যৌন সহিংসতার কারণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

যৌন সহিংসতার কারণ কে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। এর পিছনে নানা কারণ আছে, যেমনঃ সেনাবাহিনী দ্বারা ধর্ষণ, সামাজিক অর্থনীতি, ক্রোধ, শক্তিপ্রদর্শনী, ধর্ষকাম, যৌন প্রশান্তি, মানসিক অস্থিরতা রূপ্ম ব্যাধি, নীতিশাস্ত্র, আইন, ধর্ষিতাকেই দায়ী করা এবং বিবর্তনগত দিক থেকে এ বিষয়টি আলোচনা, গবেষণার এবং ব্যাখ্যার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

গ্রোথের প্রকরণ[সম্পাদনা]

মনোবিদ[১] নিকোলাস গ্রোথ বিভিন্ন ধরনের ধর্ষণ নিয়ে বর্ণনা করেছেন।[২] বিস্তারিত ভাবে করা একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে, নারীর পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে কটুক্তি ভিক্টিমকেই দোষারোপ করা; এগুলো যৌন সহিংসতাকে উষ্কে দেয়। [৩]

ক্রোধবশত ধর্ষণ[সম্পাদনা]

এই ধরনের ধর্ষকের মুল লক্ষ্য থাকে অসহায়কে খেলো করা, অত্যাচার করা এবং কষ্ট দেওয়া, তারা তাদের ক্রোধকে শারীরিক নির্যাতন এবং অশ্লীল ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকাশ করে। এই ধরনের ধর্ষকদের জন্য ধর্ষণ শিকারকে হীন করার একটি অস্ত্র, যা ধর্ষকের অনুভুতি প্রকাশের সর্বশেষ হাতিয়ার। এই ধরনের ধর্ষক চিন্তা করে, নির্যাতিতাকে শায়েস্তা করতে ধর্ষণই সর্বশেষ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

ক্রোধমুলক ধর্ষণের স্বভাব হচ্ছে শারীরিক ভাবে কঠোর নির্যাতন করা হয়, নির্যাতনের সময় অত্যধিক বল প্রয়োগ করে তাকে পরাস্ত করা। এই ধরনের নির্যাতনকারী শিকারকে টানাহেঁচড়া করে, আঘাত করে,মাটিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, কোনো কিছুর সাহায্যে প্রহার করে, তার পোশাক ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং ধর্ষণ করে। [২]

শক্তি প্রদর্শনকারী ধর্ষণ[সম্পাদনা]

এই ধরনের ধর্ষকরা নিজের সক্ষমতা, শক্তি প্রদর্নের হেতু, শোষণমুলক ভাবনার মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে এই ধরনের ধর্ষণ করে। এই ধরনের ধর্ষক মৌখিক হুমকি দেয়, হুমকির সাথে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীত করে, এবং শিকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে যতটুকু বলপ্রয়োগ করতে হয়, ততটুকুই করে থাকে।

পাওয়ার ধর্ষক যৌন বিজয় এবং ধর্ষণের প্রতি একধরনের অলীক কল্পনার ঝোঁক দেখা যায়। তারা এটা বিশ্বাস করে যে, শিকার প্রাথমিকভাবে হয়তো ধর্ষককে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, কিন্তু তাকে পরাস্ত করার পরে, পরিশেষে ধর্ষণকে সে উপভোগই করবে। ধর্ষক বিশ্বাস করে, শিকারের সাথে যা হয়েছে, শিকার তাতে সন্তুষ্ট হয়েছে। একারণে তারা এমনকি এটাও জিজ্ঞেস করে, একই কাজের পুনরাবৃত্তি আর কখন করলে নির্যাতিতা খুশি হবে?

কারণ এটা শুধুমাত্রই তাদের এক প্রকার উদ্ভট কল্পনা। এই ধরনের ধর্ষকরা তাদের নিজেদের পারফর্মেন্সে বা শিকারের সাড়াদানে বেশি সময় সন্তুষ্ট থাকতে পারে না। তাদেরকে আরেকটা শিকার খুজে বের করতে হয়। এই ধরনের ধর্ষকদের কার্যবিধি অল্প সময়ের মধ্যে বারবার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

ধর্ষকামমুলক ধর্ষণ[সম্পাদনা]

