কবিতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাংলা সাহিত্য

Charyapada.jpg
BankimChandra.jpg Tagore3.jpg Nazrul.jpg
Begum Rokeya.jpg Mir mosharraf hossain.jpg Sharat Chandra Chatterji.jpg
Upendrokishor-ray.gif Jibanananda Das.jpg Suakanta Bhattacharya.jpg
Shamsur Rahman.jpg Sunil Gangopadhyay taken by Ragib.jpg Mahasvetadevi.jpg
চর্যাপদ পুথি
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম
বেগম রোকেয়া, মীর মশাররফ হোসেন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী জীবনানন্দ দাশ সুকান্ত ভট্টাচার্য
শামসুর রাহমান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, মহাশ্বেতা দেবী
বাংলা সাহিত্য
(বিষয়শ্রেণী তালিকা)
বাংলা ভাষা
সাহিত্যের ইতিহাস
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
বাঙালি সাহিত্যিকদের তালিকা
কালানুক্রমিক তালিকা - বর্ণানুক্রমিক তালিকা
বাঙালি সাহিত্যিক
লেখক - ঔপন্যাসিক - কবি
সাহিত্যধারা
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয়
চর্যাপদ - মঙ্গলকাব্য - বৈষ্ণব পদাবলিসাহিত্য - নাথসাহিত্য - অনুবাদ সাহিত্য -ইসলামি সাহিত্য - শাক্তপদাবলি - বাউল গান
আধুনিক সাহিত্য
উপন্যাস - কবিতা - নাটক - ছোটোগল্প - প্রবন্ধ - শিশুসাহিত্য - কল্পবিজ্ঞান
প্রতিষ্ঠান ও পুরস্কার
ভাষা শিক্ষায়ন
সাহিত্য পুরস্কার
সম্পর্কিত প্রবেশদ্বার
সাহিত্য প্রবেশদ্বার
বঙ্গ প্রবেশদ্বার
চীনা কবিতা "স্বর্গীয় পর্বতের চতুর্পদী কবিতা" সং রাজবংশের সম্রাট গাওজং এর লেখা।

কবিতা সাহিত্যের একটি প্রধান শাখা; আরেকটি প্রধান শাখা হলো গদ্য। কবিতা সম্ভবত সাহিত্যের আদিমতম শাখা। কবি হৃদয়-নিহিত ভাবের ছন্দোবদ্ধ ও শিল্পিত প্রকাশ কবিতা বলে পরিচিত। বলা হয়েছে কবিতা হল ধ্বনি সুষমার সাথে ভাবের সমন্বিত প্রকাশ। বলা হয়েছে: কবিতা হলো যথাস্থানে যথা শব্দ যা প্রতিস্থাপনীয় নয়।

সূচিপত্র

[সম্পাদনা] কবিতার জন্ম

এইরূপ প্রসিদ্ধি আছে যে, আদি কবি বাল্মীকির ক্রৌঞ্চমিথুন-বিয়োগ-জনিত শোকই শ্লোকরূপে উৎসারিত হইয়াছিল। সহচারী-বিয়োগকাতর ক্রৌঞ্চের বেদনায় কবি চিত্তে বেদনার সঞ্চার হয়। এই বেদনা থেকেই সহসা 'পরিপূর্ণ বাণীর সঙ্গীত' জন্মগ্রহণ করিয়া অপূর্ব ছন্দে কবি-কণ্ঠে উচ্চারিত হইল[১] -

মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতী সমাঃ।

যৎক্রৌঞ্চমিথুনাদেকমবধীঃ কামমোহিতম্‌।।

[সম্পাদনা] সংজ্ঞার্থ নির্ধারণ

অপরিহার্য শব্দের অবশ্যম্ভাবী বাণী-বিন্যাসকে কবিতা বলে। এখানে শব্দ ভাব-কল্পনা ও অর্থ-ব্যঞ্জনার বাহন। মহাকবি কালিদাস বলেন, বাগার্থাবিব সম্পৃক্তো-শব্দই জ্ঞানের একমাত্র প্রকাশক। অসংখ্য শব্দ যখন কবির লেখনী-মুখে ভিড় করিয়া আসে, তন্মধ্যে একটিমাত্র যথাযথ শব্দই কবিতায় ব্যবহার উপযোগী অপরিহার্য শব্দ; এ জাতীয় শব্দ লেখকের কল্পনা বা অনুভূতি-স্নিগ্ধ অন্তর হইতে স্বতঃ-উৎসারিত বলিয়া ভাব প্রকাশের পক্ষে এটি একান্ত উপযোগী। অবশ্যম্ভাবী বাণী-বিন্যাস বলতে বুঝা যায় যে, অযত্ন-বিন্যস্ত শব্দে কবিতা হয় না। এখানেই কবিতায় ছন্দের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করতে হয়। অপরিহার্য শব্দ যথাযথভাবে বিন্যস্ত হলেই তাদের মধ্যে চিত্রগুণ ও প্রবাহের সৃষ্টি হয়। শব্দসমূহ তখন রসাত্মক বাক্যে সমর্পিত হয়ে অবশ্যম্ভাবী ছন্দোময় রূপ লাভ করে।

সুতরাং, দেখা যায়, মানব মনের ভাবনা-কল্পনা যখন অনুভূতি-রঞ্জিত যথাবিহিত শব্দসম্ভারে বাস্তব সুষমা-মন্ডিত চিত্রাত্মক ও ছন্দোময় রূপ লাভ করে, তখনই এর নাম কবিতা[১]

[সম্পাদনা] কবিতার উদ্দেশ্য

এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: কাব্য

কবিতা নিরাভরণা নয়। নারী যেমন আকার-ইঙ্গিতে, সাজসজ্জায়, বিলাসে-প্রসাধনে আপনাকে মনোরমা করে তোলেন, কবিতাও তেমনি শব্দে, সঙ্গীতে, উপমায়, চিত্রে ও অনুভূতির নিবিড়তায় নিজেকে প্রকাশিত করে। নীতিপ্রচার শিক্ষাদান বা রাজনীতি বা সমাজনীতি প্রচার কাব্যের উদ্দেশ্য নয়। জীবনের সুখ-দুঃখ, পাপ-পূণ্য, ধর্ম্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ প্রভৃতি যে কোন বিষয়ই কাব্যের উপাদান বা অঙ্গ হিসেবে গৃহীত হতে পারে - কিন্তু এগুলো যেন কাব্যাত্মার দেহ মাত্র। শ্রেষ্ঠ কাব্য পাঠে পাঠক জীবনের যে কোন জিজ্ঞাসা-সামাজিক, আর্থিক নৈতিক-সম্বন্ধে গৌণভাবে অবহিত হতে পারেন। কিন্তু, সৎকাব্য কখনও সাক্ষাৎভাবে কোন সমস্যা সমাধান করতে বসে না। এ সম্বন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র উত্তরচরিত আলোচনা প্রসঙ্গে যা বলেন, তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য -

কাব্যের উদ্দেশ্য নীতিজ্ঞান নহে। - কবিরা জগতের শিক্ষাদাতা - কিন্তু নীতি ব্যাখ্যার দ্বারা তাহারা শিক্ষা দেন না। তাহারা সৌন্দর্য্যের চরমোৎকর্ষ সৃজনের দ্বারা জগতের চিত্তশুদ্ধি বিধান করেন।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, কাব্যের উদ্দেশ্য জগৎ ও জীবনের রহস্যকে সুন্দর করে, রসস্নিগ্ধ করে উপস্থাপিত করা। এজন্য কবির কাছে সৌন্দর্য্যই পরম সত্যরূপে পরিগণিত এবং যা কল্পনায় তিনি সত্য বলে প্রত্যক্ষ করেন, তাই সুন্দর। এই সৌন্দর্য্য-সৃষ্টিই কাব্যের উদ্দেশ্য।[১]

