বিষয়বস্তুতে চলুন

বিডিআর বিদ্রোহ

বিডিআর বিদ্রোহ

বিদ্রোহের সময় পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পিলখানায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্যাংক মোতায়েন করা হয়
তারিখ২৫ ফেব্রুয়ারি –২ মার্চ ২০০৯
অবস্থান
ঢাকা, বাংলাদেশ
২৩°৪৪′০৪″ উত্তর ৯০°২২′৪০″ পূর্ব / ২৩.৭৩৪৩৫০৪° উত্তর ৯০.৩৭৭৭০৮৭° পূর্ব / 23.7343504; 90.3777087
অবস্থা

বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়

  • বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ করেন
  • বিদ্রোহীরা বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে হত্যা করে, যার মধ্যে বাংলাদেশ রাইফেলসের মহাপরিচালকও ছিলেন
বিবাদমান পক্ষ

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ

সেনাধিপতি ও নেতৃত্ব প্রদানকারী
জেনারেল. মঈন উদ্দিন আহমেদ
মেজর.জেনারেল আসহাব উদ্দিন চৌধুরী
অজানা
শক্তি
অজানা ১,২০০ বিদ্রোহী
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
৫৭ নিহত,[] ৬ নিখোজ[] ৮ জন নিহত,[] ২০০ জন বন্দী[]
৭ বেসামরিক নিহত[][]

বিডিআর বিদ্রোহ (বা পিলখানা হত্যাকাণ্ড)[] হলো ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআরদের একটি গ্রুপ দ্বারা সংগঠিত বিদ্রোহ এবং হত্যাকাণ্ড। বিদ্রোহী বিডিআর সৈন্যরা পিলখানায় বিডিআর সদর দফতর দখল করে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন অন্যান্য সেনা কর্মকর্তা ও ১৭ জন বেসামরিককে হত্যা করে।[] তারা বেসামরিক লোকদের উপর গুলি চালায়, অনেক অফিসার এবং তাদের পরিবারকে জিম্মি করে, স্থাপনা ও সম্পদ ভাংচুর করে এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। বিদ্রোহের দ্বিতীয় দিনে বিডিআর ক্যাম্প আছে এমন অন্য ১২টি শহরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে।[][] সরকারের সাথে একাধিক আলাপ-আলোচনার পরে বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ করে এবং জিম্মিদের মুক্তি দেয়।[১০] অস্ত্র সমর্পণের মধ্য দিয়ে এ বিদ্রোহের অবসান ঘটে।[১১]

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়; আরও ২৫ জন বিদ্রোহে জড়িত থাকার কারণে তিন থেকে দশ বছর মেয়াদী কারাদণ্ড পায়। আদালত অভিযুক্ত ২৭৭ জনকেও খালাস দেয়। তবে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন অভিযোগ করে যে এই বিচারগুলিতে আসামিদের পর্যাপ্ত সময়-সুযোগ দেয়া হয়নি, "নিষ্ঠুর প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাকে সন্তুষ্ট করার জন্য বিচার কাজ সাজানো হয়েছে" বলে তারা অভিযোগ করে।[১২][১৩] ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটি পুনরায় তদন্তের জন্য সাত সদস্যের একটি কমিশন গঠন করে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, এতে বলা হয় এটি কোনো আকস্মিক বিদ্রোহ ছিল না, বরং পরিকল্পিত একটি অভিযান ছিল। প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয় যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এতে জড়িত ছিলেন। এছাড়া আলামত নষ্ট করা এবং মূল তদন্তে তথ্যগত ফাঁক থাকার বিষয়টিও চিহ্নিত করা হয়।[১৪]

প্রথম দিন

[সম্পাদনা]
২৫ শে ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এ ধানমন্ডি এ সড়কের নিকটবর্তী সাতমসজিদ রোডের উপরে অবস্থিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিমি জেডপিইউ-১৪.৫৫।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এ আবাহনী মাঠের পাশে একটি ট্যাঙ্কের অ্যারে অপেক্ষা করছে।
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ এ ধানমন্ডি রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সাতমসজিদ রোডের উপরে ব্যারিকেড দেখা যায়।

বার্ষিক "বিডিআর সপ্তাহ"-এর দ্বিতীয় দিনে বিদ্রোহ শুরু হয়,[১৫] এর আগের দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির উদ্বোধন করেছিলেন। "দরবার হল" মিলনায়তনে অধিবেশন শুরু হলে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ বক্তব্য দিতে শুরু করেন, সেই সময় সাথে সাথে বেশ কয়েকজন জওয়ান (প্রাইভেট) উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। তারা বিডিআর কমান্ড থেকে সেনা কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং বিডিআর সৈন্যদের সমান অধিকারের দাবি জানান।[] এর পরপরই বিদ্রোহীরা মহাপরিচালক এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মিলনায়তনের অভ্যন্তরে জিম্মি হিসাবে গ্রহণ করে এবং পরে তাদের উপর গুলি চালায়। তারা সদর দফতরের প্রধান প্রবেশদ্বারগুলিতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত করে রাখে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিডিআর সদর দফতরের আশেপাশে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে।[১৬]

বিডিআরের মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ বিদ্রোহের প্রথম দিনেই হত্যার শিকার হন। বিদ্রোহীরা যখন অফিসারদের বাসভবনে হামলা করে, তখনই আহমদকে হত্যা করে। তারা আহমেদের বাড়িতেও অভিযান চালিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে।[][১৭] একইদিনে আরো কয়েক ডজন বিডিআর সিনিয়র কমান্ডারকেও হত্যা করা হয়। অতিরিক্ত ক্রসফায়ারে ৭ জন বেসামরিক লোককে হত্যা করা হয়।[][১৮]

