বব বেরি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বব বেরি
বব বেরি.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরবার্ট বেরি
জন্ম(১৯২৬-০১-২৯)২৯ জানুয়ারি ১৯২৬
গর্টন, ম্যানচেস্টার, ল্যাঙ্কাশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২ ডিসেম্বর ২০০৬(2006-12-02) (বয়স ৮০)
ম্যানচেস্টার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৪৬)
৮ জুন ১৯৫০ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট২৪ জুন ১৯৫০ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৪৮–১৯৬৪ল্যাঙ্কাশায়ার
১৯৫০–১৯৫৫মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)
১৯৫৫–১৯৫৮ওরচেস্টারশায়ার
১৯৫৯১৯৬২ডার্বিশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২৭৩
রানের সংখ্যা ১,৪৬৩
ব্যাটিং গড় ৩.০০ ৭.৫৮
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ৪* ৪০
বল করেছে ৬৫৩ ৫০,৬৮০
উইকেট ৭০৩
বোলিং গড় ২৫.৩৩ ২৪.৭৩
ইনিংসে ৫ উইকেট ৩৪
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৫/৬৩ ১০/১০২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/- ১৩৮/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১১ নভেম্বর ২০১৮

রবার্ট বেরি (ইংরেজি: Bob Berry; জন্ম: ২৯ জানুয়ারি, ১৯২৬ - মৃত্যু: ২ ডিসেম্বর, ২০০৬) ল্যাঙ্কাশায়ারের ম্যানচেস্টারের গর্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার, ওরচেস্টারশায়ার ও ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বব বেরি। দলে তিনি মূলতঃ স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ম্যানচেস্টারের গর্টন এলাকায় বব বেরির জন্ম। ১০ সন্তানের সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন তিনি।[১]

সমগ্র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ার, ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত ওরচেস্টারশায়ার এবং ১৯৫৯ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ডার্বিশায়ারের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন বব বেরি। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনটি পৃথক কাউন্টি দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।[২]

ল্যাঙ্কাশায়ারে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

ল্যাঙ্কাশায়ার ও চেশায়ারের লীগ ক্রিকেটে অংশ নেন তিনি। এরপর ১৯৪৮ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। দুই বছরের মধ্যে ৫০টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেটলাভকারী বব বেরিকে ইংল্যান্ড টেস্ট দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। টেস্ট প্রস্তুতিমূলক খেলায় তিনি পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

১৯৫০ মৌসুম শেষে বেরিকে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রথম পছন্দের বামহাতি স্পিনার হিসেবে দলে খেলানো হয়নি। এর বিকল্প হিসেবে তার পরিবর্তে দীর্ঘদিনের বন্ধু ম্যালকম হিল্টনকে রয় ট্যাটারসলের সাথে বোলিংয়ে প্রাধান্য দেয়া হতো।

ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে আরও চার মৌসুম খেলেন বব বেরি। তবে, হিল্টনকেই অগ্রাধিকার দেয়া হতো। ১৯৫৩ সালে হিল্টন খেলায় ছন্দ হারিয়ে ফেলেন ও খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টানলে আবারও বেরিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। ঐ মৌসুমে ১৮.৯৭ গড়ে ৯৮ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। তন্মধ্যে, ব্ল্যাকপুলে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ইনিংসের ১০ উইকেটের সবকটিই ঝুলিতে পুড়েন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমের শীতকালে কমনওয়েলথ একাদশের সদস্যরূপে ভারত সফরে বেশ সফলতা পান তিনি। তবে, হিল্টন দলে ফিরে আসলে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের পক্ষে ১৯৫৪ সালে মাত্র ছয়টি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান।

ওরচেস্টারশায়ারে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

ফলশ্রুতিতে, ঐ মৌসুম শেষে ওরচেস্টারশায়ারে চলে যান বব বেরি। ওরচেস্টারশায়ারে চার মৌসুমে উল্লেখযোগ্য সফলতা পান বব বেরি। এরপর ১৯৫৯ সালে ডার্বিশায়ারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৬২ সাল পর্যন্ত আরও চার মৌসুম খেলেন তিনি। এরফলে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনটি পৃথক প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টিতে খেলার গৌরব অর্জন করেন।