[সম্পাদনা] বৈশিষ্ট্যাবলী

একটি উত্তম বা আদর্শ কবিতায় সাধারণত নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যাবলী লক্ষ্যণীয়ঃ-

  • কবিতায় আমরা সাধারণতঃ বাহ্য-জগৎ ও মানব জীবনের কাহিনী এবং ভাব-কল্পনা সুন্দর ও মনোরম করে পাই। সংসার-ধুলিজাল কল্পনার কোমল স্পর্শে কবিতার রাজ্যে আরও মধুর, আরও সুন্দর হয়ে উঠে।
  • কবিতা ভাবকে রূপে পরিবর্তন করে। ভাব থেকে রূপে অবিরাম যাওয়া-আসার তত্ত্বই কবিতায় প্রকাশিত। যা অদেহী, অ-রূপ, সূক্ষ্ম বা ইন্দ্রিয়াতীত, কবি তাকে দেহ, রূপ ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মূর্ত্তি দান করেন।
  • কবিতার চিরন্তন আবেদন আমাদের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য্যবোধের নিকট। এটি ভাব-সঞ্চারী বলে আমাদের মনে বিচিত্র রস উদ্দীপন করে। কিন্তু সর্বত্রই এটি সৌন্দর্য্য-বোধের পরিপোষক। কবির এই সৌন্দর্য্যবোধের সত্যতার সাথে দার্শনিক বা বৈজ্ঞানিক সত্যের বিভিন্নতা আছে। বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক বিচারের দ্বারা যে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন, তা অসুন্দর হইলেও সত্য। কিন্তু, কবি কল্পনা যে-সত্য আবিষ্কার করেন, তা সুন্দর হবেই।
  • কবিতার একটি বিশেষত্ব এর ছন্দ। এ সম্বন্ধে অনেকে বলেন যে, ছন্দ কবিতার পক্ষে অপরিহার্য্য নয়। তারা এজন্যে ছন্দোহীন রচনাকেও কবিতা বা কাব্য নামে আখ্যাত করতে চান। ওয়ার্ডসওর্থ বলেছিলেন যে, কবিতা ও গদ্যের ভাষায় বিশেষ কোন পার্থক্য নাই।[২]

[সম্পাদনা] প্রকারভেদ

কবিতা প্রধানতঃ দুই প্রকার। যথাঃ- (ক) সাবজেক্টিভ বা মন্ময় কবিতা এবং (খ) অবজেক্টিভ বা তন্ময় কবিতা।

  • কবি যখন নিজের আন্তর অনুভূতি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ভাবনা চিন্তা বা বহির্গত অনুভূতি তাঁর কাব্যের সামগ্রী মাত্ররূপে গ্রহণ করে আত্ম-প্রকাশ করেন, তখন আমরা তাঁর সৃষ্টিকে মন্ময় বা ব্যক্তিনিষ্ঠ কবিতা বলি। এ জাতীয় কবিতা এক হিসেবে কবির আত্ম-চরিত বা আত্ম-বাণী। মন্ময় কবিতায় কবির ব্যক্তি-অনুভূতির নিবিড়তাই প্রধান।
  • কবি যখন বস্তুজগতকে যথাযথরূপে প্রকাশ করেন, তখন আমরা তাকে তন্ময় বা বস্তু-নিষ্ঠ কবিতা নামে অভিহিত করতে পারি। তন্ময় কবিতায় বস্তু-সত্তাই প্রধান।

এ শ্রেণী-বিভাগ বিশেষ প্রয়োজনীয় হলেও মনে রাখতে হবে যে, সম্পূর্ণরূপে তন্ময় বা সম্পূর্ণরূপে মন্ময় কবিতা অসম্ভব। একান্ত বস্তু-নিষ্ঠ কবিতায়ও মাঝে মাঝে কবি-প্রাণের শিহরণ সঞ্চারিত হয়ে থাকতে পারে এবং একান্ত ব্যক্তি-নিষ্ঠ কবিতায়ও মাঝে মাঝে বস্তু-সত্তার প্রাধান্য পরিলক্ষিত হতে পারে।[১] নিম্নে কবিতার শ্রেণীবিভাগ ছক আকারে দেখানো হলোঃ-

