অণু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে



ত্রি মাত্রিক মডেল (বামে ও মাঝে) এবং দ্বিমাত্রিক জ্যামিতিক মডেল (ডানে) এ টারপিনয়েড অণু

অণু /ˈmɒlɪkjuːl/ হচ্ছে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত দুই বা ততোধিক তড়িৎ নিরপেক্ষ পরমাণু[১][২][৩][৪][৫][৬] অণুতে বৈদ্যুতিক আধানের অভাব থাকায় তাদেরকে খুব সহজে আয়ন থেকে পৃথক ভাবে সনাক্ত করা যায়। আয়নে ইলেট্রিক চার্জ বা আধান থাকে কিন্তু অণু আধান নিরপেক্ষ। পদার্থ এবং রসায়নে অণু বহুল আলোচিত একটি শব্দ। গ্যাসের গতি তত্ত্বে গ্যাসের পরিমাণ বোঝাতে অণু শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন দুই অণু অক্সিজেন। এই গতিসুত্রানুসারর নিষ্ক্রিয় গ্যাসের পরমাণুকে অণু হিসেবে বিবেচনা করা যায়। কেননা নিস্ক্রিয় গ্যাসের পরমাণু সাধারন অবস্থায় অন্য গ্যাসের মত পরস্পর যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে না।[৭]

দুই বা ততোধিক পরমাণু বা অণু যুক্ত হয়ে অনু গঠন করে। যেমন: অক্সিজেনের অণু: O2 , জলের অনু: H2O অণুতে পরমাণু পরস্পর আয়নিক বন্ধন অথবা সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।[৮]

নামকরণ[সম্পাদনা]

John Dalton

বাংলা ভাষায় অনু শব্দের ব্যবহার ব্যাপক। অনু শব্দটি যখন একক ভাবে ব্যবহৃত হয় তখন এটি ক্ষুদ্র অর্থ প্রকাশ করে। কিন্তু এটি যখন উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন ভিন্নার্থ প্রকাশ করে।

ম্যারিয়াম ওয়েবস্টার এবং অনলাইন এটিমোলজি ডিকশনারী অনুসারে অনুর ইংরেজী প্রতিশব্দ মলিক্যুল শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ মোল থেকে যার অর্থ ভরের ক্ষুদ্র।

প্রথমদিকে অনু দ্বারা সব থেকে ক্ষুদ্রাকৃতির বস্তুকে বোঝানো হত। অনুমান করা হত এটাই পদার্থের সব থেকে ক্ষুদ্র কণা। কিন্তু বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে আরো ক্ষুদ্র কণা আবিষ্কৃত হলো। তখন এই ক্ষুদ্র কণাকে নাম দেয়া হলো পরম অনু বা পরমানু। পরমানু বা এটমের থেকে ক্ষুদ্র কণা ইলেকট্রন, প্রোটন,নিউট্রন আবিষ্কৃত হয়েছে।[৯]

ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক বিজ্ঞানী ডালটন সর্বপ্রথম অনু সম্পর্কে ধারণা দেন।

অনুর আকৃতি[সম্পাদনা]

অধিকাংশ অনু অতিক্ষুদ্র। খালি চোখে তাদের দেখা যায় না। কিছু ব্যতিক্রম অবশ্য আছে। যেমন পলিমার্। অনুর আকৃতি কয়েক এংস্ট্রম থেকে কয়েক ডজন এংস্ট্রম হতে পারে। বড় অনুকে রসায়নের ভাষায় বলা হয় ম্যাক্রো মলিক্যুল বা সুপার মলিক্যুল।

ব্যাসার্ধ[সম্পাদনা]

দ্রবনের কার্যকরী আনবিক ব্যাসার্ধই হচ্ছে একটি অনুর সাইজ বা আকৃতি।[১০][১১]

সবথেকে ক্ষুদ্র অনু[সম্পাদনা]

