বাংলাদেশে বিহারী নিপীড়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বাংলাদেশে বিহারী নিপীড়ন শুরু হয় ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে। এ সময় বাংলাদেশ ছিল ১৯৪৭-এ সৃষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পূর্ব পাকিস্তান। বিহারীদের আদি নিবাস পাকিস্তান ছিল না যদিও, কিন্তু তাদের ভাষা উর্দু হওয়ার কারণে তাদেরকে পশ্চিম পাকিস্তনীদের সমজাত গণ্য করে নিপীড়ন শুরু করা হয়। পরবর্তীকালে তাদের একাংশ পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে সহায়তা প্রদান করলে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে ভূমিকা রাখলে তারা সাধারণভাবে বাঙ্গালী জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের লক্ষ্যে পরিণত হয়। মুক্তিযুদ্ধের পরিণতিতে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলেও তাদের বিরূদ্ধে সামাজিক বৈরিতা অব্যাহত থাকে।

বাংলাদেশে বিহারী নিপীড়ন একটি বিতর্কিত বিষয়। বাংলাদেশ সরকার কখনই বিষয়টি আমলে নেয় নি বা স্বীকার করে নি। কার্যতঃ এটি ট্যাব্যু বা নিষিদ্ধ বিষয়। শর্মিলা বসু তাঁর ২০১১ এ প্রকাশিত ডেড রেকনিং: ১৯৭১ এর বাংলাদেশ যুদ্ধের স্মৃতি নামীয় গ্রন্থে বিষয়টি তথ্য-প্রমাণ দিয়ে উত্থাপন করলে এ বিষয়ে জনসচেতনতার সৃষ্টি হয়। তিনি দেখান যে ১৯৭১-এ বহু স্থানে পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর হামলার আগেই বিহারী নিধন করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের জাতিগত সংখ্যালঘু বিহারীরা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের (পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধ বলা হয়ে থাকে) সময় ও এর পরে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিল[১] এবং বিস্তর বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে[২]। বিহারীরা পাকিস্তানপন্থি মনোভাব পোষণ করেছিল, পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন করেছিল[১] এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল। বিহারীরা বাংলাদেশের উচ্ছৃঙ্খল জনতা[১] এবং সেনাবাহিনীর প্রতিহিংসার মুখে পড়েছিল এবং  ১০০০[৩] থেকে ১৫০০০০[৪][৫] জনকে হত্যা করা হয়েছিল।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট বিহারীদেরকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভের উপযুক্ত বলে আদেশ দিয়েছিল' কিন্তু ৫০০০০০ জন পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তন বেছে নিয়েছিল।[১][৬] কিছু প্রত্যাবর্তন রেডক্রসের মাধ্যমে কয়েক বছর ধরে বাস্তবায়িত হয়েছিল[৭], কিন্তু ১৯৭৮ সালে পাকিস্তানী সরকার বাংলাদেশের বাকি পাকিস্তানীদের পাকিস্তানী নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করে।[৬] গবেষক (যেমন সুমিত সেন)[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] উল্লেখ করেন যে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বিহারীদের নাগরিকত্ব বাতিল করা[৮] এবং পাকিস্তানে তাদের পুনর্বাসনে অনিচ্ছার কথা ভবিষ্যত উদ্বাস্তুদের প্রতি নির্যাতনের যথাযথ প্রমান বহন করে। বিহারীরা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যেরও মুখোমুখি হয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

দেশবিভাগের ভয়াবহতা[সম্পাদনা]

সাবেক ব্রিটিশ ভারতের অন্যান্য[৯] অঞ্চলের মত বিহার (বর্তমানে পূর্ব ভারতের একটি প্রদেশ) দেশ-বিভাগের কারনে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত হয়েছিল।[১০] ১৯৪৭ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ৩০০০০ এর বেশী বিহারীকে হত্যা  করা হয়েছিল এবং অনুমান করা হয় যে দশ লক্ষের বেশী পূর্বপাকিস্তানে চলে যায়।[১১]

বিহারত্যাগ[সম্পাদনা]