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী অফিসার হত্যা, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লুটপাট ও অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িত ব্যতীত বিদ্রোহীদের জন্য সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাব দেন।[১৯]

বিদ্রোহীরা বিডিআরের উচ্চ পদস্থ পদগুলো থেকে নিয়মিত সেনা কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারসহ ২২ দফা দাবি উত্থাপন করে। পরিবর্তে, তারা চেয়েছিলেন আসল বিডিআর সদস্যদের পদ থেকে পদোন্নতি দিয়ে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা করা হোক। তাদের দাবি, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ভিত্তিতে তাদের কর্মকর্তাদের বাছাই করা হোক। বেসরকারী টেলিভিশনগুলোর সাথে কথা বলার সময় বিডিআর জওয়ানরা অভিযোগ করেছিল যে বিডিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অপারেশন ডাল-ভাত কর্মসূচি থেকে সেনা কর্মকর্তাদের বেতন বোনাস আত্মসাৎ করার এবং ২০০৮ সালে ২৯ শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। অপারেশন ডাল-ভাত হ'ল বিডিআর দ্বারা পরিচালিত একটি কল্যাণ কর্মসূচি যা দরিদ্রদের জন্য চাল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করে।[২০] অন্যান্য দাবির মধ্যে ছিলো শতভাগ রেশনিং কার্যক্রম শান্তিরক্ষা মিশনে বিডিআর সৈন্যের পরিচয় এবং বিডিআর সদস্যদের সামগ্রিক কল্যাণ।[২১]

দ্বিতীয় দিন

[সম্পাদনা]

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন কিছু বিদ্রোহীকে এই আশ্বাস দিয়ে অস্ত্র ছেড়ে দিতে রাজি করেছিলেন যে সেনাবাহিনী বিডিআর সদর দফতরে যাবে না।[১৫] ফলস্বরূপ, বিদ্রোহীরা তাদের অস্ত্র সমর্পণ করে এবং জিম্মিদের মুক্তি দিতে শুরু করে।[১৯] তবে, ঢাকা যেমন ঘটছিল, বিডিআরের অন্যান্য সদস্যদের বিদ্রোহ কমপক্ষে আরও ১২ টি শহরে থাকা বিডিআর ক্যাম্পগুলোতেও এমনটি শুরু হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামফেনী, ভারতের সঙ্গে পূর্ব সীমান্তে মধ্যে রাজশাহী উত্তর-পশ্চিমে এবং সিলেট উত্তর উল্লেখযোগ্য।[]

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এ আবাহনী মাঠের নিকটবর্তী ট্যাঙ্কগুলির পিছনে সেনাবাহিনীর একত্র

২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, ৪৬টিরও বেশি স্থানে বিডিআর ফাঁড়িতে দুর্দান্ত আন্দোলনের লক্ষণ দেখা গেছে। বিডিআর জওয়ানরা দাবি করেছিল যে সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, নওগাঁ ও নেত্রকোনায় যশোর বিডিআর গ্যারিসনের পাশাপাশি বড়বড় বিডিআর প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে।[২২] সেনাবাহিনী অবস্থান নেওয়ায় সেনা ট্যাঙ্ক এবং এপিসি বাইরে আনা হয়েছিল, তবে বিডিআরের উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তারা জিম্মি থাকায় তারা অভিযান করতে পারেনি। বিডিআর সদর দফতরের অভ্যন্তরে ভারী অস্ত্র ছিল যা বিদ্রোহীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। তারা রাস্তায় ট্যাঙ্কগুলি নেমে সেনাবাহিনী চূড়ান্ত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্যারাট্রুপস এবং কমান্ডো প্রস্তুত ছিল।

গণমাধ্যমের টিকার অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পরে এবং বিডিআর কর্মীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে বিডিআর সদস্যরা আবারও অস্ত্র সমর্পণ শুরু করেন। তবে তিনি বিদ্রোহীদের অবিলম্বে অস্ত্র না দিয়ে এবং সমস্ত শত্রুতা বন্ধ না করা হলে "কঠোর পদক্ষেপ" সম্পর্কে সতর্কও করেছিলেন।[২৩] শেখ হাসিনার ভাষণের পরে সেনাবাহিনী বিডিআর সদর দফতরের সামনে ট্যাঙ্ক মোতায়েন করেছিল।[২৪] এর পরে, বিদ্রোহীরা তাদের অস্ত্র সমর্পণ করে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া মুখপাত্রের বর্ণনা অনুসারে।[২৫] আত্মসমর্পণের পরে সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিডিআর সদর দফতর দখল করে।[২৬]

তৃতীয় দিন

[সম্পাদনা]

