বিষয়বস্তুতে চলুন

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(লেওনার্দো দা ভিঞ্চি থেকে পুনর্নির্দেশিত)
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি
লাল খড়িতে ১৫১২-১৫১৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে আঁকা লিওনার্দোর আত্মপ্রতিকৃতি[]
জন্ম
লেওনার্দো দি সের পিয়েরো

(১৪৫২-০৪-১৫)১৫ এপ্রিল ১৪৫২
মৃত্যুমে ২, ১৫১৯(1519-05-02) (বয়স ৬৭)
জাতীয়তাইতালীয়
কর্ম
মোনা লিসা, শেষ নৈশভোজ (লিওনার্দো দা ভিঞ্চি), ভিত্রুভিয়ানো মানব,লেডি উইথ অ্যান এরমাইন
আন্দোলনউচ্চ রেনেসাঁস
স্বাক্ষর

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি বা লেওনার্দো দা ভিঞ্চি বা লিওনার্দো দি সের পিয়েরো দা ভিঞ্চি[] (১৫ এপ্রিল ১৪৫২ – ২ মে ১৫১৯) ছিলেন উচ্চ রেনেসাঁর এক ইতালীয় বহুমুখী প্রতিভা, যিনি চিত্রশিল্পী, অঙ্কনশিল্পী, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, তাত্ত্বিক, ভাস্কর ও স্থপতি হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।[] তাঁর খ্যাতি প্রথমে চিত্রশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তীকালে তিনি পরিচিত হন তাঁর নোটবইগুলির জন্য, যেখানে তিনি শারীরস্থান, জ্যোতির্বিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, মানচিত্রবিদ্যা, চিত্রকলা ও জীবাশ্মবিদ্যাসহ নানা বিষয়ে অঙ্কন ও নোট লিখেছিলেন। লিওনার্দোকে ব্যাপকভাবে একজন মেধাবী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যিনি রেনেসাঁ মানবতাবাদী আদর্শের প্রতিমূর্তি ছিলেন,[] এবং তাঁর সমষ্টিগত কাজ পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের উপর এমন প্রভাব ফেলেছে যা কেবলমাত্র তাঁর তরুণ সমসাময়িক মাইকেলাঞ্জেলোর সঙ্গে তুলনীয়।[][]

অবৈধ সম্পর্কের ফলে জন্মগ্রহণকারী লিওনার্দো এক সফল নোটারি পিতা ও নিম্নবিত্ত মায়ের সন্তান ছিলেন, ভিঞ্চি গ্রাম বা তার আশেপাশে জন্ম। তিনি ফ্লোরেন্সে ইতালীয় চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর আন্দ্রেয়া দেল ভেরোকিওর কাছে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ওই শহরেই কর্মজীবন শুরু করেন, কিন্তু পরবর্তীতে লুডোভিকো স্ফোর্ৎসার অধীনে মিলানে দীর্ঘ সময় কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি পুনরায় ফ্লোরেন্স ও মিলানে কাজ করেন এবং অল্প সময়ের জন্য রোমেও অবস্থান করেন, এসময় তাঁর অনুসারী ও শিক্ষার্থীদের একটি বড় দল গড়ে ওঠে। ফ্রান্সিস প্রথমের আমন্ত্রণে তিনি জীবনের শেষ তিন বছর ফ্রান্সে কাটান, যেখানে ১৫১৯ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর সাফল্য, বহুবিধ আগ্রহ, ব্যক্তিজীবন ও বাস্তবধর্মী চিন্তাভাবনা কখনও মানুষের আগ্রহ ও প্রশংসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি,[][] ফলে তিনি সংস্কৃতিতে এক অনন্ত নামধারীসাংস্কৃতিক অনুপ্রেরণা হিসেবে স্থায়ী স্থান পেয়েছেন।

