বিষয়বস্তুতে চলুন

শেখ হবিবর রহমান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শেখ হবিবর রহমান সাহিত্যরত্ন
জন্ম১৮৯১
(মতান্তরেঃ ১৮৯০, বা, ১৮৯৪)
মৃত্যু৭ মে ১৯৬২
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
পরিচিতির কারণশিক্ষকতা ও সাহিত্যিক
উল্লেখযোগ্য কর্ম
পারিজাত, কোহিনুর

শেখ হবিবর রহমান সাহিত্যরত্ন (১৮৯১ - ৭ মে ১৯৬২)[১] হলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। তিনি বাংলা একাডেমির একজন “সন্মানিত ফেলো” ছিলেন।[২]

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি

[সম্পাদনা]

শেখ হবিবর রহমান ১৮৯১ সালে বর্তমান মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার ঘোষগাতি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[১][৩] তাঁর বাবার নাম শেখ দেরাজতুল্লাহ এবং দাদার নাম শেখ হেরাজতুল্লাহ।

শিক্ষাজীবন

[সম্পাদনা]

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

তিনি শিক্ষক হিসাবে ১৯১৪ সালে যশোর জিলা স্কুলে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পর্যায়ক্রমে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত বারাসাত সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, হুগলি ব্রাঞ্চ স্কুল ও বারাকপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে খুলনায় মক্তব সাব-ইনস্পেক্টর হিসাবে ১৯৪৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন।[৪] পরবর্তীকালে, তিনি ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত খুলনা করোনেশন বালিকা বিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেন।[৪]

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

হবিবর রহমান ১৯৬২ সালের ৭ মে খুলনায় মৃত্যুবরণ করেন।[৪]

সাহিত্য-কর্ম

[সম্পাদনা]

হবিবর রহমান সাপ্তাহিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৪) এবং মাসিক বঙ্গনূর (১৯১৯) ও ঊষা পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।[৪] তিনি কলকাতায় ‘‘পারিজাত সাহিত্য কুটির’’ প্রতিষ্ঠা করেন।[৩] তার বিখ্যাত সাহিত্য-কর্মগুলো হলোঃ[৩][৪]

  • পারিজাত (১৯১২),
  • আবে হায়াত (গজল গ্রন্থ, ১৯১৪),
  • চেতনা (প্রবন্ধ সংকলন, ১৯১৫),
  • পরীর কাহিনী (প্রেম উপাখ্যান, ১৯১৬),
  • নিয়ামত (গল্প গ্রন্থ ১৯১৭),
  • বাঁশরী (কাব্য গ্রন্থ, ১৯১৭),
  • হাসির গল্প (১৯১৭),
  • কোহিনূর (মহাকাব্য, ১৯১৯),
  • আলমগীর (উপন্যাস ১৯১৯),
  • মালাবারে ইসলাম প্রচার (১৯১৯),
  • ভারত সম্রাট বাবর (কিশোর ইতিহাস, ১৯১৯),
  • পরীজাদী গুলবাহার (প্রেম উপাখ্যান, ১৯১৯),
  • সা’দীর কলাম (অনূদিত কাব্যগ্রন্থ, ১৯২৬),
  • সুন্দর বনের কাহিনী (১৯২৭),
  • আমার সাহিত্যজীবন (১৯২৭),
  • গুলশান (কাব্য গ্রন্থ, ১৯২৮),
  • জিনপরী (প্রম উপাখ্যান, ১৯২৮),
  • গুলিস্তাঁ (বঙ্গানুবাদ, ১৯৩৩),
  • বুস্তা বঙ্গানুবাদ (১৯৩৩)
  • ছেলেদের হযরত মুসা (১৯৩৪),
  • কর্মবীর মুন্শী মেহেরুল্লাহ্ (১৯৩৪),
  • ছোটদের গল্প (১৯৩৫),
  • ভারত সম্রাট বাবর (১৯৩৬),
  • সংক্ষেপে বিষাদ সিন্ধু (১৯৩৭),
  • ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ (কিশোর কাব্য সংকলন, ১৯৪৩),
  • শয়তানের সভা (সচিত্র ব্যঙ্গরসাত্মক গদ্যরচনা, ১৯৪৬),
  • মোল্লা বাকাউল্লাহ (গল্প গ্রন্থ, ১৯৪৭),
  • ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম (প্রবন্ধ পুস্তক, ১৯৪৯),
  • মরণের পরে (গদ্য, ১৯৫৫),
  • হায়াতে সাদী,
  • বুস্তার গল্প
  • ধর্মবিদ্বেষ ও ইসলাম ইত্যাদি।

পুরস্কার ও সম্মাননা

[সম্পাদনা]

‘নদীয়া সাহিত্য সভা’ তাকে ‘‘সাহিত্যরত্ন’’ উপাধিতে ভূষিত করে।[৪] সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ তাকে “সম্মানসূচক ফেলোশিপ” প্রদান করে।[২]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "মাগুরা জেলার প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব: শেখ হবিবর রহমান সাহিত্যরত্ন"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নঃ মাগুরা জেলা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২৮ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭।
  2. 1 2 "বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ"। বাংলা একাডেমি। ৬ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭।
  3. 1 2 3 "দেশবীক্ষণঃ মাগুরা জেলার প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব"। দৈনিক যায় যায় দিন অনলাইন। ৩০ অক্টোবর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭।
  4. 1 2 3 4 5 6 বদিউজ্জামান (জানুয়ারি ২০০৩)। "রহমান, শেখ হবিবর"। সিরাজুল ইসলাম (সম্পাদক)। [[বাংলাপিডিয়া]]। ঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ। আইএসবিএন ৯৮৪-৩২-০৫৭৬-৬। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭। {{বই উদ্ধৃতি}}: ইউআরএল–উইকিসংযোগ দ্বন্দ্ব (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]