আম গাছ
| আম গাছ | |
|---|---|
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ/রাজ্য: | প্লান্টি (Plante) |
| গোষ্ঠী: | ট্র্যাকিওফাইট (Tracheophytes) |
| ক্লেড: | অ্যাঞ্জিওস্পার্মস (Angiosperms) |
| ক্লেড: | ইউডিকটস |
| গোষ্ঠী: | রোসিদস |
| বর্গ: | শাপিন্ডালেস |
| পরিবার: | Anacardiaceae |
| গণ: | Mangifera কার্ল লিনিয়াস[২] |
| প্রজাতি: | M. indica |
| দ্বিপদী নাম | |
| Mangifera indica কার্ল লিনিয়াস[২] | |
| প্রতিশব্দ[২] | |
| |
আম গাছ (সাধারণভাবে আম নামে পরিচিত) হচ্ছে সুমাক এবং পয়জন ইভির অ্যানাকার্ডিয়াসিয়েই পরিবারের সপুষ্পক গাছের একটি প্রজাতি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয় জাত এবং এর আদি উৎস এখানেই। বিশ্বের অন্যান্য উষ্ণ অঞ্চলে শত শত জাতের আম চাষ হয়। এটি একটি বৃহৎ আকারের ফল গাছ, এর উচ্চতা ও শিখরের প্রস্থ প্রায় ৩০ মিটার (১০০ ফুট) এবং গাছের গুঁড়ির পরিধি ৩.৭ মিটার (১২ ফুট) এরও বেশি হয়।[৩]
প্রজাতিটির চাষ ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ভারতে শুরু হয়েছে বলে মনে করা হয়।[৪] প্রায় ৪০০-৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আম পূর্ব এশিয়ায় প্রথম আসে। পর্তুগিজ উপনিবেশিকরা পনেরো শতকে ফিলিপাইনে এবং ষোড়শ শতাব্দীতে আফ্রিকা ও ব্রাজিলে আম নিয়ে আসে।[৫] ১৭৫৩ সালে লিনিয়াস প্রজাতিটি সঠিকভাবে উপলব্ধ করে এবং উদ্ভিদ নামকরণ পদ্ধতিতে প্রথম নামকরণ করে।[৬] আম ভারত, পাকিস্তান এবং ফিলিপাইনের জাতীয় ফল এবং বাংলাদেশের জাতীয় গাছ।[৭]

রাসায়নিক উপাদান
[সম্পাদনা]ম্যাঙ্গিফেরিন (ফার্মাকোলজিক্যালি সক্রিয় হাইড্রোজাইলেট জ্যানথন সি-গ্লাইকোসাইড) আম থেকে নিষ্কাশন করা হয়, আমের কচি পাতা (১৭২ গ্রাম/কেজি), বাকল (১০৭ গ্রাম/কেজি) এবং বয়স্ক পাতা (৯৪ গ্রাম/কেজি) থেকে উচ্চ মাত্রায় পাওয়া যায়।[৮] অ্যালার্জেনিক ইউরুশিওল ফলের খোসাতে বিদ্যমান থাকে এবং এটি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মধ্যে কনটাক্ট ডার্মাটাইটিসকে ট্রিগার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে জন্মানো পয়জন ওক এবং পয়জন ইভির মতো অ্যানাকার্ডিয়াসিয়েই পরিবারের অন্যান্য উদ্ভিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে এই প্রতিক্রিয়া বেশি দেখা যায়।[৯]
ঐতিহ্যবাহী ঔষধ
[সম্পাদনা]আয়ুর্বেদ রসায়ন সূত্রে এটি কখনো কখনো অন্যান্য হালকা টক এবং শতমূল (Asparagus racemosus) ও গুলঞ্চ (Tinospora cordifolia) এর সাথে ব্যবহার করা হয়। আম গাছের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ঔষধে ব্যবহার করা হয়।[১০]
কাঠ
[সম্পাদনা]
আম গাছটি তার কাঠের চেয়ে বরং তার ফলের জন্য বেশি পরিচিত। যাইহোক আম গাছে ফল ধরার পর তার জীবনকাল শেষ হয়ে গেলে তাকে কাঠে রূপান্তর করা যায়। কাঠ ছত্রাক এবং পোকামাকড়ের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে সক্ষম।[১১] কাঠ ইউকুলেলের মতো বাদ্যযন্ত্র,[১১] পাতলা পাতলা কাঠ এবং স্বল্প মূল্যের আসবাবের জন্য ব্যবহৃত হয়।[১২] কাঠ ফেনোলিক পদার্থ উৎপাদন করার জন্য পরিচিত যা কনটাক্ট ডার্কটাইটিস এর কারণ হতে পারে।[১৩]
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]- অল্পবয়স্ক আম গাছ
- শ্রীলঙ্কায় আমের ফুল
- ফ্লোরিডার হল্যান্ডেল সৈকতে আম গাছ
- ১১০ বছরের প্রাচীন আম গাছ, গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশ
- কচি আম
আমের প্রকারভেদ (জাত)
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ World Conservation Monitoring Centre (১৯৯৮)। "Mangifera indica"। বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯৯৮। আইইউসিএন: e.T৩১৩৮৯A৯৬২৪৮৪২। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০২০।
