্যাল রিলেটিভিটিতে এধরণের ব্যবহার তেমন না থকলেও কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরীতে এটা অত্যাবশ্যক)। আপেক্ষিকতায় ব্যহৃত স্পিনর (সেটা টেন্সর এর একটা সাধারণীকৃত রূপ) এর জন্যেও জটিল সংখ্যা অত্যাবশ্যক।

ফলিত গণিত[সম্পাদনা]

ডিফারেন্সিয়াল ইকুয়েশনের সমাধানের সময় সাধারণত, প্রথমে ক্যারেক্ট্যারিস্টিক ইকুয়েশনের জটিল মূল গুলো নির্ণয় এবং এর পরে পুরো সিস্টেম কে f(t) = ert আকারের বেস ফাংশনের সাপেক্ষে সমাধান করা হয়।

ফ্লুইড ডাইনামিক্স[সম্পাদনা]

ফ্লুইড ডাইনামিক্সে জটিল সংখ্যার ফাংশন দ্বারা দিমাত্রিক পটেনশিয়াল ফ্লো প্রকাশ করা হয়।

ফ্র্যাক্টাল[সম্পাদনা]

কিছু কিছু ফ্র্যাক্টাল জটিল সমতলে প্লট করা হয়। যেমন, ম্যান্ডেলব্রট সেট এবং জুলিয়া সেট ইত্যাদি।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. K. D. Joshi, Foundations of Discrete Mathematics, 1989, Wiley, p. 398 ISBN 0-470-21152-0
  2. Burton, David (1995)। "7"। The History of Mathematics (3rd সংস্করণ)। New York: McGraw-Hill। পৃ: 294। আইএসবিএন 0-07-009465-9 
  3. Ruel. V. Churchill & J. W. Brown, 'COMPLEX VERIABLES and APPLICATIONS, 2004, Mc Graw Hill, p. 1 ISBN 0-07-123365-2
  4. ৪.০ ৪.১ John B. Fraleigh, A First Course In Abstract Algebra, 2003 , Pearson Education p. 26 ISBN 81-7758-900-8

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

গাণিতিক তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

A gentle introduction to the history of complex numbers and the beginnings of complex analysis.
  • H.-D. Ebbinghaus, H. Hermes, F. Hirzebruch, M. Koecher, K. Mainzer, J. Neukirch, A. Prestel, R. Remmert (1991), Numbers (hardcover সংস্করণ), Springer, আইএসবিএন 0-387-97497-0  লেখা "Numbers" উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
An advanced perspective on the historical development of the concept of number.

আরো তথ্যের জন্য দেখুন[সম্পাদনা]

  • The Road to Reality: A Complete Guide to the Laws of the Universe, by Roger Penrose; Alfred A. Knopf, 2005; ISBN 0-679-45443-8. Chapters 4-7 in particular deal extensively (and enthusiastically) with complex numbers.
  • Unknown Quantity: A Real and Imaginary History of Algebra, by John Derbyshire; Joseph Henry Press; ISBN 0-309-09657-X (hardcover 2006). A very readable history with emphasis on solving polynomial equations and the structures of modern algebra.
  • Visual Complex Analysis, by Tristan Needham; Clarendon Press; ISBN 0-19-853447-7 (hardcover, 1997). History of complex numbers and complex analysis with compelling and useful visual interpretations.

পরিভাষা[সম্পাদনা]

(পড়বার সূত্র: English term (বাংলা লিপিতে ইংরেজি শব্দের ধ্বনিভিত্তিক উচ্চারণ) - বাংলা পরিভাষা)

  • Mathematical expansion (ম্যাথাম্যাটিক্‌ল্‌ ইক্‌স্‌প্যান্‌শ্‌ন্‌) - গাণিতিক সম্প্রসারণ
  • Binary operation (বাইনারি অপারেইশ্‌ন্‌) - দ্বিমিক প্রক্রিয়া
  • Theory of Quarternion (থিআরি অভ় কোঅর্‌টার্‌নাইঅন্‌) - চতুষ্টির তত্ত্ব
  • Associative rule (আসৌশেটিভ্‌ রুল্‌, মার্কিনী উচ্চারণ আসৌশিয়েইটিভ্‌ রুল্‌) - সহযোগী বিধি
  • Commutative rule (কমিউটেটিভ রুল্‌) - বিনিমেয় বিধি
  • Distributive rule (ডিস্‌ট্রিবিউটিভ্‌ রুল্‌) - বণ্টন বিধি
  • Algebraic structure (অ্যাল্‌জিব্‌রেইক্‌ স্ট্রাক্‌চার্‌) - বীজগাণিতিক সংগঠন
  • Additive identity (অ্যাডিটিভ্‌ আইডেন্‌টাটি) - যোগাত্মক অভেদ
  • Multiplicative identity (মাল্‌টিপ্লিকাটিভ্‌ আইডেন্‌টাটি) - গুণাত্মক অভেদ
  • Additive inverse (অ্যাডিটিভ্‌ ইন্‌ভার্স্‌) - যোগাত্মক বিপরীত
  • Multiplicative inverse (মাল্‌টিপ্লিকাটিভ্‌ ইন্‌ভার্স্‌) - গুণাত্মক বিপরীত
  • Field (ফীল্‌ড্‌) - ফিল্ড
  • Subfield (সাব্‌ফীল্‌ড্‌) - উপফিল্ড
  • Algerbraic number (অ্যাল্‌জিব্‌রেইক্‌ নাম্‌বার্‌) - বীজগাণিতিক সংখ্যা
  • Topological closure (টপোলজিক্‌ল্‌ ক্লৌঝ়ার্‌) - টপোগাণিতিক আবদ্ধতা
  • Algebraic closure (অ্যাল্‌জিব্‌রেইক্‌ ক্লৌঝ়ার্‌) - বীজগাণিতিক আবদ্ধতা

বহিঃসংযোগ সমূহ[সম্পাদনা]