লিওনার্দোকে পাশ্চাত্য শিল্পের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রশিল্পী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং তাঁকে প্রায়ই উচ্চ রেনেসাঁর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।[] যদিও তাঁর বহু হারানো কাজ রয়েছে এবং ২৫টিরও কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাঁর নামে নিবন্ধিত। যার মধ্যে অনেক অসমাপ্ত রচনাও রয়েছে, তবু তিনি পশ্চিমা ঐতিহ্যের কিছু প্রভাবশালী চিত্রকর্ম সৃষ্টি করেছেন।[] তাঁর মোনা লিসা সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ এবং এটি বিশ্বের সর্বাধিক পরিচিত একক চিত্রকর্ম হিসেবে বিবেচিত।[] দ্য লাস্ট সাপার সর্বকালের সর্বাধিক পুনরুৎপাদিত ধর্মীয় চিত্রকর্ম এবং তাঁর ভিত্রুভিয়ান ম্যান অঙ্কনকেও একটি সাংস্কৃতিক প্রতীকের মর্যাদা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে, লিওনার্দোর পূর্ণ বা আংশিক কৃতিত্বে সম্পন্ন সালভাতর মুন্ডি [] মার্কিন$৪৫০.৩ মিলিয়ন ডলারে নিলামে বিক্রি হয়। যা পরবর্তিতে পাবলিক নিলামে বিক্রিত সর্বাধিক দামী চিত্রকর্মের নতুন রেকর্ড স্থাপন করে।

তিনি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি উড়ন্ত যন্ত্র, সাঁজোয়া যুদ্ধযানের নকশা, সূর্যের আলোকে কেন্দ্রীভূত করে শক্তি উৎপাদনের পদ্ধতি, গণনাযন্ত্রে ব্যবহারের উপযোগী অনুপাত নির্ধারণের যন্ত্র, এবং দ্বিস্তরিত বা ডাবল হালের নৌকা কাঠামোর ধারণা উপস্থাপন করেছিলেন।[][] তার জীবদ্দশায় আধুনিক ধাতুবিদ্যা ও প্রকৌশলবিজ্ঞান মাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় তার নকশাগুলির অল্প কয়েকটি বাস্তবায়িত হয়েছিল বা কার্যকর ছিল। তবে তার কিছু ছোট উদ্ভাবন অজান্তেই উৎপাদন জগতে ব্যবহৃত হয়, যেমন স্বয়ংক্রিয় সুতো প্যাঁচানোর যন্ত্র ও তারের দৃঢ়তা পরীক্ষার যন্ত্র। তিনি শারীরস্থান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, হাইড্রোডাইনামিক্স, ভূতত্ত্ব, অপটিকবিজ্ঞান এবং ঘর্ষণবিজ্ঞান ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু তিনি সেগুলি প্রকাশ করেননি এবং সেগুলির পরবর্তী বিজ্ঞানচর্চায় প্রায় কোনো প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েনি।[][]

জীবনী

[সম্পাদনা]
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বাপ্তিস্মের নথি

জন্ম ও পটভূমি

[সম্পাদনা]

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির প্রকৃত নাম ছিল লিওনার্দো দি সের পিয়েরো দা ভিঞ্চি[] (“লিওনার্দো, সের পিয়েরোর পুত্র, ভিঞ্চি থেকে”),[১০][১১][] ১৫ এপ্রিল ১৪৫২ সালে তিনি ইতালির টাসকানির পাহাড়ি শহর ভিঞ্চিতে বা তার কাছাকাছি জন্মগ্রহণ করেন, যা ফ্লোরেন্স থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে।[১২][১৩][]

তিনি অবৈধ সন্তান হিসেবে ফ্লোরেন্সের আইনজীবী পিয়েরো দা ভিঞ্চি (সের পিয়েরো দা ভিঞ্চি দ’আন্তোনিও দি সের পিয়েরো দি সের গুয়িদো; ১৪২৬–১৫০৪)[১৭][১২] ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ক্যাতেরিনা দি মেও লিপ্পির (প্রায় ১৪৩৪–১৪৯৪) সন্তান হিসেবে জন্ম নেন।[১৮][১৯] []

লিওনার্দোর জন্মস্থান নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্থানীয় ইতিহাসবিদ এমানুয়েল রিপেত্তির রেকর্ড অনুযায়ী তিনি আনকিয়ানো গ্রামের এক বাড়িতে জন্মেছিলেন, যা অবৈধ জন্মের জন্য যথেষ্ট গোপনীয়তা দিত, যদিও সম্ভবত তিনি ফ্লোরেন্সের সেই বাড়িতেও জন্ম নিতে পারেন যা সের পিয়েরোর ছিল।[২২][]

