ফিলিপ লি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ফিলিপ লি
PerkaLee.jpg
১৯৩০-এর দশকের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে ফিলিপ লি
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামফিলিপ কিথ লি
জন্ম১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯০৪
গ্ল্যাডস্টোন, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু৯ আগস্ট, ১৯৮০
উডভিল, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ স্পিন
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৩৮)
১৮ ডিসেম্বর ১৯৩১ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৩ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫৫
রানের সংখ্যা ৫৭ ১৬৬৯
ব্যাটিং গড় ১৯.০০ ১৮.৫৪
১০০/৫০ ০/০ ২/৬
সর্বোচ্চ রান ৪২ ১০৬
বল করেছে ৪৩৬ ১০৯৮৭
উইকেট ১৫২
বোলিং গড় ৪২.৩৯ ৩০.১৫
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/১১১ ৫/২৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/০ ২৪/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

ফিলিপ কিথ লি (ইংরেজি: Philip Lee; জন্ম: ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯০৪ - মৃত্যু: ৯ আগস্ট, ১৯৮০) দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার গ্ল্যাডস্টোন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলার ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৩ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি অফ স্পিন বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন পার্কার লি নামে পরিচিত ফিলিপ লি

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

অ্যাডিলেডের সেন্ট পিটার্স কলেজে অধ্যয়ন করেন। সেখানে অবস্থানেকালেই ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ও অ্যাথলেটিকস দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।[১]

১৯২৫-২৬ মৌসুম থেকে ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম পর্যন্ত ফিলিপ লি’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ক্রিকেটার হিসেবে ডানহাতি মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। এছাড়াও অফ ব্রেক বোলিং করতেন তিনি। ১৯২৫-২৬ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বেশ কয়েকটি খেলায় অংশ নেন। মূলতঃ মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন ও মাঝে-মধ্যে বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। ১৯৩০ সাল থেকে অফ ব্রেক বোলিংয়ে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেন।

১৯৩০-৩১ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রান তুলেন। এটিই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তার একমাত্র সেঞ্চুরি ছিল। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশের বিপক্ষে ৫/৫৭ নিয়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়াকে চিত্তাকর্ষক জয় উপহার দিয়েছিলেন। স্লো মিডিয়াম পেস বোলিং সহযোগে অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিখুঁত নিশানা বরাবর বোলিং করতেন। টিম ওয়ালক্ল্যারি গ্রিমেটের সাথে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেন। টিম ওয়ালের সাথে নতুন বলে জুটি গড়েন। ডন ব্র্যাডম্যান তার ১১৭টি সেঞ্চুরির প্রথমটি তার বলে পুল করে চার মেরে করেন।

১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে টেস্টের প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় খেলায় অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেললেও ইংল্যান্ড গমনে তাকে রাখা হয়নি। ৩০.১৬ গড়ে ১৫২টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেছেন। পাশাপাশি, ১৮.৫৪ গড়ে ১,৬৬৯ রান তুলেছেন।

অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবল[সম্পাদনা]

ফুটবল ও বেসবল খেলায় দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। ভিক রিচার্ডসনের ন্যায় তিনিও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯২০-এর দশকের শুরুতে সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগে শীর্ষস্থানীয় অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এ পর্যায়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তঃরাজ্যীয় পর্যায়ে খেলতেন।[২] ১৯২৩ সালে নরউড ফুটবল ক্লাবের সদস্য ছিলেন।[৩] মূলতঃ হাফ-ফরোয়ার্ড অবস্থানে খেলতেন। কিন্তু পরবর্তীতে পায়ের আঘাতের কারণে হাফ-বেক অবস্থানে খেলার পর ১৯২৬ সালে স্ব-স্থানে প্রত্যাবর্তন করেন।[৪]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ফিলিপ লি। ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৩১ তারিখে সিডনিতে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৩ তারিখে একই মাঠে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট দুইটি টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ১৯৩২-৩৩ মৌসুমের বডিলাইনে সিরিজে সিডনিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। অভিষেক খেলায় তিনি কোন রান তুলতে ব্যর্থ হন ও কেবলমাত্র নিচেরসারিতে একটি উইকেটের পতন ঘটিয়েছিলেন।