১৯৫১ সালের শুমারি অনুযায়ী পূর্বপাকিস্তানে ৬৭১০০ জন বিহারী ছিল; ১৯৬১ সালে  বিহারী জনসংখ্যা ৪৫০০০০ জনে পৌছে। বিস্তারিত হিসাব মতে ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের পরবর্তী দুই দশকে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মুসলিম পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহার থেকে পূর্ববাংলায় চলে এসেছিল।[১২] দেশভাগ ১২.৫ মিলিয়ন পর্যন্ত মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছিল (বহু দুর্ঘটনাসহ); লক্ষ লক্ষ মুসলমান ও হিন্দু দেশ ত্যাগ করে যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারতের সায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চলে এবং হিন্দুরা বর্তমানকালের পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে গিয়েছিল।[১৩][১৪] দ্বি-জাতি তত্ত্বের বিশ্বাসমতে পাকিস্তান ছাড়াও মুসলমানদের ভারতের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে স্বাধীন আবাসভূমি থাকা উচিত; এটি মুসলমানদের সায়ত্ত্বশাসিত পাকিস্তানে চলে যাওয়ার সূচনা করেছিল।[১৫][১৬]

শেখ মুজিবর রহমান (তখনকার ছাত্রনেতা) ১৯৪৭ সালে সাহায্যকারি দল নিয়ে বিহারের আক্রান্ত গ্রামগুলোতে সফর করেছিলেন এবং বিহারী শরনার্থীদের পুর্ব-পাকিস্তানে চলে  আসতে বলেছিলেন।[১০]

পটভূমি[সম্পাদনা]

বিহারী ও বাঙালিদের ভেতর সাম্প্রদায়িক নৃশংসতার কারন হিসেবে যা উল্লেখ করা হয় তা হল বাঙালিদের রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে উর্দুর বিরোধীতা করা যার ফলাফল বাংলা ভাষা আন্দোলন এবং অর্থনৈতিক নিম্নগতি। পূর্বপাকিস্তানের অপেক্ষাকৃত ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাব দুই সম্প্রদায় ও দেশের দুই অঞ্চলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিল।[১৭] ১৯৭০ সালের সাধারন নির্বাচনে বিহারীরা আওয়ামী লীগকে (বাঙালিদের সানন্দ সমর্থিত) বাদ দিয়ে প্রধানত পশ্চিম পাকিস্তান মুসলিম লীগকে  সমর্থন করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদ-বিরোধী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। অবিচ্ছিন্ন পাকিস্তান সময়ে (১৯৪৭-৭১), তারা তাদেরকে পশ্চিম পাকিস্তানী বলে পরিচয় দিত।[১১]

সশস্ত্র প্যারামিলিশিয়া গ্রুপ যেমন আল-শামস, রাজাকার এবং আলবদরে (বাঙালি জাতিয়তাবাদী মানুষ, সাধারন মানুষ, ধর্মিয় ও সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠির বিরুদ্ধে গনহত্যার জন্য দায়ী) সংখ্যাগরিষ্টরুপে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীকে বিহারীরা সমর্থন করেছিল। স্বাধীন গবেষকদের অনুমান করা মৃতের সংখ্যা সংবাদ মাধ্যম, যেমন বিবিসি, প্রকাশ করেছে যা ২০০০০০ থেকে ৫০০০০০ এর ভেতর। আরজে রুমেল ও ম্যাথু হোয়াইট এর হিসাবে সাধারন বাঙালির মৃতের সংখ্যা ১.৫ মিলিয়ন।[১৮][১৯] হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্ট মতে, পাকিস্তানিদের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ২৫,০০০।

বাঙালিদের মধ্যে অসন্তোষ জাগিয়ে,[২০][২১] বিহারীরা প্রতিহিংসার লক্ষে পরিণত হয়েছিল। মাইনোরিটিস এট রিস্ক প্রোজেক্ট বিহারী হত্যার সংখ্যা ১০০০[৩] উল্লেখ করেছে; যদিও আরজে রুমেল সংখ্যা প্রায় ১,৫০,০০০ উল্লেখ করেছেন।[২২]

বাঙালি প্রতিহিংসার আরেকটি কারন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে বিহারিদের সহযোগিতা, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাঙালিদের গণধর্ষনে অংশ নিয়েছিল।[২৩] সুসান ব্রনমিলার যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা ধর্ষনের স্বীকার নারী ও শিশুর সংখ্যা ২,০০,০০০ থেকে ৪,০০,০০০  বলে  হিসাব করেছেন।[২৪]

