পোষা কবুতর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(কবুতর থেকে পুনর্নির্দেশিত)
গৃহপালিত কবুতর
Indian fantail(black self).jpg
দেশি ফ্যানটেইল
পোষ মানা
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: পক্ষী
বর্গ: Columbiformes
পরিবার: Columbidae
গণ: Columba
প্রজাতি: C. livia
উপপ্রজাতি: C. l. domestica
ত্রিপদী নাম
Columba livia domestica
Gmelin, 1789[১]
প্রতিশব্দ
Columba domestica

Columba livia rustica

কবুতর বা পায়রা বা কপোত বা পারাবত এক প্রকারের জনপ্রিয় গৃহপালিত পাখি। এর মাংস মনুষ্যখাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। প্রাচীন কালে কবুতরের মাধ্যমে চিঠি আদান-প্রদান করা হত। কবুতর ওড়ানোর প্রতিযোগিতা প্রাচীন কাল থেকে অদ্যাবধি প্রচলিত আছে। গৃহপালিত কবুতরের বৈজ্ঞানিক নাম Columba livia domestica। সব গৃহপালিত কবুতরের উদ্ভব বুনো কবুতর (Columba livia) থেকে।

খাদ্য[উৎস সম্পাদনা]

কবুতরের খাবার হছে গম, চাউল, কাউন, ধান, খুদ, চিনা সরিষা, ডাবলি, রেজা, বাজরা, বিভিন্ন বিজ ইত্যাদি খায় । মুরগির জন্য তৈরি খাবারও কবুতর খায়। খাবারের সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি দিতে হয়। ২×২ ফুট স্থানের মধ্যে দুটি কবুতর থাকতে পারে। কবুতরের বাসস্থান কুকুর, বিড়াল, বেজী ইত্যাদি প্রাণী থেকে দূরে রাখতে হয়। কবুতরের ঘরে যাতে পানি না আসে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হয়।কবুতরের ঘর সব সময় পরিষ্কার রাখা বাঞ্চনীয়।

বাড়ীর দেয়ারে বসে রোদ পোহাচ্ছে একদল কবুতর।

জীবনকাল, প্রজনন[উৎস সম্পাদনা]

জঙ্গলী কবুতর ৫ বছর এবং গৃহপালিত কবুতর ১০-১৫ বছর বাঁচে। ৫-৬ মাস বয়স হলে স্ত্রী কবুতর ডিম দেয়। গড়ে প্রতি প্রতি মাসে এক বার ডিম দেয়। বাচ্চা ২৫/২৬ দিন বয়স হলে খাবার উপযুক্ত হয়। এ সময় বাচ্চা সরিয়ে ফেললে মা কবুতর নতুন করে ডিম দিতে প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

রোগ ব্যাধি[উৎস সম্পাদনা]

পাখি হিসেবে মুরগি/হাঁসের রোগগুলো এর মধ্যে দেখা দিয়ে থাকে। সাধারণত: ককসিডিওসিস বা পাতলা চুণ যুক্ত পায়খানা, সালমোনেলা, রাণীক্ষেত পি এমভি/নিউ ক্যাসল ডিজিজ, কৃমি, ক্যাংকার বা মুখে ঘা, ক্রণিক রেসপিরেটরি ডিজিজ সি আর ডি, পক্স, বার্ড ফ্লু ইত্যাদি রোগ হতে দেখা যায়। প্রায় সব রোগের জন্যই বিভন্ন কোম্পানির ঔষধ পাওয়া যায়। তাছাড়া পশু সম্পদ গবেষণাগার হতে রাণীক্ষেত , পক্স ইত্যাদির টিকা বা প্রতিষেধক পাওয়া যায়।

ধরন/জাত[উৎস সম্পাদনা]

জাত বা ধরন গুলো কোন নির্দিষ্ট কিছু নয়। বিভিন্ন রং, বৈশিষ্ট্য, গুণাগুণ, চোখ ইত্যাদি এর উপর ভিত্তি করে নামকরণ বা জাত ঠিক করা হয়। এছাড়া ক্রস ব্রিডিং -এর মাধ্যমেও নতুন জাত তৈরি হয়ে থাকে। সচরাচর লভ্য জাতগুলো হলোঃ

  • হোমার (উড়াল প্রতিযোগিতায় ব্যবহার হয়)- হোমিং পিজিয়ন থেকে
  • গোলা (দেশী কবুতর)
  • লাক্ষা (সৌখিন, লেজগুলো দেখতে ময়ুরের মত ছড়ানো) - ভারত থেকে এসেছে
  • সিরাজী (সৌখিন ) - লাহোর নামে পাওয়া যায়
  • গিরিবাজ - (উড়ানোর জন্য বিখ্যাত)
  • কাগজি (সমস্ত শরীর সাদা কিন্তু সমস্ত চোখ কালো)
  • চিলা
  • গোররা (শরীর সাদা কালো মিশ্রণ, যেমন মাথা সাদা, পিঠ কালো, ডানা সাদা)
  • চুইনা (সমস্ত শরীর সাদা কিন্তু সমস্ত চোখ কালো নয়)
  • রান্ট
  • প্রিন্স
  • পটার (গলার নিচটা ফুটবলের মতো)
  • ফ্রিল ব্যাক
  • জ্যাকোবিন
  • স্ট্রেসার
  • মডেনা
  • মুসল দম (সমস্ত শরীর কালো কিন্তু দম বা লেজ গুলো সাদা)
  • নোটন (মাটিতে ডিগবাজি দেয়)
  • কিং

তথ্যসূত্র[উৎস সম্পাদনা]

  1. "Columba livia Gmelin, 1789" (Web data)। ITIS Report। সংগৃহীত ২০০৮-০২-২৬ 

আরো দেখুন[উৎস সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[উৎস সম্পাদনা]