২৭ ফেব্রুয়ারি বেসামরিক পোশাকে পিলখানার সদর দফতর থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় প্রায় ২০০ বিদ্রোহীকে গ্রেপ্তার করা হয়।[২৭] সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক এবং সৈন্যরা বিডিআরের সদর দফতরে প্রবেশ করে।[২৮] স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আশ্বাস দিয়েছিলেন যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী প্রবেশ করেছে। তিনি আরও বলেছিলেন, বিডিআর সদস্যদের সদর দফতরের একটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে সহায়তা করতে প্রবেশ করেছে।[২৯] বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্কগুলি শক্তিমত্তা দেখাতে আনা হয়েছিল, যা বাকি বিদ্রোহীদের অস্ত্র জমা দিয়ে এবং আত্মসমর্পণ করতে প্ররোচিত করেছিল।[৩০] ঢাকার বাইরে কমপক্ষে ১২টি বিডিআর ঘাঁটিতে বিদ্রোহ শেষ হয়েছে কিনা তা তখনও স্পষ্ট ছিল না। সদর দফতরের ভিতরে নিখোঁজ কর্মীদের অনুসন্ধান করার সময় আরও ৪২ জননেরমরদেহ পাওয়া যায়। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল যে ১৩০ জনেরও বেশি নিয়মিত সেনা কর্মকর্তা বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হয়েছেন।[৩১] ২৭ ফেব্রুয়ারি অবধি বিডিআর প্রধান মেজরের মরদেহসহ সরকারি হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা ৫৪ বলা হয়।[৩২] বিডিআর প্রধান জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৪১ জন সেনা কর্মকর্তার তথ্য প্রথম দিকেই পাওয়া যায়। বিডিআর হাসপাতালের কাছে একটি গণকবর পাওয়া যায়। সাত ফুট গভীর গর্তের মধ্যে মোট ৪২ জন অফিসারকে মাটিচাপা দেয় বিদ্রোহীরা। কিছু লাশ ড্রেন টানেলের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। যে ৫৮ টি লাশ পাওয়া গেছে তার মধ্যে ৫২ জন ছিল সেনা কর্মকর্তা। সরকার ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে।[৩৩]

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ এর বিকেলে মিডিয়া কর্মী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এবং জনগণ বাংলাদেশ রাইফেলসের ৪র্থ প্রধান প্রবেশদ্বারে অপেক্ষা করছেন।

চতুর্থ দিন

[সম্পাদনা]

বিডিআর প্রধানের স্ত্রীর লাশ উদ্ধার হওয়ায় আরও তিনটি গণকবর পাওয়া গেছে। মৃতদেহগুলির অনেকগুলিই খারাপভাবে পঁচে গিয়েছিল এবং তাদের সনাক্তকরণ কঠিন ছিল। মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স (এমআই) ঘোষণা করেছে যে বিডিআর সদর দফতরে বিদ্রোহে মৃতের সংখ্যা ৬৩ জন, এবং ৭২ সেনা কর্মকর্তা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ৬৩ টি লাশের মধ্যে ৪৭ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী যারা লাশ না পাওয়া পর্যন্ত মারা গিয়েছিল তাদের জানাজা স্থগিত করেছিল। আধাসামরিক সদস্যরা বাহিনী বিদ্রোহ থেকে বেঁচে যান।[৩৪]

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত বিডিআরের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মঈনুল হোসেন বলেন, তাদের তাৎক্ষণিক কাজ হবে আধাসামরিক বাহিনীর "কমান্ড কাঠামো পুনরুদ্ধার"।[৩৫]

সেনাবাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড জেনারেল এমএ মুবিন বলেছেন, হত্যাকারীদের শাস্তি দেওয়া হবে। এএফপি জানিয়েছে, "বিডিআর সেনারা যারা এই বর্বর ও ভয়াবহ কান্ডে অংশ নিয়েছিল তাদের ক্ষমা করা যাবে না এবং তাদেরকে ক্ষমা করা হবে না", তিনি এ বক্তব্যটি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে।[৩৬]

বিদ্রোহের পরে যারা কোনো প্রকার ছাড় বা অনুমতি ছাড়াই তাদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন তাদেরকে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দফতর বা নিকটতম সেক্টর সদর দফতর বা ব্যাটালিয়নের সদর দফতর বা থানায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। এ আহবানে প্রায় ১০০ জন সাড়া দিয়েছেন।[৩৭]

হতাহত

[সম্পাদনা]

মোট ৭৪ জন নিহত হয়েছিল।[৩৮] তাদের মধ্যে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা বিডিআর পদে ছিলেন। বিডিআরের প্রধান, ডেপুটি চিফ এবং ১৬ সেক্টর কমান্ডার বিদ্রোহের সময় মারা গিয়েছিলেন।[৩৯]

পরিণাম

[সম্পাদনা]

২ মার্চ ২০০৯ তারিখে ৪৯ সেনা কর্মকর্তার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাদের পুরো সেনা সম্মান দিয়ে সমাহিত করা হয়েছিল; নিহত মহাপরিচালকের স্ত্রীকেও একই দিন সমাধিস্থ করা হয়েছিল।[৪০][৪১][৪২] সরকার বিদ্রোহের পেছনের কারণগুলি নির্ধারণের জন্য তৎকালিন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে সভাপতি করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই তার নিজের মন্ত্রণালয়ের একটি ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নেয়ায় বিরোধীদল ও সুশীলদের পক্ষ থেকে বিষয়টির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, এর কারণে পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হবে না। তারা এ তদন্ত কমিটি সংস্কারের পক্ষে জোর দাবি জানিয়েছিলেন।[৪৩] বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে যা ৩ মার্চ থেকে কার্যক্রম শুরু করে। সেনাবাহিনী, র‌্যাব এবং পুলিশের সহায়তায় বিডিআর বিদ্রোহীদের ধরতে "অপারেশন রিবেল হান্ট" শুরু করে।[৪৪] সরকার বাংলাদেশ রাইফেলসের নাম ও কাঠামো পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সেনা মোতায়েন করা হয়। তদন্তে সহায়তা করার জন্য সরকার এফবিআই এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে সাহায্য চায়।[৪৫]

সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী

[সম্পাদনা]

