চার্লস গিবস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

চার্লস গিবস (নভেম্বর ৫, ১৭৯৮ – এপ্রিল ২৫, ১৮৩১) ছিলেন ১৯-শতকের প্রথমদিকের ক্যারিবীয় অঞ্চলে সক্রিয় সর্বশেষ জলদস্যুদের মধ্যে একজন এবং যুক্তরাষ্ট্রে জলদস্যুতার অভিযোগে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত জলদস্যুদের মধ্যে শেষ জলদস্যু। তার আসল নাম জেমস ডি. জেফার্স

সেসময় সক্রিয় অন্যান্য জলদস্যুদেরমত তিনিও ছিলেন নির্মম ও নৃশংস। তার মৃত্যুদন্ডের কিছু পূর্বে তিনি ৪০০ জনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। কারাভোগের সময় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও বিচারের বিস্তারিত ঘটনা তার মৃত্যুর পর প্রকাশ করা হয়েছিল এবং এটি ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু ছিল।[১] যাইহোক, বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় জেফার্সের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে ইতিহাসবিদদের অনেক প্রশ্ন রয়েছে।[২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

গিবস ৫ই নভেম্বর, ১৭৯৮ সালে রোড দ্বীপের নিউপোর্টে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা ছিলেন নিউপোর্ট সাগরের একজন ক্যাপ্টেন যিনি আমেরিকার বিপ্লবী যুদ্ধের সময় প্রাইভেটিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। গিবস একসময় দাবি করেছিলেন, তিনি ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় ইউনাইটেড স্টেস নেভির একজন সদস্য ছিলেন এবং ১৮১৩ সালে বোস্টন হার্বারে ধরা পরার পূর্ব পর্যন্ত জেমস লোয়ারেন্স-এর অধীন ইউএসএস হর্নেট ও ইউএসএস চেসাপিক নামক দুটি জাহাজে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী তদন্তে অবশ্য এই দাবির কোন সত্যতা প্রমানিত হয়নি। ফাঁসির পূর্বমুহূর্তে গিবস বলেছিলেন, ১৮১৬ সালে ১৭ বছর বয়সে তিনি নিউপোর্টের ব্রুটাসে প্রথম সমুদ্রে গিয়েছিলেন। ২১শে আক্টেবর, ১৮২১ সালে গিবস কিউবার এন্টিনিউতে লেফটেনান্ট কমান্ডার লাউরেন্স কার্নির অধীনে ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ নামে একটি বণিক জাহাজ আক্রমণ করেছিলেন। তাদের বহরে মোট চারটি জাহাজ ছিল। এসময় একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে গিবসের বহর ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনি তার লোকজনের সাথে জঙ্গলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।[৩] পলায়ন করার পর তার জীবন সম্পর্কে খুব কম জানা যায়। গিবস দাবি করেছিলেন তিনি ১৮২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন এবং পরবর্তীতে কিসপ্লেনটাইন যুদ্ধের সময় নিয়মিত নৌবাহিনীর অফিসার ও প্রাইভেটিয়ার কমান্ডার হিসেবে আর্জেন্টিনায় কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি উত্তর আফ্রিকা চলে যান ও পুনরায় নাবিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এসময় তিনি ও তার সাথের আরো কয়েকজন মিলে ২৩শে নভেম্বর, ১৮৩০ সালে একটি জাহাজে বিদ্রোহ করে ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট ম্যাটকে হত্যা করেন ও জাহাজের রূপার চালান দখল করার চেষ্ঠা করেন।

বিদ্রোহীরা পরবর্তীতে বিশ্রামের জন্য লং দ্বীপে দিকে চলে আসেন। পথিমধ্যে তাদের কিছু লোক উত্তাল সমুদ্রে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। লং দ্বীপে আসার কিছুদিন পর গিবসসহ মোট চারজন গ্রেফতার হন ও তাদের নিউ ইয়র্ক সিটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। (কেউ কেউ ভুলভাবে দাবি করে, তাদের নিউ ওরলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।[৪]) প্রথমে তাদের ব্রাইডওয়েল কারাগারে, পরবর্তীতে বেল্লিভো কারাগারে রাখা হয় এবং ২২শে এপ্রিল, ১৮৩১ সালে তাদেরকে এলিস দ্বীপে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।[৫]

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Gibbs, Joseph (2007), "Dead Men Tell No Tales: The Lives and Legends of the Pirate Charles Gibbs." University of South Carolina Press.
  • Cordingly, David (1997). Under the Black Flag: The Romance and the Reality of Life Among the Pirates. Harvest Books.
  • Ellms, Charles. The Pirates Own Book: Authentic Narratives of the Most Celebrated Sea Robbers. Salem, Massachusetts: Marine Research Society, 1924.
  • Gosse, Philip. The History of Piracy. New York: Tudor Publishing, 1934.
  • Lindsay, Philip. A Mirror for Ruffians. Ayer Publishing, 1939.
  • Foster, Chris "Charles Gibbs" song written about the pirate on the audio CD titled Cayo Hueso

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Confession of Charles Gibbs, the pirate, who was executed on the 22nd of April, 1831. New York: C. Brown, 1831.
  2. Gibbs, Joseph। "Dead Men Tell no Tales: The Lives and Legends of the Pirate Charles Gibbs" (pdf)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৪-০৫ 
  3. Botting, Douglas. The Pirates (The Seafarers; v.1). Alexandria, Virginia: Time-Life Books, 1978. (pg. 181) আইএসবিএন ০-৮০৯৪-২৬৫২-৮
  4. Hunt, Gaillard. Life in America One Hundred Years Ago'. New York: Harper & Brothers, 1914. (pg. 161)
  5. Gibbs, Charles। "Death Notices, Western Weekly Review, 1831"। ২০০৭-০৯-২৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৪-০৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]