লিওনার্দোর পিতা-মাতা দুজনেই তাঁর জন্মের পরবর্তী বছর আলাদাভাবে বিবাহ করেন। তার মা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত দাসী ছিলেন। আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে লিওনার্দোর নামে কোন বংশ পদবী ছিল না। "দা ভিঞ্চি" দিয়ে বোঝায় তিনি এসেছেন ভিঞ্চি নগরী থেকে। তার পুরো নাম “লেওনার্দো দি সের পিয়েরো দা ভিঞ্চি” এর অর্থ হল "পিয়েরোর পুত্র লেওনার্দো, যার জন্ম ভিঞ্চিতে"। ক্যাতেরিনা যিনি পরে লিওনার্দোর নোটে কেবল “ক্যাতেরিনা” বা “কাতেলিনা” নামে উল্লেখিত। সম্ভবত ক্যাতেরিনা বুতি দেল ভাক্কা, যিনি স্থানীয় কারিগর আন্তোনিও দি পিয়েরো বুতি দেল ভাক্কার স্ত্রী হন, যার ডাকনাম ছিল ইতালীয়: L'Accattabriga[১৮][২৩] অন্যদিকে, সের পিয়েরো আগের বছর আলবিয়েরা আমাদোরিকে বিয়ে করেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর আরও তিনবার বিবাহ করেন।[২৩][২৪][]

সর্বমোট বিবাহগুলো থেকে লিওনার্দোর ১৬ জন সৎভাইবোন জন্মায় (যাদের মধ্যে ১১ জন শৈশব অতিক্রম করে বেঁচে ছিলেন),[২৫] এবং তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে ছোটজনের জন্মের সময় লিওনার্দোর বয়স ছিল ৪৬ বছর।[২৫] তিনি তাঁদের সঙ্গে খুব কমই যোগাযোগ রাখতেন।[]

অলিভগাছ বেষ্টিত ছোট জানালা বিশিষ্ট প্রাচীন পাথরের বাড়ির ছবি
ইতালির আনকিয়ানো, ভিঞ্চিতে লিওনার্দোর সম্ভাব্য জন্মস্থান ও শৈশবের বাড়ি

লিওনার্দোর শৈশব সম্পর্কে খুব কম তথ্য পাওয়া যায়, আর যেটুকু জানা যায় তার অনেকটাই কিংবদন্তি বা গুজবনির্ভর। বিশেষত ১৬শ শতাব্দীর শিল্প-ইতিহাসবিদ জর্জিও ভাসারির লাইভস অব দ্য মোস্ট এক্সেলেন্ট পেইন্টারস, স্কাল্পটারস, অ্যান্ড আর্কিটেক্টস (১৫৫০) বইয়ের বর্ণনা থেকে।[২৮][২৯] কর রেকর্ড অনুযায়ী ১৪৫৭ সালের মধ্যে তিনি তাঁর পিতামহ আন্তোনিও দা ভিঞ্চির বাড়িতে বসবাস করতেন,[১২] যদিও ধারণা করা হয় যে তার আগে তিনি মায়ের সঙ্গে ভিঞ্চিতে, সম্ভবত আনকিয়ানো বা সান পান্তালেওনের পারিশের কাম্পো জেপ্পিতে কাটিয়েছিলেন।[৩০][৩১]

তিনি তাঁর চাচা ফ্রান্সেস্কো দা ভিঞ্চির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে ধারণা করা হয়,[] তবে তাঁর পিতা অধিকাংশ সময় ফ্লোরেন্সে ছিলেন।[১২] সের পিয়েরো, যিনি একাধিক প্রজন্ম ধরে নোটারি পরিবারের উত্তরসূরি ছিলেন, অন্তত ১৪৬৯ সালের মধ্যে ফ্লোরেন্সে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সফল কর্মজীবন গড়ে তোলেন।[১২]

তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও, লিওনার্দো কেবল প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন—নিজ ভাষায় লেখা-পড়া ও গণিতে। ধারণা করা হয় তাঁর শৈল্পিক প্রতিভা খুব অল্প বয়সেই প্রকাশ পেয়েছিল, তাই পরিবার তাঁকে ওই দিকেই মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করেছিল।[১২]