অবাঙালি হত্যার সংখ্যা বাঙালিদের মতে ১০০০ থেকে হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের[২২] ইতিহাসবিদ আরজে রুমেলের মত ১,৫০,০০০ পর্যন্ত ওঠানামা করে, আন্তর্জাতিক হিসাব ১০০০ থেকে ২,০০,০০০ পর্যন্ত ওঠানামা করে।[২৫] প্রধানত মুক্তিবাহিনীর বাঙালি পুরুষরা যুদ্ধের সময়  ও পরে বিহারী নারীদের ধর্ষন ও নির্যাতন করেছিল।[২৬][২৭][২৮]

পাকিস্তান সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্র মতে আওয়ামী লীগ ৩০,০০০ বিহারী ও পশ্চিম পাকিস্তানিদের হত্যা করেছিল।[২৯] বাঙালি জনতা প্রায়ই ম্যাচিটি ও বাশের লাঠি নিয়ে সশস্ত্র থাকত।

চট্টগ্রামে বাঙালি জনতা ৩০০ বিহারীকে হত্যা করেছিল। এই গণহত্যাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাঙালি জাতীয়তাবাদি আন্দোলনের বিরুদ্ধে শুরু করা অপারেশন সার্চলাইটের যথার্থতা হিসেবে ব্যবহার করেছিল। যশোর, পঞ্চবিবি ও খুলনায় (যেখানে ১৯৭২ এর মার্চে, ৩০০ থেকে ১০০০ বিহারিকে হত্যা করা হয়েছিল এবং তাদের দেহ নিকটবর্তী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল) বিহারী হত্যা হয়েছিল।[২৭][২৮][৩০][৩০]

ফলাফল[সম্পাদনা]

মুক্তি বাহিনী[সম্পাদনা]

অভিযোগ আছে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিনামস্বরুপ পূর্বপাকিস্তানের বাঙালি প্রতিরোধ বাহিনী মুক্তিবাহিনী অবাঙালিদের (মূলত পশ্চিম পাকিস্তানী ও বিহারী) হত্যা করেছিল।[২৫] শর্মিলা বোস, তার ডেড রিকোনিংঃ মেমোরিস অব দ্যা ১৯৭১ বাংলাদেশি ওয়ার-এ, বাংলাদেশি স্বাধীনতাকে পূর্বপাকিস্তানের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর উপর অত্যাচারকে অবজ্ঞার দোষে অভিযুক্ত করেছেন। যদিও বোসের বই বিতর্কিত বলে বিবেচিত হয়। তার বই বহু ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক এবং লেখক দ্বারা কঠিন সমালোচিত হয়েছিল।[৩১][৩২][৩৩]

শরনার্থী সংকট[সম্পাদনা]

বিহারীদের নাগরিকত্ব দানের সুযোগ দিয়ে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার ১৪৯ ঘোষনা করেছিল।[১১] সরকারি সূত্রমতে ৬,০০,০০০ বিহারী সুযোগটি গ্রহণ করেছিল এবং ৫,৩৯,৬৬৯ জন পাকিস্তানে ফিরে যেতে চেয়েছিল।[১১] পাকিস্তানের অনেক দল বিহারীদের গ্রহণ করতে তাদের সরকারকে অনুরোধ করেছিল।[৩৪][৩৫]

সুরুর হূদা, একজন সমাজবাদী নেতা,শরনার্থী সংকট সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। ব্রিটিশ লেবার পার্টির রাজনীতিবিদ ডেভিড ইনালস ও বেন হুইটেকারকে প্রধান করে তিনি একটি প্রতিনিধিদল গঠন করেছিলেন, যা অনেক শরনার্থীকে পাকিস্তানে ফিরে যেতে উৎসাহিত করে।[৩৬] ১৯৭৪ এর এক চুক্তিতে পাকিস্তান ১,৭০,০০০ জন বিহারী  শরনার্থীকে গ্রহন করেছিল; যদিও তারপর থেকে স্বদেশে পুনপ্রত্যাবর্তন থেমে আছে।[৩৭]