২০০৯ সালের ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাকুঞ্জ সেনা কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে সেনা সদস্যদের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন।লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিন গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনাকুঞ্জে যা ঘটেছিল তা তুলে ধরেন। কিছুক্ষণ পরে উত্তেজিত অফিসাররা তার বক্তব্যে বাধা দিতে থাকেন। এসএসএফের কয়টা অফিসার- ২০টা অফিসার ৩০টা অফিসার; কী করতে পারবে ১০০০ কমান্ডো; কোয়ালিফায়েড মেজর এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল রক্ত তাদের টগবগ করছে। পরিস্থিতি যেকোনো সময় মারাত্মক হয়ে উঠতে পারত। সেনাপ্রধান শুধু বললেন- জেনারেলরা তোমরা এই অবস্থা টেকওভার করো- জেনারেলস টেকওভার কেমন করে সামাল দেব; এরা তো কথা শুনতেছে না, কী করব; যেকোনো সময় একটা অঘটন তো ঘটে যেতে পারে । লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমিন উল্লেখ করেন, “আমরা উত্তেজিত অফিসারদের ঠান্ডা করার জন্য তাদের সামনে দাঁড়িয়ে লাইন ক্রস করতে বাধা দেই। আল্লাহর অশেষ রহমতে সেদিন কোনো বড় অঘটন ঘটেনি।”[৪৬]

বিচার ও সাজা

[সম্পাদনা]

প্রথম গ্রেফতারের পরেই ৩৭ তম রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সদস্যদের বিচার করা হয়েছিল ১৩ নভেম্বর ২০১০ সালে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রাগার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করা এবং তাদের অস্ত্র গুলি চালানো, নগরীতে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, বিডিআর ডিজি মেজরের লাশের ওপর ন্যাক্কারজনক আচরণে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তারা জেনারেল শাকিল আহমেদকে নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে আদালতে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।[৪৭] ৩৯ তম রাইফেলস ব্যাটালিয়নের বিডিআর সদস্যদের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র লুট করা, গুলি চালানো এবং ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিদ্রোহীদের পক্ষ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছিল।[৪৮] ২০১১ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত হাজার হাজার বিদ্রোহের জন্য বাংলাদেশে বিচার হয়েছে।[৪৯]

বিদ্রোহীদের ওপর রিমান্ডে নির্যাতন শারিরীক নির্যাতন বৈদ্যুতিক শকসহ প্রায় ৫০ জনের কারাগারেই মৃত্যু হয়। এছাড়া আত্মহত্যাসহ আরও অনেকগুলি মামলায় হেফাজতে তাদের ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কনভেনশনের পক্ষ হলেও এই নিরাপত্তা বাহিনী বাংলাদেশে নির্যাতন নিয়মিত ব্যবহার করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অন্যান্যরা দীর্ঘদিন ধরে তার সেনাবাহিনী, র‌্যাব এবং দেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা, বাহিনী গোয়েন্দা অধিদপ্তর জেনারেলসহ তার সুরক্ষা বাহিনী দ্বারা বাংলাদেশে নির্যাতনের পদ্ধতিগত ব্যবহারের নথিভুক্ত করেছে।[১৩][৫০]

প্রায় ৬ হাজার সৈন্যকে গণ-বিচারে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে এবং বিদ্রোহে অংশ নেওয়ার জন্য জরিমানা সহ চার মাস থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের দণ্ড দেয়া হয়।[৫১][৫২] ৮৮২ জন সেনা যারা তাদের সিনিয়র অফিসারদের হত্যা করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছিল এবং তাদের হত্যা, নির্যাতন, ষড়যন্ত্র এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য একটি বেসামরিক আদালতে বিচার করা হয়েছিল।[৫৩]

৫ নভেম্বর ২০১৩, ঢাকা মহানগর দায়রা আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে; ২৫৬ জনকে তিন থেকে দশ বছরের মধ্যে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, এবং ২৭৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।[৩৮][৫৪][৫৫] দোষী সাব্যস্ত হওয়া আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা এই রায়ে আপিল করবেন।[৫৬] কারাগারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুও ছিলেন।[৫৭]

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একজন মুখপাত্র এই গণ-বিচারকে "আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ডের বিরোধী" হিসাবে বর্ণনা করেছেন।[৫৬] মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনার নাভি পিলি এই বিচারের ত্রুটিগুলির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং এটিকে "আইনজীবীদের পর্যাপ্ত ও সময়োপযোগী সহযোগিতা না করাসহ জাতীয় অনিয়মের সাথে দাঙ্গা" বলে অভিহিত করেছেন।[১২] অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একজন মুখপাত্র এই বাক্যগুলির নিন্দা করে বলেছেন যে "নিষ্ঠুর প্রতিশোধের ইচ্ছা পূরণ করার জন্যই বিচার কার্যক্রমকে সাজানো হয়েছে"। তাদের অনুমান অনুসারে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।[৫৩]

বিদ্রোহীদের উপর অন্যায়ভাবে গণ-বিচারের রায় দেওয়া হয়েছে, যা অপরাধ নির্ধারণের জন্য কিছুই করেনি এবং গণ-মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে বলেছে যে "প্রায়,৬ হাজার সন্দেহভাজনদের গণ-বিচারের বিষয়টি ন্যায্য বিচারের উদ্বেগ উত্থাপন করে"। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এশিয়া পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছিলেন, "ভয়াবহ সহিংসতায় ৭৪ জন নিহতের জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার করা উচিত, তবে নির্যাতন ও অন্যায় বিচারের দ্বারা নয়।" "বিদ্রোহের বিষয়ে সরকারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল আনুপাতিকভাবে এবং জনবহুল অঞ্চলে সেনাবাহিনীকে অপ্রতিরোধ্য শক্তি প্রয়োগের দাবি অস্বীকার করে জীবন বাঁচানো হয়েছিল। তবে তার পর থেকে এটি শারীরিক নির্যাতন ও গণ-পরীক্ষার মাধ্যমে যথাযথ প্রতিশোধ নিতে সুরক্ষা বাহিনীকে মূলত সবুজ সংকেত দিয়েছে।[১৩]

