ফ্রেড রুট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ফ্রেড রুট
Fred Root.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামচার্লস ফ্রেডরিক রুট
জন্ম(১৮৯০-০৪-১৬)১৬ এপ্রিল ১৮৯০
সমারকোটস, ডার্বিশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২০ জানুয়ারি ১৯৫৪(1954-01-20) (বয়স ৬৩)
ওলভারহাম্পটন, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার, আম্পায়ার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২২৪)
১২ জুন ১৯২৬ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট২৪ জুলাই ১৯২৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯১০ - ১৯২০ডার্বিশায়ার
১৯২১ - ১৯৩২ওরচেস্টারশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৬৫
রানের সংখ্যা ৭৯১১
ব্যাটিং গড় ১৪.৭৮
১০০/৫০ -/- ১/২৩
সর্বোচ্চ রান ১০৭
বল করেছে ৬৪২ ৮০৬১৪
উইকেট ১৫১২
বোলিং গড় ২৪.২৫ ২১.১১
ইনিংসে ৫ উইকেট ১২৫
ম্যাচে ১০ উইকেট ৩৩
সেরা বোলিং ৪/৮৪ ৯/২৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ২৪৪/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৫ নভেম্বর ২০১৯

চার্লস ফ্রেডরিক (ফ্রেড) রুট (ইংরেজি: Fred Root; জন্ম: ১৬ এপ্রিল, ১৮৯০ - মৃত্যু: ২০ জানুয়ারি, ১৯৫৪) ডার্বিশায়ারের সমারকোটস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯২৬ থেকে ১৯২৭ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার ও ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিং করতেন ফ্রেড রুট

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯১০ সাল থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত ফ্রেড রুটের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯১০ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত ডার্বিশায়ার ও ১৯২১ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলেন।[১] ডার্বিশায়ারের সমারকোটসে জন্মগ্রহণকারী ফ্রেড রুট শুরুতে লিচেস্টারশায়ারের মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এরপর ১৯১০ সালে ডার্বিশায়ারের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার।[২]

১৯২৩ সাল থেকে উপর্যুপরী নয় মৌসুমে শতাধিক উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। তন্মধ্যে, আটবার কাউন্টি দলের বোলিং গড়ে শীর্ষ স্থানে অবস্থান করেছিলেন। ১৯২৫ সালে সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেন। ১৭.২১ গড়ে ২১৯ উইকেট পেয়েছিলেন। ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে রেকর্ডসংখ্যক উইকেট লাভের পরিপ্রেক্ষিতে কাউন্টি দলের বিশেষ আর্থিক অনুদান লাভ করেন। ১৯২৬ সালে এজবাস্টনে ইংল্যান্ড নর্থের সদস্যরূপে এইচ. এল. কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। ৭/৪২ নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে স্বীয় সক্ষমতার কথা জানান দেন। এরফলে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন খেলায় অংশগ্রহণ করার জন্য মনোনীত হন।

তিনবার এক ইনিংসে নয় উইকেট পেয়েছেন। ১৯৩২ সালে ওরচেস্টারে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৯/২৩ ও ১৯২৪ সালে এসেক্সের বিপক্ষে ৯/৪০ পান। ১৯৩০ সালে টানব্রিজ ওয়েলসে কেন্টের বিপক্ষে ৯/৮১ পেয়েছিলেন। এক পর্যায়ে চার বলে তিনজন ব্যাটসম্যানকে বিদেয় করেছিলেন। ব্যাট হাতেও বেশ ভালো খেলেছিলেন। ১৯২৮ সালে ডাবল লাভ করেন। ১,০৪৪ রান ও ১১৮ উইকেট পান তিনি।

বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে ইংল্যান্ডে ক্রিকেট খেলা বন্ধ হয়ে যাবার পূর্বে পাঁচবছর ডার্বিশায়ারের পক্ষে খেলেছিলেন। অবশ্য ১৯১৩ সালে সেরা খেলা প্রদর্শন ছাড়া বাকী বছরগুলোয় খুব কমই ক্রীড়াশৈলী দেখিয়েছেন। যুদ্ধ চলাকালীন ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থার দায়িত্ব পালন করেন। তবে, বুকে গুরুতর আঘাত পান। সুস্থ হবার পর পুণরায় ক্রিকেট খেলার সাথে নিজেকে যুক্ত করেন।

লীগ ক্রিকেটে দুই মৌসুম খেলার পর ওরচেস্টারশায়ার দলের দিকে পাড়ি জমান। দেড় বছরেও অর্থোডক্স ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হন। এরপর, লেগ তত্ত্ব বোলিংয়ের দিকে ধাবিত হন ও বেশ সফলতা পান। বলকে তিনি সুইং করতে সক্ষম হন ও ব্যাটিং উপযোগী পিচেও গতি সঞ্চারণ করতে পারতেন। পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতাও এ সফলতায় ব্যাপক ভূমিকায় রাখে। ১৯২৩ সালে ২০.৫৩ গড়ে ১৭০ উইকেট ও ১৯২৪ সালে ১৭-এর কম গড়ে ১৫৩ উইকেট দখল করেন। কিন্তু, ঐ মৌসুমের শীতকালে অ্যাশেজ সফরের প্রাক্কালে ওভালে প্লেয়ার্সের সদস্যরূপে দূর্বলমানের খেলা প্রদর্শনের ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সূবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। অথচ, ঐ পিচটি তার বোলিংয়ের অনুকূলে ছিল।

গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে খেলার এক পর্যায়ে আর্নল্ড ডাইসন ও এডি বেটস - এ দুই ব্যাটসম্যানদ্বয়ের মাঝামাঝি স্থানে বল রুটের দিকে ছিল। উভয়ে ব্যাটসম্যান ক্ষাণিকটা খুঁড়িয়ে গেলেও তিনি স্ট্যাম্পের দিকে ছুড়ে মারেননি। একজন শৌখিন খেলোয়াড় পুণঃপুণঃ ফ্রেড রুটকে উইকেট ভেঙে ফেলো বললেও তিনি তা না করে উল্টো বলেছিলেন যে, তোমার ইচ্ছে হলে রান আউট করো। তুমি আসো ও করে দেখাও। শৌখিন খেলোয়াড় জবাব দিলেন যে, কি! আমি শৌখিন খেলোয়াড়, আমি এ ধরনের কাজ করতে পারি না।[৩]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

তার সময়কালে ওরচেস্টারশায়ার দল দূর্বলতম কাউন্টি দলগুলোর কাতারে ছিল। তবে, রুট তার ক্লান্তিহীন নিখুঁত ও সজীবন বোলিং ঠিকই নিজের প্রতিভাকে বিচ্ছুরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৯২৫ সালে কাউন্টি দলের পক্ষে রেকর্ডসংখ্যক ২০৭ উইকেট পান। সংখ্যার দিক দিয়ে এ সংখ্যাটি ওরচেস্টারশায়ারের পতনকৃত উইকেটের প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি ছিল। ১৯২০-এর দশকের শেষদিকে ফ্রেড রুট দলের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন। ১৯২৬ সালে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ৭/৪২ পেয়েছিলেন। তবে, পিচটি পুরোপুরি ব্যাটসম্যানদের অনুকূলে ছিল।

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ফ্রেড রুট। ১২ জুন, ১৯২৬ তারিখে নটিংহামে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৪ জুলাই, ১৯২৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন টেস্টে অংশ নেন। কিন্তু, কোন টেস্টেই তাকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। এরজন্যে খানিকটা বৃষ্টি ও ইংল্যান্ডের ব্যাটিং শক্তিমত্তা দায়ী ছিল। এরফলে, ফ্রেড রুট সর্বাধিক টেস্ট খেলায় অংশ নিয়েও ব্যাট হাতে নামতে না পারার অপ্রত্যাশিত রেকর্ডের জন্ম দেন।[৪] নটিংহামে বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলা বাদে অপর দুই টেস্টে পূর্বেকার ধ্বংসাত্মক রূপের পুণরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি। তবে, ওল্ড ট্রাফোর্ডে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে ৫২ ওভারে ২৭ মেইডেন দিয়ে ৪/৮৭ পান।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯২৭ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় ফ্রেড রুট ১৪৫ উইকেট দখল করেন। তবে, তার দল তেরোটি খেলায় অংশ নিয়ে কেবলমাত্র একটিতে জয়ের সন্ধান পায়। ১৯২৮ সালের ব্যাটিং উপযোগী পিচে ব্যাপক রান খরচ করে ফেললেও তিনি তার খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র ডাবল লাভে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৯২০ সালে ১৪৬ উইকেট পেয়েছিলেন। সংখ্যার দিক দিয়ে দলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তিনগুণ পিছিয়েছিলেন। ১৯৩১ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৯/২৩ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। এটিই অদ্যাপি ওরচেস্টারশায়ারের সেরা বোলিং হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

তবে, ১৯৩২ সালে তার খেলার মান আশঙ্কাজনকভাবে নিচেরদিকে চলে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে দলের বাইরে অবস্থান করতে হয়। এরপর তিনি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। তবে, ১৯৩৩ সালে স্যার এল. পার্কিনসন একাদশের পক্ষে একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। কিছুকাল তিনি লিচেস্টারশায়ারের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে ক্লাব ক্রিকেট খেলেন। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক খেলাগুলোর দিকেও তীক্ষ্ণ নজর রাখতেন। বডিলাইনের বিপক্ষে অস্ট্রেলীয়দের আপত্তিতে অসন্তোষজ্ঞাপন করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, যদি তারা এ ধরনের বোলিং মোকাবেলায় সক্ষম না হয়, তাহলে তাদের টেনিস বল দিয়ে খেলা উচিত। ১৯৩৭ সালে ‘এ ক্রিকেট প্রোস লট’ শীর্ষক পেশাদার ক্রিকেটারদের জীবনী নিয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থ প্রকাশ করেন।

ওরচেস্টারশায়ারে যোগদানের পর নিজস্ব বোলিং ভঙ্গীমা পরিবর্তন করে ফাস্ট-মিডিয়াম ইন-সুইঙ্গারে নিয়ে যান। এ পর্যায়ে পাঁচজন ফিল্ডারকে লেগ অঞ্চলে দণ্ডায়মান রাখতেন। ১৯৩৩ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণকালে ২১.১১ গড়ে ১,৫১২ উইকেট ও ১৫.৩৭ গড়ে ৮,০৮৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২১৯টি ক্যাচ তালুবন্দী করেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯ সময়কালে ৩৫টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছিলেন।

জাতীয় সংবাদপত্রে ক্রিকেট প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ২০ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে ৬৪ বছর বয়সে ওলভারহাম্পটন এলাকার রয়্যাল হাসপাতালে ফ্রেড রুটের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Fred Root at Cricket Archive
  2. Wisden Fred Root
  3. haigh, Gideon: Silent Revolutions: Writings on Cricket History 9781845132262
  4. Walmsley, Keith (২০০৩)। Mosts Without in Test Cricket। Reading, England: Keith Walmsley Publishing Pty Ltd। পৃষ্ঠা 457। আইএসবিএন 0947540067 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]