রিফুজি ইন্টারন্যাশনালের মত সংস্থা উভয় সরকারকে অনুরোধ করেছে এই লাখো বিহারীদের নাগরিকত্ব দিতে যারা কার্যকর জাতীয়তা ছাড়া আছে।[৩৮] পারভেজ মোশারফ ২০০২ সালে তার বাংলাদেশ সফরের সময় বলেছিলেন তিনি বিহারীদের দুর্দশার প্রতি সহানুভূতিশীল কিন্তু তিনি তাদের পাকিস্তানে আসার অনুমতি দিতে পারেন না।[৩৯] ২০০৬ সালে জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক মহাসচিবের দফতর বিহারীদের দুর্দশার ব্যাপারটি সমাধান করেনি।[৩৮] ২০০৮ সালের ১৯ মে ঢাকা হাইকোর্ট, ১,৫০,০০০ জন শরনার্থীকে, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংখ্যালঘু ছিল, তাদের নাগরিকত্ব ও ভোটের অধিকারের অনুমোদন দিয়েছিল। যুদ্ধের পর যারা জন্মেছিল তারাও নাগরিকত্ব ও ভোটের অধিকার পেয়েছিল।[৪০][৪১]

অভিবাসন[সম্পাদনা]

প্রাথমিক পাকিস্তান-পন্থি মনোভাবের কারনে, বিহারীদের পাকিস্তানে পুন-প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা দৃঢ় ছিল। প্রাথমিকভাবে, ৮৩,০০০ বিহারী (পূর্বের সরকারি কর্মচারি ও সামরিক ব্যাক্তিরা) পাকিস্তানে অপসারিত হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে ১,০৮,০০০ জনকে পাকিস্তানে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল (মূলত আকাশপথে); ১৯৮১ সালে ১,৬৩,০০০ জনকে। দেশবিহীন মানুষের দেশে পুন-প্রত্যাবর্তনের জন্য উভয় দেশ চুক্তি সাক্ষর করেছিল, কিন্তু শুধুমাত্র কয়েকশত লোক পাকিস্তানে যেতে পেরেছিল।[৪২] ১৯৮৮ সালে ইসলামি সাহায্য সংস্থা (ওআইসি) বিহারীদের পাকিস্তানে পুন-প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার তুলেছিল। পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জিয়া-উল-হক রাবিতা (সাহায্য) ট্রাস্ট বোর্ড নামে একটি বিশেষ  কমিটি  গঠন করেছিলেন।[৪৩] এটি ১৪ বিলিয়ন ডলার তুলেছিল ১৯৯২ সালে এবং বিহারীদের পুনর্বাসনের জন্য সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের কাছ থেকে অতিরিক্ত অনুদানের জন্য অনুরোধ করছিল।[৪৪]

পাকিস্তানের মিয়ান চুন্নু কলোনিতে বিহারীদের জন্য বরাদ্দকৃত জমি এখন বস্তি।[৪৫] ১৯৮০ সালের করাচী দাঙ্গার সময়ে বিহারীরা জাতিগত সিন্ধি লোকদের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল।[৪৬] পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের জাতিগত পাঞ্জাবীরা বিহারীদের জন্য বরাদ্দকৃত আশ্রয় জোর করে দখল করে নিয়েছিল।[৪৫] এইসব ঘটনায়  কিছু বিহারী বাংলাদেশে ফিরে আসে।[অনির্ভরযোগ্য উৎস?]

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

যদিও অনেক বিহারী বাংলাদশের বাঙালি জনসাধারণের ভেতর অঙ্গিভূত হয়ে গিয়েছে, কিছু পাকিস্তানে চলে গিয়েছে এবং বাংলাদেশজুড়ে শরনার্থী শিবিরে অবস্থান নিয়েছে।[৪৭] এক হিসাবমতে বাংলাদেশের শহুরে শরনার্থী শিবিরে এখনো কমপক্ষে ২,৫০,০০০ বিহারী রয়েছে।[৪৮] ক্যাম্পগুলো বস্তিতে পরিণত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি (জেনেভা ক্যাম্প নামে পরিচিত, যাতে ২৫,০০০ এর বেশি লোক আছে) ঘনবসতিপূর্ন ও অনুন্নত; ১০ জন লোকের একটি পরিবার একটি কক্ষে থাকে[৪৯],৯০ টি পরিবার একটি ল্যাট্রিন ভাগাভাগি করে এবং পাঁচ শতাংশের কম লোকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আছে। শিক্ষার সুযোগের অভাবে এবং জীবনের নিম্ন মানের কারনে বস্তির তরুনেরা সম্প্রদায়ে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য উর্দুভাষী যুব উন্নয়ন সংগঠন (উর্দুভাষী তরুন ছাত্র সংস্থা) প্রতিষ্ঠা করেছে। খারাপ ড্রেইনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারনে স্বাস্থ্য[৫০] ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমস্যা লেগেই থাকে এবং খবর প্রতিবেদনে ও একাডেমিক জার্নালে বিহারীদের অর্থনৈতিক অবস্থা অতি দরিদ্র বলে  প্রকাশিত হয়েছে।[৪৯]