ধর্ষকামমুলক ধর্ষণ ধর্ষকামী ধর্ষণ হলঃ সেই প্রকার ধর্ষণ যেখানে ধর্ষক তার যৌনসঙ্গীকে অত্যধিক ধর্ষণ করে যৌনসুখ লাভ করে। এইধরনের ধর্ষকরা ক্রোধ এবং বাহুবল উভয়ই প্রয়োগ করে শিকারকে(ভিক্টিম) যে আঘাত প্রদান করে কামমুলক সুখ লাভ করে। এই ধরনের ধর্ষকরা নির্যাতিতাকে যন্ত্রণা দিয়ে যৌন উত্তেজনা লাভ করে। ধর্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে শিকারকে তীব্রভাবে নির্যাতন করে সন্তোষ লাভ করে। সে শিকারকে নির্যাতন করে, উৎপীড়িত করে, শারীরিক ব্যাথা দিয়ে, অসহায়ত্বের সৃষ্টি করে এক ধরনের আনন্দ লাভ করে।[৪] সে চায় নির্যাতিতা তার সাথেই ধ্বস্তাধস্তি করুক, যেটা তার জন্য এক প্রকার কামোদ মুলক অভিজ্ঞতা হবে।

ধর্ষকামমুলক ধর্ষণে নির্যাতন এবং শিকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা দীর্ঘায়িত হয়। কখনো কখনো এটা ধর্মীয় রীতি বা অন্যান্য উদ্ভট নিয়মকানুনের জন্যও হতে পারে। ধর্ষক বহিরাগত কোনো কিছু বা যন্ত্রাংশও ব্যবহার করতে পারে যাতে তা ধর্ষিতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো যায়। নির্যাতিতার স্পর্শকাতর অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করা বা পীড়ন করাই থাকে এই ধরনের ধর্ষকের মুল লক্ষ্য।

ধর্ষকামী ধর্ষকের যৌন নির্যাতন আগে থেকে পুর্বপরিকল্পিত, নির্ধারিত এবং হিসাব করা থাকে। তারা প্রায়ই দেখা যায় ছদ্মবেশ ধারণ করে অথবা শিকারের চোখে পট্টি বেধে দেয়।[৪] গণিকা অথবা অন্য মানুষ যারা এলোমেলো ভাবে চলাফেরা করে, তারাই এই ধরনের ধর্ষকদের মুল লক্ষ্যে পরিণত হয়। এই ধরনের ধর্ষকদের যারা শিকারে পরিণত হয়, তারা দেখা যায় অনেকসময় বেচে ও থাকে না (টিকে থাকা পারে না)। এধরনের কিছু কিছু ধর্ষক ভিক্টিমকে খুন করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ পরিতৃপ্তি পায়।[২]

গণধর্ষণ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: গণধর্ষণ

কিছু ধর্ষণ যেমন গ্যাং রেপ সাধারণত অল্প বয়সী তরুণদের দ্বারা সংগঠিত হয়।[৫] দলবেঁধে ধর্ষণের ক্ষেত্রে আগে থেকে পরিকল্পনা করা থাকে, উচ্চাশার সাথে এর সম্পর্ক আছে।[৬] নারীদের অনৈতিক কাজ যেমন: স্বল্প বসনা পরিধান বা ঘনঘন বারে যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হয়। কিন্তু এরপরেও কোনো নারী এহেন কাজে জড়িত থাকলে, তার গণধর্ষণকে অনেক সময় বৈধ করে দেওয়া হয়।

এই কারণে, কিছু জায়গা দেখা যায়, দলবেঁধে ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয় না। পাপুয়া নিউ গিনিতে নারীকে জনসম্মুখে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়, এমনকি এতে সমাজের মুরুব্বিদেরও সায় থাকে।[৭]

সামাজিক কারণ[সম্পাদনা]

যুদ্ধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ[সম্পাদনা]

আইনবহির্ভুত যুদ্ধ চলাকালীন নাগরিকদের কোনো মৌলিক অধিকার তো সংরক্ষিত হয়ই না, বরং তাদের অধিকার হরন করা হয়। কিছু আর্মি, কিছু মিলিটারীদের দেখা যায়, সাধারণ নাগরিকদের সম্পত্তি লুটপাত করতে নীরব সম্মতি দেয় এবং নিজেরাও করে। তারা সাধারণ নাগরিকদের স্বল্প সঞ্চয় যা থাকে, তাতো ডাকাতি করেই, যুদ্ধের বিজয় হিসেবে বাকিদেরও লুঠতরাজ করতে সম্মতি এবং সাধারণ নাগরিকদের ধর্ষণ করতে উৎসাহিত করে।[৮][৯] ২০০৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে বলে " যুদ্ধের সময় বিজয়ীদের দ্বারা বিশেষভাবে নারী এবং বালিকারাই যৌননির্যাতনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তার সাথে সাথে তাদেরকে নির্যাতন করা, শোষণ করা, তাদের মধ্যে ভীতি প্রবেশ করানো এইসবকিছুই থাকে বিজয়ীদের অন্যতম লক্ষ্য।"[১০]