বিদ্রোহে নিহতদের তালিকা

[সম্পাদনা]

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা সহ সর্বমোট ৭৪ জন নিহত হন।

নিহত সেনা কর্মকর্তাগণ:[৫৮]

  1. মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ
  2. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন
  3. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল বারী
  4. কর্নেল মো. মজিবুল হক
  5. কর্নেল মো. আনিস উজ জামান
  6. কর্নেল মোহাম্মদ মসীউর রহমান
  7. কর্নেল কুদরত ইলাহী রহমান শফিক
  8. কর্নেল মোহাম্মদ আখতার হোসেন
  9. কর্নেল মো. রেজাউল কবীর
  10. কর্নেল নাফিজ উদ্দীন আহমেদ
  11. কর্নেল কাজী এমদাদুল হক
  12. কর্নেল বিএম জাহিদ হোসেন
  13. কর্নেল সামসুল আরেফিন আহাম্মেদ
  14. কর্নেল মো. নকিবুর রহমান
  15. কর্নেল কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন
  16. কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমেদ
  17. কর্নেল মো. শওকত ইমাম
  18. কর্নেল মো. এমদাদুল ইসলাম
  19. কর্নেল মো. আফতাবুল ইসলাম
  20. লেফটেন্যান্ট কর্নেল এনশাদ ইবন আমিন
  21. লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামসুল আজম
  22. লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী রবি রহমান, এনডিসি
  23. লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া মোহাম্মদ
  24. লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. বদরুল হুদা
  25. লেফটেন্যান্ট কর্নেল এলাহী মঞ্জুর চৌধুরী
  26. লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. এনায়েতুল হক, পিএসসি
  27. লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু মুছা মো. আইউব
  28. লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সাইফুল ইসলাম
  29. লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ লুৎফর রহমান
  30. লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান
  31. লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান খান
  32. মেজর মো. মকবুল হোসেন
  33. মেজর মো. আব্দুস সালাম খান
  34. মেজর হোসেন সোহেল শাহনেওয়াজ
  35. মেজর কাজী মোছাদ্দেক হোসেন
  36. মেজর আহমেদ আজিজুল হাকিম
  37. মেজর মোহাম্মদ সালেহ
  38. শহীদ মেজর কাজী আশরাফ হোসেন
  39. মেজর মাহমুদ হাসান
  40. মেজর মুস্তাক মাহমুদ
  41. মেজর মাহমুদুল হাসান
  42. মেজর হুমায়ুন হায়দার
  43. মেজর মোঃ আজহারুল ইসলাম
  44. মেজর মো. হুমায়ুন কবীর সরকার
  45. মেজর মোঃ খালিদ হোসেন
  46. মেজর মাহবুবুর রহমান
  47. মোঃ মিজানুর রহমান
  48. মেজর মোহাম্মদ মাকসুম-উল-হাকিম
  49. মেজর এস এম মামুনুর রহমান
  50. মেজর মো. রফিকুল ইসলাম
  51. মেজর সৈয়দ মো. ইদ্রিস ইকবাল
  52. মেজর আবু সৈয়দ গাযালী দস্তগীর
  53. মেজর মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন
  54. মেজর মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম সরকার
  55. মেজর মোস্তফা আসাদুজ্জামান
  56. মেজর তানভীর হায়দার নূর
  57. ক্যাপ্টেন মোঃ মাজহারুল হায়দার

নিহত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা:[৫৯]

  1. লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) দেলোয়ার হোসেন (ডিজি শাকিলের বাসার মেহমান)

নিহত সেনা সদস্য:

  1. সৈনিক মোঃ জহুরুল ইসলাম

নিহত বিডিআর সদস্যগণ:[৬০]

  1. সেন্ট্রাল সুবেদার মেজর নুরুল ইসলাম
  2. এডি খন্দকার আব্দুল আউয়াল
  3. ডিএডি মোঃ মাসুম খান
  4. ডিএডি মোঃ ফসিউদ্দিন
  5. সুবেদার সহকারী মোঃ আবুল কাশেম
  6. নায়েক সহকারী বসির উদ্দিন
  7. ল্যান্স নায়েক মোঃ মানিক মিয়া
  8. সিপাহী মোঃ রুহুল আমিন

নিহত বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ:[৬১]

  1. বেগম নাজনীন শাকিল (ডিজি শাকিলের স্ত্রী)
  2. রশনী ফাতেমা আক্তার লাভলী (ডিজি শাকিলের বাসার মেহমান, কর্নেল দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী
  3. কল্পনা (কর্নেল মুজিবুল হকের বাসার গৃহকর্মী)
  4. আমজাদ আলী (বিডিআর হাসপাতালে ঔষধ আনতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন)
  5. তারেক আজিজ (পথচারী, পিপলস ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী)
  6. হৃদয় হোসেন (পথচারী)
  7. ফিরোজ (পথচারী)

পুনঃতদন্ত ও পরবর্তী প্রতিবেদন

[সম্পাদনা]

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ তদন্তের উদ্দেশ্যে একটি কমিশন গঠনের জন্য জোর দাবি জানানো হতে থাকে। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উচ্চ আদালতকে জানায় যে তারা গণহত্যা পুনঃতদন্তের জন্য কোনো কমিশন গঠন করবে না।[৬২] স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্যে জনসমালোচনার সৃষ্টি হয়। দুই দিন পর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ঘোষণা দেন যে কমিশন না গঠিত হলে তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করবেন। ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার পুনঃতদন্তের লক্ষ্যে একটি নতুন ৭ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিশন গঠনের অনুমোদন দেয়।[৬৩]

