সেবাস্টিয়ান কো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দ্য রাইট অনারেবল

দ্য লর্ড কো

কেবিই
বিশ্ব অর্থনৈতিক জোটের বার্ষিক সভায় সেবাস্টিয়ান কো (২০১২)
সংসদ সদস্য
ফলমাউথ ও ক্যামবোর্ন
কার্যালয়ে
৯ এপ্রিল, ১৯৯২ – ২ মে, ১৯৯৭
পূর্বসূরী ডেভিড মাড
উত্তরসূরী ক্যান্ডি এথারটন
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (১৯৫৬-০৯-২৯) ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ (বয়স ৫৮)
চিসউইক, লন্ডন, যুক্তরাজ্য
জাতীয়তা ব্রিটিশ
রাজনৈতিক দল রক্ষণশীল
দাম্পত্য সঙ্গী নিকি ম্যাকআইরভিন (১৯৯০–২০০২)(বিবাহ-বিচ্ছেদ))
ক্যারোল অ্যানেট (২০১১ থেকে বর্তমান)
সম্পর্ক পিটার কো (বাবা, মৃত)
সন্তান ২ পুত্র, ২ কন্যা
অধ্যয়নকৃত শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান
লাফবোরো ইউনিভার্সিটি
জীবিকা লর্ড সভার সভ্যদৌড়বিদ

সেবাস্টিয়ান নিউবোল্ড কো, ব্যারন কো (ইংরেজি: Sebastian Newbold Coe, Baron Coe), কেবিই, (জন্মঃ ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৬), সাবেক ইংরেজ মাঝারী পাল্লার দৌড়বিদ ও কনজারভেটিভ পার্টির রাজনীতিবিদ। সচরাচর তিনি সেব কো নামেই সমধিক পরিচিত ব্যক্তিত্ব।[১]

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

সেব কো লন্ডনের চিসউইক এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা টিনা এ্যাঞ্জেলা লাল ৭৫ বছর বয়সে লন্ডনের হ্যামারস্মিথ ও ফুলহ্যাম এলাকায় ২০০৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। টিনা অর্ধ-ভারতীয় হিসেবে পাঞ্জাবী পিতা সর্দারী লাল এবং ভেরা শনের কন্যা ছিলেন।[২] বাবা পিটার কো ৯ আগস্ট, ২০০৮ সালে ৮৮ বছর বয়সে মারা যান। ঐ সময় সেব কো বেইজিংয়ে অবস্থান করছিলেন।

শেফিল্ডে অবস্থানকালীন সময়ে সেব কো ট্যাপটন স্কুলআবেডেল গ্র্যাঞ্জ স্কুলে অধ্যয়ন করেন।[৩] এরপর তিনি দৌড়বিদরূপে ১২ বছর বয়সে হালামশায়ার হ্যারিয়ারে যোগ দেন। স্বল্প সময়েই তিনি মাঝারী পাল্লার দৌড়বিশারদের খ্যাতি অর্জন করেন। লাফবোরো ইউনিভার্সিটি এবং পরবর্তীতে হ্যারিঙ্গেতে অবস্থানকালীন স্মরণীয় হয়ে আছেন। কেননা, ঐ সময় তাঁর নিজ দেশের পক্ষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার মতো কোন প্রতিযোগী ছিলো না।[৪]

বাবা পিটার কো'র সবিশেষ তত্ত্বাবধানে সেব কো দৌড় শুরু করেন। কো অর্থনীতি এবং সামাজিক ইতিহাস বিষয়ে লাফবোরো ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। ১৯৭৭ সালে স্পেনের স্যান সেবাস্টিয়ানে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশীপের ৮০০ মিটার দৌড়ে অংশগ্রহণ করেন। এতে তিনি প্রথম বড় ধরণের সাফল্য অর্জন করেন। লাফবোরো ইউনিভার্সিটিতে থাকাকালীন জর্জ গ্যান্ডি নামীয় অ্যাথলেট কোচের পরামর্শক্রমে তিনি অনুশীলন করে সুবিশাল সফলতা ও দৌড়ে প্রভূত উত্তরণ ঘটান।[৫]

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

মাঝারী পাল্লার দৌড়বিদ হিসেবে কো চারবার অলিম্পিক গেমসের পদক জয় করেন। তন্মধ্যে - ১৯৮০ এবং ১৯৮৪ সালে ১৫০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জয় করেছিলেন তিনি। এছাড়াও, তৎকালীন সময়ে ৮টি বহিরাঙ্গন ও ৩টি অভ্যন্তরীণ ক্রীড়ায় বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। এর একটি ছিল রিলে দৌড়। তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন স্টিভ ওভেট এবং স্টিভ ক্রাম। ১৯৮০-এর দশকে তাঁরা মাঝারী পাল্লার দৌড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।[৬]

১৯৮৭ সালের মে মাসে তাঁর দল হ্যারিঙ্গেতে থাকাকালীন ৮০০ মিটার দৌড়ে জয়লাভের পর আঘাতপ্রাপ্ত হন। এরপর থেকে পুরো মৌসুমই খেলাধূলা থেকে বিরত ছিলেন।