২০১৪ কালসি সংঘর্ষ[সম্পাদনা]

২০১৪ সালে মিরপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী লীগ শাসক দলের সদস্যরা উর্দুভাষী সম্প্রদায়ের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল।[৫১] এই সংঘর্ষের সময় আওয়ামী লীগ ও তার স্থানীয় বাঙালি সমর্থকেরা এক পরিবারের আটজন সহ নয় জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলে।[৫২]

আক্রমন প্ররোচনার জন্য বিহারীরা জাতিগত বাঙালি আইনপ্রণেতা ইলিয়াস মোল্লাকে দোষারোপ করেছিল।[৫৩] ইলিয়াস মোল্লা জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন এবং তার বিরুদ্ধে "স্বার্থানেষী ষড়যন্ত্র" বলে নিন্দা করেন।[৫৪]

নাগরিকত্ব ও বিরোধ দূর করার চেষ্টা[সম্পাদনা]

২০০৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশে হাইকোর্টের একটি আইন দশজন বিহারী শরনার্থীকে নাগরিকত্ব ও ভোটের অধিকার অর্জনের অনুমতি দিয়েছিল।[৫৫] এই আইন বিহারীদের মধ্যে প্রজন্মের ব্যবধান উন্মোচিত করেছিল; তরুন বিহারীরা পরম উল্লাসিত হয়েছিল, কিন্তু অনেক বয়স্ক মানুষ "উৎসাহে ভাটা" অনুভব করেছিল এবং বলেছিল তাদের আসল বাড়ি পাকিস্তানে।[৫৬] অনেক বিহারী এখন বৃহত্তর নাগরিক অধিকার এবং বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রত্যাশী।[৫৭]

২০০৮ এর ১৯ মে, ঢাকা হাই কোর্ট ১,৫০,০০০ জন শরণার্থী যারা ১৯৭১ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংখ্যালঘু ছিল, তাদের নাগরিকত্ব ও ভোটের অধিকার অনুমোদন করে।[৪০][৪১] যারা যুদ্ধের পর জন্ম নিয়েছিল তারাও নাগরিকত্ব ও ভোটের অধিকার অর্জন করে। ২০০৮ সালের সাধারন নির্বাচনে অনেক রাজনৈতিক দল বিহারী ভোটের জন্য ক্যাম্পে প্রচারোভিযান চালিয়েছিল এবং দলটি পার্টি ও প্রার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ন বিবেচিত হয়েছিল।[৫৮] যদিও কোর্টের আইন বলেছিল যে বিহারীরা ডিসেম্বর ২০০৮ নির্বাচনের জন্য নিবন্ধনের যোগ্য, নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধিত না করেই ২০০৮ এর আগস্টে তাদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল।[৫৯]

জনপ্রিয় সংষ্কৃতিতে[সম্পাদনা]

