পালঘাট জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পালঘাট জেলা
পালক্কাড় জেলা
কেরালার প্রবেশদ্বার
কেরলের জেলা
Malampuzha Garden Entrance.JPG
Bull race at chithali palakkad.jpg
Palakkad fort vishnu 02.jpg
MEENVALLAM WATER FALLS - PALAKKAD KERALA.jpg
Govt Victoria College Palakkad Entrance.JPG
Attappadi.jpg
উপর থেকে ঘড়ির কাঁটার দিকে:
মালাম্পি বাঁধ, পালঘাট কেল্লা, ভিক্টোরিয়া কলেজ,
অট্টপাড়ি , মীনবল্লম জলপ্রপাত,
চিতালির বলদ যুদ্ধ
কেরালা রাজ্যে পালঘাট জেলার অবস্থান
কেরালা রাজ্যে পালঘাট জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ১০°৪৬′৩০″ উত্তর ৭৬°৩৯′০৪″ পূর্ব / ১০.৭৭৫° উত্তর ৭৬.৬৫১° পূর্ব / 10.775; 76.651স্থানাঙ্ক: ১০°৪৬′৩০″ উত্তর ৭৬°৩৯′০৪″ পূর্ব / ১০.৭৭৫° উত্তর ৭৬.৬৫১° পূর্ব / 10.775; 76.651
রাষ্ট্র ভারত
রাজ্যকেরালা
সদরপালঘাট
সরকার
 • সমাহর্তাডি.বালমুরলী আইএএস
 • পুলিশ সুপারদেবেশ কুমার বেহেরা, আইপিএস
 • ডিএফওনরেন্দ্রনাথ বেলুরী, আইএফএস
আয়তন
 • মোট৪,৪৭৮ বর্গকিমি (১,৭২৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট২৮,০৯,৯৩৪[১]
 • ক্রম
ভাষা
 • দাপ্তরিকমালয়ালম, ইংরাজি
 • প্রচলিতমালয়ালম, তামিল
সময় অঞ্চলভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+০৫:৩০)
যানবাহন নিবন্ধনপালঘাট:KL-09 (কেএল-০৯),
আলাতুর:KL-49 (কেএল-৪৯),
মান্নারঘাট:KL-50 (কেএল-৫০),
ওট্টমপালম:KL-51 (কেএল-৫১),
পত্তাম্বি:KL-52 (কেএল-৫২),
চিত্তুর:KL-70 (কেএল-৭০)
সাক্ষরতার হাহ৯৪.৪৮%[১]
ওয়েবসাইটwww.palakkad.nic.in

পালঘাট জেলা হলো দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত কেরল রাজ্যের ১৪ টি জেলার একটি জেলা৷ জেলাটির জেলাসদর পালঘাট শহরে অবস্থিত৷ এটি পূর্বতন মালাবার জেলার দক্ষিণ-পূর্ব দিকের অংশ ছিলো৷ ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে অদ্যাপি এই জেলাটি ছিলো ক্ষেত্রফলের বিচারে কেরালার বৃহত্তম জেলা৷

পালঘাট জেলা

ভূগোল[সম্পাদনা]

অবস্থান[সম্পাদনা]

জেলাটির উত্তর-পশ্চিম দিকে রয়েছে মালাপ্পুরম জেলা, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রয়েছে ত্রিশূর জেলা, উত্তর দিকে রয়েছে তামিলনাড়ু রাজ্যের নীলগিরি জেলা এবং পূর্ব দিকে রয়েছে কোয়েম্বাটুর জেলা৷ ২০১১ খ্রিস্টাব্দের জনগণনা অনুসারে এই জেলাটির নগরায়ণ হার ছিলো ২৪.৪০ শতাংশ৷ জেলাটিকে "কেরালার শস্যাগার" বলে অভিহিত করা হয়৷

ভূমিরূপ[সম্পাদনা]

পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বরাবর দক্ষিণ দিকে পালঘাটে গিরিপথ থাকার দরুন এটিকে কেরালার প্রবেশদ্বার বলা হয়৷ জেলাটির মোট ক্ষেত্রফল ৪,৪৮০ কিমি (১,৭৩০ মা), যা সমগ্র জেলার ১১.৫ শতাংশ ক্ষেত্রফল অধিকার করে রয়েছে৷ ৪,৪৮০ কিমি (১,৭৩০ মা) মোট ক্ষেত্রফলের মধ্যে মোট বনভূমি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষেত্রফল ১,৩৬০ কিমি (৫৩০ মা)৷ জেলাটির অধিকাংশ অঞ্চলই মধ্যভূমি অঞ্চলে অবস্থিত যা গড়ে ৭৫–২৫০ মি অথবা ২৪৬–৮২০ ফু উচ্চতা বিশিষ্ট৷ আবার দক্ষিণ দিকের চিত্তুর তালুকের নেল্লিয়মপতি-পরম্বিকুলাম অঞ্চল এবং উত্তরের অট্টপাড়ি-মালাম্পি অঞ্চল তুলনামুলক উঁচু এবং ভৌগোলিকভাবে উচ্চভূমি অঞ্চল হিসাবে চিহ্নিত, এর গড় উচ্চতা ২৫০ মি অথবা ৮২০ ফু৷

আবহাওয়া[সম্পাদনা]

গ্রীষ্মকালীন মাসগুলি বাদে পালঘাট অঞ্চলটিতে সারাবছরই মনোরম ও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া লক্ষ্য করা যায়৷ জেলাটিতে যথেষ্ট পরিমাণ বৃষ্টি হয় এমন কি গড় অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত দক্ষিণ কেরালার থেকে এই জেলার গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অধিক৷ জেলাটিতে রয়েছে একাধিক ছোটো ও মাঝারি আকারে নদী, এগুলির মধ্যে বেশির্ভাগই ভরতপুড়া নদীর উপনদী৷ এই নদীগুলির প্রবাহে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক বাঁধ৷ এগুলির মধ্যে বৃহত্তম মালাম্পি বাঁধ এবং সর্বাধিক ধারণক্ষমতা যুক্ত পরম্বিকুলাম বাঁধ উল্লেখযোগ্য৷[২]

নামকরণ[সম্পাদনা]

অতীতে পালঘাট বা স্থানীয় ভাষায় পালক্কাড় নামটি পালক্কাট্টুসেরি নামে পরিচিত ছিল।[৩] অনেকে মনে করেন পালঘাট নামটি 'পাল' শব্দটি থেকে এসেছে। পূর্বে এই অঞ্চলটিতে প্রচুর পরিমাণে স্থানীয় ভাষায় 'পাল' নামক একটি গাছ পাওয়া যেত, হয়তো এই পাল গাছের বনভূমিকে নির্দেশ করতে পালক্কাড় বা অপভ্রংশে পালঘাট শব্দটি এসে থাকতে পারে। আবার অনেকে এও মনে করেন‌ ওই শহরে অবস্থিত জৈন মন্দির খোদাই করা পবিত্র পালি লিপির সাথে এই অঞ্চলের নামটি জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। [৪] ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে কালিকটের জামোরিন রাজাদের অনুপ্রবেশ প্রতিহত করার জন্য পালঘাটের রাজা মহীশূরের শাসক হায়দার আলীর সাহায্যপ্রার্থী হন। পরবর্তীকালে তার পুত্র টিপু সুলতান পালঘাট জেলার উপর নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন।

জনতত্ত্ব[সম্পাদনা]

বরিকাসেরি মানের প্রবেশ ‌দ্বার-কেরালার ঐতিহাসিক নাম্বুদ্রী পরিবারের পুরাতন রীতির বসতবাটি
ঐতিহাসিক জনসংখ্যা
বছরজন.ব.প্র. ±%
১৯০১৭,৬৩,৯১৭—    
১৯১১৮,১৯,৭২৬+০.৭১%
১৯২১৮,৫৩,৯৮৮+০.৪১%
১৯৩১৯,৪১,২৮৬+০.৯৮%
১৯৪১১০,২৫,০৫৮+০.৮৬%
১৯৫১১২,১৪,২০৮+১.৭১%
১৯৬১১৩,৬৯,৫০৮+১.২১%
১৯৭১১৬,৮৫,৩৪৭+২.১%
১৯৮১২০,৪৪,৩৯৯+১.৯৫%
১৯৯১২৩,৮২,২৩৫+১.৫৪%
২০০১২৬,১৭,৪৮২+০.৯৫%
২০১১২৮,০৯,৯৩৪+০.৭১%
উৎস:[৫]

