মাইক সেলভি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মাইক সেলভি
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমাইকেল ওয়াল্টার উইলিয়াম সেলভি
জন্ম (1948-04-25) ২৫ এপ্রিল ১৯৪৮ (বয়স ৭২)
চিসউইক, মিডলসেক্স, ইংল্যান্ড
উচ্চতা৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার, লেখক, ধারাভাষ্যকার, সাংবাদিক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪৬৬)
৮ জুলাই ১৯৭৬ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭ বনাম ভারত
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২৭৮ ২৬৭
রানের সংখ্যা ১৫ ২,৪০৫ ৮৪০
ব্যাটিং গড় ৭.৫০ ১২.৬৫ ১০.২৪
১০০/৫০ ০/০ ০/৪ ০/০
সর্বোচ্চ রান * ৬৭ ৩৮*
বল করেছে ৪৯২ ৪৫,৪৭৪ ১২,৬৯৮
উইকেট ৭৭২ ৩৩২
বোলিং গড় ৫৭.১৬ ২৬.৬৬ ২২.১২
ইনিংসে ৫ উইকেট ৩৮
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/৪১ ৭/২০ ৫/১৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ৭৯/– ৫০/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৬ অক্টোবর ২০২০

মাইকেল ওয়াল্টার উইলিয়াম সেলভি (ইংরেজি: Mike Selvey; জন্ম: ২৫ এপ্রিল, ১৯৪৮) মিডলসেক্সের চিসউইক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, লেখক, ধারাভাষ্যকার ও ক্রীড়া সাংবাদিক[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন, মিডলসেক্স ও সারে এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।[১] দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন মাইক সেলভি

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

বেটারসী গ্রামার স্কুল, ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমব্রিজের ইমানুয়েল কলেজে অধ্যয়ন করেছেন মাইক সেলভি।[২] ১৯৭২ সালে মিডলসেক্সের পক্ষে যোগদান করেন। এরপূর্বে সাসেক্স ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলতেন। তন্মধ্যে, মিডলসেক্সের পক্ষেই তিনি তার খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেন।

১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মাইক সেলভি’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। শক্তিধর ও মিশুক স্বভাবের অধিকারী ছিলেন মাইক সেলভি। সারের পক্ষে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। তবে, ১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ সময়কালে ছয়টিমাত্র খেলায় অংশ নিয়ে তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। ১৯৭১ সালে কেমব্রিজ একাদশের পক্ষে এক মৌসুম খেলে ব্লুধারী হন।

দল পরিবর্তন[সম্পাদনা]

এরপর তিনি টেমসের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা মিডলসেক্সে চলে যান ও সেখানে খেলেন। বলকে উভয় দিক দিয়ে সুইং করানোসহ পিচে দ্রুত ফেলতে পারতেন। ১৯৭৬ থেকে কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের আধিপত্য বিস্তারে অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। এ পর্যায়ে ১৯৪৯ সালের পর ১৯৭৬ সালে প্রথমবারের মতো মিডলসেক্সের চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে ৯০ উইকেট নিয়েছিলেন। তবে, ১৯৭৮ সালটিই তার স্বর্ণালী সময় ছিল। ১০১ উইকেট পান তিনি।

১৯৭৬ সালের পর থেকে মাইক সেলভি কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেননি। তাসত্ত্বেও, মিডলসেক্সের ১৯৭৬, ১৯৮০ ও ১৯৮২ সালের তিনবার এবং ১৯৭৭ সালে যৌথভাবে একবার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এছাড়াও দুইবার জিলেট কাপ বিজয়ী মিডলসেক্স দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৭[৩] ও ১৯৮০ সালে লন্ডনে ডার্বি ফাইনালে সারের বিপক্ষে জয় পায় তার দল। তন্মধ্যে, প্রথমটিতে ১২-৪-২২-২ ও দ্বিতীয়টিতে ১২-৫-১৭-২ বোলিংয়ের ন্যায় মিতব্যয়ীতা প্রদর্শন করেন। ১৯৭৮ সালে মিডলসেক্সের পক্ষে ১০১টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেন। এরপূর্বে মিডলসেক্সের পক্ষে অন্য কোন ফাস্ট বোলার এ কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেননি।

মিডলসেক্সের পক্ষে খেলার সম্ভাবনা স্তিমিত হয়ে এলে ১৯৮৩ সালে গ্ল্যামারগনে চলে যান। ঐ দলে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, ক্রমাগত আঘাতের কারণে দেড় বছর বাদে খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করতে হয়।[১]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন মাইক সেলভি। ৮ জুলাই, ১৯৭৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে মুম্বইয়ে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৭৬ সালে অনেকটা বিস্ময়করভাবে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবার পূর্বে অর্ধ-ডজন ফাস্ট বোলার আঘাতের কবলে পড়েন। বোলিং উদ্বোধনে নেমে প্রথম ২০ বলে মাত্র ৬ রান খরচ করে রয় ফ্রেডেরিক্স, ভিভ রিচার্ডসআলভিন কালীচরণকে বিদেয় করেন।[১] ঐ ইনিংসে তিনি ৪/৪১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। খেলায় তিনি ১৫২ রান খরচায় ৬ উইকেট পেলেও তার দল ৪২৫ রানে পরাজয়বরণ করেছিল।

এরপর, তিনি আর মাত্র দুই টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তবে, কোন টেস্টেই আর কোন উইকেট পাননি।[১] ওভালের পঞ্চম টেস্টেও তাকে রাখা হয়। নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টটিতে অ্যালান নট তার বলে রয় ফ্রেডেরিক্সকে তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন। ভিভ রিচার্ডসের ২৯১ রানের ইনিংসের কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬৮৭ রান তুলে।[৪]

এরপর পরবর্তী শীতকালে ভারত গমন করেন। একটিমাত্র টেস্টে অংশ নিয়ে আরও দুই উইকেট স্বীয় ঝুলিতে পুড়েন।

অবসর[সম্পাদনা]

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর সাংবাদিকতার দিকে ঝুঁকে পড়েন। দ্য গার্ডিয়ানে ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদদাতা হন।[১] ৩১ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে এ দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

এছাড়াও, ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডের ভারত সফরের মাধ্যমে বিবিসি রেডিও’র টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ২০০৮ সালে অব্যহতি নেবার পূর্ব-পর্যন্ত এ দায়িত্ব চালিয়ে যেতে থাকেন। এরপর থেকে টকস্পোর্টে নিয়মিতভাবে বিশ্লেষক ও অতিথি হিসেবে অংশ নিতেন।

রচনাসমগ্র[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 144আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. SELVEY, Michael Walter William, Who's Who 2017, A & C Black, 2017 (online edition, Oxford University Press, 2016)
  3. https://cricketarchive.com/Archive/Scorecards/37/37540.html
  4. "For cricket, read life: Andrew Strauss admits his 'sliding door' moment"The Guardian। London। 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]