আকুইলা ইসমাইলের উপন্যাস অব মারটিয়ার এন্ড মেরিগোল্ড, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিহারীদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিয়তাবাদীদের নৃশংসতার উপর আলোকপাত করে।[৬০]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Khan, Borhan Uddin; Muhammad Mahbubur Rahman (২০১০)। Rainer Hofmann, Ugo Caruso, সম্পাদক। Minority Rights in South Asia। Peter Lang। পৃষ্ঠা 101। আইএসবিএন 978-3631609163 
  2. "Citizenship for Bihari refugees"BBC। ১৯ মে ২০০৮। 
  3. "Chronology for Biharis in Bangladesh"The Minorities at Risk (MAR) Project। ২ জুন ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০১৩ 
  4. George Fink (২৫ নভেম্বর ২০১০)। Stress of War, Conflict and Disaster। Academic Press। পৃষ্ঠা 292। আইএসবিএন 978-0-12-381382-4 
  5. Encyclopedia of Violence, Peace and Conflict: Po - Z, index. 3। Academic Press। ১৯৯৯। পৃষ্ঠা 64। আইএসবিএন 978-0-12-227010-9 
  6. Abdus Sattar Ghazali (২৪ জানুয়ারি ২০১৩)। "Four decades of sufferings of the stranded Pakistanis in Bangladesh" 
  7. "Bangladesh: ICRC honoured for helping victims of 1971 conflict"। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৩ 
  8. Megan Bradley (২১ মার্চ ২০১৩)। Refugee Repatriation: Justice, Responsibility and Redress। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 201। আইএসবিএন 978-1-107-02631-5। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০১৩ 
  9. Singh, Atamjit (১৯৯৬)। Nalini Natarajan, Emmanuel Sampath Nelson, সম্পাদক। Handbook of Twentieth-century Literatures of India। Greenwood। পৃষ্ঠা 256। আইএসবিএন 978-0313287787 
  10. Southwick, Catherine (২০১২)। Brad K. Blitz, Maureen Lynch, সম্পাদক। Statelessness and Citizenship: A Comparative Study on the Benefits of Nationality। Edward Elgar। পৃষ্ঠা 117। আইএসবিএন 978-1781952153 
  11. M. R. Biju (২০১০)। Developmental Issues in Contemporary India। Concept Publishing Company। পৃষ্ঠা 246। আইএসবিএন 978-81-8069-714-2। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৩ 
  12. Joya Chatterji (২০১০)। The Spoils of Partition। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 166। আইএসবিএন 978-1-139-46830-5। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০১৩ 
  13. Veena Kukreja; M P Singh (২৩ নভেম্বর ২০০৫)। Pakistan: Democracy, Development and Security Issues। SAGE Publications। পৃষ্ঠা 40–। আইএসবিএন 978-0-7619-3416-5। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৩ 
  14. Nazli Kibria (২০১১)। Muslims in Motion: Islam and National Identity in the Bangladeshi Diaspora। Rutgers University Press। পৃষ্ঠা 11–। আইএসবিএন 978-0-8135-5055-8। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৩ 
  15. M. G. Chitkara (১৯৯৭)। Human Rights in Pakistan। APH Publishing। পৃষ্ঠা 111–। আইএসবিএন 978-81-7024-820-0। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৩ 
  16. Steven L. Jacobs (২০০৯)। Confronting Genocide: Judaism, Christianity, Islam। Lexington Books। পৃষ্ঠা 141–। আইএসবিএন 978-0-7391-3589-1। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৩ 
  17. James Heitzman and Robert Worden (eds), সম্পাদক (১৯৮৯)। "Pakistan Period (1947–71)"Bangladesh: A Country Study। Government Printing Office, Country Studies US। আইএসবিএন 0-16-017720-0। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০০৭ 
  18. "Statistics Of Pakistan's Democide"। Hawaii.edu। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০১৩ 
  19. White, Matthew J। The Great Big Book of Horrible Things। New York: W.W. Norton। পৃষ্ঠা 190। 
  20. Siddiqi, Abdul Rahman (২০০৫)। East Pakistan: The Endgame: An Onlooker's Journal 1969–1971। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 171। আইএসবিএন 978-0195799934 
  21. Yasmeen Niaz Mohiuddin (২০০৭)। Pakistan: A Global Studies Handbook। ABC-CLIO। পৃষ্ঠা 174। আইএসবিএন 1851098011 
  22. "Statistics Of Pakistan'S Democide"। Hawaii.edu। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০১৩ 
  23. Saikia, Yasmin (২০১১)। Women, War, and the Making of Bangladesh: Remembering 1971। Duke University Press। পৃষ্ঠা 3। আইএসবিএন 978-0822350385 
  24. Brownmiller, Susan। Against Our Will: Men, Women, and Rape। পৃষ্ঠা 81। আইএসবিএন 0-449-90820-8 
  25. Gerlach, Christian (১৪ অক্টোবর ২০১০)। Extremely Violent Societies: Mass Violence in the Twentieth-Century World। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 148ff। আইএসবিএন 978-1-139-49351-2। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০১৩ 
  26. Saikia, Yasmin (২০১১)। Women, War, and the Making of Bangladesh: Remembering 1971। Duke University Press। পৃষ্ঠা 41। আইএসবিএন 978-0-8223-5038-5 