২০১১ খ্রিস্টাব্দে ভারতের জনগণনা অনুসারে কেরালার পালঘাট জেলার মোট জনসংখ্যা ছিল ২৮,০৯,৯৪৩ জন,[১] যা লাতিন আমেরিকার জামাইকা রাষ্ট্র [৬] বা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা রাজ্যের জনসংখ্যার সমতুল্য। [৭] ওই বছর ভারতের মোট ৬৪০ টি জেলার মধ্যে জনসংখ্যার বিচারে পালঘাট জেলাটি ১৩৮তম স্থান অধিকার করেছে।[১] জেলাটির জনঘনত্ব ৬২৭ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার (১,৬২০ জন/বর্গমাইল)[১] ২০০১ থেকে ২০১১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই জেলাটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৩৯ শতাংশ।[১] পালঘাট জেলায় প্রতি হাজার পুরুষে ১০৬৭ জন মহিলা বাস করেন।[১] জেলাটির সর্বমোট সাক্ষরতার হার ৮৯.৩১ শতাংশ যেখানে পুরুষ সাক্ষরতার হার ৯৩.১০ শতাংশ এবং নারী সাক্ষরতার হার ৮৫.৭৯ শতাংশ। সাক্ষরতার হারে এই জেলাটি কেরালার অন্যান্য জেলার তুলনায় সর্বনিম্ন। [৮] However, Palakkad city has a higher literacy rate of 94.20%[১]

ধর্ম[সম্পাদনা]

২০১১ খ্রিস্টাব্দে পালঘাট জেলার বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী[৯]

  হিন্দু (৬৬.৭৬%)
  মুসলিম (২৮.৯৩%)
  খ্রিষ্টান (৪.০৭%)
  অন্যান্য (০.২৪%)
পালঘাট এ অবস্থিত একটি খামার ক্ষেত্র

রাজনীতি[সম্পাদনা]

পালঘাট জেলায় রয়েছে বারোটি বিধানসভা কেন্দ্র এবং তিনটি লোকসভা কেন্দ্র। [১০][১১][১২]

পোন্নানি লোকসভা কেন্দ্র[সম্পাদনা]

ক্রমিক নির্বাচন কেন্দ্র সদস্য দল জোট
ত্রিতালা ভি টি বলরাম জা কং       ইউডিএফ

পালঘাট লোকসভা কেন্দ্র[সম্পাদনা]

ক্রমিক নির্বাচন কেন্দ্র সদস্য দল জোট
পত্তাম্বি মুহাম্মদ মহসিন সিপিআই       এলডিএফ
শোরনূর বা ষড়নূর পি কে শশী সিপিআই(এম)       এলডিএফ
ওট্টপালম পি উণ্ণি সিপিআই(এম)       এলডিএফ
কোঙ্গড় কেভি বিজয়দাস সিপিআই(এম)       এলডিএফ
মান্নারঘাট এন শামসুদ্দীন আইইউএমএল       ইউডিএফ
মালাম্পি ভি এস অচ্যুতানন্দন সিপিআই(এম)       এলডিএফ
পালঘাট শাফি পরম্বি জা কং       ইউডিএফ

আলাতুর লোকসভা কেন্দ্র[সম্পাদনা]

ক্রমিক নির্বাচন কেন্দ্র সদস্য দল জোট
তরূর এ কে বালন সিপিআই(এম)       এলডিএফ
১০ চিত্তুর কে কৃষ্ণণকুট্টি জেডি(এস)       এলডিএফ
১১ নেন্মারা কে বাবু সিপিআই(এম)       এলডিএফ
১২ আলাতুর কে ডি প্রসেনণ সিপিআই(এম)       এলডিএফ

পরিবহন[সম্পাদনা]