পরবর্তী জীবনে লিওনার্দো কোডেক্স আটলান্টিকাসে তাঁর শৈশবের একটি স্মৃতি লিপিবদ্ধ করেন।[৩২] পাখির উড্ডয়ন সম্পর্কে লিখতে গিয়ে তিনি স্মরণ করেন, শিশু অবস্থায় এক ঘুড়ি তাঁর খাটে এসে লেজ দিয়ে তাঁর ঠোঁট খুলে দিয়েছিল। অনেকে এখনো বিতর্ক করেন, এটি বাস্তব স্মৃতি ছিল নাকি কল্পনা।[৩৩]

কৈশোর (১৪৫২-১৪৬৬)

[সম্পাদনা]

লিওনার্দোর জীবনের প্রথম অংশ বিষয়ে খুবই অল্প জানা গিয়েছে। তার জীবনের প্রথম ৫ বছর কেটেছে আনসিয়ানের একটি ছোট্ট গ্রামে। তারপর তিনি চলে যান ফ্রান্সিসকোতে, সেখানে তিনি তার পিতা, দাদা,দাদি ও কাকার সাথে থাকতেন। তার পিতা অ্যালবিরা নামে এক ষোড়শী তরুণী কে বিয়ে করেছিল। সে লিওনার্দো কে অনেক স্নেহ করত। কিন্তু অল্প বয়সেই সে মৃত্যবরণ করে। এর পরে কৈশোর জীবন বিষয়ে লিওনার্দো দুটি ঘটনার কথা লিপিবব্ধ করে গিয়েছেন। প্রথমটি হল একবার একটি চিল হঠাৎ করে আকাশ থেকে নেমে তার দোলনার উপর দিয়ে যাবার সময় তার মুখে এর লেজের পালক বুলিয়ে যায়। লোকজন এই ঘটনাকে তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতার লক্ষণ হিসেবেই ধরে নিয়েছিল। দ্বিতীয় ঘটনা হল, তিনি ছোটবেলায় একবার এক পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটা গুহা আবিষ্কার করেছিলেন। গুহাটা ছিল অন্ধকার, আর তার মনে হচ্ছিল এর ভিতরে নিশ্চয় কোনো অতিকায় দৈত্য লুকিয়ে আছে। কিন্তু তার অদম্য কৌতূহলের কারণে তিনি এই গুহায় কী আছে, তা খুঁজেও দেখেছিলেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ষোড়শ শতাব্দীর জীবনী লেখক ভাসারি রেঁনেসার চিত্রশিল্পীদের জীবনী লিখেছিলেন। লিওনার্দো কে নিয়ে তিনি তার বর্ণনায় বলেছেন-লিওনার্দো-র বাবা কে স্থানীয় একজন লোক বলেছিল তিনি যেন তার ছেলেকে একটি ছবি আঁকতে বলেন। লিওনার্দো এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে একটি ছবি এঁকেছিল। ছবিটিতে ছিল একটি সাপ মুখ থেকে আগুন নির্গত করছে। ছবিটি এত সুন্দর হয়েছিল যে পিয়েরো তা স্থানীয় চিত্র ব্যবসায়ীদের কাছে তা বেশ ভাল দামে বিক্রি করেছিলেন। আর যে লোকটি তাকে এ ছবিটি আঁকিয়ে নিতে বলেছিল, তিনি তাকে একটি হৃদয়ের ছবি আঁকা ফলক উপহার দিয়েছিলেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

শিক্ষা

[সম্পাদনা]

দা ভিঞ্চি কোনও রকম আনুষ্ঠানিক লেখাপড়া গ্রহণ করেননি। তার লেখাপড়ার সবকিছুই ঘরোয়াভাবে। তার ছিল প্রকৃতির প্রতি ভীষণ টান। এজন্য তিনি বেশিরভাগ সময় বাইরে বাইরে কাটাতে পছন্দ করতেন। ১৪৬৬ সালে লিওনার্দোর বয়স যখন ১৪ তখন তাকে ডেল ভেরোচ্চির কাছে শিক্ষানবিশ হিসেবে পাঠানো হয়, এরপর দ্রুতই তার প্রতিভার প্রকাশ ঘটে। বলা হয়ে থাকে ভিঞ্চির “দা ব্যাপ্টিজম অফ ক্রাইস্ট” এতটাই সুনিপুণ হয় যে তা দেখার পর ভেরোচ্চি জীবনের জন্য আঁকা ছেড়ে দেবার পণ করেন।

ভ্যারিচ্চিও-র কাজে যোগদান (১৪৬৬-১৪৭৬)