অভিবাসীরা এবং আঞ্চলিকভাবে বাস্তচ্যুত মানুষরা যারা যুদ্ধের সময় ঘর থেকে পালিয়ে যায় অথবা বিরাটরকমের দুর্যোগের অভিজ্ঞতার কারণে ঘর থেকে পালানোরসময় মানব পাচার চক্রের মধ্যে পরে যৌন দাস অথবা গৃহকর্মী হিসেবে বিক্রি হয়ে যায়। [১১]২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের সাধারণ সভায় নারীর উপর নির্যাতন নিয়ে বলতে গিয়ে বলা হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নারীর উপর নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।[১২] ২০১০ এ হাইতির ভুমিকম্পে বিশাল সংখ্যক নারী এবং বালিকা অভ্যন্তরীণ ভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। যাদের মধ্যে অনেকেই যৌন নির্যাতনের মুখে পরেছেন।[১৩] ইন্টার-আমেরিকান কমিশনের মানবাধিকার সংগঠন গুলো সেসময় এই বিপর্যয় এড়াতে তৎপর হয়ে উঠে। তারা আন্তর্জাতিক অভিনেতাদের অনুরোধ করে, যাতে করে তারা আলো, নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সেবা দিতে এগিয়ে আসে।[১৪]

দারিদ্র[সম্পাদনা]

দারিদ্রতা যৌন নির্যাতনকারী এবং যৌন নির্যাতনের স্বীকার হওয়া উভয়ের মাঝে একটি যোগসুত্র তৈরী করে। অনেক গবেষক এবিষয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন, দারিদ্রতা এবং যৌন নির্যাতনকারীর মধ্যে পৌরুষত্বের পরিচয়ের সঙ্কট একটি বোঝাপড়া তৈরী করে। [১৫][১৬][১৭][১৮][১৯]

পুর্ব হারলেমের জীবনযাত্রা নিয়ে বুরগোইস লিখতে গিয়ে বলেছেন, বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসা পারিবারিক বন্ধনের দ্বারা আবদ্ধ পুরুষ -বিভিন্ন পুরুষ মডেলের সাফল্য দেখে একধরনের চাপের মধ্যে থাকে। আধুনিক যুগের আদর্শ পুরুষের জীবনযাত্রা তাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। তার দারিদ্র অবস্থা, কোনো ধরনের ঘর না থাকা, বা থাকলেও ছোট হওয়া, এসবকিছুই পুরুষকে ভিতর থেকে বিব্রত করে তুলে। নিজেকে সেইসব মডেল বা সফল পুরুষদের তুলনায় ছোট মনে হয় এবং এর ফলে নারীর উপর অত্যধিক পরিমাণ পীড়ন করে সে অভাব দুর করতে চাওয়ার একটা মানসিকতা তৈরী হয়। যদি তার আশেপাশে একই ধরনের সমমনা বন্ধু তৈরী হয়; তাহলে দলবেঁধে ধর্ষণ করার (গ্যাং রেপ) মত মানসিকতা তৈরী হতে পারে।[১৭]

শারীরিক এবং সামাজিক পরিস্থিতি[সম্পাদনা]

আইন এবং পুলিশ[সম্পাদনা]

বিভিন্ন দেশগুলোতে নির্যাতিতার আইনের সহায়তা পাওয়ার যে সুযোগ, সে সুযোগে ভিন্নতা রয়েছে। কিছু দেশে ধর্ষণের যে বিস্তৃত সংজ্ঞা(যেমনঃ বৈবাহিক ধর্ষণ), তা পরিপুর্ণভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার বিধিবিধান করা হয়েছে। এছাড়াও ধর্ষিতার পাশে খোদ রাষ্ট্রই শক্তভাবে দাড়িয়ে থাকে, তাকে সাপোর্ট করে, যাতে সে মানসিক ভাবে ভেঙে না পড়ে। দেশগুলোতে দেখা যায়, পুলিশ নিজেই যৌন নির্যাতনকে প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ করতে সদা তৎপর থাকে, আর এ বিষয়টা প্রতিফলিত হয় পুলিশকে যখন ট্রেইনিং দেওয়া হয় তখনি। রাষ্ট্রের পুলিশ বিভাগকে দেওয়া যে ক্ষমতা বা লোকবল, তা দেখা যায়-এই বিষয়টা সমাধান করতে পুলিশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়, পর্যাপ্ত পরিমাণে সাহায্য রাখা হয় যাতে করে নির্যাতিতাকে মেডিক্যাল সমর্থন দেওয়া যায় এবং ধর্ষণের কেসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু এর বিপরীত চিত্রও আছে। কিছু দেশ আছে, যাদের এই ইস্যুতে আইন কানুনগুলো রক্ষণশীল ঘরানার। যেখানে নারীর ধর্ষকের বিরুদ্ধে একার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, এবং যিনি নির্যাতিতা তিনি অভিযোগ আদালত পর্যন্ত আনতে ভয়ভীত থাকেন, কারণ যদি কোনোভাবে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে কঠোর শাস্তি পাবার একটা আশঙ্কা থাকে।