- 1 2 3 "Mangifera"। Plants of the World Online। Royal Botanic Gardens, Kew। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০২০।
- ↑ "USDA Plant guide, Mangifera indica L." (পিডিএফ)।
- ↑ Sauer, Jonathan D. (১৯৯৩)। Historical geography of crop plants : a select roster। Boca Raton u.a.: CRC Press। পৃ. ১৭। আইএসবিএন ০৮৪৯৩৮৯০১১।
- ↑ Gepts, P. (n.d.)। "PLB143: Crop of the Day: Mango, Mangifera indica"। The evolution of crop plants। Dept. of Plant Sciences, Sect. of Crop & Ecosystem Sciences, University of California, Davis। ৬ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০০৯।
- ↑ "Mangifera indica", জার্মপ্লাজম রিসোর্স ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (জিআরআইএন), কৃষি গবেষণা পরিসেবা (এআরএস), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ), সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০০৯
{{citation}}: অবৈধ|mode=CS1(সাহায্য) - ↑ "Mango tree, national tree"। ১৫ নভেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৩।
- ↑ Barreto J.C.; Trevisan M.T.S.; Hull W.E.; Erben G.; De Brito E.S.; Pfundstein B.; Würtele G.; Spiegelhalder B.; Owen R.W. (২০০৮)। "Characterization and quantitation of polyphenolic compounds in bark, kernel, leaves, and peel of mango (Mangifera indica L.)"। Journal of Agricultural and Food Chemistry। ৫৬ (14): ৫৫৯৯–৫৬১০। ডিওআই:10.1021/jf800738r। পিএমআইডি 18558692।
- ↑ Urushiol CASRN: 53237-59-5 TOXNET (Toxicology Data Network) NLM (NIH). Retrieved 22 January 2014.
- ↑ Shah, K. A.; Patel, M. B.; Patel, R. J.; Parmar, P. K. (২০১০)। "Mangifera Indica (Mango)"। Pharmacognosy Reviews। ৪ (7): ৪২–৪৮। ডিওআই:10.4103/0973-7847.65325। পিএমসি 3249901। পিএমআইডি 22228940।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: পতাকাভুক্ত নয় এমন বিনামূল্যে ডিওআই (লিঙ্ক) - 1 2 "Mango"। The Wood Database। ১১ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১৪।
- ↑ "Economic importance of Mangifera indica"। Green Clean Guide। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১৪।
- ↑ Tu, series editor, Anthony T. (১৯৮৩)। Handbook of natural toxins। New York: Dekker। পৃ. ৪২৫। আইএসবিএন ০৮২৪৭১৮৯৩৩।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ1=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- রিচার্ড ই. লিৎজ (সম্পাদনা ২০০৯)। আম: উদ্ভিদ্তত্ব, উৎপাদন এবং ব্যবহার (২য় সংস্করণ)। সিএবিআই। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৫৯৩-৪৮৯-৭
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]
- দিনের ফসল: আম, ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা এই প্রজাতিটির সহায়ক সংস্থার একটি তালিকা রয়েছে।
- আইইউসিএন লাল তালিকার অপ্রতুল-তথ্য প্রজাতি
- Taxonbars with 30–34 taxon IDs
- ম্যাঙ্গিফেরা
- বাংলাদেশের ফল
- বাংলার ফল
- বাংলাদেশের উদ্ভিদ
- বাংলার উদ্ভিদ
- ভারতের জাতীয় চিহ্ন
- পাকিস্তানের জাতীয় প্রতীক
- ঔষধি উদ্ভিদ
- মিয়ানমারের উদ্ভিদ
- ১৭৫৩-এ বর্ণিত উদ্ভিদ
- কার্ল লিনিয়াস কর্তৃক নামকরণকৃত উদ্ভিদের ট্যাক্সা
- আসামের উদ্ভিদ
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক
- ফলদ বৃক্ষ
- গুজরাতের প্রতীক
- মহারাষ্ট্রের প্রতীক
