মারলেনে ডিট্রিশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
Marlene Dietrich
Marlene Dietrich in Stage Fright trailer.jpg
১৯৫০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র "স্টেজ ফ্রাইট" এর ট্রেইলার থেকে
জন্ম ম্যারি মাগদালিন ডিট্রিখ
কার্যকাল ১৯১৯-১৯৮৪
দাম্পত্য সঙ্গী রুডলফ সিবার (১৯২৪-১৯৭৬)
ওয়েবসাইট http://www.marlene.com/

মারলেনে ডিট্রিখ (জার্মান: Marlene Dietrich; আ-ধ্ব-ব: [maɐˈleːnə ˈdiːtrɪç]) (২৭শে ডিসেম্বর, ১৯০১ - ৬ই মে, ১৯৯২) একজন জার্মান অভিনেত্রী ও গায়িকা ছিলেন।[১] বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে একজন সাধারণ ক্যাবারে গায়িকা থেকে ক্যারিয়ার শুরু করে বছর বিশেকের মধ্যে হলিউডসহ ইউরোপের বিনোদন জগতে স্থায়ী আসন গেড়ে বসেন । জন্মসূত্রে জার্মান হলেও তিনি পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। [২][৩][৪]

জীবনী[সম্পাদনা]

মারলেনে জার্মানির বার্লিন শোয়েনেবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাতার নাম লুইস এরিখ অটো ডিট্রিখ ও ভিলহেলমিনা এলিজাবেথ ইওসেফাইন ফেলসিং। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিভৃতচারী ছিলেন। তিনি রুডলফ ৎসিবার নামে একজন সহকারী পরিচালকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। রুডলফ পরে ফ্রান্সে প্যারামাউন্ট পিকচারস -এর পরিচালক হন । রুডলফ দম্পতির একমাত্র সন্তান মারিয়া এলিযাবেথ যিবার ১৯২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। [৫]

ক্যারিয়ার[সম্পাদনা]

মারলেনে গত শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের শুরুতে ক্যাবারেতে কোরাস গায়ক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি বিখ্যাত পরিচালক ও অভিনেতা মাক্স রাইনহার্ডট-এর থিয়েটারে অভিনয় শুরু করেন। পরে ১৯৩০ দি ব্লু এনজেল নামে এক সিনেমার মধ্য দিয়ে রূপালী পর্দায় নিজের অভিষেক ঘটান। সেটি ছিলো জার্মানীতে তৈরি প্রথম সবাক চলচ্চিত্র।[৬]

ইউরোপের সিনেমা জগতে সফলতার সাথে অভিষেক হবার পর মারলেনে হলিউডে পাড়ি জমান । সেখানে প্যারামাউন্ট পিকচার্স-এর সাথে মরক্কো সিনেমাতে অভিনয়ের সুযোগ পান।[৭] পরে সে সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য তিনি অস্কার নমিনেশন পান। অভিনয়ের পাশাপাশি মারলেনে একজন অসাধারণ গায়িকা ছিলেন।[৮]

বর্তমান প্রজন্মে প্রভাব[সম্পাদনা]

মারলেনে ডিট্রিখ সম্ভবত জার্মানির সর্বাধিক সম্মানিত চিত্রনায়িকা। পুরো জার্মানী জুড়ে অসংখ্য থিয়েটার সড়ক শিক্ষালয় তার নাম বহন করছে।[৯]

অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

১. লাভ ট্রাজেডী (১৯২৩) ২. দি লিটল নেপোলিয়ন (১৯২৩) ৩. দি ব্লু এনজেল (১৯৩০) ৪. মরক্কো (১৯৩০) ৫. এ ফরেইন এফেয়ার (১৯৪৮) ৬. এ মনটে কারলো স্টোরী (১৯৫৬) ৭. এ্যারাউন্ড দি ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ (১৯৫৬)

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৯২ সালের ৬ই মে, ৯০ বছর বয়েসে মারলেনে প্যারিসে নিজ আবাসে কিডনী জটিলতায় মারা যান। ব্যক্তিগতজীবনে তিনি ঈশ্বরে অবিশ্বাসী হলেও [১০] তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান একটি রোমান চার্চে অনুষ্ঠিত হয়। জার্মানি, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক রাষ্ট্রের দূত উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময় নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে তার অবস্থানের জন্য এবং যুদ্ধে অবদানের জন্য তাকে সৈন্যের ন্যায় সামরিক মর্যাদা দেয়া হয়। [১১][১২] বার্লিন ওয়াল পতনের পর মারলেনের শেষ ইচ্ছানুসারে তার দেহ জন্মস্থানে স্থানান্তর করা হয়। [১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Flint, Peter B. (৭ মে ১৯৯২)। "Marlene Dietrich, 90, Symbol of Glamour, Dies"The New York Times 
  2. "Marlene Dietrich to be US Citizen"Painesville Telegraph। ৬ মার্চ ১৯৩৭। 
  3. "Citizen Soon"The Telegraph Herald। ১০ মার্চ ১৯৩৯। 
  4. "Seize Luggage of Marlene Dietrich"Lawrence Journal World। ১৪ জুন ১৯৩৯। 
  5. "Marlene Dietrich (German-American actress and singer)"Our Queer History 
  6. ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে The Blue Angel (1930) (ইংরেজি)
  7. "The Ex-Marlene Dietrich, Multiple Best in Show Winning 1930 Rolls-Royce Phantom"। Bonhams। 
  8. "Act follows suggestion of song's title"। Toledo Blade। Ohio। ৭ নভেম্বর ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 37। 
  9. "Marlene"Atlas International। ৫ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০০৯ 
  10. "I have given up belief in a God." Allen Smith, Warren (২০০২)। Celebrities in Hell: A Guide to Hollywood's Atheists, Agnostics, Skeptics, Free Thinkers, and More। Barricade Books Inc.। পৃষ্ঠা 130। আইএসবিএন 1-56980-214-9 
  11. "Obituary of Maria Magdalene "Marlene" Dietrich"। The Message Newsjournal। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৩ 
  12. "Marlene Dietrich Funeral"Associated Press Images। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১২ 
  13. "Obituary for Marlene Magdelene Dietrich"। The Message Newsjournal। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৩