[সম্পাদনা]
ইতালির ফ্লোরেন্সে স্থাপিত লিওনার্দোর একটি মূর্তি

১৪৬৬ সালে লিওনার্দোর বয়স যখন ১৪, তখন তিনি ভ্যারিচ্চিও (Verrocchio)-র কাছে শিক্ষানবীশ হিসেবে যোগ দেন। ভ্যারিচ্চিও-র পুরো নাম “আন্দ্রে দাই সায়ন”, তিনি ছিলেন সে সময়ের একজন সফল চিত্রকর। ভ্যারিচ্চিও-র কর্মস্থলে তৎকালীন গুণী মানুষদের সমাগম হত।আরও নামকরা যেসব শিল্পী ভ্যারিচ্চিও-র তত্ত্বাবধানে কাজ করত বা তার ওয়ার্কশপে যাতায়াত করত, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন গিরল্যান্ডিও (Ghirlandaio), পেরুগন (Perugino), লরেঞ্জো দাই ক্রিডি (Lorenzo di Credi)।

এখানে কাজ করে লিওনার্দো হাতে কলমে প্রচুর কারিগরি জ্ঞানার্জন করেছিলেন। তার সুযোগ হয়েছিল কারুকার্য, রসায়ন, ধাতুবিদ্যা, ধাতু দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানানো, প্রাস্টার কাস্টিং, চামড়া দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানানো, গতিবিদ্যা এবং কাঠের কাজ ইত্যাদি শেখার। তিনি আরও শিখেছিলেন দৃষ্টিনন্দন নকশা করা, ছবি আঁকা, ভাস্কর্য তৈরি এবং মডেলিং। ভ্যারিচ্চিও-র ওয়ার্কশপে বেশিরভাগ কাজ করত তার অধীনস্থ কর্মচারীরা। ভাসারীর বর্ণনানুসারে লিওনার্দো ভ্যারিচ্চিও কে তার “ব্যাপ্টিজম অব ক্রাইস্ট” ছবিটিতে সাহায্য করেছিলেন। ছবিটিতে দেখানো হয়েছে একটি দেবদূত যীশুর লাঠি ধরে আছে। ছবিটি ভ্যারিচ্চিও কে এতটাই অভিভূত করেছিল যে তিনি নাকি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর কখনো তুলিই ধরবেন না, ছবিও আঁকবেন না। তবে খুব সম্ভবত ভাসারি ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করেছিলেন। সূক্ষ্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এ ছবিটির যে সব বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় তা হল- এটি বিশেষ পদ্ধতিতে তৈল রং দিয়ে আঁকা। ভ্যারিচ্চিও বেশ কয়েকটি কাজে লিওনার্দো মডেল হিসেবে ছিলেন। যেমন- “ডেভিড” চরিত্রে “দি বার্জেলো” ( Bargello) নামক ব্রোঞ্জ মূর্তিতে, “আর্চঅ্যাঞ্জেল মাইকেল” হিসেবে “টোবিস এন্ড অ্যাঞ্জেল“(Tobias and the Angel) এ।

১৪৭২ সালে ২০ বছর বয়সে লিওনার্দো “গিল্ড অব সেন্ট লুক” এর পরিচালক হবার য্যোগ্যতা অর্জন করেন। এটি চিকিৎসক এবং চিত্রকরদের একটি সংঘ। কিন্তু তার বাবা তাঁকে নিজেদের ওয়ার্কশপের কাজে লাগিয়ে দেন। ভ্যারিচ্চিওর সাথে চুক্তি অনুসারে তিনি তার সাথেও কাজ চালিয়ে যান। লিওনার্দোর নিজের হাতে তারিখ দেওয়া সবচেয়ে পুরানো ছবি হল আর্নোভ্যালি, তারিখটি হল ৫ আগস্ট ১৪৭৩।

পেশাগত জীবন (১৪৭৬-১৫১৩)

[সম্পাদনা]