পালঘাট-মালাপ্পুরম সড়ক

পালঘাট শহরে রয়েছে দুটি রেলওয়ে স্টেশন, এগুলি হলো: পালঘাট টাউন এবং পালঘাট জংশন রেলওয়ে স্টেশন৷ দক্ষিণ রেলওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন হলো পালঘাট জংশন৷ দক্ষিণ রেলওয়ের পালঘাট বিভাগের সদরদপ্তরটি এই রেলওয়ে স্টেশনের নিকটেই অবস্থিত৷ ভারতের অন্যান্য স্থান থেকে কেরালার দিকে আসা ট্রেনগুলিকে কেরালার উত্তর এবং দক্ষিণদিকে প্রেরণ করা হয় পালঘাট জেলায় অবস্থিত শোরনূর জংশন রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে৷ এখান থেকে কালিকট, এর্নাকুলাম, তিরুবনন্তপুরম, শোরানূর এবং নীলাম্বুর পর্যন্ত রেল পরিষেবা রয়েছে৷ শোরানূর জংশন রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাঙ্গালুরু অবধি এবং কোঙ্কণ রেলওয়ের সাথে সরাসরি যোগাযোগ থাকায় গোয়া এবং মুম্বাই ভ্রমণের সুযোগ সুবিধা রয়েছে৷

সড়কপথে পালঘাট দেশের অন্যান্য স্থানের সাথে মধ্যম প্রকৃতির পরিবহন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত৷ The সালেম থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত ৪৭ নং জাতীয় সড়ক এবং পালঘাট থেকে কালিকটগামী ২১৩ নং জাতীয় সড়ক এই জেলার ওপর দিয়ে দীর্ঘায়িত৷ অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হলো ৪৭১৭ নং জাতীয় সড়ক সংযোগকারী পালঘাট থেকে পোন্নানিগামী সড়ক৷

নিকটবর্তী বিমানবন্দরটি হলো জেলাসদর পালঘাট থেকে ৬০ কিলোমিটার (৩৭ মাইল) দূরে কোয়েম্বাটুরে অবস্থিত কোয়েম্বাটুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর৷ পালঘাট শহর থেকে কালিকটে অবস্থিত কালিকট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি ১০৩ কিলোমিটার (৬৪ মাইল) এবং কোচিতে অবস্থিত কোচিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি ১১১ কিলোমিটার (৬৯ মাইল) সড়ক দূরত্বে অবস্থিত৷ ফলে পালঘাট সহজেই বিমানপথে দেশের একাধিক বৃহত্তর স্থান ও কিছু আন্তর্জাতিক স্থানের সাথে বিমানপথে যুক্ত৷ পালঘাট জেলাতে ভবিষ্যতের জন্য একটি অন্তর্দেশীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে৷ নিকটবর্তী বিমানবন্দরগুলিতে এয়ার ইণ্ডিয়া, স্পাইসজেট, কিংফিশার এয়ার লাইন, গোএয়ার, প্যারামাউণ্ট এয়ারওয়েজ, এয়ার আরবীয়ার মতো বৃহত্তর সংস্থাগুলি পরিষেবা দান করছে৷

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "District Census 2011"। Census2011.co.in। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-৩০ 
  2. "Fact sheet on Indian dams at Diehardindian.com"। ১৩ ডিসেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  3. "Ittipangi Achan passes away"। The New Indian Express। ২০১১-০৭-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৭-১২ 
  4. "The Palakkad district, an overview - History and Geography of Palakkad district" (PDF)INFLIBNET। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০১৯ 
  5. Decadal Variation In Population Since 1901
  6. US Directorate of Intelligence। "Country Comparison:Population"। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-০১Jamaica 2,868,380 July 2011 est 
  7. "2010 Resident Population Data"। U. S. Census Bureau। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-৩০Utah 2,763,885 
  8. https://kerala.gov.in/literacy-rate-2011
  9. "Religion – Kerala, Districts and Sub-districts"Census of India 2011। Office of the Registrar General। 
  10. "Assembly Constituencies - Corresponding Districts and Parliamentary Constituencies" (PDF)Kerala। Election Commission of India। ২০০৯-০৩-০৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১০-১৯ 
  11. https://www.news18.com/amp/lok-sabha-elections-2019/kerala/ponnani-election-result-s11p01/
  12. https://www.news18.com/amp/lok-sabha-elections-2019/kerala/palakkad-election-result-s11p08/

টেমপ্লেট:কেরালা