ভারত ও শেখ হাসিনা সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

[সম্পাদনা]

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ বিডিআর বিদ্রোহের পিছনে ভারত ও শেখ হাসিনা সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনেন।[৬৪]

বিডিআর বিদ্রোহের পর সেনাবাহিনী পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের যে তদন্ত আদালত করা হয়েছিল তার দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল মতিন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ৫ সেপ্টেম্বর তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে তার তদন্তের সারাংশ তুলে ধরেন।[৬৫] তিনি জানান, বেশ আগে থেকেই আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সাথে এ ব্যাপারে বিডিআর জওয়ানেরা পরিকল্পনা করে আসছিল। ২০০৮ সালের ১৭-১৮ ডিসেম্বর ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের বাসাতে হাবিলদার মনির, সিপাহি শাহাব, সিপাহি মনির বৈঠক করেন। নির্বাচনের আগের দিন সন্ধ্যায় বিডিআর দরবার সংলগ্ন মাঠে সিপাহি কাজল, সেলিম, মঈন, রেজা এবং বেসামরিক ব্যক্তি জাকিরসহ কয়েকজন বৈঠক করেন। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় রাজধানীর বনানীতে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের বাসায় বিডিআরের ডিএডি হাবিব, ডিএডি জলিল, ল্যান্সনায়েক রেজাউল, হাবিলদার মনির, সিপাহি সেলিম, কাজল, শাহাবউদ্দিন, একরাম, আইয়ুব, মঈন, রুবেল, মাসুদ, শাহাদত ও জাকির (বেসামরিক) বৈঠক করেন।

সোয়াচের অধ্যাপক আভিনাশ পালিওয়াল তার বইতে জানান, হাসিনাকে উদ্ধার করতে তখন প্রায় ১০০০ ভারতীয় ছত্রীসেনা পশ্চিমবঙ্গের কলাইকুণ্ডা বিমানঘাঁটিতে অবস্থান নেয়। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদকে ভারত সতর্ক করে বিদ্রোহী জওয়ানদের ধরার চেষ্টা যাতে না করা হয়, অন্যথায় ভারত সামরিক হামলা চালাবে।[৬৬]

২০১১ সালে উইকিলিকসে উন্মুক্ত হওয়া নথি অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী শিব শংকর মেনন-কে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠান।[৬৭]

দৈনিক আমার দেশের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’, ঢাকায় আনা হয় প্রশিক্ষিত কিলার গ্রুপ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিক, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশের কিছু কর্মকর্তা।[৬৮] ভারতীয় কিলার গ্রুপের একটি অংশকে খেলোয়াড় বেশে বিডিআরের একটি পিকআপে করে এবং আরেকটি অংশকে রোগী সাজিয়ে নম্বরবিহীন অ্যাম্বুলেন্সে করে পিলখানায় ঢোকানো হয়। রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে তারা পিলখানা ত্যাগও করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা ভারতীয় কিলার গ্রুপটিকে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বিমানের দুবাইগামী ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়। এজন্য ফ্লাইটটি দুই ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর লোকজন ও কিলার গ্রুপের সদস্যরা ফার্মগেটে অবস্থিত তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের হোটেল ইম্পেরিয়াল ব্যবহার করেছে। নাম-পরিচয় গোপন রেখে ইম্পেরিয়াল হোটেলে তারা অবস্থান নিয়েছিলেন। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পিলখানার সিসি টিভি ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত ধ্বংস করে দেন ঘটনার পরপর দায়িত্ব পাওয়া বিডিআর ডিজি লে. জেনারেল মইনুল ইসলাম। বিডিআর হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটি ও জাতীয় তদন্ত কমিটির তদন্ত অসম্পূর্ণ রাখা হয়। ওই তদন্ত কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সংশ্লিষ্টতার নাম এলেও শেখ হাসিনা তাদের রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করতে দেননি এবং কমিটিতে এদের জিজ্ঞাসাবাদও করতে দেওয়া হয়নি।[৬৯][৬৮]

কমিশনের প্রতিবেদন

[সম্পাদনা]
তদন্ত কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যবৃন্দ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কমিশন তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।[৭০] এতে উপসংহার টানা হয় যে ঘটনাটি ছিল একটি পরিকল্পিত অভিযান, হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিদ্রোহ নয়।[৭০] প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয় যে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এতে জড়িত ছিলেন। এতে দাবি করা হয়, শেখ ফজলে নূর তাপস প্রধান সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অভিযানের সবুজ সংকেত দেন।[৭০] প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে মূল তদন্তের সময় প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছিল এবং কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কমিশনের প্রধান জানান যে ঘটনার সময়ের কাছাকাছি ৯২১ জন ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন, যার মধ্যে ৬৭ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।[৭১] প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ছিল এবং এতে দেশি-বিদেশি উভয় পক্ষের সম্পৃক্ততা ছিল।