[সম্পাদনা] পদ্য

মানুষের যে কোন ভাব, ভাবনা, পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি ছন্দোবদ্ধ আকারে প্রকাশই পদ্য।

[সম্পাদনা] কবিতার ছন্দ

ছন্দ কবিতার প্রাণস্বরূপ। বাংলা কবিতায় তিন প্রকার ছন্দ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এগুলো হলো - স্বরবৃত্ত ছন্দ, মাত্রাবৃত্ত ছন্দ এবং অক্ষরবৃত্ত ছন্দ। অক্ষরবৃত্ত পয়ার নামেও অভিহিত।।

[সম্পাদনা] অমিত্রাক্ষর ছন্দ

যে ছন্দে চরণদ্বয়ের অন্ত্যবর্ণের মিল থাকে না, তাকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ বলে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তাঁর প্রণীত মেঘনাদ বধ কাব্য অমিত্রাক্ষর ছন্দে লিখিত।

[সম্পাদনা] আধুনিক কবিতা

বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে আধুনিক বাংলা কবিতার সূচনা হয়। এর পূর্ববর্তী কবিতা সাধারণভাবে পদ্য হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু এটিই বাংলা কবিতায় আধুনিকতার একমাত্র লক্ষণ নয়।

[সম্পাদনা] বাংলা কবিতা

কবিতা বাংলা ভাষায় সাহিত্যের আদিমতম রূপ। চর্যাপদ বাংলা কবিতার আদিমতম রূপের নিদর্শন।

[সম্পাদনা] বিভিন্নপ্রকার কবিতা

কাঠামোর বিবেচনায় কবিতা নানাপ্রকার হয়ে থাকে।

[সম্পাদনা] চতুর্দশপদী

এটি ইতালীয় উৎসের চৌদ্দ পংক্তিবিশিষ্ট একটি কবিতা যা সনেট (ইংরেজি: Sonnet) নামে পরিচিত। ঊনিশ শতাব্দীতে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম বাংলায় সনেট লেখেন এবং এর নাম দেন চতুর্দশপদী। এর কাঠামো আঁটো-সাটো, পংক্তি সংখ্যা ১৪ এবং চরণান্তক অন্তঃমিলের ধারা ভিন্ন হতে পারে।

[সম্পাদনা] রুবাই

এটি আরবীয় অঞ্চলের চার পংক্তির একটি কবিতা। ওমর খৈয়াম তাঁর রুবাই-এর জন্য বিখ্যাত।

[সম্পাদনা] সিজো

এটি সীমিত দৈর্ঘ্যের কোরীয় কবিতা। সাধারণত ৪ পংক্তিতে লেখা হয়।

[সম্পাদনা] হাইকু

এটি সীমিত দৈর্ঘ্যের কোরীয় কবিতা। সাধারণত ৩ পংক্তিতে লেখা হয়।

[সম্পাদনা] ক্বাসিদা

আধুনিক কবিতা

[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ সাহিত্য-সন্দর্শন, শ্রীশচন্দ্র দাশ, বর্ণ বিচিত্রা, ঢাকা, ৬ষ্ঠ সংস্করণ, ১৯৯৫, পৃষ্ঠা-৩০
  2. "সাহিত্য-সন্দর্শন", শ্রীশচন্দ্র দাশ, বর্ণ বিচিত্রা, ঢাকা, ৬ষ্ঠ সংস্করণ, ১৯৯৫, পৃষ্ঠা-৪১
নিজস্ব হাতিয়ারসমূহ
নামস্থান

বিকল্পসমূহ
কার্যক্রম
পরিভ্রমন
মুদ্রণ/এক্সপোর্ট
সরঞ্জাম
অন্যান্য ভাষাসমূহ