সরদার আমজাদ হোসেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরদার আমজাদ হোসেন
সরদার আমজাদ হোসেন.jpg
রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
৭ মে ১৯৮৬ – ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬
পূর্বসূরীএহসান আলী খান
উত্তরসূরীমুহম্মদ আবদুল গফুর
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মআনু. ১৯৩৯
রাজশাহী জেলা,, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু১৯ ডিসেম্বর ২০১৪
রাজনৈতিক দলজাতীয় পার্টি
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ

সরদার আমজাদ হোসেন (আনু. ১৯৩৯ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪) বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার রাজনীতিবিদ যিনি রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।[১]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

সরদার আমজাদ হোসেন আনু. ১৯৩৯ সালে বাংলাদেশের রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।[১]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

ষাটের দশকে ছাত্রলীগে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে রাজনীতিতে আসা আমজাদ হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে কয়েক দফা সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় পার্টিতে গিয়ে আবার আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন।[২]

  • ১৯৬৪ সালে আওয়ামী ছাত্রলীগে যোগ দিয়ে সরদার আমজাদের রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক(জিএস)নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
  • ১৯৬৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান আমজাদ। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
  • আমজাদ হোসেন ১৯৭০ সালে প্রথম পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ ও ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
  • ১৯৮৭ সালে সাংসদ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে এরশাদ সরকারের মন্ত্রী হন আমজাদ হোসেন। এরশাদের শাসনামলে খাদ্য, মৎস্য ও পশু সম্পদ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন তিনি।
  • ২০০৭ সালে জাতীয় পার্টি ছেড়ে আবার আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন সরদার আমজাদ হোসেন।
  • ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে রাজনীতিতে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে যান আমজাদ হোসেন।

৭ মে ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৩] এর পর জাতীয় পার্টিতে যোগদিয়ে ১৯৮৮ সালের চতুর্থ ও ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৪][৫]

লিখালিখি[সম্পাদনা]

বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কলাম লেখার পাশাপাশি কয়েকটি বইও লিখেছেন আমজাদ হোসেন।[৬] এগুলো হলো-

  • অর্ধশতাব্দীর মূল্যায়ন
  • বাংলাদেশের জয়-পরাজয়ের রাজনীতি
  • একুশ শতকের সিঁডিতে বাংলাদেশ

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ বিকেলে রাজধানীর এ্যাপোলো হ‍াসপাতালে চিকিৎসাধীন আমজাদের মৃত্যু হয়।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "সরদার আমজাদ আর নেই"banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ১৬, ২০১৮ 
  2. "সাবেক মন্ত্রী সরদার আমজাদ আর নেই"thereport24.com। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ১৬, ২০১৮ 
  3. "৩য় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (PDF)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  4. "৪র্থ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (PDF)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ৮ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  5. "৫ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (PDF)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  6. "সরদার আমজাদ ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের উজ্জ্বল নক্ষত্র"banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ১৬, ২০১৮