ভিক্টিমের ধর্ষণের রিপোর্ট করতে গেলে সামাজিকভাবে প্রতিরোধের বৈধতা[সম্পাদনা]

বিভিন্ন দেশে নারীরা যদি ধর্ষণের রিপোর্ট করে, তাহলে তাদের উল্টো বিপদের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়। এই বিপদ: যৌন হিংস্রতা পর্যন্ত (যেমনঃ পরিবার দ্বারা অনার কিলিং, বিবাহ বহির্ভুত যৌন সঙ্গম, অথবা তাদেরকে বিবাহ করতে বাধ্য করা হয়) হতে পারে। [২০][২১][২২] এটা ধর্ষককে শাস্তি না পাওয়ার, আইনগতভাবে ধর্ষকের অব্যাহতি পাওয়ার সংস্কৃতি তৈরী করে।

যৌন প্রতিষ্ঠান এবং ধর্ষণ[সম্পাদনা]

অনেক তাত্বিক মনে করেন, পেশা হিসেবে যৌনতার একটা প্রভাব পরোক্ষভাবে হলেও সমাজে পরে। যেমন: নারী যদি পতিতাবৃত্তি করে, সে যদি বিভিন্ন যৌন প্রতিষ্ঠান (পর্ন ইন্ডাস্ট্রি) এর কর্মী হিসেবে কাজ করে, তবে এক্ষেত্রে সে যতটা না নারী; তার চেয়ে বেশি পণ্য হিসেবে সমাজে পরিগণিত হয়। এক্ষেত্রে পুরুষের কাছে ধীরে ধীরে নারী শুধুমাত্র সমাজে যৌনতার সামগ্রী হিসেবে বিবেচিত হয়। পুরুষের মনে এই ধারণার জন্ম হয় যে, নারীকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করা যায়, নিজের জৈবিক সুখকে পরিতৃপ্ত করতে তাকে নির্যাতন করা যায়। যারা পর্নোগ্রাফির বিরোধিতা করেন, এটা তার মধ্যে অন্যতম কারণ। পর্নোগ্রাফি বিরোধী নারীবাদী লেখিকা এনড্রিয়া ডোর্কিন তার বিখ্যাত বিতর্কিত লেখা Pornography: Men Possessing Women (১৯৮১) য়ে এই বিখ্যাত পয়েন্টটি উল্লেখ করেন।

বিবর্তনীয় উদাহরণ[সম্পাদনা]

