মোহাম্মদ ফারুক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মোহাম্মদ ফারুক
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমোহাম্মদ ফারুক
জন্ম (1938-04-08) ৮ এপ্রিল ১৯৩৮ (বয়স ৮২)
জুনাগড়, গুজরাত, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমানে - ভারত)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৭)
২ ডিসেম্বর ১৯৬০ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট৯ এপ্রিল ১৯৬৫ বনাম নিউজিল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৩
রানের সংখ্যা ৮৫ ১৭৩
ব্যাটিং গড় ১৭.০০ ১২.৩৫
১০০/৫০ ০/০ -/-
সর্বোচ্চ রান ৪৭ ৪৭
বল করেছে ১৪২২ ৬১২৬
উইকেট ২১ ১২৩
বোলিং গড় ৩২.৪৭ ২৬.৯৮
ইনিংসে ৫ উইকেট -
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৪/৭০ ৬/৮৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ৭/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৭ জুলাই, ২০২০

মোহাম্মদ ফারুক (উর্দু: محمد فاروق‎‎; জন্ম: ৮ এপ্রিল, ১৯৩৮) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের জুনাগড় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক পাকিস্তানী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬০-এর দশকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন তিনি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত মোহাম্মদ ফারুকের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। মোহাম্মদ ফারুক ক্লান্তিহীন ও প্রকৃতমানের ফাস্ট বোলার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তবে, তার খেলোয়াড়ী জীবন বেশ সংক্ষিপ্ত আকারের ছিলেন। বোলিংয়ের পাশাপাশি বিনোদনধর্মী ও আগ্রাসী নিচেরসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন।

১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের অন্যতম দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে মোহাম্মদ ফারুকের সবিশেষ পরিচিতি ছিল। তবে, তার খেলোয়াড়ী জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়।[১] ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। নিজস্ব তৃতীয় খেলায় করাচীর বিপক্ষে ৬/৮৭ ও ৫/৯৮ লাভ করেন। এরফলে, তার দল কায়েদ-ই-আজম ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় জয়লাভ করে।[২]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ ফারুক। ২ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে মুম্বইয়ে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৯ এপ্রিল, ১৯৬৫ তারিখে করাচীতে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৬০-৬১ মৌসুমে পাকিস্তান দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। ভারতের প্রথম তিন উইকেট পান তিনি ও ৪৬ ওভারে ৪/১৩৯ লাভ করেন।[৩] তন্মধ্যে, নিজস্ব দ্বিতীয় ওভারেই পঙ্কজ রায়আব্বাস আলী বেগকে বিদেয় করেছিলেন। তবে, দলের বাইরে তাকে রাখা হয়। দ্বিতীয় টেস্টে তার পরিবর্তে পাকিস্তান দল আরও একজন ব্যাটসম্যানকে দলে অন্তর্ভূক্ত করে। চূড়ান্ত টেস্টের পূর্ব-পর্যন্ত তাকে আর খেলানো হয়নি। চূড়ান্ত টেস্টে আবারও শতরান খরচ করেন ও ২/১০১ লাভ করেন।[৪]

ইংল্যান্ড গমন[সম্পাদনা]

১৯৬২ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। দলের বোলারদের মধ্যে তিনিই দ্রুতগতিসম্পন্ন ছিলেন। সফরের শুরুরদিকে কাউন্টি খেলাগুলোয় বেশ সফল ছিলেন। আট খেলায় অংশ নিয়ে ৩৩ উইকেট লাভ করেন।

লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৪/৭০ লাভ করেন। এ পর্যায়ে টেড ডেক্সটারকেন ব্যারিংটনকে উপর্যুপরী বলে কট বিহাইন্ডে বিদেয় করেছিলেন তিনি। কিন্তু, অতিরিক্ত বোলিং করার খেসারত গুণতে হয় তাকে। তৃতীয় টেস্টের পর আঘাতের কবলে পড়েন। ঐ টেস্টে কেন ব্যারিংটনকে আবারও খুব সহজেই আউট করেন। ঐ সফরে তিনি আর কোন খেলায় অংশ নেননি।[৫] তাকে দেশে ফেরৎ পাঠিয়ে দেয়া হয়।

দুই বছরের অধিক সময় আর কোন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করেননি তিনি। তাসত্ত্বেও, ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে খেলার জগতে ফিরে আসেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করায় তাকে পুণরায় টেস্ট দলে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি[সম্পাদনা]

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দল পাকিস্তান গমনে আসে। তিন টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে উভয় দলের মধ্যে সেরা বোলারে পরিণত হন। সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ২৫.৩০ গড়ে ১০ উইকেট লাভ করেন।

ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ দক্ষতার পরিচয় দেন। রাওয়ালপিন্ডিতে এগারো নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭ রান সংগ্রহ করেন। এ তিন টেস্টই তার সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ ছিল। রাওয়ালপিন্ডির পিন্ডি ক্লাব মাঠে ২/৫৭ ও ৩/২৫ লাভ করেন। এরপর, দলের সংগ্রহ ২৫৩/৯ থাকা অবস্থায় দশম উইকেট জুটিতে সালাহউদ্দিনের সাথে ৫৪ মিনিটে ৬৫ রান সংগ্রহ করেন।[৬][৭]

তৃতীয় টেস্ট শেষে পাকিস্তান দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। এরপর, তিনি আর কোন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেননি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Christopher Martin-Jenkins, The Complete Who's Who of Test Cricketers, Rigby, Adelaide, 1983, p. 469.
  2. "Karachi v Lahore 1959-60"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৭ 
  3. "India v Pakistan, Bombay 1960-61"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৭ 
  4. "Pakistan in India, 1960-61", Wisden 1962, pp. 854-63.
  5. "Pakistan in England, 1962", Wisden 1963, pp. 300-38.
  6. "New Zealand in India and Pakistan, 1964-65", Wisden 1966, pp. 902-6.
  7. "Pakistan v New Zealand, Rawalpindi 1964-65"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৭ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]