  27. Gerlach, Christian (২০১০)। Extremely Violent Societies: Mass Violence in the Twentieth-Century World (1st সংস্করণ)। Cambridge University Press। আইএসবিএন 978-0-521-70681-0 
  28. Bennett Jones, Owen (২০০৩)। Pakistan: Eye of the Storm (2nd revised সংস্করণ)। Yale University Press। পৃষ্ঠা 171। আইএসবিএন 978-0-300-10147-8 
  29. Jones, Adam (২০১০)। Genocide: A Comprehensive Introduction। Routledge। পৃষ্ঠা 231। আইএসবিএন 978-0415486194 
  30. "Massacre of Biharis in Bangladesh"The Age। ১৫ মার্চ ১৯৭২। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১৩ 
  31. "Controversial book accuses Bengalis of 1971 war crimes"BBC। ১৬ জুন ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  32. "Bose is more Pakistani than Jinnah the Quaid"The Sunday Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  33. "Flying Blind: Waiting for a Real Reckoning on 1971"The Daily Star। ৩ অক্টোবর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  34. Abdul Maqsood Mirza (২৮ ডিসেম্বর ২০০৫)। "PRC Wants Urgent Steps for Biharis' Repatriation"Arab News। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুলাই ২০১৩ 
  35. "MQM demands issuance of CNICs to Biharis"DAWN। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৪। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৩ 
  36. McRobie, George (৩০ জুন ২০০৩)। "Surur Hoda"The Guardian 
  37. "South Asia Forum for Human Rights"। SAFHR। ১৮ এপ্রিল ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৩ 
  38. "Citizens of Nowhere: The Stateless Biharis of Bangladesh"। Refugees International। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৩ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  39. "Musharraf wraps up Bangladesh visit"BBC। ৩১ জুলাই ২০০২। 
  40. Dhaka, Reuters (১৮ মে ২০০৮)। "Court rules that young Biharis are Bangladesh citizens"Reuters 
  41. Shahnaz Parveen (২৬ মে ২০০৬)। "Citizenship debate comes to end but doubts and worries remain"The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১৩ 
  42. "Bangla Biharis weary of wait to migrate to Pakistan"Rediff.com। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুন ২০১৩ 
  43. Mahmud, Had; Amir mir; Owais Tohid (৮ নভেম্বর ১৯৯৫)। "Pakistan's Orphans"Outlook। ১৪ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  44. Mehtab Ali Shah (১৫ নভেম্বর ১৯৯৭)। The Foreign Policy of Pakistan: Ethnic Impacts on Diplomacy 1971–1994। I.B. Tauris। পৃষ্ঠা 73। আইএসবিএন 978-1-86064-169-5। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০১৩ 
  45. "Will Nitish's visit boost Biharis in Pakistan?"Times of India। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুন ২০১৩ 
  46. "MQM facing extinction"The Nation (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-৩০ 
  47. "Biharis"। Minority Rights Group International। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৩ 
  48. "Biharis of Bangladesh, World Directory of Minorities"। Faqs.org। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মে ২০১৩ 
  49. Rafferty, Mark; Anna Gilmer (১৭ জুলাই ২০১০)। "Bangladesh's forgotten students: The Biharis struggle"Global Post 
  50. Farzana, Kazi Fahmida (২০০৮)। "The Neglected Stateless Bihari Community in Bangladesh: Victims of Political and Diplomatic Onslaught" (PDF)Journal of Humanities and Social Sciences2 (1)। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১৩ 
  51. Azad, Adib; Shaon, Ashif Islam (১৮ জুন ২০১৪)। "Mirpur clashes kill 10 Biharis"Dhaka Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  52. "9 burnt dead, another 'gunned down'"The Daily Star। ১৪ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  53. "Biharis point fingers at Elias"The Daily Star। ১৬ জুন ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  54. Chowdhury, Kamran Reza (২৩ জুন ২০১৪)। "Bihari Camp Arson Attack: Elias Mollah denies role"Dhaka Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  55. Rahman, Waliur (৬ মে ২০০৩)। "Vote for 'stranded Pakistanis'"BBC 
  56. Lawson, Alastair (২৮ মে ২০০৩)। "Mixed feelings over Bihari ruling"BBC 
  57. "Bangladesh: Stateless Biharis Grasp for a Resolution and Their Rights" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২১ মার্চ ২০০৭ তারিখে, Refugees International
  58. Manik, Julfikar Ali (২৬ ডিসেম্বর ২০০৮)। "Parties go innovative to grab Bihari votes"The Daily Star 
  59. "Bangladesh fails to register its Urdu-speaking citizens as voters". Thaindian. 16 August 2008.
  60. Zehra, Batool (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২)। "The other side of history"। The Express Tribune। The Express Tribune। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৬