পরের বছর ১৯৮৮ সালে তিনি ব্রিটিশ অলিম্পিক দলে নির্বাচিত হতে পারেননি। বার্মিংহ্যামে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক খেলায় ১৫০০ মিটার দৌড়ে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হন। মৌসুমের শুরুতে ভাল ফলাফল করলেও বুকের পীড়ায় প্রশিক্ষণে ব্যাঘাত ঘটে তাঁর। দ্য ডেইলী মিরর অলিম্পিক ক্রীড়ায় তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। কিন্তু কো'র পক্ষে নিয়ম পরিবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি জোয়াও এন্টোনিও সামারাঞ্চের কাছে জোড়ালো আবেদন করেও সফলতা লাভে সক্ষম হয়নি। বলা হয়ে থাকে যে, ভারতীয় দল তাঁর মায়ের পিতৃবংশজনিত কারণে সেব কো'র পক্ষ হয়ে কাজ করেছিল।[৭]

সেরা পদচারণা[সম্পাদনা]

দূরত্ব সময় সাল
৪০০ মিটার ৪৬.৮৭ ১৯৭৯ এবং ৪৫.৫ রিলে লেগ (১৯৭৯)
৮০০ মিটার ১:৪১.৭৩ ১৯৮১
১০০০ মিটার ২:১২.১৮ ১৯৮১
১৫০০ মিটার ৩:২৯.৭৭ ১৯৮৬
মাইল ৩:৪৭.৩৩ ১৯৮১
২০০০ মিটার ৪:৫৮.৮৪ ১৯৮২
৩০০০ মিটার ৭:৫৪.৩২ ১৯৮৬
৫০০০ মিটার ১৪:০৬.২ ১৯৮০

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৯২ সালে ফলমাউথ ও ক্যামবোর্ন নির্বাচনী এলাকায় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৬] পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে কনজারভেটিভ দলের পক্ষ হয়ে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিলেও পরাজিত হন তিনি। এরপর উইলিয়াম হগের চিফ অব স্টাফরূপে স্বল্প সময়ের জন্য রাজনীতিতে পুণরায় ফিরে আসেন। ২০০০ সালে লাইফ পিয়ারের মনোনয়নকৃত পদ গ্রহণ করেন।[৮] এ সময়ে তিনি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার দিকে বিশেষ আকৃষ্ট হন। ২ ঘন্টা ৫৮ মিনিটে এ দৌড় শেষ করেছিলেন।

লন্ডন অলিম্পিক গেমস, ২০১২[সম্পাদনা]

লন্ডন নগর ২০১২ সালের অলিম্পিক আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করলে সেবাস্টিয়ান কো দূত হিসেবে তাঁর প্রাণপন চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। তিনি দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সদস্য ছিলেন। মে, ২০০৪ সালে সভাপতির পদ থেকে বারবারা ক্যাসানী পদত্যাগ করেন। কো তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ও দর ডাকার পরবর্তী স্তরে অংশ নেন। অলিম্পিক ক্রীড়ার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বরূপে কো'র ব্যাপক পরিচিতি থাকায় আইওসি ৬ জুলাই, ২০০৫ সালে লন্ডনকে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ক্রীড়া আয়োজনের দায়িত্ব প্রদান করে।[৯]

কো প্রায়শঃই বলে থাকে যে, লন্ডন ২০১২ শুধুমাত্র পাঁচ সপ্তাহব্যাপী গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া নয়; বরং অনেক লোককে সকল ধরণের ক্রীড়ায় অংশগ্রহণে ব্যাপক উদ্বুদ্ধ করেছে। ব্রিটিশ ড্রাগন বোট রেসিং এসোসিয়েশনের উপদেষ্টারও দায়িত্ব পালন করছেন সেব কো।[১০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Big Interview: Seb Coe. The Times. July 2008. Retrieved on 2011-12-06.
  2. Johnson, Angella (১৩ ডিসেম্বর ২০০৯)। "Lord Coe and his grandfather, the Punjabi Playboy: The racy ancestry of one of Britain's greatest runners"Daily Mail (London)। 
  3. My School Sport: Sebastian Coe. Daily Telegraph. 20 February 2007. Retrieved on 2011-12-06.
  4. Sebastian Coe OBE. made-in-sheffield.com
  5. George Gandy’s Tips on Running. Motleyhealth.com. Retrieved on 2011-12-06.
  6. ৬.০ ৬.১ "Sebastian Coe"BBC News। ৯ আগস্ট ২০০০। সংগৃহীত ২৩ মে ২০১০ 
  7. Bose, Mihir (২০০৮-০৮-২০)। "Coe's London legacy challenge"bbc.co.uk। সংগৃহীত ২০০৮-০৮-২০ 
  8. Cole Morton (২৩ জুলাই ২০০০)। "How judo made a man out of Hague"The Independent (London)। সংগৃহীত ৩ সেপ্টেম্বর ২০১০ 
  9. Orlovac, Mark (৩১ ডিসেম্বর ২০০৫)। "Profile: Lord Coe"BBC News। সংগৃহীত ২৩ মে ২০১০ 
  10. BDA Patron's Reception with Sebastian Coe. Dragonboat.org.uk (2007-02-19). Retrieved on 2011-12-06.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]