আদালতের নথি থেকে দেখা যায় একবার লিওনার্দো সহ আরও ৩ জন যুবককে সমকামীতার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং তারা বেকসুর খালাসও পেয়েছিল। এরপর ১৪৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি কি করেছিলেন, কোথায় ছিলেন তার কিছুই জানা যায়নি। ধারণা করা হয় পরবর্তিতে ১৪৭৮ থেকে ১৪৮১ পর্যন্ত লিওনার্দো তার নিজের ওয়ার্কশপে কাজ করেছেন। তিনি ১৪৭৮ সালে চ্যাপেল অব সেন্ট বার্নার্ড ও “অ্যাডোরেশন অব দি ম্যাগি” এবং ১৪৮১ সালে “মঙ্ক অব সান ডোনাটো এ স্কাপিটো” আঁকার দায়িত্ব পান।

ভাসারির মতে লিওনার্দো সে সময়ের সেরা সংগীতজ্ঞ ছিলেন। ১৪৮২ সালে তিনি ঘোড়ার মাথার আকৃতির একটি বীণা তৈরি করেছিলেন। লরেঞ্জো দ্য মেডিসি (Lorenzo de’ Medici) লিওনার্দো-র হাতে এই বীনা উপহার স্বরূপ মিলানের ডিউক লুদোভিকো এল মোরো (Ludovico il Moro) এর কাছে পাঠিয়েছিলেন শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করার জন্য। এ সময় লিওনার্দো ডিউকের কাছে একটি চিঠি লিখেন, যাতে ছিল তার উদ্ভাবিত বিভন্ন চমকপ্রদ যন্ত্রের বর্ণনা। তিনি এ চিঠিতে নিজের চিত্রশিল্পী পরিচয়ের কথাও লিখেছিলেন।

লিওনার্দো ১৪৮২ থেকে ১৪৯৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মিলানে কাজ করেছেন। এখানে তিনি ভার্জিন অব দ্যা রকস্ এবং দ্যা লাস্ট সাপার ছবি দুটি আঁকার দায়িত্ব পান। ১৪৯৩ থেকে ১৪৯৫ এর মধ্যে তার অধিনস্তদের মাঝে ক্যাটরিনা নামে এক মহিলার নাম পাওয়া যায়। ১৪৯৫ সালে এ মহিলাটি মারা যান। সে সময় তার শেষকৃত্যের খরচ দেখে ধারণা করা হয় তিনি ছিলেন লিওনার্দোর মা।

সালভাতোর মুন্ডি ও দ্য লাস্ট সাপার

[সম্পাদনা]
সালভাতোর মুন্ডি (সময়কাল: আনুমানিক ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ)
দ্য লাস্ট সাপার।

ইতিহাস গড়া এই ছবিটি যিশুখ্রিষ্টের। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি এক হাত তুলে রয়েছেন (আশীর্বাদ দেওয়ার ভঙ্গি) এবং অন্য হাতে একটি স্ফটিকের গোলক। ‘সালভাতোর মুন্ডি’—শব্দের অর্থ ‘বিশ্বের পরিত্রাতা’।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ১৫০৫ সালের কিছু পরে ছবিটি এঁকেছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ভিঞ্চি। অনেক দিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর ২০০৫ সালে ছবিটি প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। ২০১৩ সালে ছবিটি ১২ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে কিনে নেন রুশ সংগ্রাহক এবং ফুটবল ক্লাব এএস মোনাকোর মালিক দিমিত্রি রাইবলোভেলভ।[৩৪]

প্রকৌশল এবং উদ্ভাবন

[সম্পাদনা]
একটি উড়ন্ত মেশিনের জন্য একটি নকশা, ফ্রান্স, প্যারিস (সি. ১৪৮৮) ইনস্টিটিউট

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি তার জীবদ্দশায় প্রকৌশলী হিসেবেও অনেক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। লুভোডিকো মুরো নামক এক ব্যক্তিকে তিনি এক চিঠি দিয়ে দাবি করেছিলেন যে তিনি একটি শহরের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার জন্য স্বয়ংক্রিয় কিছু যন্ত্র আবিষ্কারে সক্ষম হয়েছেন। তারপর যখন তিনি ভেনিসে স্থানান্তরিত হলেন, তখন সেখানে তিনি এক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে চাকরি পান। যেখানে তিনি তার উদ্ভাবনী শক্তির পূর্ন বিকাশ সাধন করেন। শহরকে বহিরাগত আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য একটি স্থানান্তর যোগ্য ব্যারিকেট তৈরিতে সক্ষম হন যার ফলে তিনি অনেক খাতি অর্জন করেন। লিওনার্দো তার পত্রিকায় বিভিন্ন বাস্তব এবং অবাস্তব যন্ত্রের বর্ণনা দিয়েছিলেন। যার মধ্যে রয়েছে নানা রকম বাদ্যযন্ত্র , একটি যান্ত্রিক সৈন্য, হাইড্রোলিক পাম্প, ডানার মর্টার শেল এবং একটি বাষ্প কামান।