অর্থোডক্স স্লো লেফট-আর্ম স্পিন বোলার হিসেবে বব বেরি তার সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৭০৩টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, আউটফিল্ডার হিসেবে দক্ষতা দেখিয়েছেন। কিন্তু, বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪০ রান করতে পেরেছেন।[৩]

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ইংল্যান্ড সফরে আসে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে তিনি তার নিজ মাঠে ১ম টেস্টে অংশ নেন। স্পিনারদের উপযোগী পিচে উভয় দলেই তিনজন করে স্পিনারের উপস্থিতি ছিল। অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫/৬৩ লাভ করেন ও দ্বিতীয় ইনিংসে পান ৪/৫৩। ফলে খেলায় তিনি ১১৬ রানে ৯ উইকেট পেয়েছিলেন।[৪] ঐ টেস্টে এরিক হোলিস ৩/৭০ ও ৫/৬৩ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে অভিষেক ঘটা আল্ফ ভ্যালেন্টাইন ৮/১০৪ ও ৩/১০০ লাভ করেন। খেলায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড দল ২০২ রানে জয়ী হয়।

লর্ডসের দ্বিতীয় টেস্টেও বেরিকে রাখা হয়। ঐ টেস্টটি স্পিনারদের উপযোগী ছিল না। ওল্ড ট্রাফোর্ডের সফলতা এতে পাননি। মিতব্যয়ী বোলিং করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি তিনি। ১৯ ওভারে ০/৪৫ ও ৩২ ওভারে ০/৬৭ পান। এর বৈপরীত্য চিত্র লক্ষ্য করা যায় ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান স্পিনার সনি রামাদিন ও আল্ফ ভ্যালেন্টাইনের মাঝে। ম্যানচেস্টারের সফলতা এ টেস্টেও ধরে রেখে ১৮ উইকেট নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন তারা। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় করতে সক্ষমতা দেখায়। এরপর থেকে বেরিকে দলের বাইরে রাখা হয়।

কাউন্টি ক্রিকেটে ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও ১৯৫০-৫১ মৌসুমে ফ্রেডি ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে বব বেরিকে রাখা হয়। এ সফরে পিচগুলো স্পিনারদের উপযোগী করে প্রস্তুত না করায় তাকে কোন টেস্টে রাখা হয়নি ও ডগ রাইটকে প্রাধান্য দেয়া হয়। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে হিল্টনকে ভারত সফরের জন্যে দলে রাখা হয় ও বব বেরিকে আর কোন টেস্টে খেলানো হয়নি।

অবসর[সম্পাদনা]

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কর সংগ্রাহকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, বার্টন, ডার্বি, ম্যান্সফিল্ড ও ফার্নসফিল্ডে মদের দোকান পরিচালনা করতেন বব বেরি।

ফার্নসফিল্ড ক্রিকেট ক্লাব ও ল্যাঙ্কাশায়ার প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন তিনি। প্রায়শঃই দাবী করা হয় যে, তিনি কবুতর পুশতেন। চেস্টারফিল্ডে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে একটি খেলায় পিচে আহত কবুতরকে রক্ষা করেন তিনি।[১]

ব্যক্তিগত জীবনে দুইবার পাণিগ্রহণ করেন বব বেরি। ১৯৯২ সালে প্রথম পত্নী আইলিনের দেহাবসানের পর ১৯৯০ সালে দীর্ঘদিনের বন্ধু ও প্রতিপক্ষ ম্যালকম হিল্টনের বিধবা পত্নী ভেরা হিল্টনকে বিয়ে করেন। ২ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে ৮০ বছর বয়সে ম্যানচেস্টারে বব বেরি’র দেহাবসান ঘটে। এ সময় দ্বিতীয় পত্নীকে রেখে যান।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Obituary, The Guardian, 13 February 2007]
  2. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 20। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  3. Bpb Berry at CricketArchive
  4. "1st Test: England v West Indies at Manchester, Jun 8-12, 1950"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৩ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]