হালতুন্নবী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হালত-উন-নবী
Halot-un-nabi-page1.gif
লেখকসাদেক আলী
ভাষাসিলেটি
ধরনজীবনী
প্রকাশিত১৮৭০[১]
পৃষ্ঠাসংখ্যা২৭৫

হালত-উন-নবী (সিলেটি: ꠇꠦꠔꠣꠛ ꠢꠣꠟꠔꠥꠘꠘꠛꠤ), আক্ষরিক অর্থে রাসূলের অবস্থা, হচ্ছে সিলেটি নাগরী লিপিতে রচিত একটি বিখ্যাত সিলেটি পুথি সাহিত্য[২][৩] এটি সাদেক আলি কর্তৃক রচিত এবং এটাকে তার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২৭৫ পৃষ্ঠার এই পুথি উনিশ শতকের মধ্যভাগে মুদ্রিত হয় যেখানে নবীর জীবন ও সময়কাল ফুটে উঠেছে।[৪][৫] সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং বহুল পঠিত বই হালতুন্নবী মূলত একটি জীবনী গল্প।[৬][৭] ১৮৭০ সালে এই বইটি মুদ্রণের মধ্যদিয়ে সিলেটি নাগরী সাহিত্য মুদ্রণের যুগে প্রবেশ করেছিল। যা ইসলামিয়া প্রেস ও মুন্সী আবদুল করিমের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছিল।[১] এই পুথি সিলেটি নাগরিতে একটি শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম হিসাবে বিবেচিত।[৮] সিলেটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গুলোতে নাগরী পুথি কিতাব হালতুন্নবী আবৃত্তি হতেও দেখা যায়।[৯][১০]

কেতাব হালতুন্নবী

ꠉꠚꠥꠞ ꠞꠢꠤꠝ ꠀꠟ꠆ꠟꠣ ꠇꠣꠖꠤꠞ ꠍꠥꠛꠢꠣꠘ
ꠍꠤꠔꠣꠞꠣꠄ ꠈꠥꠛꠤ ꠖꠤꠟꠣ ꠡꠣꠔ ꠀꠍꠝꠣꠘ
ꠏꠝꠤꠘꠦꠞ ꠈꠥꠛꠤ ꠖꠤꠟꠣ ꠇꠔ ꠌꠤꠎꠦ ꠀꠞ
ꠡꠇꠟ ꠝꠢꠔꠣꠎ ꠈꠣꠟꠤ ꠉꠘꠤ ꠙꠞꠅꠀꠞ

 – প্রথম স্তবক - মুনশি সাদেক আলী[৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সিলেটি নাগরিতে বহু জীবনীমূলক গল্প রচিত হয়েছে।[১] এখন পর্যন্ত ৮৮ টি মুদ্রিত বই সহ ১৪৪টি বই নাগরী লিপিতে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাদেক আলীর লেখা হালতুন্নবী নাগরী বর্ণমালায় ছাপানো একটি বই, যা সর্বাধিক জনপ্রিয় ও বহুল পঠিত একটি বই।[১১] এর জনপ্রিয়তার কারণে এটি পরে বাংলা বর্ণমালায়ও অনুলিপি করা শুরু হয়েছিল। নাগরী বর্ণমালাকে পরিচিত করার লক্ষ্যে, "উৎস প্রকাশন" ২০১৪ সালে প্রাচীন সিলেটি পুথিগুলো নিয়ে কেতাব হালত-উন-নবী সহ "নাগরী গ্রন্থসম্ভার" নামে ২৫টি খণ্ড প্রকাশ করে।[১২][১৩]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "নাগরীলিপিতে সাহিত্য প্রয়াস"দৈনিক প্রথম আলো। ১ সেপ্টে ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রু ২০২১ 
  2. Bhuiya, Md. Abdul Musabbir (২০০০)। Jalalabadi Nagri: A Unique Script & Literature of Sylheti Bangla। National Publishers। 
  3. "বিবর্তনের ধারায় বাংলার সংস্কৃতি"দৈনিক সংগ্রাম। ২৭ ডিসে ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রু ২০২১ 
  4. "Puthi Halot-un-Nobi by Sadek Ali"Sylheti Translation and Research। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রু ২০২১ 
  5. "Syloti Nagri"ScriptSource 
  6. "মহব্বত নামা : ফার্সি থেকে বাংলা আখ্যান"দৈনিক ভোরের কাগজ। ৩০ নভে ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রু ২০২১ 
  7. "নাগরীলিপিতে প্রণয়োপাখ্যান"দৈনিক জনকণ্ঠ। ২ অক্টো ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রু ২০২১ 
  8. "ভাষা ও সংষ্কৃতি"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ১৪ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রু ২০২১ 
  9. "বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবে 'সিলেট সন্ধ্যা'"জাগো নিউজ। ২৭ ফেব্রু ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রু ২০২১ 
  10. "আর্টসবেঙ্গল উৎসবে 'সিলেট সন্ধ্যা'"sylhettoday24.news। ২৭ ফেব্রু ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রু ২০২১ 
  11. Jobrul Alom Shumon (১ সেপ্টে ২০১৫)। ইতিহাস ঐতিহ্যে আমাদের সিলেট- পর্ব ০৮ (শেষ পর্ব)। SBDNews24.com। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রু ২০২১ 
  12. "নাগরী লিপির গ্রন্থসম্ভার নিয়ে এল উৎস প্রকাশন"দৈনিক ইত্তেফাক। ২৩ জানু ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রু ২০২১ 
  13. "একুশের আবহ"দৈনিক সমকাল। ২৩ জানু ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রু ২০২১