তিনি তার জীবনের একটি বড় সময় উড্ডন সক্ষম যন্ত্র তৈরিতে ব্যয় করেন। তিনি তার জীবদ্দশায় উড়তে সক্ষম এরকম যন্ত্র ডিজাইনে ব্যাস্ত ছিলেন। তারই প্রদত্ত ডিজাইনে বর্তমানে আধুনিক বিমান নির্মাণ সক্ষম হয়েছে।

শেষ জীবন,১৫১৩ থেকে ১৫১৯

[সম্পাদনা]
"ক্লস লুইস" ভবন, ফ্রান্স যেখানে লিওনার্দো ১৫১৯ সালে মারা যান

সেপ্টেম্বর ১৫১৩ থেকে ১৫১৬ পর্যন্ত অধিকাংশ সময় তিনি রোমে দশম পোপ এর অধীনে কাটিয়েছিলেন। অক্টোবর ১৫, ১৫১৫ তে যখন রাজা ফ্রান্সিস ১ম মিলান দখল করলেন তখন লিওনার্দো তার অধীনে কাজ শুরু করেন। তিনি তখন রাজার বাসভবনের পাশেই "ক্লস লুইস" নামক ভবনে বসবাস করতে শুরু করলেন যেখানে তিনি তার জীবনের পরবর্তী ৩ বছর অতিবাহিত করেন। ১৫১৯ সালের ২ মে লিওনার্দো এই "ক্লস লুইস" ভবনে মৃত্যু বরণ করেন।