৩৬০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ ফজলে নূর তাপসের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ সেলিম, সোহেল তাজসহ আরও কয়েকজন এবং ২৪ জন বিদেশি এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন। সেখানে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিভিন্ন বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, হারুনুর রশিদ (লেদার লিটন নামে পরিচিত) এবং তোবারক আলী অংশ নেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৪ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল শামস চৌধুরী এ পরিকল্পনার ব্যাপারে জানতেন, এবং তাপস তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন নিশ্চিত করার দায়িত্বে ছিলেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরপরই গোপনে কিছু বিডিআর সদস্যকে বেছে নিয়ে সংগঠিত করা হয়, পরে তাদের মতাদর্শগতভাবে প্রস্তুত করা হয় এবং পিলখানায় সহিংসতা ঘটানোর জন্য আর্থিকভাবে প্রলুব্ধ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর ক্যাপ্টেন তানভীর হায়দার নূর তার স্ত্রীকে জানান যে পিলখানায় ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তার স্ত্রী তাসনুভা মাহা বলেন, তিনি বিডিআর ইউনিফর্ম পরা তিনজনকে হিন্দিতে কথা বলতে শুনেছেন। বহু সাক্ষী জানান যে সেদিন তারা পিলখানায় হিন্দি, পশ্চিমবঙ্গীয় উপভাষা এবং কিছু অজ্ঞাত ভাষায় কথোপকথন শুনেছেন। কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বিদেশি ভাষা শোনা, বাইরের লোকজনের পালিয়ে যাওয়া, কল লিস্টে বিদেশি নম্বর পাওয়া এবং ক্যাপ্টেন তানভীরের শেষ কথোপকথনসহ বিভিন্ন বিষয়কে ভারতের সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে।[৭০]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "657 jailed for Peelkhana mutiny, 9 freed"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ২৭ জুন ২০১১। ১৯ আগস্ট ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৫
  2. 1 2 মানিক, জুলফিকার আলো (৩ মার্চ ২০০৯)। "6, not 72, army officers missing"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  3. "Bangladesh mutineers 'arrested'"বিবিসি নিউজ। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১০
  4. 1 2 "Dhaka mutineers surrender weapons, troops move in"। Reuters। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  5. "Dozens killed in Bangladesh mutiny - World news - South and Central Asia | NBC News"। MSNBC। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১২
  6. "পিলখানা হত্যাকাণ্ড : শেখ হাসিনা-আজিজসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত"নয়া দিগন্ত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৪
  7. "'এডিসি বললো, স্যার মেশিনগানে গুলি লাগানো আছে'"বিবিসি বাংলা। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২০
  8. 1 2 3 "বিডিআর জওয়ানদের বিদ্রোহ নিহতের সংখ্যা ১৫ বলে দাবি * মহাপরিচালক শাকিল বেঁচে নেই * জিম্মি কর্মকর্তাদের পরিণতি অজানা"দৈনিক প্রথম আলো। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। পৃ. ১। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯
  9. 1 2 "Bangladesh guard mutiny 'spreads'"। বিবিসি নিউজ। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১০
  10. "Bangladesh guard mutiny 'is over'"। বিবিসি নিউজ। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১০
  11. "অবশেষে আত্মসমর্পণ"। প্রথম আলো। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  12. 1 2 "UN's Pillay slams Bangladesh death sentences over mutiny"। বিবিসি নিউজ। ৬ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৩
  13. 1 2 3 "হিউম্যান রাইটস ওয়াচ Report on Bangladesh Rifles Mutiny Trial"। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ৪ জুলাই ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০১৪
  14. "বিডিআর বিদ্রোহ: কমিশনের প্রতিবেদনের পর কী?"ডয়চে ভেলে বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  15. 1 2 Saeed Ahmed (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯)। "Dozens feared dead in Bangladesh mutiny"। সিএনএন।
  16. Mark Dummett (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯)। "Bangladesh becomes battle zone"। বিবিসি নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১০
  17. "Bangladesh Says Security Unit Uprising Leaves 49 Dead (Update2)"Bloomberg। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  18. "Bangladesh troops find mass grave"। বিবিসি নিউজ। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১০
  19. 1 2 "Bangladesh mutineers lay down arms"। আল জাজিরা। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  20. শরিফুল ইসলাম; শারিয়ের খান (৬ নভেম্বর ২০১৩)। "Tragedy sowed by Operation Dal-Bhat"দ্য ডেইলি স্টার
  21. "ক্ষুব্ধ জওয়ানদের দাবি ও নানা অভিযোগ"দৈনিক প্রথম আলো। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  22. "Reports of BDR mutiny across the country"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  23. "Go back to barracks right now or I'll take any step: PM"দ্য ডেইলি স্টার। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  24. "Tanks deployed over Dhaka mutiny"। বিবিসি নিউজ। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১০
  25. "Tanks deployed over Dhaka mutiny"। Reuters। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  26. "BDR mutiny over as tanks roll in"দ্য ডেইলি স্টার। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  27. "Bangladesh mutineers 'arrested'"। বিবিসি নিউজ। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১০
  28. "Army joins search at BDR HQ'"দ্য ডেইলি স্টার। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  29. "Troops enter BDR HQ at PM's instruction: Sahara"দ্য ডেইলি স্টার। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  30. "Bangladesh mutiny ends after tanks enter capital"The Jerusalem Post
