শাহ ন্যালচাঁদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শাহ ন্যালচাঁদ
শাহ ন্যালচাঁদ.jpg
সংগৃহীত স্থিরচিত্রে শাহ ন্যালচাঁদ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামশাহ নীলচাঁদ
জন্ম১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫
ধ্রাঙ্গধরা, গুজরাত, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৩ জানুয়ারি, ১৯৯৭
জুনাগড়, গুজরাত, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনবামহাতি মিডিয়াম পেস
ভূমিকাবোলার, কোচ
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৬৩)
২৩ অক্টোবর ১৯৫২ বনাম পাকিস্তান
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫৭
রানের সংখ্যা ৪২০
ব্যাটিং গড় ৭.০০ ৭.৬৩
১০০/৫০ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৬* ৩৩
বল করেছে ৩৮৭ ১৪,৪১৯
উইকেট ২৩৫
বোলিং গড় ৩২.৩৩ ২২.৫৭
ইনিংসে ৫ উইকেট - ১৫
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৩/৯৭ ৭/৩২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৮
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৯ এপ্রিল ২০২০

শাহ ন্যালচাঁদ (এই শব্দ সম্পর্কেpronunciation ; মারাঠি: शाह न्यालचंद; জন্ম: ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫ - মৃত্যু: ৩ জানুয়ারি, ১৯৯৭) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের ধ্রাঙ্গধরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে গুজরাত, কাঠিয়ার, সৌরাষ্ট্র ও পশ্চিম ভারত দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি মিডিয়াম পেস বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন তিনি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত শাহ ন্যালচাঁদের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল।

রঞ্জী ট্রফিতে সর্বমোট ২৪ মৌসুম খেলেছেন। তন্মধ্যে, অর্ধেক মৌসুম সৌরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ১৯৩৯-৪০ মৌসুমে পশ্চিম ভারতে পক্ষে রঞ্জী ট্রফিতে প্রথম খেলেন। এরপর গুজরাত দলের সদস্য হন ও সবশেষে তিন মৌসুম সৌরাষ্ট্র দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। এ পর্যায়ে তিনি ২৭ উইকেট পান। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে বরোদরা’র বিপক্ষে শেষ খেলায় ৬৪ রান খরচায় ১১ উইকেট দখল করেছিলেন তিনি। এ পর্যায়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে হ্যাট্রিকের কৃতিত্ব অর্জন করেন। মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ভেঙ্গে ভেঙ্গে হ্যাট্রিক করেছেন।

দুই মৌসুমে একাধারে তিনবার দশ উইকেট পেয়েছিলেন। টেস্ট বাদে আঞ্চলিক দলের সদস্যরূপে সফররত দলের বিপক্ষে খেলেছেন। ১৯৫৭ সালে বোম্বের সান্দার ক্রিকেট ক্লাবের সদস্যরূপে পূর্ব আফ্রিকা গমন করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন শাহ ন্যালচাঁদ। ২৩ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে লখনউয়ের ইউনিভার্সিটি গ্রাউন্ডে সফরকারী পাকিস্তান দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

ভারতের পক্ষে অভিষেক ঘটা ঐ টেস্টে স্মরণীয় বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। পাকিস্তানের উদ্বোধনী সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। লখনউয়ের ম্যাটিং পিচে ৬৪ ওভার বোলিং করে ৩/৯৭ পান। তবে, নজর মোহাম্মদ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করলে সফরকারী দল ইনিংস ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। এ মাঠটিই ভারতের একমাত্র ম্যাটিং উইকেট ছিল ও সর্বমোট দুই টেস্টের আয়োজন করা হয়েছিল।

মিডিয়াম পেস বোলার হিসেবে তিনি সচরাচর ম্যাটিং উইকেটে তার বোলিংয়ের কার্যকারিতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। বিখ্যাত ক্রিকেটার ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট ফ্রাঙ্ক ওরেল একবার ন্যালচাঁদ সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি ম্যাটিং উইকেটের রাজা।

অবসর[সম্পাদনা]

ধ্রাঙ্গধরার স্যার অজিতসিংজী হাই স্কুলে বিদ্যালয় জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। এরপর, রাজকোটের গুজরাতের জনকর্ম বিভাগে পাণ্ডুলিপিকার হিসেবে কাজ করেন। এক পর্যায়ে ক্রিকেট কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। বিসিসিআই কর্তৃক আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত হন।

উপর্যুপরী হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হন। অতঃপর ৩ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে ৭৭ বছর বয়সে গুজরাতের জুনাগড় এলাকায় শাহ ন্যালচাঁদের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]