  1. 1 2 /ˌləˈnɑːrd də ˈvɪni, ˌlˈ-, ˌlˈ-/ LEE-ə-NAR-doh də VIN-chee, LEE-oh-, LAY-oh-; ইতালীয়: [leoˈnardo di ˌsɛr ˈpjɛːro da (v)ˈvintʃi] .
  2. ইতালীয় ser (messer বা messere-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যা ভদ্রলোকদের নামে যুক্ত হতো) শব্দটি লিওনার্দোর পিতার সামাজিক মর্যাদা ‘ভদ্রলোক’ (নিম্নপদস্থ অভিজাত) বোঝায়।
  3. তাঁর পিতামহ সের আন্তোনিওর ডায়েরিতে একটি স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে: “১৫ এপ্রিল শনিবার রাতের তৃতীয় প্রহরে আমার এক নাতি জন্মগ্রহণ করেছে, সের পিয়েরোর [fr] পুত্র।”[১৪][১৫] আন্তোনিওর রেকর্ডে উল্লেখ আছে যে, পরদিন পিয়েরো দি বার্তোলোমেও পারিশে সান্তা ক্রোচে [it] গির্জায় লিওনার্দোর বাপ্তিস্ম সম্পন্ন করেন।[১৬]
  4. একটি মত অনুসারে ক্যাতেরিনা মধ্যপ্রাচ্য “অথবা অন্তত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল” থেকে আগত এক দাসী ছিলেন, এমনকি কেউ কেউ তাঁর চীনা বংশোদ্ভূত হওয়ার সম্ভাবনাও উত্থাপন করেছেন। আলেস্সান্দ্রো ভেজোসসি, যিনি লিওনার্দো জাদুঘরের পরিচালক, জানান যে পিয়েরোর এক দাসী ছিলেন ক্যাতেরিনা।[২০] লিওনার্দোর এক আঙুলের ছাপের পুনর্গঠনে দেখা যায় যে সেটি মধ্যপ্রাচ্যীয় মানুষের প্রায় ৬০% এর ছাপের সঙ্গে মিলে যায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে তাঁর রক্তে মধ্যপ্রাচ্যের বংশধারা থাকতে পারে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইমন কোল বলেন, “একজন মানুষের জাতিগত পরিচয় শুধুমাত্র একটি আঙুলের ছাপ থেকে নির্ধারণ করা যায় না।” পরবর্তীতে ইতিহাসবিদ মার্টিন কেম্প ইতালির নথিপত্র খতিয়ে দেখে প্রমাণ পান যে লিওনার্দোর মা ছিলেন এক স্থানীয় তরুণী—ক্যাতেরিনা দি মেও লিপ্পি।[২১]
  5. লিওনার্দোর জন্মস্থান নিয়ে বিতর্কের বিশদ বিবরণের জন্য দেখুন Nicholl (2005, pp. 17–20) এবং Bambach (2019, p. 24)।
  6. সের পিয়েরোর বিবাহসমূহের বিস্তারিত তালিকার জন্য দেখুন Kemp & Pallanti (2017, pp. 65–66)।
  7. তিনি তাঁর পিতা সম্পর্কে কখনও বিস্তারিত লেখেননি, কেবল মৃত্যুর উল্লেখে তাঁর বয়স তিন বছর বাড়িয়ে লিখেছিলেন।[২৬] মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারের বিরোধে লিওনার্দোর ভাইয়েরা তাঁকে সমস্যায় ফেলেছিল।[২৭]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. This drawing in red chalk is widely (though not universally) accepted as an original self-portrait. The main reason for hesitation in accepting it as a portrait of Leonardo is that the subject is apparently of a greater age than Leonardo ever achieved. But it is possible that he drew this picture of himself deliberately aged, specifically for Raphael's portrait of him in The School of Athens.
  2. 1 2 3 4 5 6 Kemp 2003
  3. 1 2 3 Heydenreich 2020
  4. Lichfield, John (১ এপ্রিল ২০০৫)। "The Moving of the Mona Lisa"দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট। লন্ডন। ৯ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত
  5. Zöllner 2019, পৃ. 250।
  6. Kaplan, Erez (১৯৯৬)। "রবার্তো গুয়াতেল্লির বিতর্কিত লিওনার্দো দা ভিঞ্চির সংযোজনযন্ত্রের প্রতিরূপ"। ২৯ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০১৩
  7. Kaplan, E. (এপ্রিল ১৯৯৭)। "Anecdotes"। IEEE Annals of the History of Computing১৯ (২): ৬২–৬৯। ডিওআই:10.1109/MAHC.1997.586074আইএসএসএন 1058-6180
  8. Capra 2007, পৃ. 5–6।
  9. Gardner, Helen (১৯৭০)। Art through the Ages। পৃ. ৪৫০–৪৫৬।
  10. Brown 1998, পৃ. 7।
  11. Kemp 2006, পৃ. 1।
  12. 1 2 3 4 5 6 Brown 1998, পৃ. 5।
  13. Nicholl 2005, পৃ. 17
  14. Vezzosi 1997, পৃ. 13।
  15. Ottino della Chiesa 1967, পৃ. 83।
  16. Nicholl 2005, পৃ. 20
  17. Bambach 2019, পৃ. 16, 24।
  18. 1 2 Marani 2003, পৃ. 13।
  19. Bambach 2019, পৃ. 16।
  20. Hooper, John (১২ এপ্রিল ২০০৮)। "ইতালীয় গবেষণায় দাবি, দা ভিঞ্চির মা ছিলেন এক দাসী"দ্য গার্ডিয়ান। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০১৫
  21. Alberge, Dalya (২১ মে ২০১৭)। "টাসকানির আর্কাইভে লিওনার্দোর রহস্যময় মায়ের সন্ধান"দ্য গার্ডিয়ান। ১০ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুন ২০১৯
  22. Nicholl 2005, পৃ. 18
  23. 1 2 Bambach 2019, পৃ. 24।
  24. Kemp ও Pallanti 2017, পৃ. 65।
  25. 1 2 Kemp ও Pallanti 2017, পৃ. 65–66।
  26. Wallace 1972, পৃ. 11।
  27. Magnano 2007, পৃ. 138।
  28. Brown 1998, পৃ. 1, 5।
  29. Marani 2003, পৃ. 12।
  30. Brown 1998, পৃ. 175।
  31. Nicholl 2005, পৃ. 28
  32. Nicholl 2005, পৃ. 30, 506
  33. Nicholl 2005, পৃ. 30. মূল ইতালীয় পাঠের জন্য দেখুন পৃষ্ঠা 506
  34. অনলাইন ডেস্ক। "সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া ৫ চিত্রকর্ম"
  1. লিওনার্দো ইচ্ছা" লিওনার্দো-ইতিহাস

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]