দ্বি আনবিক হাইড্রোজেন হচ্ছে সব থেকে ক্ষুদ্রাকৃতির অনু (H2), এর বন্ধন দূরত্ব ০.৭৪ Å.[১২]

সবথেকে বড় অনু[সম্পাদনা]

মেসোপোরাস সিলিকার ব্যাস ১০০০ ডিগ্রি এংস্ট্রম। ( 1000 Å) (100 nm)[১৩]

অনুবিজ্ঞান[সম্পাদনা]

সংজ্ঞা এবং প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

অনু: পদার্থের ক্ষুদ্রতম একক যাকে রাসায়নিক ভাবে ভাঙেলে ঐ পদার্থের স্বাধীন অস্তিত্ব থাকে না তাকে অনু বলে। উদাহরন: জল, অক্সিজেন। পরমাণু: মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম একক যাকে রাসায়নিক ভাবে ভাঙেলে ঐ পদার্থের স্বাধীন অস্তিত্ব থাকে না তাকে পরমানু বলে ।

অণু দুই প্রকার: ১.মৌল বা মৌলিক অণু ২.যৌগ বা যৌগিক অণু

১.মৌল বা মৌলিক অণু একই মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে যুক্ত হয়ে যে অণু গঠন করে তাকে বলে মৌল বা মৌলিক অণু । ২.যৌগ বা যৌগিক অণু: দুই বা ততোধিক মৌলিক পরমাণু একত্রে যুক্ত হয়ে যে অণু গঠন করে তাকে বলে যৌগ বা যৌগিক অণু।

তথ্য সূত্র[সম্পাদনা]

  1. International Union of Pure and Applied Chemistry (1994). "molecule". Compendium of Chemical Terminology Internet edition.
  2. Puling, Linus (1970)। General Chemistry। New York: Dover Publications, Inc.। আইএসবিএন 0-486-65622-5 
  3. Ebbin, Darrell, D. (1990)। General Chemistry, 3rd Ed.। Boston: Houghton Mifflin Co.। আইএসবিএন 0-395-43302-9 
  4. Brown, T.L.; Kenneth C. Kemp; Theodore L. Brown; Harold Eugene LeMay; Bruce Edward Bursten (2003)। Chemistry – the Central Science, 9th Ed.। New Jersey: Prentice Hall। আইএসবিএন 0-13-066997-0 
  5. Chang, Raymond (1998)। Chemistry, 6th Ed.। New York: McGraw Hill। আইএসবিএন 0-07-115221-0 
  6. Zumdahl, Steven S. (1997)। Chemistry, 4th ed.। Boston: Houghton Mifflin। আইএসবিএন 0-669-41794-7 
  7. Chandra, Sulekh (2005)। Comprehensive Inorganic Chemistry। New Age Publishers। আইএসবিএন 81-224-1512-1 
  8. Molecule, Encyclopædia Britannica on-line
  9. Molecule Definition (Frostburg State University)
  10. Chang RL, Deen WM, Robertson CR, Brenner BM. (1975)। "Permselectivity of the glomerular capillary wall: III. Restricted transport of polyanions"। Kidney Int. 8 (4): 212–218। ডিওআই:10.1038/ki.1975.104পিএমআইডি 1202253 
  11. Chang RL, Ueki IF, Troy JL, Deen WM, Robertson CR, Brenner BM. (1975)। "Permselectivity of the glomerular capillary wall to macromolecules. II. Experimental studies in rats using neutral dextran"। Biophys J. 15 (9): 887–906। ডিওআই:10.1016/S0006-3495(75)85863-2পিএমআইডি 1182263পিএমসি 1334749বিবকোড:1975BpJ....15..887C 
  12. Roger L. DeKock; Harry B. Gray (1989)। রাসায়নিক গঠন এবং বন্ধন। University Science Books। পৃ: 199। আইএসবিএন 0-935702-61-X 
  13. http://pubs.acs.org/doi/abs/10.1021/ac303274w