সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ধর্ষণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

 

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ধর্ষণকে সিরিয়ার সংঘাতের সময় সিরিয়ান সরকারপন্থী সমর্থকরা, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্যরা, [১] এবং ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড লেভান্টের জন্য যুদ্ধরত জঙ্গিরা কৌশল হিসেবে ব্যবহার করত[২]  । আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) মতে, সংঘর্ষের সময় ধর্ষণ একটি "উল্লেখযোগ্য এবং বীভৎস বৈশিষ্ট্য" ছিল, [৩] এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া ৬,০০,০০০ মহিলাদের প্রাথমিক কারণ হল যৌন নিপীড়নের ভয়। এই বিষয়ে পটভূমি এবং আইনী বিষয়বস্তুর জন্যসিরিয়ার গৃহযুদ্ধের অপরাধীদের বিচার দেখতে পারেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অনুরোধ করেছে যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যেনো সিরিয়াকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠায়[৪]

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বাহিনী[সম্পাদনা]

২০১১ সালে সিরিয়ায় ছড়িয়ে পড়া আরব বসন্ত শুরু হওয়ার পর, সরকারপন্থী বাহিনীর দ্বারা ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাবার খবর ছিলো। [৫] দারাতে, সংঘর্ষের শুরুতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী এই অঞ্চলে মহিলাদের ধর্ষণের আয়োজন করে। [৬] [৭]

সিরিয়ায় ধর্ষিত নারীরা অনার কিলিংয়ের (সম্মানজনক হত্যা) এর শিকার হতে পারে, অথবা যদিও তাদের পরিবার তাদের ঠাইয়ের অনুমতি দেয় তারপরেও তারা আর বিয়ের যোগ্য ছিলো না। রাষ্ট্রীয় বাহিনী যখন জিসর আল-শুগৌরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে তাদের দমন অভিযান শুরু করে, তখন যেসব বাড়িতে মহিলারা ঘুমাচ্ছিল তাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল। [৮] ২০১১ সালে সেভ দ্য চিলড্রেন কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "এমনও প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়ে ও ছেলেরা তাদের যৌনাঙ্গে নির্যাতন এবং ধর্ষণ উভয় সহ যৌন সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছিলো।" [৯] এইচআরডব্লিউ -এর মধ্যপ্রাচ্য শাখার পরিচালক সারাহ লিয়া বলেছেন যে, "সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ দায়মুক্তির সঙ্গে যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে " [৪]

ইসলামিক স্টেট[সম্পাদনা]

ইয়াজিদি গণহত্যার সময়, আইএস নারীদের যৌন দাসত্বের মধ্যে বিক্রি করা হয়েছিলো এবং নয় বছরের কম বয়সী মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়েছিলো। [১০] আমর হুসেন, একজন বন্দী আইএস সন্ত্রাসী, যিনি ২০০ টিরও বেশি নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন, তিনি বলেন যে, কমান্ডে থাকা ব্যক্তিরা আইএস যোদ্ধাদের যতটা ইয়াজিদি মহিলাদের ধর্ষণ করতে চেয়েছিল, তাদের অবাধ সুযোগ দিয়েছিল। [১১] জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, "নয় বছরের কম বয়সী নারী ও মেয়েদের আইএসআইএস সৈন্যদের দাস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে যারা নারী ও মেয়েদের নিয়মিত মারধর করত এবং ধর্ষণ করত, আবার বিক্রি করত এবং যদি তারা পালানোর চেষ্টা করে, তাদের মেরে ফেলা হত." [১২]

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টুইটারে আইএস কর্তৃক অনলাইনে প্রকাশিত একটি পুস্তিকায় শিশুদের ধর্ষণকে স্পষ্টভাবে সমর্থন ছিলো; এতে লেখা ছিলো যে: "যে মহিলা ক্রীতদাস বয়সন্ধিতে পৌঁছায়নি তার সাথে সহবাস করা জায়েজ, যদি সে সহবাসের জন্য উপযুক্ত হয়"। [১৩]

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

২০১২ সালে জাতিসংঘের একটি ঘোষণায় বলা হয়েছিল যে সিরিয়ায় ধর্ষণকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে ভুক্তভোগীদের দেওয়া সাহায্যের "খুব অভাব" ছিল এবং "হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলি নিছক পরিমাণে মোকাবেলা করার জন্য সাজসজ্জিত ছিলোনা"। ক্ষতিগ্রস্ত এবং অনেক ভুক্তভোগী তাদের আক্রমণের খবর দিত না " [১৪]

এনজিও ইউরো-ভূমধ্যসাগরীয় মানবাধিকার নেটওয়ার্ক (ইএমএইচআরএন) ২০১৩ সালের নভেম্বরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছে যে, ২০১১ সালে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৩,০০০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে গণধর্ষণও ছিল, যার পরিসংখ্যান অনেক বেশি হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রিপোর্ট করা হয় না। [১৫] ইএমএইচআরএন-এর রিপোর্ট অনুসারে, অধিকাংশ দলিলিত হামলা হয়েছে সরকার সমর্থিত বিদ্রোহী অবস্থানে, আটককৃতদের উপর এবং চেকপয়েন্টে হামলার সময়। [১৬]

২০১২ সালে জাতিসংঘে কথা বলার সময় নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইড বলেছিলেন যে বসনিয়ান যুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া প্রায় ১০ হাজার হাজার ধর্ষণ সিরিয়ায় পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। [১৭]

২০১৩ সালের প্রথম ১১ মাসে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) পরিসংখ্যান প্রকাশ করে যা দেখায় যে তহবিল সিরিয়ায় ৩৩,৪৩০ জনকে মানসিক সহায়তা দিয়েছে যারা ধর্ষণ বা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছিলো সাথে ডিসেম্বরে আরও ৪৮০০ টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছিলো [১৮] সংঘর্ষে ধর্ষণ ও লিঙ্গ সহিংসতা বন্ধের আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযানের জোডি উইলিয়ামস সিরিয়ার পুরুষ, নারী এবং শিশুদের উপর যে যৌন সহিংসতা পরিদর্শন করা হয়েছে সে সম্পর্কে বলেছেন, "প্রতিটি যুদ্ধ এবং বড় ধরনের সংঘাতের সাথে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হিসেবে আমরা বলি গণধর্ষণের জন্য 'আর কখনো' নয়, তবুও, সিরিয়ায়, যেমন অগণিত নারী আবার তাদের শরীরে যুদ্ধের সন্ধান পাচ্ছে-আমরা আবার পাশে দাঁড়িয়ে হাত মুছছি। " [১৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]