১৯৩১-৩২ মৌসুমে সিডনিতে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন। ক্ল্যারি গ্রিমেট ও বার্ট আইরনমঙ্গারের ন্যায় বোলারের সাথে তিনি কমই বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কেবলমাত্র একটি উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। একই সিরিজে উদীয়মান বিল ও’রিলি’র টেস্ট উপযোগী কার্যকরী স্পিন বোলার হিসেবে আত্মপ্রকাশের ফলে ফিলিপ লি’র আর টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা স্তিমিত হয়ে পড়ে।

বডিলাইন সিরিজে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

তাসত্ত্বেও এক বছর পর পরবর্তী মৌসুমে ১৯৩২-৩৩ বডিলাইন সিরিজের পঞ্চম টেস্টে গ্রিমেটের দূর্বল ক্রীড়াশৈলীর ফলে পুণরায় দলে আহুত হন। ইংল্যান্ডের সংগৃহীত ৪৫৪ রানের দলীয় ইনিংসে ৪০.২ ওভারে ১১১ রান দিয়ে চার উইকেট পান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ও’রিলি ও আইরনমঙ্গারের সাথে বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করেন। এ পর্যায়ে ৪/১১১ নিয়ে দলের সফলতম বোলারে পরিণত হয়েছিলেন। ওয়ালি হ্যামন্ডকে ১০১, হ্যারল্ড লারউড, এডি পেন্টারকে ৯ ও গাবি অ্যালেনকে ৪৮ রানে তার শিকারে পরিণত করেছিলেন। এছাড়াও, তার বলে বেশ কয়েকটি ক্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন। বার্ট ওল্ডফিল্ডের সাথে ৩৫ মিনিটে ৫৭ রান তুলেন। ব্যক্তিগতভাবে মূল্যবান ৪২ রান তুলেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে বিল উডফুলের ৬৭ ও ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের ৭১ রানের পর তিনিই কেবল ১৫ রানের দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছিলেন। সকলের শেষে আউট হন। হেডলি ভেরিটি’র তোপে অস্ট্রেলিয়া দল ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় ও ইংরেজ দল আট উইকেটে জয় তুলে নেয়। ঐ টেস্ট ও সিরিজ জয় করে ইংরেজ দল। ওয়ালি হ্যামন্ড তার বলে ছক্কা হাঁকিয়ে আট উইকেটে ইংরেজদেরকে জয়ের লক্ষ্যে নিয়ে যান।

অবসর[সম্পাদনা]

দুইটি টেস্ট প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশগ্রহণের পর ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। তবে, ক্ল্যারি গ্রিমেটের খেলার ছন্দে প্রত্যাবর্তনের ফলে ১৯৩৪ সালে ইংল্যান্ড গমনে দলের সদস্যরূপে রাখা হয়নি। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আর একটি মৌসুমে খেলেন। এরপর খেলার জগৎ থেকে অবসর নেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জুন, ১৯৩৫ সালে মেরি লুকাস নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।[৫] ৯ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে ৭৫ বছর বয়সে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উডভিল এলাকায় ফিলিপ লি’র দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Youthful Century-Makers"The News। Adelaide, SA: National Library of Australia। ১১ ডিসেম্বর ১৯২৪। পৃষ্ঠা 11। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০১৫ 
  2. The Advertiser, "Inter-State Football", 10 July 1925. p. 20
  3. "Players – Lee, Philip"। ২৯ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  4. "In New Role"The News। Adelaide, SA: National Library of Australia। ২০ মে ১৯২৬। পৃষ্ঠা 13। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০১৫ 
  5. "P. K. Lee Weds at Mitcham."The News। Adelaide, SA: National Library of Australia। ৮ জুন ১৯৩৫। পৃষ্ঠা 1। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০১৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]