পদবী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

পদবী হল নামের শেষাংশ বা উপাধি। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হল Designation

বাঙালি হিন্দুদের পদবী[সম্পাদনা]

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসামত্রিপুরা এবং বাংলাদেশে বসবাসরত বাঙালি হিন্দু পদবীসমূহ বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ এখানে যেমন ধর্মীয় জাতিভেদ প্রথার প্রভাব বিদ্যমান তেমনই ঐতিহ্যবাহী পেশা হতে পদবী গ্রহণের রেওয়াজ বিদ্যমান। বৈদিক যুগে কোনও পদবী হতো না। এগুলির সৃষ্টি প্রায় ১০০০ বছর আগে মাত্র। ইতিহাসবিদদের মতে এই কৌলীন্য প্রথা হর্ষবর্ধনের সময়কাল হতে শুরু হয়েছে। কনৌজকে কেন্দ্র করে তিনটি সাম্রাজ্যের স্থাপনা হয়েছিলো। রাজ্যসীমার দক্ষিণ দিকে ছিল রাষ্ট্রকূট সাম্রাজ্য, পূর্ব দিকে ছিল পাল সাম্রাজ্য এবং গুর্জর-প্রতিহার শাসক বৎসরাজার হাতে।[১] পাল সম্রাট ধর্মপাল সর্বপ্রথম বাংলায় কৌলীন্য প্রথা প্রচলন করেছিলেন ছিলেন[২]। তাই তাকে কৌলীন্য প্রথা প্রবর্তনকারী হিসেবে ইতিহাসবিদগন আক্ষ্যায়িত করেন। এসময় অভিবক্ত বঙ্গে রাঢ়বরেন্দ্র এই দুই অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন কুলীনরা বসবাস করতেন। বাঙালি হিন্দুরা বহুবার নিজেদের পদবী পরিবর্তন করেছেন, কখনও পেশাভিত্তিক কারণে আবার কখনও বর্ণ প্রথার জন্য। বাঙালি হিন্দুদের পদবীসমূহ হিন্দুধর্মের চার বর্ণ যথা ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য(কপালী) ও শূদ্র এর মাঝে ভাগ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও পরবর্তীতে নতুন একটি বর্ণ যা কায়স্থ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে হিন্দু সমাজে, তাদের পদবীসমূহের মাঝেও বৈচিত্র লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া ব্রিটিশ শাসন আমলে ভূ-স্বামীদের আলাদা পদবী প্রদান করতেও দেখা যায়[৩]। কর্মজীবি শ্রেণীর অন্তর্গত ব্যাক্তিদের মাঝেও নিজ নিজ কর্মানুসারে পদবী বিদ্যমান হিন্দু সমাজে[৪]

বাঙালি মুসলিমদের পদবী[সম্পাদনা]

ইসলাম ধর্মের মতে কোন পদবী নেই। মুসলীমদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ), তার সময়কালে কোন পদবী ছিলো না। মূলত পিতার নামেই বংশের পরিচয় হয় বলে মুসলিমদের মাঝে পদবীর ভিন্নতা দেখা যায়। লেখক ও গবেষক এস এম শাহনূর প্রণীত "পদবীর সাতকাহন" এ লেখেন বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত বাঙালি মুসলমানদের পদবীসমূহ বেশ বৈচিত্র‍্যপূর্ণ। এখানে যেমন ধর্মীয় প্রভাব বিদ্যমান তেমনই ঐতিহ্যবাহী পেশাকেও পদবী হিসেবে গ্রহণের রেওয়াজ বিদ্যমান। অনেক হিন্দু ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তাদের পূর্ব পদবী পরিত্যাগ করেনি তাই অনেক মুসলিম পদবীর সাথে হিন্দু পদবীর মিল পাওয়া যায়।[৫]

বাঙালি খ্রিষ্টানদের পদবী[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত বাঙালি খ্রিষ্টান পদবীসমূহ বেশ বৈচিত্রপূর্ণ। এখানে যেমন ধর্মীয় প্রভাব বিদ্যমান তেমনই ঐতিহ্যবাহী পেশাকেও পদবী হিসেবে গ্রহণের রেওয়াজ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্র আবার দেখা যায় যে, ভিনদেশীয় পদবীকে গ্রহণ করা হচ্ছে কিছুটা পরিমার্জন করে। অনেক হিন্দু খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণের পর তাদের পূর্ব পদবী পরিত্যাগ করেনি তাই অনেক খ্রিষ্টান পদবীর সাথে হিন্দু পদবীর মিল পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Series-16 Indian History–Medieval India (ইংরেজি ভাষায়)। Upkar Prakashan। 
  2. বাঙ্গালার সামাজিক ইতিহাস, দুর্গাচন্দ্র সান্যাল, মডেল পাবলিসিং হাউস, ISBN 81-7616-067-9.
  3. desk, kolkata24x7 online (২০১৬-০১-২৯)। "জানুন আপনার পদবীর রহস্য"Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-১৮ 
  4. বাঙ্গালার সামাজিক ইতিহাস, দুর্গাচন্দ্র সান্যাল, মডেল পাবলিসিং হাউস, ISBN 81-7616-067-9
  5. "বাঙালী মুসলমানের ১১১ পারিবারিক পদবি | স্বপ্নবাজ.কম" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-২৩