  31. "42 more bodies retrieved from BDR headquarters"দ্য ডেইলি স্টার। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  32. "Death toll hits 54 in Bangladesh mutiny"। ইয়াহু! নিউজ। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। ৪ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  33. "গণকবরে ৩৮ সেনা কর্মকর্তার লাশ:তিন দিনের জাতীয় শোক, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হবে, উদ্ধারকাজ এখনো চলছে"দৈনিক প্রথম আলো। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  34. "72 officers still remain missing"দ্য ডেইলি স্টার। ১ মার্চ ২০০৯।
  35. "BDR chief to get command structure restored first"দ্য ডেইলি স্টার। ১ মার্চ ২০০৯।
  36. "New Bangladesh graves discovered"। বিবিসি নিউজ। ১ মার্চ ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১০
  37. "BDR deserters given 24 hours to rejoin"দ্য ডেইলি স্টার। ১ মার্চ ২০০৯।
  38. 1 2 "Bangladesh sentences 152 to death for 2009 mutiny"USA Today। ৫ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৩
  39. "Betrayal and slaughter – BDR chief, wife killed"দ্য টেলিগ্রাফ। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  40. Parveen Ahmed (২ মার্চ ২০০৯)। "Bangladesh holds state funeral for slain officers"। ঢাকা: ইয়াহু! নিউজ
  41. Anis Ahmed (২ মার্চ ২০০৯)। "Bangladesh lowers army death toll in mutiny"Reuters, UK। ৩ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  42. Joe Rubin (৬ মার্চ ২০০৯)। "The Business of Bribes: Bangladesh: The Mystery of a Mutiny"Frontline। PBS।
  43. "বিডিআর বিদ্রোহ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি"দৈনিক প্রথম আলো। ৩ মার্চ ২০০৯।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  44. "Hunt for BDR rebels kicks off"দ্য ডেইলি স্টার। ২ মার্চ ২০০৯।
  45. "বিডিআর সদর দপ্তরের ঘটনার তদন্ত : এফবিআইসহ বিদেশি সংস্থার সাহায্য নেওয়ার উদ্যোগ"প্রথম আলো। ৩ মার্চ ২০০৯।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  46. shottokontho (৪ জানুয়ারি ২০২৫)। "বিডিআর বিদ্রোহের পর সেনাকুঞ্জে যা ঘটেছিল: অডিও রেকর্ড এর স্মৃতিচারণা" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৫
  47. "Trial of 44 Rajshahi BDR mutineers begins"দ্য ডেইলি স্টার
  48. "4 more arrested from 39 Rifles Battalion"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ৩০ অক্টোবর ২০১০। ২ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  49. "Troops in Dhaka court over mutiny"। আল জাজিরা। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১২
  50. "Bangladesh tries 800 soldiers for bloody 2009 mutiny"। বিবিসি নিউজ।
  51. "Bangladesh convicts hundreds in mutiny case"। আল জাজিরা। ৫ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৩
  52. "46 BDR jawans of 29 Rifles Battalion jailed ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ এপ্রিল ২০১২ তারিখে" unbconnect.com
  53. 1 2 "Bangladesh to execute 152 soldiers for mutiny crimes"। বিবিসি নিউজ। ৫ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৩
  54. Julfikar Ali Manik; Ellen Barry (৫ নভেম্বর ২০১৩)। "152 Bangladeshi Border Guards Get Death Penalty Over Revolt"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  55. Julhas Alam (৫ নভেম্বর ২০১৩)। "Bangladesh sentences 152 to death for 2009 mutiny"The Washington Post। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  56. 1 2 Buncomb, Andrew (৫ নভেম্বর ২০১৩)। "152 former paramilitary soldiers sentenced to death in Bangladesh for killing 74 in mutiny"The Independent। ৬ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৩
  57. "Ex-BNP MP Nasiruddin Pintu dies"দ্য ডেইলি স্টার। ৩ মে ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০১৬
  58. "Officers, soldiers who were killed" [অফিসার, সৈন্য যারা নিহত হয়েছে]দ্যা ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০১৯
  59. আহমেদ, ফয়েজ; (চাঁদপুর), শাহরাস্তি (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২)। "পিলখানা হত্যাকাণ্ড: আজও ছেলের কথায় কেঁদে ওঠেন কর্নেল দেলোয়ারের বৃদ্ধা মা"Ajkerpatrika। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০২৫
  60. রিপোর্ট, ইত্তেফাক (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)। "নিহ*ত ৭ বিডিআর সদস্যের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই"The Daily Ittefaq। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০২৫
  61. আলী, ইমরান; করেসপন্ডেন্ট, স্টাফ (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪)। "বিডিআর বিদ্রোহে প্রাণ হারালেন যারা"banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০২৫
  62. "পিলখানা হত্যাকাণ্ড: আপাতত কমিটি গঠন সম্ভব হচ্ছে না"দৈনিক প্রথম আলো। ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪
  63. "পিলখানা হত্যায় তদন্ত কমিশন গঠনে সায়"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪
  64. "বিডিআর বিদ্রোহ: হাসিনা ও ভারতের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত করে যেসব তথ্য"banglanews24.com। ৩০ এপ্রিল ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  65. "পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য পরিকল্পনাকারী শেখ হাসিনা"দৈনিক সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪
  66. "How India directed the BDR mutiny response"ঢাকা ট্রিবিউন (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪
  67. "WIKILEAKS EXPOSÉ: BangladeshDhaka approached Delhi during mutiny"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪
  68. 1 2 "বিডিআর বিদ্রোহ: মাস্টারমাইন্ড হাসিনা গং, আনা হয় ভারতীয় কিলার গ্রুপ"দৈনিক যুগান্তর। ১২ জানুয়ারি ২০২৫।
  69. সৈয়দ আবদাল আহমদ (১২ জানুয়ারি ২০২৫)। "বিডিআর হত্যার মাস্টারমাইন্ড হাসিনা গং"দৈনিক আমার দেশ। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  70. 1 2 3 4 "ভারত আ.লীগ হাসিনা জড়িত, তাপস মূল সমন্বয়কারী"দৈনিক আমার দেশ। ১ ডিসেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  71. "পিলখানা হত্যাকা'ণ্ডে 'ভারতীয় যোগসাজশ', ষড়যন্ত্র শুরু ২০০৮ থেকে"দৈনিক ইত্তেফাক। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]