যেসব পুরুষ সুনির্দিষ্ট পরিবেশে বল প্রয়োগ করে যৌনসঙ্গম করেছে, তাদের প্রজননগত সলতা অন্য পুরুষ যারা বলপ্রয়োগ করে নি, তাদের তুলনায় বেশি হয়েছে।[২৩] ধর্ষণ নিয়ে সামাজিক জীববিজ্ঞানের তত্ব এটাই প্রকাশ করে যে, বিবর্তনীয় অভিযোজন ধর্ষকের মানসিকতাকে প্রভাবিত করে। এই ধরনের তত্ব তীব্রভাবে বিতর্কিত, কারন বহুকাল ধরে প্রচলিত তত্বগুলো ধর্ষণ; স্বভাব-চরিত্রের অভিযোজনের ফল, এমনটা বলে না। সেই তত্ব গুলোর কিছুটা নৈতিকশাস্ত্র,কিছুটা ধর্ম, কিছুটারাজনৈতিক এবং বিজ্ঞানের উপর নির্ভর করে নির্মিত। অনেকে অবশ্য বলেন, ধর্ষণের মুল কারণ সম্বন্ধে জানা অত্যাবশ্যকীয়। কারণ তাহলেই একে প্রতিরোধে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। মানুষ নয় এমন প্রজাতিতে বল প্রয়োগে যে যৌন সঙ্গম তা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা এখনো চলছে।[২৪]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.secasa.com.au/assets/Statstics/male-rape.pdf Male Rape]. secas.com.au
  2. "Cnter for Sex Offender Management Lecture Content & Teaching Notes Suervision of Sex Offenders in the Community: An Overview"। Center for Sex Offender Management। সংগৃহীত ২০০৮-০৫-২৬ 
  3. Awasthi B (২০১৭)। "From Attire to Assault: Clothing, Objectification, and De-humanization – A Possible Prelude to Sexual Violence?"। Frontiers in Psychology 8: 338। ডিওআই:10.3389/fpsyg.2017.00338 
  4. Groth, Nicholas (১৯৭৯)। Men Who Rape: The Psychology of the Offender। New York: Plenum Press। পৃ: 44–45। আইএসবিএন 0-306-40268-8 
  5. Bourgois, PhilippeI. (২০০৩)। In search of respect: selling crack in El Barrio। Cambridge University Press। আইএসবিএন 978-0-521-01711-4 
  6. "Sexual aggression in normal men: incidence, beliefs and personality characteristics"। Personalityand Individual Differences 10 (3): 355–362। ১৯৮৯। ডিওআই:10.1016/0191-8869(89)90109-8 
  7. Jenkins C. Sexual behavior in Papua New Guinea. In: Report of the Third Annual Meeting of the International Network on Violence Against Women, January 1998. Washington, DC, International Network on Violence Against Women, 1998.
  8. "War on Women – Time for action to end sexual violence in conflict"Nobel Women's initiative। মে ২০১১। 
  9. Brown C (২০১২)। "Rape as a weapon of war in the Democratic Republic of the Congo."। Torture 22 (1): 24–37। পিএমআইডি 23086003 
  10. "Rape: Weapon of war"। OHCHR। 
  11. "Syrian child refugees face exploitation, UNICEF says"। Reuters। ১০ Oct ২০১৩। 
  12. MADRE, et al. Gender-Based Violence Against Haitian Women & Girls in Internal Displacement Camps; Submitted to the 12th Session of the Universal Periodic Review. 2011. p. 5.
  13. MADRE, et al. Gender-Based Violence Against Haitian Women & Girls in Internal Displacement Camps; Submitted to the 12th Session of the Universal Periodic Review. 2011. pp. 2–3
  14. MADRE, et al. Our Bodies Are Still Trembling: Haitian Women Continue to Fight Against Rape. 2011. pp. 11–12.
  15. Morrell R, ed. Changing men in Southern Africa. Pietermaritzburg, University of Natal Press, 2001.
  16. Jewkes R (২০০২)। "Intimate partner violence: causes and prevention"। Lancet 359 (9315): 1423–1429। ডিওআই:10.1016/S0140-6736(02)08357-5পিএমআইডি 11978358 
  17. Bourgois P (১৯৯৬)। "In search of masculinity: violence, respect and sexuality among Puerto Rican crack dealers in East Harlem"। British Journal of Criminology 36 (3): 412–427। ডিওআই:10.1093/oxfordjournals.bjc.a014103 
  18. Wood K, Jewkes R. ‘‘Dangerous’’ love: reflections on violence among Xhosa township youth. In:Morrell R, ed. Changing men in Southern Africa. Pietermaritzburg, University of Natal Press, 2001.
  19. Silberschmidt M (২০০১)। "Disempowerment of men in rural and urban East Africa: implications for male identity and sexual behavior"World Development 29 (4): 657–671। ডিওআই:10.1016/S0305-750X(00)00122-4 
  20. Libya rape victims 'face honour killings' – BBC News. Bbc.co.uk (2011-06-14). Retrieved on 2015-11-30.
  21. Maldives girl to get 100 lashes for pre-marital sex – BBC News. Bbc.co.uk. Retrieved on 2015-11-30.
  22. Morocco protest after raped Amina Filali kills herself – BBC News. Bbc.co.uk. Retrieved on 2015-11-30.
  23. Ellis, Lee (১৯৮৯)। Theories of rape: inquiries into the causes of sexual aggression। Washington, D.C: Hemisphere Pub. Corp। আইএসবিএন 0-89116-172-4 
  24. Smuts, Barbara B. Male Aggression and Sexual Coercion of Females in Nonhuman Primates and Other Mammals: Evidence and Theoretical Implications. Advances in the Study of Behavior 22 (1993)

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]